বন্ধু আমার-৩
কন্নিচুয়া,
সাতি সান দেসু কা?
আমরা কি ভেতরে আসতে পারি?
স্বাতীর বিস্তর যুদ্ধ করতে হয়, নিজেকে সামাল দেবার জন্য। কাঁপা হাতে স্বল্প ভেঁজানো দরোজাটা মেলে ধরে। সাদা পোশাকে নয়, রিতীমত কেজো পোশাকের দুজন কপ দাঁড়িয়ে।
সরু চেহারার নারীটাকে, কিছুতেই পুলিশ বলে মানতে ইচ্ছা করেনা। ওকে দেখে ক্লাস টেনের গার্ল'স গাইডদের কথা মনে পড়ে যায়।
-হাই দোজো, স্বাতী দরোজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে ঘরে ঢুকবার জায়গা করে দেয়।
দুজন হাসি হাসি মুখে, খুবই আদবের সঙ্গে ঘরে ঢোকে। চেহারা দেখলে মনে হয়, স্বাতীকে অসময়ে বিরক্ত করার জন্য মরমে মরে যাচ্ছে।
স্বাতী ৫ সেকেন্ড অটোসাজেশন দেয় নিজেকে।
"স্বাতী কিছুতেই প্যানিকড হয়ো না। নিজেকে সামলাও কোন ভুল করোনা। তোমার যাবতীয় ট্রেনিং কাজে লাগাও। আজ তোমার পরীক্ষা। দেখা যাক তোমার নার্ভের জোর।"
ভীষন কষ্টে, এক চিলতে হাসি ঠোঁটে ফুটিয়ে স্বাতী জিজ্ঞাসা করে, আমি তোমাদের কি সাহায্যে আসতে পারি?
- সুমিমাসেন, (মনে মনে মাফ করে দিয়ে, একটা গালি দেয়- কি বলতে আসছিস- বল না ব্যাটারা। execuse me বলার তো কোন দরকার নেই।
-আমরা এ এলাকার অধিবাসীদের সমস্যা দেখে থাকি, তাই তোমার সাথে পরিচিত হতে এলাম।
স্বাতী এত ধৈর্য জীবনেও ধরেনি। আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞাসাও করতে পারছে না। কারণ পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই জানে না সে।
তোমার কি এখানে বসবাসের কোন অসুবিধা হচ্ছে?
স্বাতী লোকটার গালে একটা চড় কষা থেকে নিজেকে অতি কষ্টে বিরত রাখে।
জানে, এদের হাত থেকে কোন নিস্তার নেই, বাংলদেশের বাঘে ছুঁলে ১৮ ঘা। পুলিশে ৩৬ ঘা-আর এরা ছুঁলে কত ঘা, স্বাতী ঠিক নির্ণয় করতে পারছে না।
২
-স্বাতী সান, বিজয় সান তোমার কেমন বন্ধু?
স্বাতী বুঝতে পারে, কোনভাবে ও জড়িয়ে গেছে। না হলে ওকে নিয়ে কেউ টানা হেঁচড়া করতো না। আর এদেরকে খেলিয়েও কোন লাভ নেই। এরা শক্ত চিজ। নিশ্চিত খোঁজ খবর না নিয়ে মাঠে নামার কথা না।
-আমি কি একটা ফোন করতে পারি- স্বাতী শুকনো খড়খড়ে গলায় বলে।
-ই ই দেসু নে।
-গলায় মধু ঢালে, পুরুষ কণ্ঠ।
-স্বাতী, কারিনা এবং তার প্রফেসর কে ফোন করে সব জানায়।
তাদের কাছে আস্বস্ত হবার পর, স্বাতী জিজ্ঞাসা করে- বলো তোমরা কি জানতে চাও।
স্বাতী আগ বাড়িয়ে জানতে চায না যে, বিজয় বেঁচে আছে কি মরে গেছে।
এরকম দুঃসহ যন্ত্রণা ও কখনই পায়নি।
একটা সামান্য খবর ও কারো কাছে পাচ্ছেনা।
স্বাতীকে, বিজয়ের ব্যাপারে কথা বলার ব্যাপারে কারিনার সম্মতি আছে, রকম একটা কাগজ এগিয়ে দেয়া হয়।
" বিজয়ের জন্মের তিন বছর পর মা মারা যান। বিজয়ের তার বাবার সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না। বিজয়ের বাবা বাংলাদেশে থাকেন না। তিনি এক হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করে,আফ্রিকা পাড়ি জমান-বিজয়ের বয়স যখন চার।
বিজয় মানুষ হয়, ওর ফুপুর কাছে। ফুপু ওকে ভীষন আদর করত। কিন্তু ফুপা ওকে কখনই চায় নি। তিনি বাধ্য হয়ে ওকে সহ্য করতেন। মা'র দিকের কারো সাথে বিজয়ের কোন যোগাযোগ ছিল না।
কেন? বিজয় বারবার জানতে চেয়েছে, কিন্তু কারো কাছে তার উত্তর পায়নি।
সেই ফুপু বছর আজ প্রায় আট মাস হল মারা গেছেন। স্বাতী গরগর করে সকালে দেখা ফাইলের কথা গুলো উগরে দেয়।
ও ভীষন দুঃখি আর চাপা। স্বাতী এসব কথার কিছুই জানতো না।
শুধু জানতো, কিছু জটিলতার কারনে, বিজয় তখন দেশে তার ফুপু-মা'কে শেষ দেখাটাও দেখতে যেতে পারেনি, স্বাতীর মনে আছে, ইমিগ্রেশন অফিসে বিজয় সবার সামনে সেদিন অনেক কেঁদেছিল। সেদিন স্বাতী বিজয়ের পাশেই ছিল।
-তোমরা ডেটিং করেছ?
-ডেটিং বলতে তোমরা কি বোঝাচ্ছ?
-দয়া করে কথা ঘোরাবে না স্বাতী সান, আমাদের সঠিক ইনফর্মেশন দাও।
-তার আগে বল, বিজয় বেঁচে আছে? তার কি অবস্থা? আমি একবার দেখতে চাই ওকে।
-দুঃখিত । আমরা এই মুহূর্তে তোমাকে কোন হেল্প করতে পারছি না।
-দেখ ও আমার বন্ধু ছিল এটা আমি নিশ্চিত কিন্তু ও কোন ভাবেই আমার বয় ফ্রেন্ড ছিল না। স্বাতী আবার শুরু করে।
আমি আর বিজয় পাহাড় দেখেছি, সমুদ্র দেখেছি। দুজন দুজনের বন্ধুত্বের উত্তাপ নিয়েছি কিন্তু আমাদের প্রেম করা হয়ে ওঠেনি।
এবার সরু কঠির মত, কপ টা দুটো মুখ বন্ধ খাম এবং একটা চিঠি স্বাতীর দিকে এগিয়ে দেয়।
-কি এসব? স্বাতী কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করে।
-আগে খোলা ইংরেজী চিঠিটা পড়। তারপর আমরা কথা বলি-ঠিক আছে?
দুই কপ আবার নিশ্চুপ হয়ে যায়।
"বন্ধু স্বাতী, তুমি ছাড়া আমার এই জগতে আসলেই বোধ হয় কেউ নেই। আমি মারা গেলে তুমি আমার লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
তুমি কথা দাও, একবার যাবে আমার সাথে, শুধু একবার। আমার কবরটা যেন আমার মা'র পাশে হয়। কবর দেবার সময় পারবে আমার পাশে একটু থাকতে"
স্বাতী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ওর প্রফেশনালিজম খসে পড়ে বন্ধুত্বের উষ্ণতায়-বন্ধুকে হারানোর শংকায়।
দুজন মানুষ চুপচাপ টান টান হয়ে কেজো ভঙ্গিতে স্বাতীর সামনে উপবিষ্ট থাকে।
কতক্ষণ স্বাতী জানেনা। কেবল নিজেকে সামলে নেয়।
-এ দুটো চিঠি আমি কি করবো? কান্নায় গলা বুঁজে আসে স্বাতীর গলা।
-এ দুটো চিঠি তুমি আমাদের ট্রান্সলেট করে দেবে কারণ আমাদের বেঙ্গলী ট্রান্সলেটর ছুটিতে আছে। আর তাছাড়া বিজয়ের জন্য তোমাকে আমাদের দরকার।।
স্বাতী সান দয়া করে, তুমি কি আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে?
স্বাতী ভীত গলায় বলে, কোথায়?
তার ভীষন ভয় করছে।
দুজন কপ উঠে দাঁড়ায়, যেন সময় নেই।
কিন্তু কোথায় যাবে স্বাতী???





এখন আবার কষ্ট লাগা শুরু হইলো
...
কোথায় যাবে স্বাতী! শেষ টা প্রতিটিতেই এমন রোমহর্ষক থাকছে। গুড। চালিয়ে যান। পরের পর্বের অপেক্ষায়।
পরের পর্বের জন্য অধীর অপেক্ষায় রইলাম।
দুইদিন দেরী করছেন।এই জন্য আগামী পর্ব বড় করে দিবেন আর তাড়াতাড়ি কুইক দিবেন।
শাপলা, এগিয়ে যান।
ফাটাফাটি আগাচ্ছে। সাসপেন্স !
আর লেখার দরকার নাই। স্বাতীর সামনের ঘটনাগুলো থাক না অনিশ্চিত হয়ে... ও বেরিয়ে পড়ুক কপদের সাথে... কোথায় যাবে ? যাক না যেখানে খুশী...
এইটা পৈড়া তাত্তাড়ি গিয়া পুরান পর্ব গুলা পৈড়া আসলাম, আগের গুলা আরো সংঘবদ্ধ!
গাড়ি চলুক, আমরা প্যাসেঞ্জার/ কন্ডাকটার--- ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক!
আপনার সেরা লেখাগুলোর মধ্যে এটা উপরেই থাকবে
সহমত মাসুম ভাইয়ের সাথে
শাপলা, এতটা শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় বারবার পাঠকদের নিয়ে যাবার ক্ষমতা কিভাবে অর্জন করলেন ? দম বন্ধ হয়ে আসে, অথচ পরের ঘটনা জানবার জন্য প্রাণ আনচান করে । ভাল লাগছে গল্প এবং আপনার মুন্সিয়ানা দু'টোই । প্লিজ, দেরী করবেন না পরবর্তী পোস্ট দিতে ।
@ টুটুল ভাই, লীনা, জয়িতা, রাসেল দাদা, রশীদা, রায়হান ভাই, মেসবাহ ভাই, শাওন বিলাই, বস মাসুম ভাই এবং নাজমুল ভাই, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আলাদা করে মন্তব্যের উত্তর দিতে পারলাম না বলে, দুঃখিত।
আমার মেয়েটার গতকাল থেকে ভীষন জ্বর। আর এদিকে বাস া ভর্তি মেহমান। দুদিক সামলাতে গিয়ে এ মুখো হতে পারছি না।
আমার মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন সবাই।
চিন্তা কইরেন না। আমাদের মামা খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে।
আর নিচে নাজমুল দাদা ভাইয়ের সাথে একমত।
মেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত লেখালেখি, ব্লগিং বাদ । পরবর্তী পোস্টের পরিবর্তে মেয়ের সুস্থতার খবর আগে । ভালো থাকুন ।
সহমত, নাজমুল ভাইয়ের সাথে
শাপলা, আপনার মেয়ের দ্রুত সুস্থ্তা কামনা করছি...।
-এখানে মনে হয় স্বাতীর বাড়তি গলাটা কাটা পড়বে।
সবাইকে আরেকবার আন্তরিক ধন্যবাদ।
আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।
টেক কেয়ার শাপলা... জানাবেন
পড়ছি মুগ্ধ বিস্ময়ে। মেয়ের জন্য শুভকামনা।
মীর, তোমার লেখার কাছে, এসব নস্যি। তবুও এত সুন্দর করে বলবার জন্য আরিগাতো হে বালক।
মন্তব্য করুন