ইউজার লগইন

আমি গর্বিত আমি একজন ব্লগার (বিন্দু থেকে সিন্ধু..…)

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ঘুরাঘুরি করছি চার বছরের কিছু বেশি সময় ধরে। আর ব্লগিঙে তো একেবারেই নতুন, এর আগে মাত্র ২টা কী ৩টা লেখা লিখেছি। ব্লগিঙের দুনিয়ায় অবশ্য ঘুরাঘুরি বছর তিনেক ধরেই, কিন্তু লেখালেখির সাহস হচ্ছিল না। অবশেষে সাহস করে কলম হাতে তুলে নিলাম। প্রথমে খাতায় লিখি, তারপর সেটা কী-বোর্ডে যায়, সেখান থেকে অনলাইনে। থাকি গ্রামে, বুঝতেই পারছেন আমার অবস্থাটা। গ্রামের মুরুব্বীরা এসব ভালো চোখে দেখেন না। তাদের ধারণা ইন্টারনেট আর মোবাইল মানেই আজরাইল। এগুলো দিয়ে যে ভালো কাজও করা যায় এটা তারা মানতেই নারাজ, তাদের মতে ইন্টারনেট আর মোবাইল মানেই পোলাপান নষ্টের যম! তবে আশার কথা এখন সময় আর পরিস্থিতি দুটোই বদলাচ্ছে। গ্রামের মানুষগুলো একটু একটু করে বুঝতে শুরু করেছেন ইন্টারনেট আর মোবাইল মানেই নষ্ট ছেলে-ছোকরা নয়, এগুলো দিয়ে ভালো কাজও করা যায়। এগুলোর সাহায্যে দেশ-বিদেশের খবর নেয়া যায় চোখের নিমেষেই, প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগ করা যায় সব সময়; এটা তাঁরা বুঝতে শুরু করেছেন। কত যে কথা শুনেছি, বকা খেয়েছি শুধু এই মোবাইল আর ইন্টারনেটের জন্য তা বলে শেষ করা যাবে না। আব্বা যে কতবার মোবাইল নিয়ে তালাবন্দী করে রেখেছেন আর আমার জ্বালায় ফেরত দিয়েছেন তার কোন হিসেব নাই। তারপরও থেমে যায়নি আমার নেট ব্যবহার। এখনো মাঝে মাঝে মৃদু অনুযোগ শুনি, তবে আগের মত না। কখনো মানুষের ব্যাঙ্গ, বিদ্রূপ আর নিন্দাকে পাত্তা দেইনি। আজ মনে হচ্ছে আমার এত কষ্ট সার্থক হয়েছে। যাদের ধারণা আমরা যারা ইন্টারনেটে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করি তারা অকালকুষ্মাণ্ড, অলস, আমড়া কাঠের ঢেঁকি, আমাদের মাঝে সচেতনতা, দেশপ্রেম বলে কিছু নেই তাদের বলছি, যাও গিয়ে দেখে এসো শাহবাগ। কী দেখলে? নবজাগরণের জোয়ার? কারা এর অগ্রভাগে, দেখেছ? হ্যাঁ, তুমি ঠিকই দেখেছ, তোমার চোখ ভুল দেখেনি। আমরা অকালকুষ্মাণ্ড, আমড়া কাঁঠের ঢেঁকিরাই আন্দোলনের অগ্রভাগে। হ্যাঁ আমরা নেটিজেনরাই প্রথমে কী-বোর্ডে ঝড় তুলি। তারপর... তারপর ঝড় উঠে সারা বাংলায়। কসাই কাদেরের মামলার রায় ঘোষণার পর এই নেটিজেনরাই প্রথম বলেছিল-"শুয়োরের বাচ্চা কাদের মোল্লা "ভি" সাইন দেখায়! আর কি-বোর্ডে না, এবার ঝড় তুলুন রাজপথে। চলে আসুন আজ বিকাল সাড়ে তিনটায়, শাহবাগ। দাবি একটাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই। অনেক কি-বোর্ড চাপছি, এইবার দেখা হবে রাজপথে।" কই আর কেউ তো তখন রাজপথে নামার জন্য ডাক দেয়নি! শাহবাগে সেদিন বিকেলে জমা হয়েছিল মাত্র কয়েকশ নেটিজেন। আমি নিশ্চিত এটা দেখে কিছু কিছু সুশীল, বুদ্ধিজীবী মুখ টিপে হেসেছেন, টেলিভিশনেও এসেছে "অন্যরকম খবর" হিসেবে। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে ততোই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাড়তে তাকে মানুষ। একসময় সেটা পরিণত হয়েছে জনস্রোতে। সাথে সাথে পরিবর্তন এসেছে টেলিভিশনের সংবাদ পরিবেশনের ধরনেও; "অন্যরকম সংবাদ" থেকে এটিই এখন "জাতীয় সংবাদ।" এই আন্দোলনের বদৌলতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলো বাড়িয়ে নিচ্ছে তাদের স্পনসর ও টি আর পি আর প্রিন্ট মিডিয়াগুলো বাড়িয়ে নিচ্ছে তাদের পত্র-পত্রিকার সার্কুলেশন। সারা দেশের মানুষ যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য একটা প্লাটফর্ম খুঁজছিল বুভুক্ষুর মত, কিন্তু পাচ্ছিল না ঠিক তখনই আমাদের নেটিজেনরা নেটিজেনরা সাড়া বাংলার মানুষকে সেই প্লাটফর্মটা করে দেয়। শাহবাগে প্রজন্ম স্কয়ারে ব্লগার, ফেসবুক ইউজার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টরা যে আগুন জ্বেলে দিয়েছে সেই আগুন পৌঁছে গেছে বাংলার ঘরে ঘরে। সে আগুনের দীপ্ত আভায় উদ্ভাসিত আজ প্রতিটি বাংলাদেশী। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কোথায় পৌঁছায়নি সে পবিত্র আগুনের ছটা। শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রতিটি দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী সেই আগুনে হাত রেখে আজ শপথ নিয়েছে দেশটাকে জঞ্জালমুক্ত করার।
আমরা তরুণরাই দেশটাকে জঞ্জালমুক্ত করবো আমাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে। শহিদ জননী জাহানারা ইমামও তার অন্তিম চিঠিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার দায়ভার কোন রাজনৈতিক দলকে নয়, জনগণ ও তরুণ প্রজন্মের উপরই ন্যস্ত করেছিলেন। জাহানারা ইমামের সন্তানেরা আজ এই চিঠিরই উত্তর দেওয়া শুরু করেছে। আর এ উত্তরের শুরুটা হয়েছিল নেটিজেনদের দিয়েই। তাই আজ আমি বুক ফুলিয়ে বলব-"আমি গর্বিত আমি একজন ব্লগার, আমি গর্বিত আমি একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট।"
দায়স্বীকারঃ শেষ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাক্য দুটি ধার নিয়েছি ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে প্রকাশিত ফারুক ওয়াসিফ এর কলাম থেকে। আশা করি এটুকু অপরাধ শ্রদ্ধেয় পাঠকরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


"আমি গর্বিত আমি একজন ব্লগার, আমি গর্বিত আমি একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট।"

কুহেলিকা's picture


জ্বি ভাই, আপনি আমি সবাই গর্বিত।

মীর's picture


অন্যকে কোট করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। বিশেষ করে ব্লগিংয়ের শুরুর দিকে। কারণ আপনি এখনো জানেন না, এখানে কে আপনার বন্ধু; এমনকি এটাও জানেন না, আপনি কার বন্ধু। প্রচুর পড়ুন। বাংলা ব্লগে পড়ার উপাদানের কোনো শেষ নেই। সচল, আমু, সামু, চতুরে নিয়মিত ঘুরবেন। অনেক কিছুই জানতে পারবেন।

মীর's picture


আর আপনি পোস্টটা প্রথম পাতা থেকে সরান। নীতিমালা মেনে ব্লগিং করার চেষ্টা করুন।

কুহেলিকা's picture


ধন্যবাদ আমাকে গাইড করের জন্য। আশা করি ভবিষ্যতেও এভাবে সাহায্য করবেন।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


পড়ে নিন এখনই।

তানবীরা's picture


বাংলাদেশ

কুহেলিকা's picture


Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

কুহেলিকা's picture

নিজের সম্পর্কে

মরীচিকার পিছে ছুটন্ত।