হেথাক তোকে মানাইছে না রে...
সকালে ঘুম থেকে উঠেই সন্ন্যাসী হয়ে যেতে ইচ্ছে হল। ইচ্ছেটার পিছনে নিশ্চয়ই কোন না কোন কারন আছে। প্রধান কারনটা তখনই আবিষ্কার করে ফেললাম। গ্রামে ফেরার জন্য মনটা কাঁদছে। কান্নাটা বিলাপের রূপ নেওয়ার আগেই বিছানা ছাড়লাম। শুয়ে থাকলে মনটা আরও আস্কারা পেয়ে যাবে। কম্পিউটার অন করে লিখতে বসলাম। আমার কান্নাগুলো হয়ে গেল কিছু বাংলা অক্ষরের সমষ্টি।
![]()
হাওড়ের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ (সৌজন্যে: ডা. রুমি। ছবিটি এখানে ব্যবহার করায় আমি দু:খিত)
বলতে পারব না শেষ কবে গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটেছি, খালি পায়ে দূর্বাঘাস মাড়িয়েছি। আপনিই মন থেকে বলুন তো, সর্বশেষ কবে স্যান্ডেলটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে মাটি স্পর্শ করেছেন? পারলেন না তো? পারবেন না। আমি আমরা শহুরে ভদ্রলোকগণ এই মাটি থেকে অনেক দূরে সরে এসেছি। যে মাটি গায়ে লাগিয়ে আমরা বড় হয়েছি, তার সাথেই আজ কত লুকোচুরি! দিগন্ত বিস্তৃত হাওড়ের মাঠে শুধু ধান আর ধান গাছ। সেই সবুজ স্বর্ণালী ধানগাছের শীষগুলোতে হাওয়া এসে যখন পরশ বুলায়, নদী ছাড়াও যে অন্য রকম একটা ঢেউ উঠে তখন কী ভীষণ মুধর সঙ্গীতের মতন “শনশন” শব্দ উঠে। নিস্তব্ধ বিশাল শুকনো হাওড়ের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে কখনও সেই শনশন শব্দ শনেছেন? না শুনে থাকলে আপনার জীবনটাই বৃথা।
![]()
হাওড়ের বাইসালি (নীল ভোমরার সৌজন্যে। ছবিটি এখানে ব্যবহার করায় আমি ক্ষমাপ্রার্থী)
বর্ষায় সেই হাওড় রূপ নেয় সাগরের। চারদিকে সাগরের মত শুধু পানি আর পানি। দিগন্তে শুধু গ্রামগুলো ভেসে থাকে ছোট ছোট দ্বীপের মত। পড়ন্ত বিকেলে বাড়ির সামনের বাঁধানো ঘাটে বসে হাওড়ের ঢেউয়ের ছলাৎ চলাৎ শব্দ শুনেছেন কখনও? কিংবা হাওড়ের পানিতে ছোট নৌকোটা নিয়ে আপন মনে ভাটিয়ালি গাইতে গাইতে “বাইসালি” করেছেন? করেননি? বাইসালি (নৌকাভ্রমণ) করতে যেয়ে হঠাৎ নৌকা থেকে ঝাপিয়ে পড়ে শাপলা তুলেছেন? তাও করেন নি? আমি আবারও বলছি, তাহলে আপনার জীবনটা বৃথা।
টিকাটুলির বাসা থেকে বের হতেই যে গলিটা পড়ে, কিছু সামনে এগোলেই তার দেখা পাওয়া যায়। গলির যেখানটা বাঁক খেয়েছে সেখানে নতুন একটা বিল্ডিং নির্মাণের কাজ চলছে। আপাতত বিল্ডিংটার নীচেই তার আস্তানা। হাতে বানানো তিন চাকার একটা ছোট্ট ট্রলিতে চোখ বন্ধ করে বসে থাকে সারাদিন। অন্ধ। কোন পথচারী তার কাছাকাছি আসতেই বিকট জোরে হাঁক দিয়ে উঠে। এটাই তার ভিক্ষা চাওয়ার ভঙ্গি। রাস্তায় ওজন আর উচ্চতা মাপার ডিজিটাল টাইপের একটা যন্ত্র প্রায়ই চোখে পড়ে। কেউ কাছাকাছি আসলেই ওয়েলকাম, ওয়েলকাম বলে চিৎকার করতে থাকে। অনেকটা সেই রকম। আগে গলিটা দিয়ে হাটেঁনি এমন কেউ হলে নির্ঘাত আঁতকে উঠবে। প্রথম প্রথম আমিও আঁতকে উঠতাম।
অন্ধ হলেও লোকজনের চলাফেরার গতিবিধি বোধকরি সে দেখতে পায়। সব সময় চুপচাপ থাকে। যেইনা কোন পথচারী কাছে আসল, সাথে সাথে মুখ দিয়ে আওয়াজ বের হয়। একটা ইন্দ্রিয় বন্ধ হলে বাকি ইন্দ্রিয়গুলো প্রাকৃতিক কারনেই স্বাভাবিক অবস্থা থেকে কিছুটা শক্তিশালী হয়ে যায়। তাই চোখ বন্ধ করেও সে বুঝতে পারে কোন পথচারী তার পাশ দিয়ে যাচ্ছে কিনা।
কিন্তু এই প্রাকৃতিক সূত্রটা আমার বেলায় কাজ করছে না।





দিলেন তো সকাল বেলা আমার বুকেও হাহাকারের দামামা বাজিয়ে! থাকি দূর প্রবাসে নানারকমের তত্ত্বকথায় নিজেকে ভুলিয়ে, কিন্তু মন তো পড়ে থাকে মায়ের দেশে, স্বজন গ্রামে, আপন মাঠে। নাহ্ এই জন্মে আর শেকড় ভুলে ছদ্মসুখে আত্মভোলা হওয়া হলো না আমার!
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আশা করি যেখানেই থাকুন না কেন আপাতত ভাল আছেন!
স্বাগতম মঈন কে
আশা করছি মঈনের চমৎকার লেখনিতে আমাদের মুগ্ধ করে রাখবে
অনেক ধন্যবাদ টুটুল ভাই।
আরে নাহ ভাই, আমার আবার লেখা! বরং আমি অন্য সবার লেখা পড়তে আসি ।
অনেক ভাল ভাল লেখা এই ব্লগে আছে। এখনো পড়া হয় নি। সময় করে ধীরে ধীরে সবার লেখাই পড়ব আশা রাখি। ব্লগটা আমার খুব লেগেছ। শুভকামনা সবার জন্য।
খুব খারাপ। হাহাকার দিয়া্ শুরু।
ভাল লাগছে। স্বাগতম এবিতে।
কী করুম কন! হাহাকার বলেই তো এবি চইলা আসলাম। অনেক ধন্যবাদ শওকত ভাই।
ভালো লাগলো খুব। স্বাগতম এ বি তে।
আইচ্ছা। আফনেরে ধইন্যার বস্তা দিলাম।
থাক থাক। বস্তা আমি নিতে পারব না। তবে ২ কেজি দিলেই হবে। ধইন্যার চাটনী অনেক মজা।
না না, সবটাই নিয়ে যান, দাম দিতে অইব না। এইবার ধইন্যার বাম্পার ফলন হইছে। যত ইচ্ছা চাটনি বানায়া খান। আমরা কিছু মনে করব না।
মাটির কথা মনে করিয়ে দিলেন!
সময় পেলে একদিন মাটিকে দেখে আসুন না! ধন্যবাদ গৌতমদা।
কাজ টা ঠিক করেন নাই। যাই হোক নতুন আসছেন তাই কিছু বললাম না।
সু স্বাগতম এবিতে

অ্যাঁ.... তাইলে ভাইজান আমি চির নতুন থাকতে চাই। ভাল হউক মন্দ হউক সরাসরি বেকসুর খালাস পেয়ে যাব। আফনেরেও এক বস্তা ধইন্যা দিলাম (হে হে.. আমার ধইন্যার অভাব নাই। ধইন্যার বাম্পার ফলন লইয়া ব্লগে আইছি)
ধইন্যাগুলা গুড়া কইরা দিলে ভালো হতো।
বুঝছি। বাঙালীরে বসতে বলতে নাই। মানে মানে কইরা ধইন্যা রাইখা আমার বস্তা ফেরত দেন।

আমার ধইন্যা লাগবো না, বস্তা লাগবো।আপনের ধইন্যা আপনে নিয়া যান।।

স্বাগতম জনাব! সুস্বাগতম!!
ধন্যবাদ জনাব! সুধন্যবাদ!!
। দেখেই ভাল লাগল। সবার জন্য শুভকামনা)
(আপনার ছবিতে দেখি সব ক্যাসেট হাজির।
জনাব চৌধুরী সাহেব, এ আপনি কি বললেন! ক্যাসেট! পেনডাইভ যুগে! ওরা শুনলে আপনার খবর আছে!
জনাব আপনার প্লেয়ার আছে কি?
এমন দূর্ভাগ্য আমার এখনো হয় নাই জনাব। আপনি ঠিকমত বেঁচে বর্তে আছেন তো?
অপূর্ব সব ছবি। স্বাগতম। লেখার সুরটা ভালো লাগলো
আপনার ভাল লাগায় আমিও ভালান্বিত হলাম। তবে ছবিখানার মালিক ডা. রুমি এবং নীল ভোমরা (ভিন্ন একটা ফোরাম)। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
স্বাগতম, ভাই সাহেব... আসেন, বসেন। তারপর পেচ্ছাপেচ্ছি শুরু করেন।
রেডি... ওয়ান টু থ্রি.....
নতুন তো তাই "পেচ্ছাপেচ্ছি" বুঝতাছি না। ইহা কী কুস্তাকুস্তি জাতীয় কিছু? তাহলে আমি পয়ে.....
স্বাগতম জানানোয় আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইজান।
আসলেই তো। ইক্কেবারেই মানাইছে না রে।
যাউক্গা, আমারে না মানাইলেও আমার ঠিকই মানতে হয়।
মঈন ভাইরে শুভেচ্ছা স্বাগতম। এরুম লেখা আরো আরো চাই। আর গ্যাপে গ্যাপে না, ঘন ঘন চাই।
মীর ভাই কেমুন আছেন? আপনাদের আন্তরিকতায় সত্যি ভাল লাগল। কে কিভাবে নিচ্ছেন জানি না, এই ব্লগের নীতিমালা আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে। এটা একটা মূল আকর্ষণ।
আমি একজন পাঠক। সো আপনার মনোবাসনা পূরণ হচ্ছে না সহসাই। আপনারা লিখিতে থাকিবেন, আমি পড়িতে থাকিব .... হে....হে...
ঢাকা থেকে একটা বাস সার্ভিস আছে। নাম হইল, "হাওড় ট্রাভেলস"। কই যায়, ঠিক জানি না!! তয়, হাওড় থেকে ঘুরে আসতে বেশি মঞ্চাইলে ঐটায় করে একটু চড়ে আসতে পারেন!!!
এবি'তে স্বাগতম।
মন্তব্য করুন