ইউজার লগইন

সময় গেলে সাধন হবে না

বর্তমান পরিস্থিতি দেখে অনেকেই ভয় পাচ্ছে। কেউ কেউ মিউ মিউ স্বরে বলছে কেন শুধু শুধু জামায়াতকে ঘাটাতে যাওয়া।

আসলে সময় না হলে কিছুই হয়না। দেশের মানুষ এতদিন এত বড় অরাজনৈতিক(রাজনৈতিক দলের এজেন্ডাবিহীন) আন্দোলনের মুখোমুখি হয় নি, কারন মানুষ তৈরি ছিলনা। এই আন্দোলন প্রথম শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুরু করেন। তিনি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ গণআদালত গঠন করেন এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে গোলাম আজমের ফাঁসির সপক্ষে প্রমাণ পান। গণআদালতের রায় গোলাম আজমের ফাঁসি দেয়। ’গণআদালত’ প্রতিষ্ঠা করায় বিএনপি সরকার ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে অ-জামিনযোগ্য মামলা দায়ের করে।

২৬ মার্চ ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা দিবসে গণআদালত বার্ষিকীতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণতদন্ত কমিটি ঘোষিত হয় হয় যুদ্ধাপরাধের তদন্তের জন্য। আরো আটজন যুদ্ধাপরাধীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরা হলঃ আব্বাস আলী খান, মতিউর রহমান নিজামী, মোঃ কামরুজ্জামান, আবদুল আলীম, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, মওলানা আবদুল মান্নান, আনোয়ার জাহিদ এবং আবদুল কাদের মোল্লা।

জাহানারা ইমাম ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগে শেষ চিঠিতে বলেছিলেন

আমার সহযোদ্ধা বন্ধুগণ,
আপনারা গত তিন বছর একাত্তরের ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমসহ স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। এ লড়াই আপনাদের, দেশবাসীর অভূতপূর্ব একতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্দোলনের শুরুতে আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। আমাদের অঙ্গীকার ছিল, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কেউ রাজপথ ছেড়ে যাবো না।

মরণব্যাধি ক্যান্সার আমাকে মরণ কামড় দিয়েছে। আমি আমার অঙ্গীকার রেখেছি। রাজপথ ছেড়ে যাইনি। মৃত্যুর পথে বাধা দেবার ক্ষমতা কারোর নেই। তাই আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি এবং অঙ্গীকার পালনের কথা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে চাই। আপনারা অবশ্যই আপনাদের কথা রাখবেন।
আন্দোলনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে থাকবেন। আমি না থাকলেও আমি জানবো, আমার কোটি কোটি বাঙালি সন্তানেরা আপনাদের পুত্র-কন্যাদের নিয়ে মুক্ত সোনার বাংলায় বসবাস করছেন। এই আন্দোলন এখনো দূরপথ পাড়ি দিতে হবে।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-মুক্তিযোদ্ধা-নারী-ছাত্র-যুবশক্তি-নারী সমাজসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই লড়াইয়ে আছে। তবু আমি জানি, জনগণের মতো বিশ্বস্ত আর কেউ নয়। জনগণই সকল শক্তির উৎস। তাই গোলাম আযম ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দায়িত্বভার আমি আপনাদের বাংলাদেশের জনগণের হাতে অর্পণ করলাম। নিশ্চিত জয় আমাদের হবেই।

— জাহানারা ইমাম

পরবর্তীতে হাইকোর্ট ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করলেও জাহানারা ইমাম গ্রেফতার পরোয়ানা নিয়েই মৃত্যু বরণ করেন।

পরিস্থিতি তখন কিছুতেই তাঁর অনুকূলে ছিল না, কারন সেই সময়ের সরকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় নি। সেই সময় আওয়ামীলীগ গণআদালতের সাথে সহমত্য পোষণ করলেও সেইবার ক্ষমতায় এসে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেনি। এবারো তারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে এই আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাই এখন পরিস্থিতি অনুকূল। দেশে সর্বস্তরের মানুষ, সবধরনের ছাত্র সংগঠন (শিবির ও ছাত্রদল ছাড়া) ঐক্যমত্যে আছে। সবার দাবী এখন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসী ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।

জামায়াত শিবির যে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী তা বহুবার প্রমানিত হয়েছে এবারো পতাকা ছেঁড়া, পাকিস্থান জিন্দাবাদ দেয়া, মিছিলে পাকিস্থানের পতাকা উড়ানো, শহীদ মিনার ভাংচুর, দেশ জুড়ে নৈরাজ্য ও হত্যাকান্ড করে এসব করে দেশের প্রতি তাদের কোন দরদ নেই তার প্রমাণ দিয়েছে। তবে এবার আরো বেশী কিছু প্রমাণ আমরা পাচ্ছি, সেটা হল ওরা ধার্মিকের ভেকধারী। তারা ১০ জন আলেমকে হত্যা করতে চেয়েছিল যা ফাঁস হয়ে গেছে। বোমা, ছুরি নিয়ে জুমার নামাজ পড়ার জন্য জাতীয় মসজিদে গেছে, মসজিদের কার্পেট পোড়ালো, ভাংচুর করল আরো কত কি!! তারা চাঞ্চে ছিল একটা সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা লাগানোর। কিন্তু এদেশের অসাম্প্রদায়ীক জনগন তা হতে দেয় নায়, এটা একটা দারুণ স্বস্তির বিষয়।

শাহবাগে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে সক্রিয় ছিল তাদের প্রতিনিয়ত তারা থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত শাহবাগ বা প্রজন্ম চত্বরের সাথে জড়িত তিন জনকে খুন করেছে। আজকে নারী দিবসের সমাবেশে বোমা ফুটালো। কথা হচ্ছে এইসব যে হবে তা কি প্রজন্ম চত্বর জানতো না? অবশ্যই জানত। যারা মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে এত দূর এগিয়েছে তারা রাজাকারের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বে না।

লালনের কথায় সময় গেলে সাধন হবে না। দিন থাকতেই আমাদের যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

জয় বাংলা
নারী দিবসে শাহবাগে

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


দিন থাকতেই আমাদের যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

জয় বাংলা

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture


জয় বাংলা

বিজন সরকার's picture


জয় বাংলা

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture


জয় বাংলা

আরাফাত শান্ত's picture


এ লড়াই বাচার লড়াই
এ লড়াই জিততে হবে!

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture


জয় বাংলা

তানবীরা's picture


বাংলাদেশ

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture


জয় বাংলা

বনজোছনা's picture


জনতার সংগ্রাম চলবেই ... জয় বাংলা ।

১০

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture


জয় বাংলা

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture

নিজের সম্পর্কে

এই ব্লগ দুইটা আমার কথা বলে

http://www.amarblog.com/blogger/debchy
http://banglaydebu.blogspot.com