বৃষ্টি ও বিহংঙ্গ
মুরাদের সাথে আমার ঝগড়াটা শুরু হলো খুব তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে। এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। এর থেকে অনেক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমি ইচ্ছে করেই ওর সাথে ঝগড়া করেছি। কিন্তু আমাদের ঝগড়ার একটা অলিখিত নিয়ম হলো, প্রতিটি ঝগড়ায় আমাকেই জিততে হবে। বাবা মার একমাত্র মেয়ে হিসেবে এটা আমার কাছে কখনই অস্বাভাবিক মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে এটাইতো স্বাভাবিক। ছেলেটা মুখ বুজেই আমার আমার সব জেদ গুলোকে মেনেনিত। এটা যে সব সময় আমার ভাল লাগতো তা কিন্তু নয়। খুব সহজেই আত্মসমর্পণ করলে কি যুদ্ধ জয়ের তৃপ্তিটা পাওয়া যায়! সেদিন বুঝিনি আমার এই খেলা খুব ধীরে ধীরে ওর মনটা বিষিয়ে তুলছে। আর বুঝবই বা কি করে, তখন আমার সব ভাবনা, সব কিছুই আমাকে ঘিরে। আমি কি চাই এটাই বড় কথা। কিন্তু সময়ের নিজস্ব একটা বিচার ব্যবস্থা আছে। আর সেটার কাঠগড়ায় না দাঁড়ানো পর্যন্ত আমাদের উপলব্ধিটা করতে পারিনা।
আমাদের বয়সইবা কত তখন, আমার একুশ আর মুরাদের সবে পঁচিশ পেরিয়েছে। উনিশ বছর বয়সে নিজের পরিচিত সব কিছু ছেড়ে আমাকে বাবা মার সাথে দেশের বাহিরে আসতে হয়েছে। তখনকার একাকিত্ব আর সব হারানো একটা হাহকার নিয়ে আমি ওকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। আর মুরাদের জন্য ছিল আমি ছিলাম এই বিদেশ বিভূইয়ে প্রতিকূল পরিবেশে নিরন্তর সংগ্রামের মঝে একটুখনি নির্ভরতার যায়গা। ক্লাসে বসে লেকচার শুনতে শুনতে ছেলেটা আনমনা হয়ে ভাবত এই মাস প্রায় শেষ হয়ে এল, এখনো বাসা ভাড়ার টাকাটা যোগার হলনা, পরের সেমিষ্টারের টাকাটাই বা কোথা থেকে আসবে। সেদিন তাকে এতটুকু বোঝার চেষ্টা করিনি। তাইতো সেদিন এটাও বুঝতে পারিনি যে কোন কিছু পাবার আশায় যখন আমরা ঈশ্বরকে ভালবাসি, তিনি ঘৃনায় সে ভালবাসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
সেদিনটা ছিল রবিবার, সারাদিন ঝিরঝির বৃষ্টি, আকাশ কালো হয়ে আছে মেঘে। আমার মনটাও ভাল নেই। অনেক রাতে মুরাদ ফোন করলো। ফোনটি ধরা মাত্রই ওপাশ থেকে ওর ভারি গলা - ' আজ সারাদিন তোমার কথা অনেক মনে পরছিল তাই কাজ শেষ করেই তোমাকে ফোন কারলাম।' আমার কেন জানি অনেক রাগ হলো , বললাম 'সারাদিন তোমার একটা ফোন নেই, একটা খবর নেই, এখন এই মাঝরাতে ফোন করে ঢংগের কথা শুনাতে হবে না। কোথায় এখন তুমি?' সে বললো 'কাজ থেকে বের হতে দেরি হয়ে গেছে তাই শেষ বাসটাও মিস করেছি, এখন বৃষ্টিতে ভিজে হেটেই বাসায় ফিরছি। তুমিতো জানই আজকের দিনটা ডাবল সিফট কাজ না করলে বাসা ভাড়াটা দিতে পারবো না'। আমি বললাম 'আমি এত কথা শুনতে চাই না, তোমার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে। তুমি সাত দিনের মধ্যে আমাকে বিয়ে করবা, না পারলে আমার সাথে কোনদিন যোগাযোগ করবা না'। মুরাদ বললো 'কি পাগলামি করছো, তুমি আমার সব কিছু জানো। এই সেমিষ্টারটা শেষ হলে নিশ্চয় ভাল একটা কাজ পাবো ছোট্ট একটা বাসা নিয়ে তোমাকে নিয়ে আসবো।' আমার তখন মাথায় জিদ চেপে গিয়েছে, আমি বললাম ' আমি এত কথা শুনতে চাইনা তুমি সাত দিনের মধ্য আমাকে বিয়ে করছো, ব্যাস আমি আর কিছু শুনতে চাই না।' এই বলে এই বলে ফোন রেখে দিলাম। তারপর চোখের পানির ইতিহাস। শেষ যেদিন দেখা, সেদিনো এমন বৃষ্টি ছিল। আমার হাত চেপে ধরে সেদিন ওর চোখের পানি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে যেতে দেখছিলাম।
তারপর কি সর্বনাশ যে আমাকে পেল, নিজের জেদের কাছে জয়ী হবার জন্য আমি এক মাসের মধ্যে দেশে যেয়ে ইমরান কে বিয়ে করলাম।
(চলবে...)
[কেও একটা বাংলা স্পেল চেকার দিয়েন প্লিজ]





উরে নাদান যে....
...
স্বাগতম
একটা ট্যারাই নিলাম
ধইন্যা...
নাদান রে স্বাগু
.. বহুদিন পর দেখলাম
.. খন্টিনিউ কইরো:)..
ভূই পাইছিলাম। তবুও ভাল যে ছগু কননাই.. অনেকদিন পর সবাই দেইখ্যা ভাল লাগতেছে ...
এ দেকি মেলোড্রামা !!
সুমন ভাই, শুধু মেলো না পুরাই এলমেলো ড্রামা, কাহিনী দেইখ্যা আমি নিজেই টাসকি!!
বহুদিন পর নাদান দর্শন
মাসুম ভাই দর্শনি দিয়া যান
কবে পাব পরের অংশ..................অপেক্ষায় রইলাম
আমি কামলা মানুষ ভাই, তবে খুব তারাতারি দেবার চেষ্টা করব।
চলুক...
ধন্যবাদ
খাইছে! এইটা কে? চেনা চেনা লাগে! কই যেনো দেখছি আপনারে?
বেলী আফা লইজ্যা দিয়েন না
পরের পর্ব তাড়াতাড়ি..
ধন্যবাদ। তারাতারি দেবার চেষ্টা করবো।
ওরে নাদা রে ......... আয় বুখে আয়
Avro তে spell চেকার দেয়া আছে, কিভাবে ইউজ করতে হয় জানি না
গলপ দারুন হচছে
অনেকদিন পর, নাদান! আছেন কেমন?
গল্পের শুরুতো ভালোই, শেষে কার দুঃখ বয়ান করবা? মুরাদ, ইমরান নাকি মেয়েটার?
এইখানে মুরাদ আর ইমরান ২টাই আছে, এখন তুমি অনামিকার নামটা খালি শুনাও! 
আউলা থাকলে বলতো,"ভাব দেখো! দুইদিন ব্লগ না লেখেই ভাব দিতাছে বাংলা লেখতে পারে নাহ!"
নাদানরে বালা পাই
পরের পর্ব কবে আসবে?
পরের পর্ব পড়তে ইচ্ছা করতেসে। জলদি দিয়েন।

মন্তব্য করুন