কাঁঠাল
জাপানি সহকর্মী হঠাৎ করেই গ্রুপ-ইমেইল ছুঁড়ে বসলেন। তিনি জানতে চান, বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠাল নির্বাচিত হওয়ার কারণ কী?
আমরা পড়লাম বিপাকে। এই প্রশ্নের উত্তর তো আমরাও জানি না। কয়েকজন দেখলাম ইন্টারনেটে সার্চ দেওয়া শুরু করেছেন। কারণ বিষয়টি অতীব জন-জাপানি-গুরুত্বসম্পন্ন। তাঁকে এই সপ্তাহের মধ্যেই এই ইনফরমেশনটা দিতে হবে। জাপানের সরকারি টিভি চ্যানেল এনএইচকে এই বিষয়টার ওপর একটা ডকুমেন্টারি তৈরি করবে। শুধু তাই নয়; কাঁঠাল দিয়ে তৈরি করা কোনো খাবার বা তরকারির ছবিও লাগবে। তাছাড়া কেউ কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে- তেমন একটা ছবি হলে জুৎসই হয়।
ক্যাপশন: আর কী ক্যাপশন দিমু?
বিপদের ওপর বিপদ। ইন্টারনেট ঘেঁটেঘুটে ছবি যোগাড় করা হলো; কিন্তু কাঁঠাল কেন জাতীয় ফল হলো, সেরকম কোনো তথ্য ইন্টারনেটে নাই। আচম্বিতে মনে পড়লো আমার এক শিক্ষকের কথা, তিনি ক্লাশে একদিন বলছিলেন কাঁঠাল কেন জাতীয় ফল হলো। স্মৃতি থেকে ঝেড়ে দিলাম স্যারের কথাগুলো-
১. স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় ফল, জাতীয় ফুল, জাতীয় পাখি ইত্যাদি কী হবে সেগুলো নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্যই বেশ কয়েকটি নাম ঠিক করে।
২. ফলের তালিকায় আগে কাঁঠাল, আম আর তালের নাম। ভোটাভুটিতে চূড়ান্ত পর্যায়ে টিকে যায় কাঁঠাল আর আম।
৩. যারা কাঁঠালের পক্ষে ছিলেন তাঁরা তাঁদের যুক্তি তুলে ধরেন, আম-ওয়ালারাও তাই।
৪. দেখা গেল কাঁঠালের পক্ষে যুক্তি বেশি। যেমন-
ক. কাঁঠাল গাছের প্রতিটি অংশই ব্যবহারযোগ্য। যেমন- কাঁঠাল গাছের পাতা ছাগুকে খাওয়ানো যায়; কিন্তু আম পাতার তেমন কোনো ব্যবহার নাই।
খ. কাঁঠালের বাকল গরুর প্রধান খাদ্য। বিচি মানুষ খায়। কিন্তু আমের বাকল আর বিচি কেউ খায় না।
গ. আম ও কাঁঠাল দুটোই সারা দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
ঘ. একটা কাঁঠাল দিয়ে একটা পরিবারের খাওয়া হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমের বেইল নাই।
ঙ. কাঁঠালের পুষ্টিগুণ আমের তুলনায় বেশি।
চ. আমের তুলনায় কাঁঠাল দামে সস্তা।
ছ. আম কাঠের তুলনায় কাঁঠালের কাঠ ভালো।
জ. আম চাষের তুলনায় কাঁঠাল চাষ তুলনামূলকভাবে লাভজনক। একটি গাছে আম ও কাঁঠাল ধরার পরিমাণ ও তাদের বিক্রয়মূল্য হিসাব করলে কাঁঠাল এগিয়ে থাকে।
ঝ. আমের তুলনায় কাঁঠালের রোগবালাই কম হয়।
ঞ. আম ভারতের জাতীয় ফল, অন্যদিকে কাঁঠাল ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ফল।
৫. ফলে সব মিলিয়ে ভোটাভুটিতে কাঁঠাল জিতে গেল।
যুক্তি তো পেলাম! কিন্তু এর মধ্যে কয়টা সঠিক আর কয়টা বেঠিক- সেই প্রমাণ পাই কই? স্যারকে ফোন দিলাম, কিন্তু ফোন বন্ধ। এদিকে জাপানি সহকর্মীকে সেদিনের মধ্যেই দিতে হবে। ফলে তাঁকে ‘এগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাই নাই’, ‘শোনা যায়’, ‘লিখিত সূত্র দিতে পারছি না’ ইত্যাদি নানা বিতং করে ইমেইল পাঠিয়ে দিই। ঝামেলা হয় ইংরাজিতে লিখতে গিয়ে। ‘কাঁঠালের বাকল’-এই উদ্ভট জিনিসের ইংরাজি কী? ‘আমের বেইল নাই’-এর ইংরাজি কী করব? অনেক ঝক্কিঝামেলার পর নানা ডিকশনারি ঘেঁটেঘুটে দিলাম ইমেইল পাঠিয়ে।
মিনিট দশেকের মধ্যেই রিপ্লাই। জাপানি সহকর্মী ব্যাপক আপ্লুত। কারণ আমি আর আরেকজন ছাড়া আর কেউ তার ইমেইলের রিপ্লাই করেনি। বেচারী অস্থির ছিল আদৌ তথ্য পাওয়া যাবে কিনা, কিন্তু পরে মিলিয়ে দেখে আমার আর আরেক সহকর্মীর দেওয়া তথ্য মোটামুটি কাছাকাছি- তখন সে স্থিতু হয়। ব্যাপক ধন্যবাদ-টন্যবাদ দিয়ে সে ইমেইল শেষ করে।
**
আমি কিছু লিখলেই নাকি খাওয়ানোর কথা বলি। সেদিন একটা পোস্ট দিসিলাম আম নিয়ে, তারপর একজনে ফোন দিয়া কৈল- এতো লোভ ভালো না! আশা করেছিলাম পোস্ট প্রকাশের পর আমরা বন্ধুর বন্ধুবান্ধবীরা আমারে আম খাওয়ায়া ভাসায়া দিবে- কিন্তু কেউ একখান আমের ছবিও দিল না! কেউ ডাইকা কইলোও না- আসো, দুইটা আম খায়া যাও। দুনিয়াটা এতো সহজ হলে তো ভালোই ছিল!
আজকে কাঁঠালের পোস্ট দিলাম। শিরোনাম দেখে যারা আঁতকে উঠেছিলেন, তাদেরকে বলি- ঘাবড়ানোর কিছু নাই। আপনার কাছে কাঁঠাল খাওয়ার দাবি করব না, প্রমিস! আপনার/আপনাদের মন বলে কিছু নাই, আপনারা আম-কাঁঠাল খাওয়ানোর ব্যাপারে কিপ্টা- সেটা ভালো করেই জানি! অপাত্রে/অপাত্রীতে দাবি করে কী লাভ!
লেখা শেখ করি। তার আগে বলে যাই, এই যে আপনাদের কাছে কাঁঠাল খাওয়ার দাবি করি নাই, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো- আমি কাঁঠাল খাই না। এই জীবনে আমি কাঁঠাল খাই নাই।





ভালো লেগেছে ।
হে হে হে, থ্যাংকু।
ট্যাগঃ ব্লগর ব্লগর, কবিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
না বুঝলে কন। বুঝায়া দেই। তবে ফি লাগবো- এক বস্তা আম।
আপনার প্রযুক্তি বিষয়ক এই পোস্টখানি পড়ে বিষ্ময়াভুত হইলাম। আশা করছি আপনি আপনার প্রযুক্তি জ্ঞান আমাদের মত আম-পাব্লিকদের মাঝে বিতরন অব্যাহত রাকপেন।
রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে... .... .... ....
বুঝছি, আপনিও কিচ্ছু বুঝেন নাই। কি সব নাদান পুলাপান পাইলাম ব্লগে
তাইতো বলি, কাঁঠালের গন্ধ আসে কোত্থেকে ?

ইয়ে, কাঁঠাল খাওয়ানো একটু ঝামেলা আছে। তবে নিশ্চিত কৈরা কৈতেছি, এই মাসের শেষ সপ্তাহের কোনো একদিন বিকালে সবতেরে আম খাওনের দাওয়াত দিমু এবং আম খাওয়ামু/দিয়া দিমু...
একটা পোস্ট দেন
পোষ্ট দেন দাদাভাই। তবে আম আমারে কয়টা বেশী দিয়েন। আমওয়ালা কইছে আপনেরে কইলেই হপে।
পোস্ট দিয়া কাইন্দা মরি আমি, আর আপনে চান বেশি! এইডা হৈল?
আমার ভাগেরটা পাঠায় দিয়েন দাদা ভাই।আর সুযোগ করতে পারলে হাজির হমু।

জাতির পক্ষ থেকে এই মর্মে ঘোষণা করিতেছি যে, বাংলাদেশে যদি কেহ ভদ্রলোক হিসেবে থাকিয়া থাকে, তাহার নাম মেসবাহ য়াযাদ। তিনি হলুদ জামা পরেন।
আম!!!!
কাঁঠালের পোষ্ট দিলে কাঁঠাল খাইতে হয়। একদিন আসেন আড্ডায় , আপনেরে একটা কাঁঠাল কিনে দিমুনে।
আমি কাঁঠাল খাই না। বদলে সমপরিমাণ ওজনের আম দিয়েন।
আপনার গো - এষণা তে একটু মশল্লা ঢালি। কাঁঠাল পেকে গাছ থেকে পরলে ধাপ করে শব্দ হয় যাতে মালিক বুঝে কাঁঠাল পরলো। আম পরলে টুপ টুপ টের পাওয়া যায় না। কাঁঠাল চুরি করে খেতে শিয়াল গাছে চড়ে , কাঁঠাল বাদুর কাক খায় না তাতে নীপাহ ভাইরাসের সম্ভাবনা নাই। কাঁঠালের আটা মাথায় দিলে চুল ভাল হয় আর্থাৎ চুলে ক্ষুর ব্যবহার করা হয়। সব শেষে---" পিরিতী কাঁঠালের আটা"
কাঁঠাল দিয়ে আটাও হয়?? সেই আটা দিয়ে নিশ্চিত রুটি বানানো হয়??

যাই বলেন্না কেনো ঠাকুরগাঁয়ের আফা, আপনের গাছের পাঠানো লিচু কিন্তু মারাত্বক মিষ্টি ছিল...
আমার ভাগ কও?
বুঝছি, আপনে ওই কমিটিতে ছিলেন!
হাসইন ক্যারে?
মাশাল্লাহ... কখনো এভাবে চিন্তাও করি নাই... কারণটাও জানতাম না। জানানির জইন্য ধইন্যাপাতা...
ধইন্যাপাতা তো সারা বছরই পাওয়া যায়, যখন তখন দিতে পারবেন। আপাতত এক বস্তা আম পাঠায়া দেন।
পরের মাথায় কাঁঠাল ( কাঁঠালে চন্দ্রবিন্দু লাগে ক্যান?) ভেঙে খাবার খুব হাউশ দেখি আপনার! অথচ এখনও বেলের শরবতের ন্যায্য হিস্যাই বুঝে পাইলাম না!
আপনি কোন সিজনে কোন ফলের কথা কন! জানেন না, শীতের সময় গরমের ওয়াজ করতে হয় না!
দেখো কান্ড! মঠঠেল হইবার হাউশে নিজের মাথায় কাঠাঁল ভাংতেও পিছপা হয় নাই দাদায়!

আর আপ্নেরে না আম খাইওয়াইলাম সেই সিজনের শুরু তে তাও কন যে আম খান নাই এবি'র পক্ষ থেকে!! ধিক! ধিক!!
আমারে আম খাওয়াইসে জেবীন আপা। কিন্তু এবির কেউ খাওয়ায় নাই। আপ্নেও না।
কাঁঠালের আরেকটা ইনফরমেশন বাদ গেছে। এটা জানতে হলে সরাসরি লেজেগোবরে এরশাদ কে জিজ্ঞাসা করতে হবে।
:
:
:
:
:
ভাগ্যিস জাপানিজটা এই ইনফরমেশন জানতে চায় নাই..। :
বুঝি নাই
আমিও বুঝি নাই।
কাঁঠাল বিষয়ক একটা কৈতক আছে........।মাসুম্ভাই ভালো বলতে পারবেন,আর কি??????
সেই কথাটাই বলতে চাইছিলাম উপ্রে। বাংলা একাডেমীর গবেষকরা একদা কাঁঠাল বিষয়ক একটা সমস্যার (information) সমাধান করতে পারছিলেন না, পরে তারা বুদ্ধি করে হোমো লেজে গোবরে এরশদের কাছে যান। জনাব এরশাদ পরে জবাবটা ফরমাইয়া দেন।
মাসুম্ভাই নাকি সেই সময় এরশাদের আশেপাশেই ছিলেন। সাংঘাতিক মানুষ তো!
মাসুম ভাই, জানতে মঞ্চায়। শাপলাপা, মাসুম ভাই না কৈলে আপনেই কয়া ফালান।
এখন কাঠালটা কার মাথায় ভাঙ্গবেন?
দেখি একটু আপনার মাথাটা!
কাঁঠালের আমসত্তের কথা বললেন না?
ডুকরাইয়া কাইন্দাও আম পাওয়া যায় না! আবার আমসত্ত্ব!
যা নিন্দে তা পিন্দে। যেই আম কাঠাল দুই চোক্ষে দেখতে পারি নাই, তার জন্যে এখন কাইন্দা মরি
(
আপনারে না এক বস্তা নেদারল্যান্ডিয় আম পাঠাতে বলেছিলাম!
কাঁঠাল একটি চমৎকার ফল। এটি মানুষকে অপরকে দিয়ে- থুয়ে খেতে শেখায়। এ থেকে আমরা শিখতে পারি, মানুষ একটি সামাজিক জীব। সবাই মিলে- মিশে সবকাজ করতে হবে.. ব্লা ব্লা..
...মুক্ত বয়ান ভাই কি ব্লা ব্লাতে এঁটকে গেলেন!
খালি জাতীয় ফলই না, আমি জাতীয় ফুল, জাতীয় পাখি, জাতীয় পশু, জাতীয় গাছ.....কোনোটাই খাই না।
তবে মানুষের মাথায় কাঠাল ভাইঙ্গা খাইতে নিশ্চই মজা হবে। চেষ্টা করতে হবে একদিন।
চলেন, আমরা আগে একটা মাথা সিলেক্ট করি যেটা ভাঙলে বাজেটে কোনো প্রভাব পড়বে না।
ছবিতে মাথাও আছে, কাঠালও আছে। এতো খোঁজাখুঁজির দরকার কী তাইলে?
(অফটপিক: পরে তো আর ফোন দিলেন না)
সেক্ষেত্রে দেশের শিক্ষাসেক্টর ধ্বংস হয়ে যাবে!
আপনি কখন ফ্রি থাকেন বুঝতে পারছি না। আর সে কারণে ফোনও দেয়া হচ্ছে না।
থাক, শিক্ষা ব্যবস।তা বেঁচে থাকুক। ঐ দিন তো বাজেট ছিল বলে ব্যস্ত বেশি ছিলাম। আপনার সময় মতো ফোন দিয়েন।
মন্তব্য করুন