বেখেয়ালি মানুষ আমার একদম পছন্দ না
গ্রাজুয়েশনের আগে ফাইনাল সেমিস্টারে ক্লাসের সবারই একবার দুইবার প্রেম হয়ে ভেঙ্গেও গেছে কেউ নতুন সম্পর্কের সন্ধানে আবার কেউ সম্পর্ক পার্মানেন্ট করার কথা নিয়ে বাসায় আলোচনার নানান প্ল্যান করছে, কিন্তু তৈয়বের কিছুতেই একটা প্রেম হয়না। এক লেভেল নিচের সুমিকে তৈয়বের ভীষণ ভালো লাগে কিন্তু কিছুতেই ভালো লাগাটা মুখ ফুটে বলতে পারেনা, এরই মাঝে তৈয়ব দুইবার গ্রিস্মের ছুটিতে চাপাই নবাবগঞ্জের লেংরাআম এনে সুমিকে উপহার দিয়েছে, সুমি শুধু হাসিমুখে আমগুলো রিসিভ করে হলে ঢুকে গেছে বেশি গল্প করেনি।
তৈয়বের মনে অনেক শখ সুমির সাথে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর, সন্ধার পর রিক্সার হুড তুলে গল্প করার কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। পাশ করা পর্যন্ত কিছু হলো না। ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবার আগে শুধু একদিন সুমি তৈয়বের সাথে গল্প করেছিল, তৈয়বের সাদাকালো পৃথিবীতে এই একটাই রঙিন চ্যাপ্টার, এভাবে দিনযায় রাতযায় তৈয়ব মনে কষ্ট পুশে রাখে, ২৭তম বি সি এস পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে চান্স পাবার পর তৈয়বের সাহস দুঃসাহসে পরিনত হয়ে যায়। নানান স্বপ্ন ডানা মেলতে থাকে তৈয়বের মনে, মনসুন রেইন থেকে নতুন সার্ট প্যান্ট, শাহবাগ থেকে ফুল আর মিষ্টি নিয়ে তৈয়ব রওনা হয় ক্যাম্পাসের পানে। হলের দারোয়ান মামাকে টিপস দিয়ে ডেকে পাঠাতে বলে সুমিকে। যথারীতি সুমি এসে মিষ্টির প্যাকেটটা নিয়ে “ থ্যাংকইউউউ ভাইয়া” বলে হাসি মুখে চলে যায় এবার তৈয়বের কিছুটা রাগ চাপে, মামাকে দিয়ে আবার ডেকে পাঠাতে অনুরোধ করে।
সুমি আসতেই জানতে চায় ‘আমার দোষটা কোথায়’ আমার কি ইচ্ছে করেনা তোমার হাতে হাত ধরে ঘুরতে আমি কি মানুষনা? রাগের মাথায় বি সি এস পরীক্ষার রেজাল্ট দেখায়ে বলে আরতো মাত্র কটাদিন, তারপরই নিশ্চিত জীবন, সুমি রেজাল্ট দেখে বলে মাত্রতো প্রিলি আরও তো অনেক পথ বাকি এরই মাঝে যদি আপনি আরও একটু খেয়ালি হন তাহলে দেখা যাক কিছু একটা হবে হয়তো। খেয়ালি মানে? তৈয়ব কৌতুহল নিয়ে জানতে চায়, সুমি বলে শুধু আজকেইনা, বেশ কবার লক্ষ্য করেছি প্যান্টের চেইন লাগাতে আপনার মনে থাকেনা, তাইতো বললাম আরেকটু খেয়ালি হলে ক্ষতি কি? বেখেয়ালি মানুষ আমার একদম পছন্দ না; তড়িৎ গতিতে তৈয়ব চেইনে হাত দিয়ে দেখে আরে!! সত্যি তো! সকালে তাড়াহুড়া করে প্যান্টের ভিতর শার্ট ইন করার পর চেইনটা টানতে ভুলে গেছে সে
মাহমুদ
mahmud66@gmail.com





হা হা হা হা
নিজের মান ইজ্জত টা এইভাবে তৈয়বের উপর দিয়ে ঝারলেন।বেশ বেশ বেশ।
আমি প্যান্টের চেইন লাগানর ভয়ে পায়জামা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি
মেয়েটার নজরও সবসময় আগে ওখানেই যায় নাকি?
দারান মেয়েটাকে একটা ফোন দিয়ে জানাব
এটা কি হাসির গলপ না দু:খের, বুঝি নাই
আমি নিজেও বুযি নাই! এইটা আমার প্রথম লেখা তাই আগা মাথা নাই, আপনি কি সচলায়তনের তানভিরা আপু? আমি সচলে মাহমুদ জেনেভা দিয়ে লিখি
এইটা আমার ব্লগ
আমি তানবীরা, আগে সচলেও লিখতাম
আহারে বেচারা!
মন্তব্য করুন