আবদুল্লাহ শিবলী'এর ব্লগ
ডায়েরি ১
ভেতরটায় একটা জন্তু ডাকছে । একটানা অনবরত ; নীল মাছি ভরা মৃতদের মচ্ছবে । সমুদ্র সঙ্গমে চলে গেছে কয়েকটি নদী ; আর ফিরে আসবে না বলে ।
এদিকে শুকিয়ে কাঠ অই বদ্বীপ । বুনো অন্ধকার বিষণ্ণ করে দেয় তোমার পতিত জমিন ।তির তির করে কাপতে থাকে প্রথম বোতাম খোলার অস্থির উল্লাস । ঘাসের বুক থেকেই শুকিয়ে যায় শিশিরস্মৃতি ।তোমার চোখে ভর করে বিষ কন্যার দৃষ্টি ।
অস্থির হয়ে জন্ম নেয় মহাস্থানগড়ের ভোর । আর খিস্তি খেউরের ফুল্কি ছোটে ক্রমশ একটি কাকের মুখ থেকে ।
প্রবল পৌরুষ আর্তনাদ শোনা যায় সহর সভ্যতার। মিথস্ক্রিয়ায় জন্ম নেয় নতুন দুঃস্বপ্ন ।
এবার মনে হয় সময় হল নীলকণ্ঠ হবার ।
তোমার জন্য কবিতা
তুমি যখন কবিতা লিখতে বললে,
শব্দগুলো নিজেরাই কবিতা হয়ে উঠলো ।
তুমি যখন ফুল হয়ে গেলে-
সৌরভগুলো সব তোমার হয়ে গেল ।
এ ফেরোমোন ডাকছে আমায়;
শেষ বিকেলে পথ হারানো হরিণীর মত।
শুধু তোমার জন্যই শাদা গাংচিলের ডানায় আনন্দ ভাসাই
আর ওমে খুজে নিই
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার ঘ্রান।
শুধু তোমার জন্যই
ভালোবাসি- না বলে ভালবাসাই হয়ে যাই ।
স্মৃতি কথা, স্পর্শ উপাখ্যান-১
তোমার সাথে স্পর্শের কোন স্মৃতি নেই।
তাই চোখ দুটোকে ওরা হিংসা করে বেশ
তোমার কথা শোনে কানদুটো সন্যাসে গ্যাছে
ঝলসে যাওয়া কানে শুনি না কিছুই আর।
তোমার সাথে আমার কোন স্পর্শ নেই।
একটু বেশিই তোমায় দেখার ছিল
আর একটু বেশি শোনার…
একটি কথা তোমায় বলার ছিল
বাকী রইল। থেকেই যাবে।
প্রেমনির্বাণ
রাত্রীর পাপড়ি একটা একটা করে খুলুক
তোমার মত করে ঘাসফুলের স্পর্শ
ক্রমশ আলো হয়ে যাক রাতের অন্ধকার
একটা একটা করে নিঃসঙ্গতা পালিয়ে
চুম্বনগুলো জমুক একটা একটা করে
রাতজোনাকির ভয়ে আড়ষ্ট হোক তোমার ঠোঁট
হিমালয়ের বরফ জমিয়ে দিক
আর উত্তরের বাতাস ভাসিয়ে দিক তোমায়
আমি দিয়ে দিব তোমায় আমার উষ্ণতা
চুম্বনগুলো জমছে ক্রমশ
আমি আর তুমি ছাড়া কেউ না থাকার দিনে…
স্বপ্নের খোঁয়ারিদোষ
স্বপ্নের খোঁয়ারি ভাঙ্গে একসময়
ভুল হয়ে যায় সুখ সৃতিগুলো
পরতে পরতে জমতে থাকে ধুলো
ইতিহাসের পথে জমতে থাকে নতুন ইতিহাস ।
একসময় থমকে দড়ায় সময়
নৈমিত্তিকটার ঘূর্ণাবর্তে আটকে যায় সব ।
অগণন লাশে ভরে যায় ইতিহাসপাঠ
ডোম ঘরে বসে থাকে শান্তি
অথর্ব আমরা বসে বসে দেখি
ক্রমশ নিজেদের মরে যাওয়া…
ইতিহাস লিখে চলে মৃত্যুর বিজয়গাথা
আমরা মরতেই থাকি ক্রমশ বুদ্ধি বিক্রির যুগে।
একজন মায়াবতীর জন্য
মায়াবতী তোকে দিলাম শূন্যের নৈশব্দ
নির্ঘুম চাঁদ, চন্দ্রসভার মেঘ
তোর সাথে হোক বন্ধন
হিমালয়ের কান্না-পবিত্র জল ছড়িয়ে পড়ুক
তুই ভিজে যা- ভিজুক তোর মন
আজন্ম শোকগুলো ধুয়ে যাক- উড়ুক গাংচিলের ডানায়
ঠাণ্ডা বাতাস লাগুক তোর চোখে
তুই শূন্য হ। জন্মান্তরের পাপ ধুয়ে যাক তোর
আবার জন্ম নে তুই এই জীবনেই
লালসাগুলো ঝলসে উঠুক তোর
তোকে তোর মতোই দেখুক সবাই
তোর মতোই তুই বেঁচে থাক
প্রতিটা অনুভবে মিশে থাক তুই।
এ যে তোরই জীবন।
তুই সুখী হ।