ইউজার লগইন

নিয়মিত বা অনিয়মিত -১

শনিবারও ছুটি নেই। সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে দেখলাম কুয়াশায় চারদিক ভরে আছে। বছরের প্রথম কুয়াশা ঠিকমত উপভোগ করতে পারলাম না, গাড়িতে উঠে পড়তে হলো। শনিবার বলে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। একটা সিগন্যালে সব গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, এমন সময় দেখি একটা ডাবল-ডেকার রাস্তার রঙ সাইড দিয়ে যাচ্ছে। গাড়িটার মাথার কাছে লেখা আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাস ভর্তি ঝকঝকে মেধাবী ছেলেমেয়েরা। দৃশ্যটা অবশ্য আজকে নতুন না, এটা প্রতিদিনের পরিচিত গল্প। গাড়িটার রঙ সাইডে চলা নিয়ে মনে হলোনা দেশের উচ্চতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোনো আগ্রহ রয়েছে। এটা যেনো অলিখিত নিয়ম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি যেকোনো ভাবে রাস্তার যেকোনো সাইড দিয়ে চলার অধিকার রাখে। বাধা দিলেই প্রতিবাদ। এইতো কিছু মাস আগেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের কাছে নাকি এক পুলিস সার্জেন্টের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছিলো ছাত্ররা। কারণ নাকি আর কিছুই না, শুধু বাসটাকে রঙ সাইডে চলতে মানা করা আর সেই নিয়ে কথা কাটাকাটি, তারপর উত্তেজনা।
আমার প্রশ্ন অন্যখানে। এই যে মেধাবী ছেলেমেয়েগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সময় সামান্য ট্রাফিক আইন ভাঙ্গছে; কর্তৃপক্ষ সেই আইন প্রয়োগের চেষ্টা করলে সেটার বিরোধিতা করছে; এই ছেলেমেয়েরাই যখন পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবে তখন কি তারা দেশের প্রচলিত আইন বা সেই প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে? নাকি শিক্ষার্থী থাকাকালীন আইন ভাঙ্গার স্মৃতি তাদের ভিতরে থেকে যাবে?

///////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////
পাদটীকাঃ- একেবারেই ব্যক্তিগত ভাবনা, কাউকে আঘাত করা বা ছোট করার উদ্দেশ্য নিয়ে লিখা হয় নি।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

গৌতম's picture


আপনার ভাবনার সাথে পুরোপুরি একমত। একসময় আমি মিরপুর টু ইউনিভার্সিটির বাসে চড়তাম, সেটা ২০০০-২০০১ সালের কথা। তখনও একই পরিস্থিতি ছিল। এটা নিয়ে কথা বলে বাসেই মার খাবার উপক্রম হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা মনে করে তাদের জন্য সাত খুন মাফ! আমার মনে হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এই বিষয়টা সম্পর্কে জানানো দরকার।

কালিক's picture


ওহ! ঢাকা কলেজের বাসের কথা বাদ পড়ে গিয়েছে।

যেসব ছেলেমেয়ে গুলো এত প্রতিযোগিতা করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয়, নিঃসন্দেহে তারা গড় মেধার থেকে উপরে। তাদের কাছ থেকে নুন্যতম সিভিক সেন্স বা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আশা করাটা কি খুব বেশী চাওয়া?

আর আপনার অভিজ্ঞতা শুনে আরও বেশী ভাবনায় পড়লাম। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত কি তাহলে আইন ভাঙ্গার পক্ষে?

গৌতম's picture


জ্বি, সামনে একটু জ্যাম পড়লেই রং সাইড দিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় সবাই একাট্টা। দুয়েকজন যে ব্যতিক্রম থাকে না তা নয়; বরং অন্যদের বাধা দিলে তাদের মার খাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কালিক's picture


এই আচরণ কি ক্লাস ধরবার তাড়া থেকে উদ্ভুত?
তাহলে বাসের সময় আরো আধঘন্টা এগিয়ে আনলেই তো হয়!

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


কারণ একটাই...নিয়ম-কানুনের প্রতি জাতিগত ভাবে আমাদের একটু এলার্জি আছে

~

কালিক's picture


হয়তো তাই হবে।

লীনা দিলরুবা's picture


শতভাগ সহমত। এরা সব কিছুকে বাপের তালুক মনে করে। নীতি নৈতিকতাতো বহুত দূরের ইস্যু।

কালিক's picture


কোনো প্রতিকারই কি নেই?

মাহবুব সুমন's picture


আজকাল কেউ পড়াশোনা করে না, ডিগ্রী নিতে ভর্তি হয়।

১০

কালিক's picture


শুধু ডিগ্রী নিলে হয়তো নিজের উন্নতি হবে, কিন্তু দেশের উন্নতি?

১১

লিজা's picture


আমার প্রশ্ন অন্যখানে। এই যে মেধাবী ছেলেমেয়েগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সময় সামান্য ট্রাফিক আইন ভাঙ্গছে; কর্তৃপক্ষ সেই আইন প্রয়োগের চেষ্টা করলে সেটার বিরোধিতা করছে; এই ছেলেমেয়েরাই যখন পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবে তখন কি তারা দেশের প্রচলিত আইন বা সেই প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে? নাকি শিক্ষার্থী থাকাকালীন আইন ভাঙ্গার স্মৃতি তাদের ভিতরে থেকে যাবে?

প্রশ্নটা আমারো Puzzled

১২

কালিক's picture


এভাবে দুর্নীতি প্রশ্রয় পাচ্ছে, প্রজন্মগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠছে। যা আমাদের দেশটার সামনে এগিয়ে যাবার জন্য বিরাট একটা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

১৩

উচ্ছল's picture


সহমত...

১৪

কালিক's picture


ধন্যবাদ।
কিন্তু প্রতিকারের উপায় কিছু কি আছে?

১৫

একজন মায়াবতী's picture


ঢাকা কলেজের বাসের সামনে পড়া মানে জঘন্য অভিজ্ঞতা Puzzled

১৬

তানবীরা's picture


কারণ একটাই...নিয়ম-কানুনের প্রতি জাতিগত ভাবে আমাদের একটু এলার্জি আছে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

কালিক's picture

নিজের সম্পর্কে

অবিরাম ভালো থাকার চেষ্টা.........

সাম্প্রতিক মন্তব্য

kalik'র সাম্প্রতিক লেখা