আমার সেই বন্ধুর সরল স্বীকারোক্তি - ২
এরপর প্রায় দেখতাম মেয়েটিকে। দেখা হলে মুচকি মুচকি হাসতো। এমনি একদিন দুপুর আড়াইটার দিকে, ৩ বন্ধু মিলে দোকানের সামনে বসে আছি। দুপুরের সময় আবাসিক এলাকার রাস্তায় লোকজনের আনাগোনা কম থাকে সাধারণত। তাই যত কু্কীর্তি আছে করার সময় তখনই। সেই ক্যাসেটের দোকানদার রিয়াজ ভাই এই সময় প্রতিদিন দুপুরের খাবার খেয়ে এসে গাজা টেনে বসে থাকতো দোকানে। আমরা তখন দোকানের রাজা। বেশি ভলিউম দিয়ে গান শোনা ছিল সেই বয়সের ফ্যাশন। তার উপর ক্যাসেটের দোকান মানেই অনেকগুলো বড় বড় স্পীকার। সেদিন কি যেন মনে হয়েছিলো, রিয়াজ ভাই থেকে চেয়ে নিয়ে আমরাও গাজা ধরালাম। জীবনে প্রথম গাজা ধরালাম সেদিন, প্রথম কয়েক টান দেয়ার সময় সিগারেটের সাথে কোন পার্থক্য খুঁজে পাইনি। ৫/৬ মিনিট পরে যখন উঠে দাঁড়াতে গেলাম তখনি বুঝতে পেরেছিলাম সিগারেট এবং গাজার পার্থক্যটা কোথায়। যাই হোক, ততক্ষণে স্পীকারের প্রত্যেকটা শব্দের মাঝেই হারিয়ে যাচ্ছিলাম আর মনে হচ্ছিলো এভাবে যদি থাকা যেত সারাটি জীবন কত মজাটায় না হতো।
এমন সময় দোকানে আসে সেই মেয়েটি। সেদিন সে সত্যি সত্যিই ক্যাসেট কিনতেই এসেছিলো। কারণ তার সেই কলমী বন্ধুর সাথে তার আর কোন যোগাযোগ ছিলোনা। শুভ্রদেবের একটি ক্যাসেট সে নেয়ার পর টাকা দিতে গেলে আমি রিয়াজ ভাইকে টাকা নিয়ে না দিয়ে মেয়েটিকে বলি, এটা তোমাকে আমার গিফট। মেয়েটি কিছু না বলে ক্যাসেটটি নিয়ে যায়। পরদিন দোকানে এসে রিয়াজ ভাইয়ের কাছে শুনি মেয়েটি নাকি সকালে এসে রিয়াজ ভাইকে জিজ্ঞেস করেছে আমি কোন টাইপের গান শুনি, এবং সেই টাইপের ১০টা গান নিয়ে একটি ক্যাসেট রেকর্ডিং এর অর্ডার করে যায়। এর ঠিক দু’দিন পরে র্যইপিং করে সেই ক্যাসেটটি সহ কিছু ফুল রেখে যায় মেয়েটি আমার জন্য, আর রিয়াজ ভাইকে বলে সন্ধ্যায় তার বাবা বাসায় থাকেননা, আমি যেন তাকে ফোন করি।
ক্যাসেটের দোকানের পাশেই ছিল ফোন-ফ্যাক্সের দোকান। সেদিন সন্ধ্যায় সেই ফোনের দোকানের বাকির খাতায় জীবনে প্রথমবারের মত আমার নাম উঠলো। আমার বাসায় ফোন ছিলো মায়ের ঘরে তাই প্রতি সন্ধ্যায় সেই ফোনের দোকান থেকেই চলতে থাকলো কেমন আছেন, ভাল আছি টাইপ কথা বার্তা। একই কথা বার বার জিজ্ঞেস করে ৩০ মিনিট ফোন ধরে রেখেছি এমনও হয়েছে। ওপাশ থেকে একটি মেয়ের কন্ঠ, ভেতরে কেমন যেন অনুভব করতে শুরু করি। স্যারের বাসায় না যেয়ে সেই টাকা দিয়ে ফোনের দোকানের বাকি টাকা শোধ করি মাস শেষে। একদিন সাহস করে বলে ফেললাম, তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে। চলোনা কাল কোথাও ঘুরতে বের হই। প্রথমে না করলেও পরে ঠিকই রাজি হয়, মেয়েটি। ১৯শে অক্টোবর, ১৯৯৯। জীবনে প্রথমবারের মত কোন মেয়ের সাথে ঘুরতে বের হলাম, তাও আবার বন্ধুদের সবার কাছ থেকে ধার করে। তখনও বাংলাদেশে ২স্ট্রোক বেবিটেক্সী। কেউ দেখে ফেলবে সেই ভয়ে কোথাও না বসে, ২ ঘন্টা ঘুরলাম বেবিট্যাক্সিতে। সেদিন প্রথম তার হাত ধরেছিলাম। বলতে ভুলে গিয়েছিলাম যে সেই মেয়েটির নাম ছিল স্মৃতি। সেদিন স্মৃতিকে আমি প্রপোজ করি এবং সে রাজি হয়। স্মৃতি আমার চেয়ে বয়সে ২ বছরের ছোট ছিল। এভাবে আস্তে আস্তে আমাদের সাহস বাড়তে থাকে, আমরা বের হয়ে দূরের কোন রেস্টুরেন্টে বসতাম। মেন্যু থেকে খুঁজে তুলনামূলক সস্তা খাবারটি অর্ডার করা হতো। তবে কখনোই স্মৃতি কিছুই খেতোনা। এভাবে কেটেছে ৩টি বছর। এর মাঝে আমাদের ছোট ভাইবোনদের মাঝে ব্যাপারটি জানাজানি হয়। তবে একটি চরম সত্যি কথা হলো, এই তিন বছরে আজকালকার ছেলেমেয়েদের প্রেমের মত আমাদের মাঝে কোনদিন শারীরিক তেমন গভীর কোন সর্ম্পক হয়নি, যা আজ খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে পড়েছে।
চলবে......





কিছু টাইপো
মুচকি
কু্কীর্তি
জীবন
সন্ধ্যায়
ওপাশ
চলোনা
তুলনামূলক
শারীরিক
ধন্যবাদ আপু, ঠিক করে দিলাম।
ভালো লাগলো লেখা, স্মৃতিকাতরতা।
ধন্যবাদ আপনাকে। বন্ধুর কথাগুলো প্রায় সব শুনে আর শেয়ার না করে পারলাম না। তবে এমনভাবে বলার চেষ্টা করবো যেন শুধু ঘটনাবলীর সাথে জড়িতরা ছাড়া কেউ পড়লে তাদের পরিচয় না জানতে পারে।
'র্যইপিং' করে অর্থ কি তা বুঝতে পারলাম না । ভাল হচ্ছে, এগিয়ে যান ।
গল্প? খুব চেনা দৃশ্য। তবে আরেকটু হলে আপনার বন্ধু তো ইভ টিজিং এ ফেসে যেতো।
হুমম, গোঁফ ওঠা বয়সের কাহিনী। ভালই আগাচ্ছে, চালিয়ে যান।
ব্লগে স্বাগতম
ভাই পরের পর্ব জলদি জলদি দিবেনদি। শুভেচ্ছা জানবেন।
অরণ্য কেন আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন ? গা ঢাকা দিলেন কেন ? তাড়াতাড়ি জানতে চাই এর পরের কাহিনী ।
মন্তব্য করুন