নেড়া কয়বার বেলতলায় যায়?
১. ছাত্রলীগ দাঙ্গাদারী ও কামড়াকামড়ির জন্য বিখ্যাত। এই সরকারের আমলে তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। এদের উপর জনগনের কোন শ্রদ্ধা তো নেইই তারা ওদের ঘৃণা করে। ছাত্রলীগের নেতাকে তাই মঞ্চে তোলাটাকে সমর্থন করি না। কিন্তু তার মানে এই না যে ভাবছি আন্দোলন দলীয় কিংবা আন্দোলন থেকে সমর্থন তুলে নেয়া উচিৎ। কারণ এখানে আরো বেশ কিছু ছাত্র সংগঠনের নেতা মঞ্চে উঠেছিল। এই আন্দোলনকে সমর্থন দানের একতিয়ার নিশ্চই তারা রাখেন। কিছু কিছু পেজের 'ছাত্রলীগ নেতাকে দেখে সমর্থন তুলে নিলাম' টাইপের স্ট্যাটাসকে তাই একরকম তংচঙ্গতা মনে করি। তারা মূল স্প্রিট থেকে বিচ্যুত। বরং সকল জাতীয় দলের সমর্থন থাকা উচিৎ শাহবাগ আন্দোলনে।
২. জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতেই হবে। কিন্তু এর মূল দেখতে হবে। এরা ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দল। এদের শক্ত নেটয়ার্ক ও অনেক অঙ্গ সংগঠন আছে। জামায়াত প্রচার করতে এটা নাস্তিকদের আন্দোলন। তাই আস্তিক ভাইরা অপবাদ সহ্য করতে না পেরে সমাবেশে সবগুলো পবিত্র গ্রন্থ থেকেই পাঠ করার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু কিছু লাভ কি হইল? ধর্ম জন্ম দেয় সম্প্রদায়ের, আর সম্প্রদায় মানে বিভেদ। একতা বদ্ধ বাঙালির সমাবেশে কেন আবার ধর্মকে নিয়ে আসা? মানুষ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করবে ঘরে বসে। সমাবেশে দুই লাইন আওড়ালে কিছুই হয় না। ধর্মের যে কী শক্তি তাকে বাদ দিয়ে মানুষ এখন জাতীয় সমাবেশও করতে পারে না, না হলে নাস্তিক উপাধী পেতে হয়!!
৩. জামায়াত ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতা বিরোধী। জামায়াতের লোকের ফেসবুক প্রোফাইলে দেখি ভাষা হিসেবে উর্দু লেখা থাকে। উর্দু মোটেও সহজ ভাষা নয়, বাংলাদেশের কোথাও ব্যবহৃত হয় না। তারপরো এরা এটা শিখে নিয়েছে তাদের ভাল লাগে বলে। তারা উর্দুকে ভালবাসে, পাকিস্থানকে কেন ভালবাসবে না?
৪. জামায়াত ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দল। তারা জনগনের কাছে প্রমাণ করতে চায় সে তারাই সহি ইসলামি দল তারা ইসলাম কায়েক করতে চায়। জনগন বুঝে গেছে তারা সহি ইসলামি দল না, ইসলাম তাদের হাতে নিরাপদ না। তাই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চায়। কিন্তু তাই বলে এই না যে অন্য কোন ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দলকেও তারা নিষিদ্ধ করার পক্ষে। তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ালো? তারা ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের পক্ষে না। ধর্ম ব্যবহার করে ক্ষমতায় জামায়াত ছাড়া অন্য কোন দল আসুক তা তারা চায়। এখন জামায়াত যদি নাম পরিবর্তন করে অন্য নামে আসে? আসবেনা কেন? আপনারাই তো চান(ভাল করে খেয়াল করে দেখুন )।
৫. আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আয়োজন করা হয়েছে শুনলাম শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। সন্ধ্যায় কি অন্যান্য ধর্মেরও উপাসনা হবে? জুমার নামাজের সময় অন্য ধর্মের লোকেরা যাবে না, অন্য ধর্মের উপাসনার সময় মুসলিমরা যাবে না। স্বাভাবিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যাঁরা রক্ত দিতে গিয়েছিল তাঁরা তো বাঙালি ছিল কোন ধর্মের ছিল না। তাঁরা ধর্মীয় কারনে রক্ত দিতে যায় নাই। শহীদ স্মৃতি অমর হোক, অসাম্প্রদায়ীক বাঙালি চেতনা জাগ্রত হোক।





শহীদ স্মৃতি অমর হোক, অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনা জাগ্রত হোক।
যতবার বেল মাথায় পড়ার সময় হয় ততবারই মনে হয় যায়
কয়বার বেল পড়লে নেড়ার আর বেল তলা যাবার সাধ হয় না?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যাঁরা রক্ত দিতে গিয়েছিল তাঁরা তো বাঙালি ছিল কোন ধর্মের ছিল না। তাঁরা ধর্মীয় কারনে রক্ত দিতে যায় নাই। শহীদ স্মৃতি অমর হোক, অসাম্প্রদায়ীক বাঙালি চেতনা জাগ্রত হোক।
শেষ প্যারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শাহবাগের উদ্যোক্তারা নাস্তিক না, এটা প্রমাণ করতে এমন অনেক কিছুই করা হচ্ছে যা এমনিতে হয়ত হত না।
মন্তব্য করুন