সম্পূর্ন রঙীন - আংশিক ডিজিটাল "মুঘলে আযম" (১)
মুঘলে আযম
(সম্পূর্ন রঙীন , আংশিক ডিজিটাল)
প্রথম দৃশ্যঃ
সিংহাসনে বসা সম্রাট আকবর। উৎফুল্ল চিত্তে ........
সম্রাট আকবরঃ বাংলা বিহার উড়িষ্যার মহান অধিপতি
বীরবলঃ খুক খুক (কাশি) 
আকবরঃ খামোশ !!! সম্রাটের ভাষনের মধ্যে তুমি কাশি দাও । এত বড় সাহস !!!
বীরবলঃ হুজুর আপনি ভুল করে ঐ সিরাজ বেক্কলের ডায়লগ দিয়া দিছিলেন তাই মনে করায়ে দিতেই .......
আকবরঃ ওহ। sorry. ..
তো যা বলছিলাম , আজ আমাদের শাহজাদা সেলিম ১৪ বছর পর আম্রিকা থেকে দেশে ফিরছে। তাকে অভ্যর্থনার জন্য কি বন্দবোস্ত করিলে , বীরবল?
বীরবলঃ জ্বী আজ্ঞে জনাব , আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। বিমানবন্দরে আমরা লাখো মানুষ জমায়েত করে শো ডাউন করবো। ১০০ খানা পাজেরো ঘোড়া আর ৫০ খানা লিমুজিন হাতি থাকবে বহরে। উপস্থিত সকলে ব্যানার , ফেস্টুন নিয়া রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে শাহজাদা কে স্বাগত জানাবে। বিমানবন্দর থেকে রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত দুপাশে মানুষ থাকবে তাঁকে স্বাগত জানাতে , মহামান্য সম্রাট।
আকবরঃ হুম।
আকবরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়িল। এত লোক ভাড়া করা মানেই টাকা পয়সার ব্যাপার। সবাইকে ৩০০ টাকা সাথে এক প্যাকেট বিরানী দেয়া লাগিবে । এদের নিয়ে আর পারা গেল না। দিন দিন demand বেড়েই চলছে !!!
দ্বিতীয় দৃশ্যঃ
শাহজাদা সেলিম অভ্যর্থনা শেষ করে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করিলেন। তাহার মাতা রাজপুত আর যোধা বাঈ কে সালাম করিয়া নিজ কক্ষে প্রবেশ করিলেন। দীর্ঘ ভ্রমন তারপর আবার বিশাল অভ্যর্থনার ধকলে শাহজাদা সেলিমের শরীর কাহিল হইয়া গিয়াছে। বিছানায় গা এলিয়ে দেয়া মাত্রই নিদ্রায় অচেতন হইয়া গেলেন শাহজাদা।
দীর্ঘ নিদ্রা শেষ করিয়া শাহজাদা বেশ উৎফুল্ল। মন মেজাজও ভালো । আহারাদি সম্পন্ন করিয়া নিজ কক্ষে প্রবেশ করিয়া সুইস ব্যাংকের একাউন্ট নিয়া হিসাব কষিতে বসিলেন। তাহার হাত খরচ বাবদ প্রতি মাসে যে অর্থ পাঠানো হইতো তাহা হইতে কিছু কিছু করিয়া শাহজাদা সুইস ব্যাংকে জমা করিতেন। কিছু অংশ মালয়েশিয়াতে বিনিয়োগ করিবেন বলিয়াও ভাবিয়া রাখিয়াছেন। এতদিন পর দেশে আসিয়াছে, শুধু বাপের অর্থের উপর ভরসা না করিয়া নিজেই টু পাইস কামানোর চিন্তা করিতে লাগিলেন। কোন এক মোবাইল অপারেটর কোম্পানি তাহার সহিত সাক্ষাত করিতে চাহিয়াছিল, তাহাদের সহিত কথা বলিবেন বলিয়া মনস্থির করিলেন। টু পাইস এর ধান্ধা না করিলেই নয় - নিজেই নিজেই কহিলেন তিনি।
তৃতীয় দৃশ্যঃ
শাহজাদা সেলিম বৈদেশ থাকিয়া তাহাদের আচার আচরন কিছু এরই মধ্যে রপ্ত করিয়াছেন। কথায় কথায় thank you , sorry বলা ছাড়াও DJ party তে যাইবার অভ্যাস হইয়াছে, সাথে শুরা-সাকী তে অভ্যস্ত হইয়া উঠিয়াছেন।
রাত হইতেই শাহজাদা ডিস্কোতে যাইবেন বলিয়া মনস্থির করিলেন। খুঁজিয়া খুঁজিয়া একটি পাঁচ তারকা হোটেলের DJ party তে তিনি গমন করিলেন।
সেখানে সমাজের আরো অনেক বিখ্যাত জ্ঞানী গুনি লোক, রাজনৈতিক ব্যাক্তি সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আধো আধো আলোয় সকলেই সুরের তালে তালে শরীর দুলাইতাছে। সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চঃস্বরে গান বাজিতেছে। সে গানের কথা যাহাই হউক না , তাহাতে কাহারো কিছু যায় আসে না । একজন ভদ্রমহিলা গাইছেন, যার বাংলা করিলে দাঁড়ায় - আমার পাছা মিথ্যা বলে না - এই ধরনের। কিন্তু তাহার গানের কথার দিকে কাহারোই খেয়াল নাই, সকলেই সুরে সুরে শরীরের কসরত করিতেছে। ইহাকেই DJ পার্টি বলিয়া থাকে।
শাহজাদার প্রবেশের সাথে সাথে সকলেই কূর্নিশ করিয়া পথ ছাড়িয়া দিল। নাচ- গান কিছু ক্ষনের জন্য বন্ধ হইয়া গেল।
শাহজাদা সেলিমঃ Yo man !!! Cheers . বন্ধ করলেন কেন?
শাহজাদার কথা শুনিবা মাত্রই সকলে হর্ষধ্বনি করিয়া আবার নাচিতে লাগিল। শাহজাদা ড্যান্স ফ্লোরে পদ যুগল রাখিবা মাত্রই অপরুপ সুন্দরী এক নারী আসিয়া বলিল - Lets dance.
আধো আলোয় শাহজাদা তাহার রুপ বুঝিতে পারিলেন না। শুধু তাহার শরীর হইতে, চুল হইতে যে ঘ্রান আসিতে লাগিলো তাহাতেই তিনি বিমোহিত হইয়া গেলেন। এক সময় দুজনেই সমান তালে ছন্দে ছন্দে নাচিতে লাগিলো।
অধিক রাত হইলে পরে তাহাদের নাচ থামিলো। ঘরের আলো ফুটিয়া উঠিলো। সেই আলোয় শাহজাদা দেখিলেন - তাহার সহিত নাচিয়াছিল এক অপরুপা সুন্দরী। তাহার হাসিতে যেন ঝর্নার শব্দ। চোখের পাতায় যেন চাতক পাখির ন্যায় আকাঙ্খা। সদ্য প্রস্ফুটিত কমলের পাপড়ির ন্যায় ঠোট দুখানা যেন ভ্রমরের অপেক্ষায়। দেখিবা মাত্রই শাহজাদা তাহার প্রেমে পড়িয়া গেল। নাম জিজ্ঞাস করিতেই সুন্দরী বলিল - আনারকলি।
চতুর্থ দৃশ্যঃ
রাজদরবারে আপন কক্ষে ফিরিয়াই শাহজাদা facebook এ স্ট্যাটাস দিয়া জানাইয়া দিলো - আনারকলিকে তাহার চাইই চাই।
সকাল ১২ টায় ঘুম হইতে উঠিয়া দেখিলেন যে সেই স্ট্যাটাসে ৬০০ খানা লাইক আর ২৭০ খানা কমেন্ট পড়িয়াছে। খুশী মন নিয়া শাহজাদা দিন আরম্ভ করিলেন।
বিকাল হইতেই শাহজাদা আনারকলির ঠিকানা ও পূর্ন পরিচয় ও মোবাইল নম্বর পাইয়া গেলেন বন্ধু মারফত। তাহার সেই বন্ধু র্যাব গোয়েন্দা কে কাজে লাগাইয়া তাহার বৃত্তান্ত বাহির করিয়া শাহজাদা কে দিয়া গিয়াছে।
শাহজাদা জানিলো যে - আনারকলির মাতা সরকারী বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা। রাজপ্রাসাদেই তাহার কর্মস্থল। এই প্রভাব খাটাইয়া তিনি বিস্তর টাকা পয়সা ইতমধ্যেই আয় করিয়াছেন। সরকারী কর্মকর্তা হইয়াও তাই তাহার একমাত্র কন্যা আনারকলিকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাইয়াছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদয় খরচ তিনি মিটাইতেছেন।
ওদিকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইতেই আনারকলি তাহার বন্ধুদের সহিত মিশিয়া , অঢেল টাকা পয়সা ও মাতার নিকট হইতে আহ্লাদ পাইয়া আনুন্দ ফূর্তিতে দিন কাটাইতেছে। সম্প্রতি সে ইয়াবাও নাকি ধরিয়াছে বলে দুষ্টুলোকেরা বলাবলি করিতেছে।
সেদিন সন্ধ্যায় শাহজাদা সেলিম আনারকলির মোবাইলে ফোন করিলেন -
(পাঠক চাহিলে চলিবে............................)





আকবর দেখি প্যাকেট বিরিয়ানীর ব্যাবস্থা করিতেছে! আরে স্কুলকলেজ ছুটি ঘোষনা করিয়া ছাত্রদের দাড়ঁ করাইয়া দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। এরা না জাতির ভবিষ্যত, তো দেশের কাজে না লাগিলে কি করনীয়ই বা আছে এদের!
আর বাটিতে পৌছাইবা মাত্রই সেলিমের "আমি আইছি রে!" স্ট্যাটাস দিয়া নিদ্রাযাপন করা উচিত ছিলো, তবেই দেখিতেন লাইকের বহর!
চলুক!
বাস্তব কাহিনীর সাথে কোনক্রমেই মিলানো চলবে না । নো। নেভার ।
৩০০ টাকা আর এক প্যাকেট বিরিয়ানি দিলে লেখা বন্ধ করলেও কিছু বলিব না... কিন্তু না দিলে লেখা বন করা যাপে না... চলতেই হপে...
আচ্ছা লিখুমনে ,
আমারে এক প্যাকেট বিরানী খাওয়াইবেন ?
পরের পর্ব কৈ?
শীঘ্রই শুভ মুক্তি । ঢাকা-নারায়নগঞ্জ সহ সারা দেশ জুড়ে।
পাঠক চাহিতেছে অতএব চলুক...
অতএব চলুক...
যতোসব গাঁজাখুরি গপ সপ। চালায় যান।
এই ভাবটুকু না ধরলেও চলতো।
হ আমি কইলেই দোষ
পাঠক চাহিতেছে অতএব চলুক...
বহুদিন পর আবার একখানা সাইয়িদানা
হি হি ...মজার হইছে....চলুক
অতএব চলুক...
আগে সেলিম-আনারকলি আসতো এক যুগে একটা। এখন ঘরে ঘরে একটা। যে কারণে তাদের আবেদন স্তিমিতপ্রায়।
সেলিম আনারকলি কই দেখলেন ঘরে ঘরে ?
এখন তো সব চাইনিজ মেড ভালোবাসা।
আনারকলি ইয়াবা খায়? ছি ছি...
এরকম নাচানাচি করতে হইলে ইয়াবা না খাইলে চলে ? শক্তি লাগবে না ?
পাঠক চাহিয়া গেলাম
আপনি পাঠিকা, পাঠক চাহিবেন, এটাইতো স্বাভাবিক
খাইছে! এটা দেখি ডিজিটাল মুঘলে আজম! ইয়াবা, ফেসবুক, ডি জে পার্টি---বাহ্ । পরের পর্ব দেন না কেন?
এশিয়া কাপের জন্য বিরতি নিছিলাম ।
মন্তব্য করুন