ইউজার লগইন

কক্সবাজারে অদ্ভুত সমস্যাপূর্ন ভ্রমন বিড়ম্বনা

হঠাৎ মনটা বেশ ঘাপটি মেরে বসেছে। ও যেন রাগ করেছে নিরন্তর এই অভিমানী জীবনের উপর। কেন যেন আজ মনে পড়ে যাচ্ছে পুরোনো কিছু স্মৃতির কথা। বেশামাল এই শান্ত মনকে আবার যে ওই অশান্ত জীবনে ফিরিয়ে নিতেই হবে, স্মৃতিগুলোকে যে আজ ভুলে যেতেই হবে। আমার জীবনে ঘটে চলা অদ্ভুত সব ঘটনার একটি এখানে শেয়ার করলাম(উল্লেখ্য: এটা আমি ২০০৯ সালের মার্চ মাসে লিখেছিলাম)।

অামি ঢাকায় থাকি তবে আমার বাকি(যাদের নিয়ে ঘটনা) চার বন্ধু চট্রগ্রামে থাকে। ওরা বেশ কয়েকদিন যাবৎই প্লান করছিল কক্সবাজারে যাবে। কেবল সময় ঠিক করে উঠতে পারছিল না। ওরা মোঙ্গলবার সকালে(24 February 2009) ঠিক করল আগামী বৃহস্পতিবার মানে আরও ৯ দিন পর কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। তাই আমাকে বলা হল আমি যেন ঠিক এক সপ্তাহ পর মানে রওনা দেবার ২ দিন আগে চট্রগ্রাম এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই(ওখানে আমার খালার বাসা)। হাতে আরও অনেক দিন থাকায় আমি কোনো প্রকার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করি নি। কিন্তু সেকি! ঐদিনই সন্ধ্যায় মানে (24 feb) তারা আমাকে আবার ফোন করে বলে আগামী বৃহস্পতিবার নয় এই বৃহস্পতিবারই(26 feb) রওনা দিবে(কারন আগামী বৃহস্পতিবার ওদের কলেজে পরীক্ষা আছে)। আমি যেন বিন্দুমাত্র দেরী না করে আগামীকালই (25 Feb) রওনা দিয়ে দেই!! আমার মাথাতো নষ্ট হবার উপক্রম! কোনো জামাকাপড় ধোয়া নাই। কোনো মানসিক প্রস্তুতিও নাই। আবার ট্রেনের টিকিটও কাটা হয় নি। আমি আবার ট্রেন ছাড়া দূরের যাত্রায় যাই না। আমি চট্রগ্রাম ফোন করে বলে দিলাম যদি ট্রেনের টিকিট পাই তবেই আমি তোমাদের সাথে যাব। নতুবা আমার আর যাওয়া হচ্ছে না।

যেহেতু সন্ধ্যায় খবর পাই সেহেতু অন্যান্য আনুসাংঙ্গিক কাজ করতে করতে আমার আর সেদিন টিকিট কাটতে যাওয়া হল না। পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। নাস্তা না খেয়েই টাকা নিয়ে সকাল ৭ টার দিকে (25 Feb) টিকিট কাটতে কমলাপুর স্টেশানে চলে গেলাম। গিয়ে দেখি আজকে কেন আগামী ২ দিনেরও টিকিট নাই!! শুক্রবার ও শনিবার সরকারী ছুটিন দিন এর জন্যই নাকি এই অবস্থা। আমি কি করব ভেবে উঠতে পারছিলাম না। ঠিক এই সময়ই অন্ধকারে আশার আলো খুজে পেলাম। দেখতে পেলাম আজ সকাল ৭ টায় ছেড়ে যাবার কথা যে মহানগর প্রভাতী তা এখন ৮ টায়ও এসে পৌছোয় নি। অনেকে এই দেরী সহ্য করতে না পেরে টিকিট ফেরত দিচ্ছে। আমি গিয়ে ষ্টেশান মাস্টারদের সাথে আলাপ করে জানতে পারি বিশেষ কারনে ট্রেনটি দেরী করছে তবে সকাল ১০টার নাগাত ট্রেন এসে যাবে এবং ১০:৩০ এর মধ্যে পুনরায় রওনা দিবে।(যারা ঐদিন ট্রেন ষ্টেশানে গিয়েছিল তারা আমার কথা যে সত্য তা স্বীকার করবে)। যদিও আমার কোনো জামাকাপড় এখনও বেগে ঢুকানো হয় নি তবুও সাহস করে একটি ফেরত দেয়া টিকিট কিনে নিয়ে দ্রুত বাসায় ফেরত আসলাম। বাসায় আসতে আসতে সকাল ৮:৪০। কোনো মতে একটা রুটি খেয়ে রেডি হওয়া শুরু করলাম। তড়িৎ গতিতে রেডি হয়ে একা রওনা হলাম ৯:৫০ এ এবং ষ্টেশানে পৌছালাম ১০:১৫ মিনিটে। এসে দেখি ট্রেন এসে গেছে একটু ধোয়া মোছা করা হচ্ছে। আমি আমার নিদির্ষ্ট সিটে বসলাম। ট্রেন ১০:৪০ এ রওনা হল। ট্রেনে উঠেছি প্রায় ১ ঘন্টা হল, এমন সময় আমার এক বন্ধুর ফোন পেলাম(নাঈম তোকে আজও বড্ড মিস করি)। তার কথাগুলো ঠিক এমন ছিল-

বন্ধু- দোস্ত তুই কই?
আমি-আরে বলিস না আমি তো চিটাগাং যাচ্ছি এখন ট্রেনে।
বন্ধু- তোর ভাগ্য ভাল আইজকা তোর কলেজ যেতে হয় নাই আমি তো আজকে মরছি!!
আমি- কেন কি হইছে?
বন্ধু- তুই জানিস না? আরে ঢাকায় তো যুদ্ধ লাইগা গেছে। বিডিআরের বড় বড় কর্মকর্তা সব তো শেষ!
আমি- বলছ কি?? তুই এখন কই?
বন্ধু- আরে আমি তো আইছিলাম নিউমার্কেটে একটু কাজ ছিল কিন্তু এখন তো মহা বিপদে পড়ছি। তবে সমস্যা নাই আর্মিরা আমাদের কয়েকজনকে আলাদাভাবে সেইফ জায়গায় এনে রাখছে। ওকে তুই তাইলে চিটাগাং থেকে ঘুরে আয় তবে সাবধানে থাকিস! আর আমার জন্য একটু দোয়া করিস।
(পরে রাতে শুনতে পাই আমার এই বন্ধুকে রাত্র ৮ টা পর্যন্ত ঐখানেই থাকতে হয়েছিল)।

কলটি রাখার সাথে সাথেই বাসা থেকে কল!
বাবা- কিরে তুই কোথায় এখন?
আমি- বাবা আমি তো এখন ট্রেন এ।
বাবা- কিছু কি শুনছস?
আমি- বাবা আমি শুনছি। আমার বন্ধু ফোন করে আমাকে সব বলেছে। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি তো ট্রেন এ আর চিটাগাং এ নিশ্চয় এমন কোনো গন্ডগোল হবে না।
বাবা- তবুও একটু দেখে শুনে চলিস। আর নাইলে তোর কক্সবাজার যাবার দরকার নাই । তুই তোর খালার বাসায়ই এই কয়দিন বেরিয়ে আয়।
আমি- কি যে বলেন না! একবার যখন বের হয়েছি তখন কক্সবাজার যাবই যাব।
সালাম দিয়ে কলটা রেখে দিলাম(নিটওয়ার্ক একটু সমস্যা করছিল)।
--আজ প্রায় ৫ বছর পরে বাবার কথা বেশ মনে পড়ছে। ২বছর হল উনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। ঐদিন ওনার কথা শুনে আন্টির বাসায় রয়ে যাওয়াটাই মনে হয় উৎকৃষ্ট ছিল, তাহলে আর সামনের বাকি ঘটনা হয়ত উপলব্ধি করতে হত না!

যা হোক ট্রেনে আর কোনো সমস্যা হয় নি। খুব ভালভাবে আমি চট্রগ্রাম পৌছে খালার বাসায় চলে গেলাম। বাসায় এসেই টিভিতে নজর দিলাম আর ঢাকায় ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যার কিছু ভিডিও দেখতে পেলাম। কিন্তু আমাদের ভ্রমনের বিঘ্ন ঘটা চলবে না। এবার পরদিনের প্লান করা শুরু। ওদের সবার ধারনা ছিল ভোরে রওনা দিলে মার্সিটিজ বেন্জ এর গাড়িগুলোর এসি টিকিট পেয়ে যাবে। কিন্তু ১০ টার সময় কাউন্টারে টিকিট কাটতে যেয়ে তো পুরোই হতবাক! দুপুর ৩ টার আগে কোনো টিকিটই নাই। অন্যান্য সকল এসি গাড়ির টিকিট দেখলাম। কোথাও পাওয়া গেল না। বন্ধুদের মাঝে একজন প্লান দিল আয় আমরা ৩ টা পর্যন্ত সময় পাছ করি। কিভাবে? আয় আমরা “মনপুরা” ছবিটা সিনেমা হলে গিয়ে দেখি(তখন মাত্র ছেড়েছিল ছবিটা, ব্যাপক নামও করেছিল)। আমি বললাম না আজ আর সময় নষ্ট নয়। আমরা লোকাল গাড়িতেই চলে যাই। সকলেই নিমরাজি হয়ে লোকাল গাড়ির টিকিট এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। টিকিট পেয়েও গেলাম এবং গাড়িও এসে গেল। গাড়িতে উঠে সস্থির একটু নিশ্বাস ফেললাম। হোকনা লোকাল তবুও কক্সবাজার যাওয়া তো নিশ্চিত!! কে জানত আরও কত বিপদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে??

বাসটি প্রায় এক ঘন্টা যাবার পর হঠাৎই দেখা গেল আমাদের গাড়ি কচ্ছপের গতিতে চলা শুরু করেছে। এরকমভাবে ১০ মিনিট যাবার পর আমরা ড্রাইভারের কাছে গিয়ে ধমকের সুরে বললাম "গাড়ির কি হয়েছে? এভাবে চললে আমরা তো আজকে সারাদিনেও পৌছাতে পারব না।" তারা যা বলল তাতে আমাদের মন আবার ভেঙ্গে গেল। তাদের গাড়ি নাকি আর চলবে না। তারা চেষ্টা করছে গাড়িটি কোনো বড় কাউন্টারের কাছে নিয়ে যেতে যাতে আমরা অন্য কোনো গাড়ির টিকিট কেটে চলে যেতে পারি। কোনো কাউন্টারের কাছে যাবার আগেই গাড়িটি হঠাৎ থেমেই গেল। যদিও আগে গাড়িটি যে চলছিল তা বলা বেশ একটা যৌক্তিক হবে না। আমরা সবাই খোলা রাস্তায় নেমে পড়লাম আর ড্রাইভারকে বকাবাদ্য করতে লাগলাম। কিছুক্ষন গুতোগুতি(মেরামত) করে তারা আবার গাড়িতে উঠতে বলল। এবারও ঐ আগের মতই অবস্থা! তবুও আস্তে আস্তে চালিয়েই গাড়িটি একটি বড় টিকিট কাউন্টারের জায়গায় এসে থামল। গাড়ি থেকে নেমেই আমরা আগে টাকা তুলে নিলাম । তারা ১০০ টাকা করে দিয়ে দিল এবং বলল এখান থেকে যেকোনো গাড়িতে কক্সবাজার যাবার টাকা ১০০ টাকা। আমরা সৌদিয়ার একটি কাউন্টারে গিয়ে আলাপ করলাম। তারা বলল গাড়ি আধাঘন্টার মাঝে এসে পড়বে আমাদের বসতে দিল বেশ ভাল একটা জায়গায়।

বেশ জবরদস্ত গল্প জমেছিল আমাদের মাঝে। এবার এক নতুন তথ্য জানতে পারলাম!! আমাদের মোবাইলের কারও কোনো নেটওয়ার্ক নেই। কারন কেউ জানে না। আমার ধারনা বিডিআর হামলার কারনেই এই কাজ করা। আমাদের হোটেলের টিকিট আগে থেকেই কাটা ছিল। আমার খালার পাশের বাসার আন্টি এই ব্যাবস্থা করে রেখেছিল। আমিও এক গাধা! আমি মোবাইল আছে বিধায় কোনো খোজখবরও নিয়ে আসি নি(জি হ্যা- এতটাই বোকা ছিলাম ঐ সময়গুলোতে)। কোন হোটেলের টিকিট কাটা হয়েছিল? কোথায় ঐ হোটেলের ঠিকানা? কোথায় আমরা ঐ আন্টির ভাইকে পাব(যার হাতে টিকেট) তা কিছুই আমি জেনে আসি নি। ভেবেছিলাম নাম্বার তো আছেই ফোন করে সব জেনে নিব। যখন এই ভাবনা মাথায় ঘুরছে ঠিক তখনই জানা যায় আরেকটি খারাপ খবর। আমরা এখন যেখানে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি তা নাকি বিডিআরদের একটি স্কুল কেন্দ্রের পাশেই। কাউন্টার থেকে বেরিয়ে রাস্তার বেশ কিছু সামনে অন্য এক রূপ চোখে পড়ে। রাস্তায় প্রচুর মানুষ। সবার চোখেই আতংকের ভাব! কিছুক্ষন পর পরই বিডিআরদের গাড়ি এসে টহল দিচ্ছে। এমনই সময় একজন লোক এসে আমাদের উদ্দেশ্যে বলে-

লোক- আপনারা যাবেন কোথায়?
আমরা- কক্সবাজার যাব। রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাই এখন টিকিট কেটে অপেক্ষা করছি।
লোক- আপনার ভুলেও এখন কক্সবাজার যাবেন না।
আমরা- কেন?
লোক- কক্সবাজারে এখন গোলাগুলি হচ্ছে। নয়-দশজনের মত মানুষ মারা গেছে। পরিস্থিতি খুবই গরম। আপনারা প্রয়োজনে রাতের দিকে জেয়েন।
আমরা- আচ্ছা দেখা যাক।
লোকটিও চলে গেল। আমরা তখন কি করব তাই ভাবছি। এই সময় একটি বিডিআরের গাড়ি এসে সবার উদ্দেশ্যে বলছে “আপনারা আমাদের সাহায্য করুন। আমরা অনেকদূর চলে এসেছি। আমরা আপনাদের সাপোর্ট না পেলে আর ফিরে যেতে পারব না” এরূপ কথা শুনে আমি ও বাকি সকলেই একটু অবাক হয়েছিলাম। একজন প্রস্তাব দিল চল বাড়ি ফিরে যাই। কক্সবাজার ভ্রমন আমাদের ভাগ্যে নাই। কিন্তু আমার মন মানতে নারাজ। বললাম এতদুর যখন চলে এসেছি তখন আর পিছপা কেন? আমার আরেক বন্ধুও আমাকে সাপোর্ট দিল। তাছাড়া আমাদের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে ঐ টাকাগুলো তো নষ্ট হবে(১৮ বছরের ছেলেদের টাকার হিসাব বড়ই ভয়ঙ্কর!!)। আয় দেখা যাক যা হবার তা হবে। ভয় কিসের??

দেখতে দেখতে প্রায় এক ঘন্টা পর গাড়ি আসল। এবার আর কোনো সমস্যা হয় নাই ঠিক মত কক্সবাজারে পৌছে গেলাম। কিন্তু বাস থেকে নেমে তো আমরা অবাক। খুব শান্ত হয়ে রয়েছে পুরা স্থানটা। আমরা পৌছালাম প্রায় বিকাল ৫ টার দিকে। এখন কি করব মোবাইলে তো কোনো নেটওয়ার্ক নেই। আমরা কি করব? আমরা কি করব? কতবার যে কতজনকে কল দেবার প্রচেষ্টা করেছি তার কোনো হিসাব নাই। অন্য এক হোটেলে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। নেটওয়ার্ক ঠিক হলে পরে আবার আমাদের জন্য আগে থেকে ঠিক করে রাখা হোটেলে উঠব। যেহেতু আমাদের মধ্যে কেবলমাত্র একজন বন্ধুই আগে এখানে এসেছিল তাকে বললাম কোথায় উঠব। সে একটা হোটেলের নাম বলল যার লোকেশান সে শিউর না বাট ঐ হোটেল নাকি বেশ সস্তা। তো আর দেরি কেন, রিকশা ওয়ালাকে হোটেলের নাম বললাম সে নাকি চিনে। ১৫ মিনিট বরাবর গিয়ে উল্টা ঘুরিয়ে যেখান থেকে উঠেছিলাম ঠিক সেখানেই(একটু সামনে) নামিয়ে আরেকটা হোটেল দেখিয়ে বলে এটাই আপনার হোটেল। মেজাজ যে কোন লেভেলের গরম হয়েছিল এখনও আমার স্পষ্ট মনে পড়ছে।
এমন একটা সিচিউশান তৈরী হল যে কোনো রিকসাওয়ালাও আমাদের আর নিচ্ছে না। তারা বলে আগে আপনারা ঠিক করেন কই যাবেন তারপর আপনাদের নিব।(হা হা অদ্ভুত না?) হঠাৎ নজরে পড়ল টেলিটকের ইন্টারনেট কাজ করছে অথচ কল ঢুকছে না। মানে নেট আছে কিন্তু নেটওয়ার্ক নাই! আর দেরি না করেই আমি রাস্তায় দারিয়ে দারিয়েই টেলিটক দিয়ে মিগ৩৩ তে কাজে লাগতে পারে এমন ফ্রেন্ড খুজছিলাম(ঐসময় মিগ ব্যাপক পপুলার ছিল)। তখনই আমার বন্ধুর গ্রামীনে কল!!! টিএন্ডটি থেকে। বুঝতে পারলাম টিএন্ডটি কাজ করছে। তখন আমাদের মাধ্যমটা এরকম ছিল
১. টিএন্ডটি টু বন্ধুর মোবাইল
২. আন্টির ঐ ভাই কে কল দেয় টিএন্ডটি তারপর আবার
৩. টিএন্ডটি টু বন্ধুর মোবাইল।

যা হোক এই করে না হয় ঐ ভাইয়ের ঠিকানা পাওয়া গেল। এবার যাওয়ার পালা। রিকশায় উঠতে না উঠতেই দেখা গেল মরার নেটওয়ার্ক এবার পুরোই খুলে দেয়া হয়েছে। তখন প্রায় ৬:৩০ বেজে গেছে। অবশেষে ৭:১০-এর দিকে হোটেলে উঠেই যে একটা অকৃত্তিম হাসি ফুটেছিল অবুঝ ৫জন ১৮ বছরের ছেলের মুখে হঠাৎ আজ প্রায় ৫বছর পর পাল্টিয়ে যাওয়া এই অদ্ভুত মন ঐ দিনের ঠিক ঐ হাসির কথাই বার বার মনে করছে। এ কি হল আমার? কোথায় হারিয়ে গেল অবলা, অবুঝ, সুন্দর মনের ঐ বালকদ্বয়?

ঘটনাটি বেশ পুরোনো, হয়তোবা আরও ভাল বিবরন দিতে পারতাম যদি নতুন কিছু হত। লেখাটা অনেক বড় করে ফেলেছি। তাই ক্ষমা চাচ্ছি। যেই বিডিআর হামলা আমাদের এই ৫ বন্ধুকে এতটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল, যেই বিডিআর হামলায় আমরা হারিয়েছি কতগুলো বীর সৈনিক, যেই বিডিআর হামলা বাংলাকে আজ(ঐসময়ের লেখা) করেছে নিরাপত্তাহীন এক নগর আজ আমরা কিনা ঐ বিডিআর হামলাকে ভুলতে বসেছি?? সরকার এমন কিছু কাজ করছে(আগের লেখা তাই প্রেজেন্ট টেন্স) যা আমাদের মাঝ থেকে বিডিআর হামলা নিয়ে চিন্তাগুলোকে সরিয়ে দিচ্ছে। যাই হোক আমি রাজনীতি বুঝি না, বুঝতেও চাই না তাই ওসব বলা বন্ধ করলাম। আপনাদের লেখাটা কেমন লেগেছে জানাবেন। এটাতে বিন্দুমাত্র বানানো কোনো কথা নেই। সম্পূর্ন আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু সত্য ঘটনাই এখানে আমি প্রকাশ করলাম!!

বি:দ্র: এবি -এর সাথে পরিচয় হয়েছে মাত্র ২-৩দিন হল, আজ আমার এই প্রথম লেখাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে বড় খুশি হব।

পোস্টটি ১৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

উচ্ছল's picture


Welcome

অচেনা  আমি's picture


Welcome টু এবি Smile

জাহিদ জুয়েল's picture


Welcome

রৌদ চশমা's picture


Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রহস্যময় বালক's picture

নিজের সম্পর্কে

"জীবন" খেলা দেখতে যেয়ে নিজেই খেলোয়াড় বনে গেলাম!

নিজেকে নিয়ে লেখার জন্য নিজেকে আগে চেনার প্রয়োজন, আমি তো নিজেকেই খুজে পাই না এই শরীরের ভেতর ওকে চিনব কেমন করে।।
তাও যদি কিছু লিখতেই হয় তবে "আমি হচ্ছি নতুন কিনে আনা একটি রঙিন ডাইরীর কালো পাতা, যার প্রতিটি লাইন ভিন্ন ভিন্ন রঙে এমন ভাষায় লেখা যার অর্থ লেখক নিজেই বুঝে উঠতে পারছে না।"