হৈমন্তী... (২)
তাহার পিতা ছিলেন উগ্রভাবে সমাজবিরোধী। দেশের প্রচলিত নিয়ম কানুনের প্রতি তাহার কোন আস্থা ছিলো না। সরকারী চাকুরে হইয়াও তিনি ঘুষ খাইতেন না, নীতি কথা বলিতেন , তাহাতে সরকার , উর্দ্ধতন কর্মকর্তা তাঁহার উপর ক্ষুদ্ধ হইয়া তাহাকে খাগড়াছড়ি ট্রান্সফার করিয়া দিয়াছে। তিনি রাজধানীতে আসিবার জন্য পরবর্তিতে আর লবিং করেন নাই। আমার পিতা ছিলেন উগ্রভাবে সমাজের অনুগামী। সমাজে প্রতিষ্ঠা পাইতে হেন কাজ নাই, তিনি করেন নাই। অবৈধ পথে টাকা পয়সা কামাই করিয়া, সরকারী জমি দখল করিয়া, সর্বদা সরকারী দলের হইয়া কাজ করিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা পাইয়াছেন। শিলা আমার শ্বশুড়ের একমাত্র মেয়ে। বাবার বিশ্বাস ছিল কন্যার পিতার সমস্ত টাকা ভাবী জামাতার ভবিষ্যতের গর্ভ পূরণ করিয়া তুলিতেছে।
শিলার যথাসময়ে ত্রিশ হইলো কিন্তু তাহা স্বভাবের ত্রিশ, সমাজের ত্রিশ না। ছাত্র রাজনীতির নেত্রী হইবার কারনে কেহ তাহাকে ঐ বয়স পর্যন্ত ছাত্রী হলে থাকিলেও কেহ কিছু বলে নাই, সেও সেদিকটায় ফিরিয়া দেখিত না ।
বেকার জীবনের ৫ম বর্ষে পা দিয়াছি, আমার বয়স ৩৩ , এমন সময় আমার বিবাহ হইল । বয়সটা সমাজের মতে বা সমাজসংস্কারকের মতে উপযুক্ত কি না তাহা লইয়া তাহারা দুই পক্ষ লড়াই করিয়া রক্তারক্তি করিয়া মরুক, কিন্তু আমি বলিতেছি , তবুও বিবাহ যে হইলো, এতেই আমি খুশি।
একদিন বসিয়া ব্লগ পড়িতেছিলাম এমন সময় একজন ঠাট্টার সম্পর্কের আত্মীয়া আমার টেবিলের উপরে শিলার ছবিখানি রাখিয়া বলিলেন, “এইবার সত্যিকার পড়া পড়ো — একেবারে ঘাড়মোড় ভাঙিয়া।”
যা হউক, অকালের ঠিক পূর্বলগ্নটাতে আসিয়া বিবাহের দিন ঠেকিল। সেদিনকার হিন্দি গানের প্রত্যেক তানটি যে আমার মনে পড়িতেছে। সেদিনকার প্রত্যেক মুহূর্তটি আমি গাঁজা খাইয়া বুদ হইয়া তারপর আমার সমস্ত চৈতন্য দিয়া স্পর্শ করিয়াছি।
বিবাহসভায় চারি দিকে হট্টগোল তাঁহার মাঝে আমি তাহাকে দেখিলাম। তাহাকে দেখিয়াই বিবাহের ঝামেলার মধ্যেই মোবাইল দিয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম -
'আমি পাইলাম , আমি ইহাকে পাইলাম। '
দুষ্টু লোকেরা নানান মন্তব্য করিলো, কয়েকশত লাইক পড়িল , কিন্তু আমি তাহাতে গা করিলাম না ।
বিবাহের পরে বিদায়ের মুহুর্তে শিলা তাঁহার বাবাকে জড়াইয়া ধরিয়া খানিকক্ষন কাদিলো। তাহারপর সব-শেষে শ্বশুড়মশাই আমাকে নিভৃতে লইয়া গিয়া অপরাধীর মতো সসংকোচে বলিলেন, “ আমার মেয়েটির ফেসবুকিং, শপিং করিবার শখ , এবং রাজনীতি , শ্লোগান দিতে , পিকেটিং করিতে ও বড়ো ভালোবাসে । এজন্য বেহাইকে বিরক্ত করিতে ইচ্ছা করি না । মাঝে মাঝে তাহাকে পুলিশে ধরিলে তুমি ব্যবস্থা করিবে । না হইলে তোমার বাবা জানিতে পারিলে রাগ করিবেন।”
আমি স্তব্ধ হইয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলাম । মনে বুঝিলাম , ইহারা অন্য জাতের মানুষ।
শিলা — না , এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না । একে তো এটা তাহার ফেসবুক নাম , আসল নাম নহে , তাহাতে এটা তাহার পরিচয়ও নহে । বিবাহ তো হইয়াই গিয়াছে এখন আর কী হইবে গোপনে রাখিয়া। তাহার আসল নাম হৈমন্তী।
চলিবে...........





ঠিকাছে।

চলুক।
ব্যাপক মজারু।
ঠিকাছে ।
চলবে
অসাধারণ সিমপলি অসাধারণ
ধইন্যা সিম্পলি ধইন্যা ।
হা হা হা !! ব্যাপক হইতেসে সাঈদ!
ধইন্যা ।
great
=))
চ র ম
হৈমন্তী'র একটা মর্ডান নাম দ্যান...'হামু' বা এই ধরনের কিছউ একটা
~
দ্দারুণ হইতাসে বস। চালাইয়া যান সত্যি হৈমু আসিয়া পড়িতেও পারে।
রবীন্দ্রনাথও চইলা আসতে পারে , কিছুই বলা যায়না ।
আপনে তো ভস
আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম

সাঈদ ভাই অসাধারণ হচ্ছে।
থ্যাঙ্ক্যু
থ্যাঙ্ক্যু
দারুন মজারু। চলুক।
দু'টা পর্বই একসাথে পড়লাম, দারুন হচ্ছে! অনেক বেশি মজার সিরিজ হইছে!
পরের পর্ব দেন জলদি।
এনশাল্লাহ কালকেই দিবো। মা দিবসের বিরতি
আবার ঝিমাইতেছেন আপনি? পরের পর্ব কই?
মন্তব্য করুন