ভাস্কর'এর ব্লগ
সে একটা গল্প বলতে চেয়েছিলো...(এক)
দিগন্ত বিস্তৃত নদী। ছোট্ট ঘাট। অন্ধকারে যদিও নদীর কিছুই প্রায় দৃশ্যমান নয়। দূরে কিছু আলোকবর্তীকা দেখা যায়। তারা ভাসে। আলোর সাথে কিছু শব্দও ভেসে আসে। যদিও লঞ্চ ঘাটে কোনো শব্দ নাই। কেবল মাঝে মাঝে জলস্রোত এসে লোহার জেটিতে আছড়ে পড়লে যতোটা শব্দ হয় ততোটুকুনই। তাতে নীরবতা ভাঙে না। বরং নিথর লঞ্চঘাটের রহস্যময় নীরবতা আরো গাঢ় হয়। একজন পুলিশ অবশ্য ঘুমে ঢলে পড়লে তার রাইফেলটা পিছলে গিয়ে খানিকটা শব্দ করে আর তাতে
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (পাঁচ)
টুটুল ভাইয়ের বাসায় সাত্তার সাহেবের স্ত্রী'র ভুত ঘোরাফেরা করে বইলা যেই আবু সন্ধ্যার পর হইলেই উশখুশ করতো বাড়ি ফেরার তাড়ায়, সেই আবু প্রেম করলো তার চাইতে দুই বছরের বড়ো প্রাপ্তি আপার সাথে। সময়ের পার্থক্যটা মাত্র বছর পচিশেকের হইলেও সেই আমলে এইরম সামাজিক মূল্যবোধের ব্যত্যয়ে সম্পর্ক খুব একটা হইতো না। হইলেও সেইটারে সামাজিক বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে দুষ্ট হইতে হইতো। আর এর শাস্তির বিধান কি হইতে পারতো তা অনুমেয় না
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (চার)
আশির দশকের রাজনৈতিকতার পটভূমিতে যেইসব শিশু কৈশোরত্ত্ব অর্জন করছে তাদের প্রাণে রাজনীতির অর্থ অন্যরম ছিলো সেইটা আজ হাড়ে হাড়ে বুঝি। নূর হোসেনের আত্মাহুতি আমাগো হৃৎপিন্ডের স্পন্দনে ছন্দপতন ঘটায়। আমার মনে পড়ে এমন আত্মাহুতির নজীর আমার পরিচিতজনগো মধ্যেও আছে। সম্পর্কের দূরত্বে বেশ দূরে অবস্থান করলেও বন্ধুত্বে বাপের নিকটতর এক আত্মীয়, যার কাছে আমরা চকলেট চাইতাম ফজল মামা বইলা, সেনা সদস্য হিসাবে কর্নেল আহসান
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (তিন)
সাত্তার সাহেব, যিনি একমাসের ভাড়া বাকী রাইখা পালাইয়া যাওয়ার অপরাধে আমাদের চোখে দোষী সাব্যস্ত হইছিলেন। যার সম্পর্কে আমরা আর কোনো তথ্য জাননের প্রয়োজন বোধ করি নাই, আমাদের কাছে তারে অপরাধী মনে হয় যেকোনো মূল্যায়ণে; তার অপরাধ সে একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক তরুণীরে বিয়া করছে, যেইখানে প্রলোভনের সম্ভাবনা দেখা যায়। এই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী বইলা গুজব রটলে মহল্লাবাসী বেশ আহত হয়, যেনো দ্বিতীয় বিবাহ কিম্বা দ্বিতীয় সংস
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (দুই)
সাত্তার সাবে'র অপেক্ষায় সেইদিন পুরা মহল্লাবাসীরে অনেক উদ্বিগ্ন চেহারায় দেখি। এই উদ্বেগে সাত্তার সাবে'র তরুণী ভার্যার প্রতি আবেগের চাইতে আত্মহত্যা বিষয়ক রোমাঞ্চ - আর তৎসম্পর্কীত লুকোছাপার অর্থাৎ নিষিদ্ধ আচরনের প্রতি না জানা আগ্রহের বিচরণ বেশি ছিলো। মহল্লাবাসীগো আচরনে আমি সংশয়ী হইয়া পড়ি, মহাপাপ আসলে জাগতিক দুনিয়ার অভ্যস্ততায় এমন কনফ্লিকটিং কেনো হয়?
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (একাদশ কিস্তি)
স্কুলে যাবার আগেই জেরোমিল পড়তে আর লিখতে শিখেছিলো, আর তাই মা তাকে সরাসরি দ্বিতীয় গ্রেডে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেয়; মন্ত্রণালয় থেকে এজন্য বিশেষ অনুমতিও বের করে ফেলে, বিশেষ ব্যবস্থায় স্কুল কমিটির সামনে দেয়া পরীক্ষায় পাশের পর জেরোমিল তার চেয়ে এক বছরের বড় ছাত্রদের সাথে ভর্তি হওয়ার অনুমতি পেয়ে যায়। সবাই তার মেধার প্রশংসা করতে থাকায় তার কাছে ক্লাসরুমটাকে পরিবারেরই একটা বর্ধিত অংশ মনে হতে থাকে। মা দিবসে স
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (দশম কিস্তি)
ঠিক জন্মবার্ষিকীর আগের দিন তাকে দিদার ঘরে শুতে পাঠিয়ে দিয়ে বাবা আর মা মিলে তার নতুন ঘরের আসবাব আর দেয়াল সাজালো। পরেরদিন সকালে যখন তারা ছেলেকে নিয়ে নতুন সাজানো ঘরে এলো, মা খানিকটা উদ্বিগ্ন বোধ করছিলো, কিন্তু জেরোমিল মায়ের অস্থিরতা দূর করতে কোনোরকম কিছু করলো না; সে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো ঘরের মাঝখানে; তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো (যদিও তাকে আড়ষ্ট মনে হচ্ছিলো) কাঠের ছোট্ট ডেস্কটা; পুরনো আমলের এই ফার্নিচার
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (নবম কিস্তি)
সে আসলে কি বোঝাতে চেয়েছিলো, সেটা বলা দুষ্কর; তবে এটা নিশ্চিত যে সে অপাংক্তেয় আগাছার মতোন কষ্টকর অহেতুকতা বা অহেতুক কষ্টজীবীতার কথা বলতে চায়নি, সে বরং একটা অষ্পষ্ট প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিতে চেয়ে থাকতে পারে, জীবনের ধারাবাহিকতা নিয়ে, যখন সব শেষ বলে ধরে নেয়া হয় তখনো জীবন অনর্থক আর দুঃখের রেশে মাখামাখি থাকে। যদিও সে যা বলতে চায়নি তা বলে ফেলেছিলো, কিন্তু তার কথার প্রতিক্রিয়া রীতিমতো সাড়া ফেলে দিলো; মা আর্দ্
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (সপ্তম কিস্তি)
দূর্ভাগ্যবশতঃ, নিজের শরীরের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য বহুকিছুই সে এড়িয়ে যেতে শুরু করেছিলো, একদিন সে হঠাৎ আবিষ্কার করলো ইতোমধ্যেই তার পেটের ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে, সাদা সাদা দাঁগ পড়েছে মধ্যভাগ জুড়ে, চামড়ার টান টান ভাবটা চলে গিয়ে কেমন আলগোছে বাঁধা প্যাকেটের মতোন ঝুলে পড়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব নিয়ে তার আদৌ কোনো ভাবনা তৈরী হলো না। ভাঁজ পড়া পেট নিয়েই মা এবং তার শরীরের সুখ অব্যাহত রইলো কার
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (ষষ্ঠ কিস্তি)
আর এর বাইরে যা ঘটছিলো: আগে নগ্ন শরীরে প্রেমিকের ছোঁয়ায় তার লজ্জাবোধ হতো; তাদের কাছাকাছি আসার অর্থ ছিলো ভিন্ন কোনো দেয়াল টপকে আসার মতোন, আর হঠাৎ জড়িয়ে ধরার বিষয়টা ছিলো রীতিমতোন বিব্রতকর কারণ এটা আসলে হঠাৎ'ই ঘটে যেতো। লজ্জার বিষয়টা যদিও তাকে নিরস্ত করতো না একেবারেই, উল্টো সঙ্গমের প্রবণতা বাড়তো, কিন্তু এ সময়ে তার সজাগ দৃষ্টি থাকতো নিজের শরীরের প্রতি, যেনো সঙ্গমের টানে শরীরটা আবার হারিয়ে না যায়। আর ন
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (পঞ্চম কিস্তি)
শেষ পর্যন্ত কি সে সুখী হয়েছিলো? একদম না: বরং সংশয় আর আত্মবিশ্বাসের টানাপোড়েনে পড়ে গিয়েছিলো সে; আয়নার সামনে পোষাক খুলে দাঁড়িয়ে, নিজেকে চোখ মেলে দেখতে গিয়ে সে প্রায়শঃই উত্তেজনা টের পেতো, আবার মাঝে মাঝে নিজেকে মনে হতো সারাশব্দহীন মরা মাছের মতোন । এরপর অন্যকোনো চোখের পরিসরে ছেড়ে দিতেই শরীরময় ছড়িয়ে পড়তো অনিশ্চয়তার স্রোত।