ইউজার লগইন

দূরের মানুষ - কাছের মানুষ [গল্প - ২য় পর্ব]

চা শেষ করে কাপ নিয়ে শাহানা তার বেড রুমে ঢুকে। এখনও সকালের বিছানা গোছানো হয় নাই। এক সময় তার শখ ছিল সেগুন কাঠের একটা খাট কিনবে , সেই শখ পূরন হয়েছে বছর খানেক আগেই । কারুকাজ করা খাটে জায়গায় জায়গায় ধূলো জমেছে , বিছানার চাদরটাও বেশ ময়লা হয়ে গেছে।

দুই দিনও হলো না চাদর বিছানো হয়েছে অথচ এখনই কি নোংরা !!!! প্রতিদিনই তো সামির কিংবা সে পরিষ্কার হয় , দুই বেলা স্নান করে ওয়াসার পানিতে তারপরে বিছানায় শরীর এলায়ে দেয় তারপরেও এত ময়লা কেমন করে হয়, বুঝে না। হয়তো মানুষের মনের নোংরা গুলো এখন চাদরেও লাগতে শুরু করেছে !!!

ওয়ারড্রপ থেকে পরিষ্কার চাদর বের করে , বিছাবে বলে। নোংরা চাদর উঠায়ে নিচে রাখে। বালিশের কভার গুলো ও খুলে নিচে ফেলে একটা একটা করে। নিচের দিকে তাকাতেই শাহানার চোখে ভেসে উঠে ক্লান্ত অতীত। বিয়ের পর একটা রুম সাবলেট করে থাকতো তারা দু'জন। খাট ছিল না বলে মেঝেতে তোশক বিছায়েই থাকতো তারা। সেমি ডাবল তোশকের মধ্যে দু'জনের জড়াজড়ি করে ঘুমিয়ে রাত পার হতো হৃদয়ের উষ্ণতা বিছিয়ে , আবেগের কাঁথা মুড়ি দিয়ে কিংবা ছেলেমানুষী অভিমানের কপট রাগের বালিশে মাথা গুজে ভালোবাসার সাতকাহন গাঁথতো তারা।

স্মৃতি খুবই খারাপ একটা বাহন , কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায় মন কে। বড় একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে শাহানার ভিতর থেকে।

খাটের দিকে তাকিয়ে দেখে সে একবার। সেগুন কাঠের ডাবল খাট। বেশ আরামের বিছানা, পরিপাটি করে সাজানো থাকে সব সময়। খাট বা বিছানা পাল্টেছে কিন্তু সেই মানুষ দু'টিই রয়ে গেছে, যদিও তাদের ভিতর পাল্টেছে এখন সময়ের সাথে সাথে। এখন দুই জন মানুষ খাটের দুই প্রান্তে , দুটি ভিন্ন জগতের বাসিন্দা হয়ে রাত কাটায় একই ছাদের নিচে, একই ফ্যানের বাতাসে দুই জন দুই চিন্তা ধারা উড়িয়ে দেয় চার দেয়ালে।

মাঝে মাঝে নির্ঘূম রাতে কাটায় শাহানা, চুপিসারে, সামির জানেও না , জানতেও চায়না সে নির্ঘূম রাত জাগার কাব্য। জানালার কাঁচে রাতের অন্ধকারের সাথে রাস্তার আলোর জ্যামিতিক সমীকরন প্রচ্ছদ আঁকে শাহানার ভাবনার পান্ডুলিপিতে , চার দেয়ালের মাঝে বাতাস বাড়ি খেয়ে খেয়ে ফিরে আসে আবার শাহানার ভাবনা গুলোর মতই। রাত্রির নিরবতার মাঝে সামিরের নাক ডাকার শব্দে হারিয়ে যায় শাহানার নিঃশাসের শব্দ, যেমন তার শখ, ভরসা কিংবা বিশ্বাস যেমন কর্পূরের মত উড়ে গেছে দিনের পর দিন সামিরের অবহেলার বাতাসে।

বড় অচেনা দু'টি মানুষের একত্র বসবাস !!!

ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে শাহানা। অনেক বেলা হয়ে গেছে, এখনও বুয়ার খবর নাই। ঠিকা বুয়াদের নিয়ে এই এক যন্ত্রণা। একদিন আসে তো আরেকদিন খবর নাই। আজকেও আসবে না মনে হয়। ময়লা কাপড়ের ঝুড়িতে বিছানার চাদর রেখে রান্নাঘরে যায় । আড়াই টার মধ্যে তালহা বাড়ী ফিরবে , ফিরেই ক্ষিদের জন্য চেঁচামেচি শুরু করবে, প্রতিদিন একই নিয়মে।

তালহা , তাদের একমাত্র সন্তান। অষ্টম শ্রেনীতে পড়ছে এখন। নাকের নিচে গোঁফের রেখা দেখা দিচ্ছে মাত্র, গলা থেকে এখন আধেক পুরুষ আর আধেক বাচ্চা মানুষের স্বর মিলে একটা অদ্ভুত স্বর বের হয়। বিয়ের বছর দেড়েক পর যেদিন তাদের সংসার জুড়ে এই সন্তান এল , তাকে ঘিরেই যেন শাহানার সব সুখ, শান্তি, সামিরের ব্যস্ততা। একদিকে সন্তানের আরেকদিকে সন্তানের বাবার দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজের দিকে তাকানোর সময় পায়নি শাহানা বেশ কটি বছর। এই সময়ে সে খেয়াল করেনি তাদের সন্তানের পিতা সেই আগের মানুষটা নাই, যে মানুষটা আগে শাহানার রাগ ভাঙাতে গভীর রাতে বাইরে গিয়ে কিনে আনতো আইস ক্রীম। যখন তার খেয়াল হয়েছে তখন তাদের ভিতর যোজন যোজন দূর, সেই দূর সামির ও অতিক্রম করেনি, শাহানাও তাই চায়নি অতিক্রম করতে।

তালহা স্কুল থেকে এসে ভাত খাবে তারপর খানিক ক্ষন কম্পিউটার নিয়ে গুতাগুতি , তারপর কোচিং আবার সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে নিজের ঘরের ভিতরেই ... কারো দিকে তাকানোর সময়টুকুও নাই তার এখন আর তাই শাহানার এখন নিজের দিকে তাকানোর অনেক সময়। আর এখন সে তাকিয়ে দেখে এই সংসার টা সাগরের বেলাভূমির মতই, শাহানার ভালোবাসার ঢেউ দিয়ে বার বার বিধৌত হচ্ছে যেন। তার বিনিময়ে তার বুকে জমেছে কষ্টের পলি।

রান্নাটা তাড়াতাড়ী শেষ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে একা হাতে।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ভাস্কর's picture


যতটুক কইরা আগাইতেছে এই গল্প তাতে মনে হইতাছে সব পর্ব নামলে তারপর পড়া উচিৎ...

সাঈদ's picture


জ্বী ভাই, আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেলের সিরিয়াল নাটক থেকে শিখেছি কতটুকু করে আগাতে হয়। Tongue

কাঁকন's picture


এখনোপুরোপুরি শিখেন নাই আগামি পর্ব থিকা পুরা ফর্মেটে ফেলবেন

গতপর্বে ‌্যা পড়ে ছেন ........

..............................................

.....................................................................................................

....

...............................................................................

আগামি পর্বে‌্যা দেখবেন .....

 

সাঈদ's picture


ওহ!! ধন্যবাদ। তা বিজ্ঞাপন বিরতি কি থাকবে ?

কাঁকন's picture


া অবশ্যই থাকবে, আগামিতে আপনি কি পোস্ট লিখতেসেন, সামু/আমু এর পোস্টের লিংক দিয়া দিবেন Smile

আপন_আধার's picture


হমমমম...যেই যুগে যেই ভাও...

ভালো হইতাসে, লেখেন...

সাঈদ's picture


শুকরিয়া ।

সোহেল কাজী's picture


কিরাম বিষণ্ণতার ছাপ লাগে।

কাহিনী ধীরে ধীরে আগাউক। নয়া নয়া কেরেক্টার আসুক। দেখি দুইটা জেনারেশন কে কেমন বিহেভ করে। Smile

সাঈদ's picture


দুই জেনারসশনের বিহেভ টা আইবো না এখানে Sad

১০

নজরুল ইসলাম's picture


চলুক, শেষ হইলে পড়ুম একবারে

১১

সাঈদ's picture


মাঝে মাঝে পদধূলি দিয়েন এখানে।

১২

কাঁকন's picture


ভাল লাগতেসে

১৩

সাঈদ's picture


আমি ধইন্যা। Laughing out loud

১৪

নুশেরা's picture


প্রথম পর্বের চেয়ে আকারে বড়, এটা ভালো খবর। বর্ণনা ভালো লাগলো, চলুক। প্রতি পর্বই যথাস্থানে এসে পড়ার ইচ্ছা রাখি।

একটা কথা। ওয়াসা যে পানি দেয় তাতে আসলেই দুইজন মানুষের দুইবেলাই গোসল সম্ভব? আর ইয়ে মানে একটা বানান... "ওয়ার্ডরোব" হবে

১৫

সাঈদ's picture


ওয়াসার পানি এরকম পাওয়া যায় বর্ষাকালে।

আর ওয়ার্ডরোব লেখার সময়েই বুঝেছিলাম, বানান ভুল হচ্ছে, কারন এই বানান টা আগে বাংলায় লিখিনি।

১৬

টুটুল's picture


নিশ্চয় এর পরেরটা আর একটু বার্বে? Wink

বইসা আছি

১৭

সাঈদ's picture


পরের টা আরো বার্বে কিনা কইতারিনা, মাথা দিয়া ইদানিং কিছু বের হয়না সহজে।

১৮

মুকুল's picture


ধারাবাহিক গল্প পর্বে পর্বে পইড়া জোশ নাই। সবগুলা একসাথে পড়তে মজা! Smile

১৯

সাঈদ's picture


জানি, কিন্তু একবারে তো লিখতে পারুম না।

২০

জ্যোতি's picture


ভালোবাসার ঢেউ দিয়ে বার বার বিধৌত হচ্ছে যেন। তার বিনিময়ে তার বুকে জমেছে কষ্টের পলি।
এমন কেন হয়?কিছু বলতে চেয়ে লগ ইন করলাম এখন ভাবছি দেখি গল্প কোন দিকে মোড় নেয়....পড়ে শেষ করে নেই

২১

সাঈদ's picture


ইনশাল্লাহ।

২২

নড়বড়ে's picture


পড়িতেছি ...

২৩

তানবীরা's picture


আগের দিনের ধারাবাহিক করলে হয় না, এক ঘন্টার সকাল সন্ধ্যা ?

পড়তে ভালো লাগছে কিন্তু ঠিক করে শুরু করার আগেই আবার শেষ ঃ)

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সাঈদ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,
হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,
মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায়।

আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি।
সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,
অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না।
কী করে তাও বেঁচে আছি আমার মতো। অবাক লাগে।