ইউজার লগইন

তালগাছ

চক্কুনি মাছ। তাল গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ভেসে উঠছে। পানির মৃদু নড়ন। তালগাছটার বয়স খুব একটা হয়নি। এতেই ঝুকে পড়েছে। বয়সের ভারে ঝুকে পড়াটা হয়তো স্বাভাবিক ছিলো। তার জন্মটাই হয়েছিলো ভুল জায়গায়। পুকুরের পাড় ঘেষে বেড়ে উঠেছিলো। পুকুরের পাড়গুলোও কেমন যেনো ভেঙ্গে পড়ে বৃষ্টি-বাদলে। আপ্রান চেষ্টা ছিলো পাড়টাকে আকঁড়ে ধরার। ধরেছেও। নিজের ভারটা তো আর আকড়ে ধরা যায়না। নুয়ে পড়তে পড়তে এখন পুকুরের পানির সাথে বসবাস। তারপরও গাছের আগাটা জিইয়ে রেখেছে। বাচার শখ। উঁকি দিয়ে আছে উপরের দিকে।

এই গাছে কত কাল লাফিয়ে লাফিয়ে পড়েছে কতো রথি মহারথিগণ। যারা কিনা কোন এক কালে এই গাছের উপর ভর করেই পানিতে ডিগবাজি খেতো। বাড়ির নতুন বধু থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া হাফপ্যান্ট পড়া মেয়েটাও এই গাছটাতে ভর করে পানিতে পা ভিজিয়েছে। আলমের ১নং পঁচা সাবানের যুগে সে মোটামুটি আধ্মরা। কাপড় কাচার যন্ত্রনায়।

সেখানেই সাতার শেখা শুরু। এই গাছে ভর করে পা দুটো পানিতে ভাসিয়ে দিতাম। তারপর দিব্যি একডুবেই পুকুর পাড়ি দিতে পারতাম। সাতরে এসে বিশ্রাম নেবার জায়গাটা ছিলো এই গাছটার উপর। পানিতে পা ডুবে থাকতো। কসকো সাবানটার সাথে এই গাছটা ভালোই পরিচিত ছিলো। অবাক করা ব্যাপার হলো গাছটা এখনো বেঁচে আসে। ঠিক আগের মতই আগাটাকে জিইয়ে রেখেছে। বাচার শখ হয়তো বা। দাদীর কাছে শুনেছিলাম, তালগাছ এক পুরুষ লাগিয়ে গেলে দুই পুরুষ পর তা পুরোপুরি ভোগ করে। আমার দেখা একটি তালগাছ যার প্রথম পুরুষই ভোগ করতে পেরেছে।

যে কারনে তালগাছের আগমনঃ

এখন পর্যন্ত কেউ এক বারের জন্যও গাছটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি। দুইটা বাঁশ দিয়ে ঠেক দিলে হয়তো বা সে সোজা হয়ে বাঁচতে পারতো। যে দেশে মানুষই গাছের চেয়েও মুল্যহীন। সে দেশে এইটাইপ চিন্তা করাও পাপ। এই গাছটার সাথে শৈশব খুব উতপ্রত ভাবে জড়িত বলেই স্মৃতিচারণ করা। আমার ধারনা এইটা যদি খেজুর গাছ হতো তাহলে তার উপর অসংখ্যবার সার্জারী করা হতো শুধু রসের জন্য।

এডঃ
আসুন একটা করে গাছ লাগাই
আর কালের সাক্ষী বট গাছ বানাই।

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


গাছের কোন বিকল্প নাই...

চৈতন্য's picture


সত্য!

কাল রাতে তালগাছ নিয়েই কেনো লেখলাম সেইটার রহস্য খুঁজে পাচ্ছিনা। Tongue Tongue

উচ্ছল's picture


আসুন একটা করে গাছ লাগাই

চৈতন্য's picture


বাঙ্গালী গাছ বৃদ্ধি করার চেয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে বেশি মনোযোগ। হুক্কা

শাশ্বত স্বপন's picture


ক্কুনি মাছ। তাল গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ভেসে উঠছে। পানির মৃদু নড়ন। তালগাছটার বয়স খুব একটা হয়নি। এতেই ঝুকে পড়েছে। বয়সের ভারে ঝুকে পড়াটা হয়তো স্বাভাবিক ছিলো। তার জন্মটাই হয়েছিলো ভুল জায়গায়। পুকুরের পাড় ঘেষে বেড়ে উঠেছিলো। পুকুরের পাড়গুলোও কেমন যেনো ভেঙ্গে পড়ে বৃষ্টি-বাদলে। আপ্রান চেষ্টা ছিলো পাড়টাকে আকঁড়ে ধরার। ধরেছেও। নিজের ভারটা তো আর আকড়ে ধরা যায়না। নুয়ে পড়তে পড়তে এখন পুকুরের পানির সাথে বসবাস। তারপরও গাছের আগাটা জিইয়ে রেখেছে। বাচার শখ। উঁকি দিয়ে আছে উপরের দিকে।

এই গাছে কত কাল লাফিয়ে লাফিয়ে পড়েছে কতো রথি মহারথিগণ। যারা কিনা কোন এক কালে এই গাছের উপর ভর করেই পানিতে ডিগবাজি খেতো। বাড়ির নতুন বধু থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া হাফপ্যান্ট পড়া মেয়েটাও এই গাছটাতে ভর করে পানিতে পা ভিজিয়েছে। আলমের ১নং পঁচা সাবানের যুগে সে মোটামুটি আধ্মরা। কাপড় কাচার যন্ত্রনায়।

আমার গায়ের এক দীঘির পাড়ে এরকম তালগাছ নৃয়ে পড়েছিল পুকুরে....
বেশ ভাল লাগল কিন্ত চক্কুনি মাছ কি?

অনিমেষ রহমান's picture


চুক্কুনি মাছ আমার শৈশবের স্বাক্ষী।
ভালো লেগেছে লেখা।

তানবীরা's picture


ভালো লেগেছে লেখা।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এবি তে সুস্বাগত।

পড়তে থাকুন, লিখতে থাকুন। ভাল থাকুন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

চৈতন্য's picture

নিজের সম্পর্কে

নিজের মাঝে চেতনার জন্ম কখন কোন শুভক্ষনে উদয় হয় জানিনা... আবার কখন যে মিলিয়ে যায় অজ্ঞতার ফেরে তাও বুঝিনা।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

coitonno'র সাম্প্রতিক লেখা