ইউজার লগইন

আশফাকুর র'এর ব্লগ

কয়েকটা ভাল লাগা ছবি ও ক্ষয়ে যাওয়া আমি

কি জ্বালাতন বল দেখি?

মানুষের কাছে ঋণ, মানুষের জন্য ভালবাসা

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য; একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা?

ভুপেন হাজারিকার এই গানটা প্রথম শুনেছিলাম কোন একটা বাংলা ছবিতে।কিন্তু গানটা যে কত সত্য তা আমরা অনুভব করি প্রতিনিয়ত। তাই না চাইতেও দেখা যায় আমরা অনেক মানুষকে ভালবাসি এবং তাদের জন্য কিছু করতে অন্তর থেকে সাড়া পাই। আর এভাবেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা মানুষেরা একে অপরের ঋণ শোধ করে যাই।কিন্তু মানুষের কাছে যে ঋণ তা কি শেষ হবার? কিছু কিছু মুহুর্তে কিছু কিছু মানুষের কাজ অন্য আরেক মানুষকে আজন্মের জন্য ঋণী করে দেয়।শুধু অন্তর থেকে বয়ে আসা পবিত্র শ্রদ্ধায় এসব মানুষকে প্রতিনিয়ত স্মরন করে যাই আমরা। কারন কোন কিছুতেই যে এ ঋণ শোধ হবার নয়।

নিত্য পুরাতন ও অন্যান্য

সময়ের সাথে সব বদলায় না মানুষ বদলায়। আমার মনে হয় সময় আর মানুষ পরপস্পরের সাথে বদলায়। গত কটা দিন ঘাপটি মেরে ফেসবুকে বসে থেকে আমার এ উপলব্ধি। এই যেমন আগে বন্ধুরা আপডেট দিত-বোরিং ক্লাস ঘুম আসে। কাল এক্সাম সব ভুলে গেছি...।পি কে স্যারের *******। আজ তাদের আপডেট অফিসে বসে ফেসবুক ঘাটছি বা কাল শুক্রবার কি শান্তি। আবার কাল এক বন্ধু দেখলাম এক ধাপ এগিয়ে আপডেট দিল কবে যে একটা বঊ পাব ইত্যাদি। আমার ও ভালোই চেঞ্জ হয়েছে। কোন ছবি ভাল লাগলে বা খুব বেশি কিছু না হলে আমার কোন স্ট্যাটাস থাকেনা। কি লিখব?

আড়ালের মানুষ

বাবা শব্দটা আসলে মা শব্দটার মত অত মধুর নয়। মা বললেই আমাদের সামনে আসে মমতাময়ী নারী যিনি বাসায় আসতে দেরী হলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। পাশে বসে ভাত খাইয়ে দেন। আর বাবা!! বাবা বলতে আমরা সাধারনত বুঝি গুম্ফধারী এক ব্যক্তিকে যিনি বাসায় আসতে দেরী হলে কোমড়ে হাত দিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, আর বিরবির করে বলতে থাকেন “হারমজাদাটা আজকে আসুক। পিটিয়ে আড্ডাগিরি যদি না ছুটাইছি??” ইনিও প্রায়ই খাবার টেবিলে সঙ্গপ্রদান করে থাকেন। তবে তা মার তুলনায় চিরতার রসের মত সঙ্গ। এই সময় আলোচনা চলে পাশের বাসার অমুকের ছেলে তমুকের জীবনের সাফল্যের কথা।

ছেলেবেলার কুরবানির ঈদ

“অতঃপর হযরত ঈব্রাহিম (আঃ) তার পুত্র ঈসমাইল কে কুরবানী করার প্রস্তুতি নিলেন। ছুরি শান দিয়ে পুত্রের চোখ বেঁধে দিলেন যাতে তার মায়াময় চোখ পিতৃস্নেহকে আবার জাগিয়ে না তুলে। ছুরি ঈসমাইলের গলায় দিতেই আল্লাহ বললেন হে ঈব্রাহিম থাম। তুমি পরীক্ষায় পাস করেছ। তাই ঈসমাইলের বদলে দুম্বা কুরবাণি হল। বুঝলি বাবারা। চুপ করে আছে!! আল হামদুলিল্লাহ বল বান্দরের দল”।

হ্যা এভাবেই আমাদের ক্লাস ফোরে পড়াতেন ফারুক হুজুর। আর আমরা আমাদের গলার সমস্ত শক্তি এক করে বলতাম আল হামদুলিল্লাহ। সত্যি আল হামদুলিল্লাহ। কুরবানীর ঈদের সময় আমার হৃদয় সবচেয়ে পুলকিত থাকে। আকৃতিগত কারণেই আমার খাওয়া দাওয়ার প্রতি মারাত্মক আগ্রহ। আমি তো এখন তাও লাইনে আসছি। এই ক্লাস নাইনেও রাতে স্বপ্নে দেখতাম চকোলেটের উপরে ভাসতেসি। সে এক মারাত্মক স্বপ্ন। আজ অনেক দিন পর আবার মৌসুম এসেছে কুরবানীর। মন তাই আমার যথারীতি পুলকিত এবং আশংকিত। পুলকিত আমার মা জানের হাতের রুটি মাংস ভুনা খাওয়ার আনন্দে আর আশংকিত এবার আমার ছোটবোন ফ্রী বলে। কারণ সে ফ্রী থাকলেই নানা কিছু রান্না করে এবং আমি হলাম তার নিয়মিত গিনিপিগ। আর খাবার যা সে রান্না করবে প্রতিবার খাওয়ার পর বলতে হবে-অসাধারন হইসে। এক্ষেত্রে আব্বুর স্টাইলটা ইউনিক। খেয়ে “অনেক ভাল। তবে তোমার মুল কাজ পড়াশোনা। এসব আর করার দরকার নাই। তবে রান্না ভাল হইসে”।

নপুংসকদের দেশে একজন মিজানুর রহমান

এ প্রশ্নটার উত্তর ডাক্তারেরাই ভালো দিতে পারবে। বাংলাদেশে কি ভাইরাস জ্বর সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশী হয়? আমার মনে হয় ভাইরাস জ্বর বেশী না কম তারচেয়েও বড় কথা আমাদের সব কিছুতে এর প্রভাব ও মিল। ভাইরাস জ্বর যেমন হটাত আসে আবার যায় আমাদের অনুভুতিও তেমনি আসে আর যায়।ফেব্রূয়ারী এলে আমরা বাংলাপ্রেমী হই। আগস্ট এলে বংগবন্ধুর জন্য চোখের জল ফেলি বা কেউ হ্যাপি বার্থ ডে টু ঈউ বলে গান গাই। ঘন্টা যেতে না যেতেই সে আবেগ ফুরুত করে উড়াল দেয়। ছোটবেলায় আমি যখন সিলেটে আমাকে অনিমেষ ভাই নামের এক শাবিপ্রবির ভাইয়া পড়াত। ভাইয়া পড়া না পাড়লে মাঝে মাঝে খুব বকত আর বলত “এই জিনিসটাকেই ভয়। পড়া না শিখে বকা খাওয়াটা তোর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।” আমি বলি যেকোন ঘটনা শুনে কিছুদিন ফালাফালি করা নিউজ ছাপা তারপর এক শুণ্য দশা যেন কই কিছু কি হয়েছিল? শর্টটার্ম মেমরী লস এ জাতিকে আমি আরো অনেকের মত আরেকটি বিশেষণ দিলাম “নপুংসক”।

গ্রীক পুরাণের দেবতা ও দেবীরা

যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন প্রথম বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হই। আমার হাতে প্রথম যে বইখানা তারা তুলে দেয় তা হল “ট্রয়ের উপকথা”(নামটা স্পষ্ট মনে নেই)।আমি সেই বইটা এক সপ্তাহে প্রায় চার বার পড়ে ফেলি।আবার ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকে আমার সখ্য বিটিভির হারকিউলিস সিরিজের সাথে।তখন হারকিউলিসে বেশ কিছু সিন ছিল বাবা মনে করতেন আমার উপযোগী না।রাত ১০টার নিউজের পর তাই তিনি আমার সাথে যেগে থাকতেন হারকিউলিস সেন্সর করতে।কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই ১০ মিনিট বাদে আমি তার নাকের কলের গান শুনতাম আর নির্বিঘ্নে হারকিউলিস উপভোগ করতাম। মূলত তখন থেকেই আমার গ্রীক মিথোলোজির প্রতি আকর্ষণ। আমি সবসময়ই গ্রিক মিথোলোজি নিয়ে ভাবতাম। ট্রয় নিয়ে যে বইটা সেটা পড়ে আমার নিজেকে কেন জানি হেক্টর মনে হত। এত কথা বলার মানে হল আমি গ্রীক মিথের প্রতি আগ্রহী। তাই আমার আজকের লেখাটা তাদের নিয়ে।

সপ্তাহ নামা

ছোটবেলা থেকেই আমি বাইবর্ণ থিংকার।আমিও তাই শুধু ভাবাভাবিতেই থাকি।কত যে আমার ভাবনা তার কোন শেষ নেই।কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল আমার ভাবনা শুধু ভাবনাতেই শেষ-ওগুলা বাস্তবে আনা নিয়ে আমার তেমন কোন ভাবনা নেই।এই যেমন চিন্তা করলাম এটা করব-প্ল্যান করলাম,তারপর ঘুম।সবচেয়ে হাসি আসে যখন সদ্য শেষ হয়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ভাবনার কথা মনে পড়ে।কাল পরীক্ষা আমরা পড়ে টের পেলাম যে কাল বেশি সুবিধা হবেনা।আমি আর আমার রুমমেট বসে বসে প্ল্যান করতাম না অনেক হয়েছে আগামী সেমিস্টার থেকে প্রথম দিন থেকে পড়া আর পড়া-নো হাংকি-পাংকি।টিউশিনি কমাতে হবে......।কিন্তু পরীক্ষা কোনমতে পাইড় করতে পারলে হল।–নারে দোস্ত এখন না।মিডটার্মের পর কোপায়ে স্টাডি করব-বাদ দে।মিডটার্ম শেষ-আরে ব্যাটা এখন পড়লে কিছুই মনে থাকবেনা-পিএলে পড়ব।পিএলে এখন শুধু চোখ বুলাই- ডিএলে একেবারে খিইচচা ফেলাব।ডিএলে এসে আবার না অনেক হয়েছে আগামী সেমিস্টার থেকে প্রথম দিন থেকে প

কৃষ্ণকলি আমি তারে বলি

আজ সারাদিন চট্টলায় একরকম ঝুম বৃষ্টি হল বলা যায়।সাধারনত আমি বৃষ্টি অপছন্দ করি খুব অপছন্দ করি দুই চোখে দেখতে পারিনা।কারণ জানিনা। সাধারণত হটাত বৃষ্টি হলে আমি একটা “বোল্ট” দৌড় দেই কোন ছাদের নিচে।সেটা অবশ্য যতটা না বৃষ্টির প্রতি ঘৃণা থেকে তারচেয়ে বেশি জন্মগত এজমাজনিত সমস্যার ভয়ে।কিন্তু জীবনে আমি গোণা পাচ বার বৃষ্টিতে আস্তে আস্তে হেটে গিয়েছি খুব আস্তে আস্তে খুব আস্তে ভিজতে ভিজতে। কারণ কখনো কখনো আকাশের জলের আড়ালে নিজের চোখের পানি লুকিয়ে ফেলাটা জরুরি বেশ জরুরি।

চট্টগ্রামের ব্লগারেরা সব কই??(একটা জাগরণ মূলক পুস্ট)

মনটা বড় খারাপ। সারা দিকে শুধু ঢাকা আর ঢাকা।আমার চট্টগ্রামের মানুষেরা কই যে গেল?গত বার আমরা বন্ধুর আড্ডা হল সানমারে।বন্ধু মুক্ত বারবার কইল,"তুই কিন্তু আসিস।বেটা তুই বিশাল লাকি।সহজে কেউ নুশেরাপুর দেখা পায়না আর তুই এবিতে মাস ঘুরতে না ঘুরতেই তারে দেখবি।...."কিন্তু আমি শালা তখন আমার ফাইনাল প্রজেক্ট নিয়ে এত আনলাকি ছিলাম যে মুক্ত যখন আড্ডা দিচ্ছিল তখন আমি এক হিটলারের সামনে বসে গালি খাচ্ছি

শাস্তি না-- এতটুকু ভালোবাসা চাই

শাস্তি শব্দটা আমাদের জীবনে অতি পরিচিত যে শুধু তা নয়-সর্বাপেক্ষা পরিচিত।মানুষ হয়ে জন্মাবার জন্য এ পৃথিবির প্রতিটা মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকে শাস্তি।কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেদের জন্য “বিশ্ব লয়ে খেলা করা বিরাট শিশু”’র রাগ কোন একটা কারণে খুব বেশি তাই বিদ্যালয়ের ছাত্র জীবনে শিক্ষকদের হাতে মার খায়নি এমন বালক কমই আছে। বালিকা বললাম না। কারণ নানাবিধ কারণে বালিকারা বেচে যায় বলে বালকেরাই বেশি ভুক্তভোগী বলে আমি

আমার দেখা সেরা কিছু মুভি সংলাপ-১

আমি ইংরেজি মুভি দেখি খুব বেশিদিন নয়।এই তো কলেজ জীবন থেকে শুরু।তখন দেখতাম সিডির দোকান থেকে ভাড়া নিয়ে।সত্য করে বলি খুব বেশি ক্লাসিক মুভি আমি দেখিনা(এক দমই বেশি বিখ্যাত হলে বাধ্য হয়ে দেখি )।কারণ
১. সিম্পলি বুঝিনা।
২.বেশ কটা অস্কার পাওয়া মুভি দেখে সিডির ভাড়া নষ্ট হয়ার আক্ষেপ
৩.অনেকগুলা সহজলভ্য না।

আমার সারা জীবনের জন্য রাখা একটি ফেসবুক নোট(স্মৃতি ব্লগ)

ফেসবুকের নোট টা

কথা বাড়ি-২(একটি চিঠি )

কথা বাড়ি ১

প্রিয় সাবিহা,

দিন ফুরায়না..
সত্যি বলছি দিন ফুরায়না..
কথা বাড়ি আজ DREAM,
কিন্তু আমার স্বপ্নেরা খেলেনা....।
তুমি চলে গিয়েছ.।
ভালোই হয়েছে.. তোমার আদরের ছেলের কান্ড যদি দেখতে
না সাবিহা তুমি আসলেই আদরে ওর মাথাটা খেয়েছ,
কাল বললাম বাবারে এই বাসায় আমার ভালো লাগেনা-আমি বরং বাড়িতে চলে যাই।

একজন গোলকিপারের আত্মজীবনী

আমার সারাটা জীবন মোটেমাটে ঘুরতে ঘুরতে কেটেছে।পিতৃদেবের সরকারি চাকুরির সুবিধায় আমাকে ক্লাস টেন পর্যন্ত সাতখানা স্কুল চেন্জ করতে হয়েছে।স্কুল জীবনে খেলা বলতে খেলেছি ফুটবল,কাবাডি আর যৎসামান্য ক্রিকেট।কাবাডি ক্যারিয়ার রীতিমত ঝলমলে ।পরপর দুইবার সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে কাবাডি চ্যাম্প.(একটুও বাড়িয়ে বলিনি।)।ক্রিকেটে ক্যারিয়ার ঝরঝরে।সারাজীবনের সর্বোচ্চ রান - তাও সিলেটে পাড়ার এক সম্মান রক্ষার ম্যাচ