সংবাদপত্র জগতের গল্প-১
সকালেই ফোন ফাহিমের। ধরতেই বললো, মাসুম ভাই চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। চমকে উঠে বললাম, কেন, কি হয়েছে। ফাহিম জানালো, গতকাল মিটিং ছিল মালিকের সাথে, মিটিং-এ মালিক গালাগালি করেছে খারাপ ভাবে। সেটা শুনতে ভাল লাগেনি বলেই সাথে সাথে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। মিটিং-এই ফাহিম মালিককে বলে এসেছে যে, আপনার চাকরি আর করছি না।'।
ফাহিমকে চিনি অনেকদিন ধরে। অত্যন্ত ভাল ছাত্র ছিল। কিন্তু নানা সঙ্গদোষে ভাল ছাত্রের সুনামটা আর ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সামলে নিয়েছে নিজেকে। বিয়ে করেছে, একটা ছেলেও আছে। পুরো পরিবারটা তেখতে ভাল লাগে। ফাহিমের বউ আমার বউয়ের দিক থেকে আত্মীয়ও হয়। আবার আমি যখন ইত্তেফাকে, তখন তাকে আমার সম্পাদিত অর্থনীতির পাতায় লিখতে দিতাম। সেই সুবাদে তার সাংবাদিক হওয়ার পথটা সহজ হয়েছিল। আর এখন নিজ যোগ্যতায়ই বিশেষ প্রতিনিধি হতে পেরেছে।
ফাহিমের পত্রিকার মালিকের গালাগালি করার অভ্যাসটা সবাই জানে। মাত্রা ছাড়ায় এমনটাও সবাই বলাবলি করে। কিন্তু চাকরির মায়ায় অনেকেই প্রতিবাদ করে না। যেমন, গতকালের বৈঠকেরই ঘটনা। রায়হান ভাই অনেক সিনিয়র সাংবাদিক। তিনি তুলেছিলেন কথাটা সবার হয়ে। কথাটা হল প্রভিডেন্ট ফান্ড তৈরি ও অফিসে একটি ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা। কথাটা বলতেই মা-বাপ তুলে গালাগালি শুরু করলো সেই মালিক। বললো, 'খালি দাও আর দাও। খেয়ে খেয়ে তো খালি মোটা হইতাছেন। আর কত? কয়দিন পর বলবেন আরেকটা বিয়ে করাইয়া দেন..........'।
তারপর ফাহিমের পালা। ফাহিম কেন অর্থমন্ত্রী ও গভর্ণরের বিরুদ্ধে তার (মালিক) কথা অনুযায়ী রিপোর্ট করলো না সেইটাই দোষ। এই দুজন অর্থনীতি ধংস করে দিচ্ছে এবং তারা থাকলে দেশ চলবে না, এরা অযোগ্য, ইত্যাদি ইত্যাদি লিখতে হবে। এভাবে লেখা যায় না বলায়, সেই মালিক আবারও গালাগালি দেওয়া শুরু করায় চাকরি ছেড়ে চলে এসেছে ফাহিম।
এটা মোটেই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না। এরকম অনেক ঘটনার কথা বলা যায়। তবে সবাই যে সহ্য করে তা না। এই পত্রিকার মালিকের একই ধরণের আচরণের কারণে বছর দুই আগে চাকরি ছেড়েছিল আরেক সাংবাদিক। তার দায়িত্ব ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট করা। এই মালিক নানা ভাবে কর ফাঁকি দেন। আবার নানা ভাবে সুযোগ চান এনবিআরের কাছ থেকে। আর মালিকের হয়ে সেই কাজটি করতে হয় সাংবাদিকদের। এরকম এক কাজ করতে অস্বীকার করায় মালিক গালি দিয়েছিল, আর তারপর চাকরি ছেড়ে দেয় সে।
পত্রিকাটি খুঁজতে থাকে এনবিআর বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন সাংবাদিককে। সেই পত্রিকার উপ সম্পাদক (বর্তমানে এক পত্রিকার সম্পাদক) খুঁজতে লাগলেন নতুন রিপোর্টারকে। খুঁজে বেরও করলেন একজনকে। আমাকে তারপর ফোন দিয়ে জানতে চাইলেন কেমন হবে। আমি বলেছিলাম, যদি ভাল এবং সৎ রিপোর্টার চান তাহলে নিয়েন না। আর যদি মালিকের তদ্বির করবে এমন সাংবাদিক চান তাহলে নিতে পারেন। তিনি তখন মুচকি হেসে বলেছিলেন, বোঝোই তো। আমি বলেছিলাম, যে মালিকের দুই নম্বরী কাজ জায়েজ করতে তদ্বির করবে, সে নিজের জন্য কিছু করবে না, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। সুতরাং এই রিপোর্টার সেইটাই করবে।
ফাহিমকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়, আর সেই রিপোর্টার এখন মালিকের সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন, ফ্লাট ও গাড়ি সবই আছে। আরামের জীবন।
(নামগুলো পাল্টে দেওয়া হয়েছে।)





ভালো লোকদের এমনই হয়
দুই নাম্বারী করলে আপনার অবস্থাও সেই শেষের রিপোর্টারের মতো হতো। সবই থাকতো কিন্তু বউ এর কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধাটা থাকতো না। সৎ থাকার অনেক যাতনা কিন্তু শান্তি অনেক অনেক অনেক।
এই তো লক্ষী ছেলে
আজকে নিচে গিয়ে দেখি দারোয়ান বাংলাদেশ প্রতিদিন পড়তেছে। পত্রিকাটা কখনো পড়া হয় নাই, দেখলাম আজকে প্রথম প্রতীষ্ঠা বার্ষিকী, তাই উল্টাতে উল্টাতে একটু পড়েই ফেললাম। উপসম্পাদকীয়তে দেখি নঈম নিজামের বিরাট লেখা... পড়তে ব্যাপক মজা পাইলাম।
অনলাইনে কীভাবে খুঁজে জানি না, তাই লিঙ্ক দিতারলাম না, তয় যদি পারেন পইড়েন আর ফাহিমরে পড়ায়েন, বইলেন মালিকের চাকরি করলে এভাবে করতে হয়
যাহোক... এসব কাহিনী এতো বেশি দেখে আসছি... বিরক্ত লাগে
কিছু নমুনা দেই
নেপথ্য মানুষ তিনি।
আজ কাল যখন কাউকে দেখি বড় বড় নৈতিকতার কথা বলে কিন্তু কালো টাকার মালিকের পত্রিকায় টাকার লোভে চাকরি করে তখন ইচ্ছে হয় .......... কিন্তু হাসি এখন। সংগ্রামে বা নয়া দিগন্তে কাজ করে কেউ যদি বলে সে প্রফেশনাল ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের আবার কেউ যদি কালের কন্ঠে লেখা বিক্রি করে নৈতিকতার দোহাই দেয় তখনও বেচারার জন্য করুন হায়। টাকায় বিক্রিই হয় আবার নৈতিকতা $দায়।
নজরুলের কথাটাই বলি, এতো দেখছি যে বলতে বিরক্ত লাগে। সংবাদপত্র জগত নিয়ে মহাকাব্য লেখা যায় আসলে।
ইনি কি সেই নঈম নিজাম যিনি মাহফুজ চাচার চ্যানেলে বিদঘুটে বাংলা ভাষায় টকশো উপস্থাপনা করতো?
ড. মাহফুজুর রহমান

উত্তর: হ
পুরা লেখাটাই উদ্ধৃতি আকারে দেওনের মতো। অক্ষরে অক্ষরে এরকম তেল আমি জীবনে খুব কম দেখছি।
লোকটারে স্যালুট... এতো এলেম সবার থাকে না
আজকের লেখাটা ভালো লাগলো না , ওপেন পিট নিয়ে কোন গল্প নাই
শুধু সংবাদপত্র জগত নয়, সব 'জগতেই' একই ঘটনা ঘটে চলেছে অনবরত। বিশেষ করে আমাদের দেশটাকে যদি জগত ধরেন, তা'হলেও এটাই স্বাভাবিক, সকল সেক্টরে। তৈল না দিলে চাকা আটকে যাবে, ঘুরবে না, চলবে না ।
লেখা বরাবরের মতই সাবলীল ও প্রাঞ্জল ।
আমি একবার সেই পত্রিকার মালিকের মেয়েদের সাথে একটা মিটিং করতে তাগো সেনা কল্যাণ ভবনের অফিসে গেছিলাম। ঐ সময় তাগো চটপটি খাওনের গল্পতেই কাইৎ হইয়া পইড়া যাইতে নিছিলাম চেয়ার থেইকা...
এইটা নিয়া একটা পোস্ট বস
এই সব বিষয় নিয়া পোস্ট দেওয়াটা কেরম অস্বস্তিকর লাগে বস...কমেন্টেই কই, তারা চটপটি খাইতে ইচ্ছা করলে সকালে রওনা দেয় কওনের পর আমি একটু বিরক্তি নিয়া তাকাইছি দেইখা কয় যে কোলকাতার কোন দোকানের চটপটি নাকি আসলেই ভালো! তারা নাকি মনে হইলেই কোলকাতায় চইলা যায়...
কোলকাতায় আমাদের দেশের মায় পুরো ভারতে আমাদের ঢাকাইয়া চটপটির মতো কোন জিনিস আছে বলে চোখে দেখি নাই, কানে শুনি নাই, চেখে দেখি নাই। কাছাকাছি আছে ফুচকা, আলুকাবলী, পানিপুরী, গোলগাপ্পা কিন্তু ঐগুলা ফার ওয়ে দ্যান আমাদের টিপিক্যাল চটপটি/ফুচকা
পত্রিকার গল্প পড়তে মজা পাই, পত্রিকাঅলারা কত বড় বড় কথা লেখে কিন্তু নিজেরা একেকজন ভন্ডের ভন্ড ..........
সাহস করে ক'জন পারে এসব বলতে! ধইন্যা মাসুম ভাই।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেলি পড়ি। সকালে বাসে উঠে সময় কাটানোর এর থেকে সস্তা উপায় আর নাই। তবে লেখার মান দুই টাকা ই। মাঝে মাঝে এই তেল সম্পাদকের লেখাও পড়ি। একদিন লেখছেন কোন মন্ত্রি নাকি তারে জিগায় এখন কী করেন। তাতেই উনি আশ্চর্য্য হইয়া ভাবেন, এই জন্যই দেশের এই অবস্থা , মন্ত্রী জানেনা উনার মত লোক কী করেন!
পত্রিকা পড়ি ভাল লাগে। একেক পত্রিকা একই ঘটনা একেক সুরে প্রকাশ করে সেটা দেখে মজা পাই। যেমন একই ঘটনা কেউ আওয়ামী সুরে কেউ জাতীয়তাবাদি কেউ জামাতি কেউ জাতীয় সুরে। ঘটনা একই। তবে পাব্লিকের ও বুদ্ধি আছে ।
বলেন কী! এই অবস্থা। নাম পরিবর্তন না করলে আরো ভালো হতো
মন্তব্য করুন