আমি হয়তো দেশপ্রেমিক নই!
বছর ঘুরে আবার একটা দিন আসছে । ১৬ ই ডিসেম্বর ।
আমার কাছে এ দিনটা আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই। সবাই কেনো জানি এই দিনটাকে বিজয় দিবস বলে। কিন্তু আমি বিজয়ের গন্ধ কোথাও খুঁজে পাইনা।
২৫ শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর ২৬ শে মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ২৭ শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হতে জিয়াউর রাহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা । অতঃপর যুদ্ধ এবং ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের স্বাধীনতা । আমার কাছে এই হলো স্বাধীনতার ইতিহাস ।
আমি বিজয়ের গুরুত্ব বুঝিনা। বুঝবোই বা কি করে?
আমিতো রাস্তায় রাস্তায় অগনিত লাশের মিছিল দেখিনি। আমিতো দেখিনি অর্ধগলিত লাশ নিয়ে শিয়াল আর কুকুরের টানাটানি। আমিতো পাইনি লাশের উৎকট গন্ধে ভারী হওয়া বাতাসের গন্ধ । আমি প্রতিটি জনপদে পাকবাহিনীর দ্বারা লাঞ্ছিতা, ধর্ষিতা ও বিবস্ত্র লাশ দেখিনি।আমি দেখিনি মায়ের বুকে দুগ্ধপানরত শিশুর লাশ।
আমি যুদ্ধ দেখিনি ।
আমার কাছে যুদ্ধ মানে রুপালি পর্দায় ভেসে উঠা কিছু খন্ড খন্ড চিত্র। পানিতে ভেসে যাওয়া কিছু লাশ, লাশের উপর শকুনের বিজয়োল্লাস । এরপর একসময় জয় বাংলা , বাংলার জয় । আমার কাছে যুদ্ধ মানে কিছু সুন্দর গান। তাও সেলুলয়েডের ফিতেয় বন্দি সেগুলো খুবই ঝাপসা । যুদ্ধটা আমার কাছে এই রকম ঝাপসা কিছু ।
আমি দেশপ্রেমিক নই !
কিংবা দেশপ্রেম বলতে কি বুঝায়,আমি তাই জানিনা। জানার কথাও নয়, বোঝার বিষয়ও নয়।
আমি স্বাধীনতার স্বাদ আজো পাইনি। আজো আমি এদেশের মাটিতে নির্ভয়ে পা ফেলতে পারিনা । গলা ছেড়ে মুক্তির গান গাইতে পারিনা। আজো আমি শিশির ভেজা ঘাসের উপর দিয়ে পথ চলতে গেলে উদ্ধত ফনা তোলা সাপের ভয় পাই।
আমি আজো অনুভব করি রিমি, সিমি, শাহনাজ, তৃষ্ণা নাম না জানা আরও অনেকের অতৃপ্ত আত্মা। আমি টের পাই কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে চলা লিমনের বুকের দীর্ঘশ্বাস।
আমি উপভোগ করি দামি গাড়ির কাচের ভিতর থেকে দেখা ফুটপাতে শুয়ে থাকা অগণিত ঘুমন্ত নারী পুরুষ ! ডাস্টবিনে খাবার নিয়ে কুকুর আর মানুষের মারামারি আর আমাকে বিস্মিত করেনা। আমি আজো আকাশে দেখি লাশের নেশায় উমত্ত শকুনের উল্লাস।
আমি এখনো দেখতে পাই বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। আজো বুড়িগঙ্গা , শীতলক্ষ্যা, তিতাসের বুকে ভেসে উঠে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের লাশ। আমি শুনতে পাই স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদ। আমি দেখেছি দেশের নেতাদের ক্ষমতার দন্দ্বে বলি হওয়া অসহায় মানুষের দিনলিপি। এতসব দেখেও কি করে বলি আমি বিজয় অর্জন করেছি।
আমি কি দেশের জন্য কিছুই করতে পারিনা?
পারি।
এতোকিছু দেখেও আমি বোবা-কালা হয়ে পথ চলছি । দেশকে নিয়ে ভাবার মতো সময় আমাদের নেই। সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত আছি। ব্যস্ত আছি নিজের উন্নয়নে। যুদ্ধপরাধের বিচার আজ আমাকে আর উল্লসিত করেনা।
কারণ আমি হয়তো দেশপ্রেমিক নই!





হয়তো !!
হুম!!! দেশপ্রেমিক হতে পারলাম কই ?
দেশপ্রেমিক হলেতো আরেকটা যুদ্ধের ডাক দিতাম। অন্যায়ের মাত্রা যে আজ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তবুও নির্বাক আমি এবং আমরা সকলে।
বুড়িগঙ্গা , শীতলক্ষ্যা, তিতাসের বুকে ভেসে উঠে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের লাশ। আমি শুনতে পাই স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদ।
এভাবেই যদি চলবে, তাহলে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পেল কই?
আপনাদের মতো তরুণরা এগিয়ে আসুন । আমারার, বুড়োদের নাবলা কথাগুলো বলুন । সত্যটা তুলে ধরুন । আমাদের কাঙ্খিত বিজয়টা আপনাদের হাত ধরে আসুক । আমাদেরতো ভয় হয়, কথার এদিক ওদিক হলে ক্ষমতার বদান্যতায়, কাদের সিদ্দিকির মতো, রাজাকার না আবার বনে যাই ।
পোষ্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ !
আমাদের তরুণদের হয়তো সাহস , শক্তি, সামর্থ্য আছে। কিন্তু এ কাঙ্খিত বিজয়ের জন্য তরুণদেরকে পথ দেখাতে পারেন আপনারা। আপনাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমাদের উৎসাহিত করতে পারেন।
শুভ কামনার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।
আপনার প্রতিও রইলো আমার শুভকামনা
পোষ্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ !
আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।
২৫ শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর ২৬ শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান এর পক্ষ থেকে জিয়াউর রাহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ।
এখানে একটা তথ্যগত ভূল রয়েছে। জিয়া ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ জাতির জনকের নামে স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। লেখক কে অনুরোধ জানাই ভূলটা ঠিক করার জন্য। ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপনাকে। লেখাটা সংশোধিত হয়েছে।
হুমম
২৬ শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান এর পক্ষ থেকে জিয়াউর রাহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা
এতদিন তো জেনে আসলাম জিয়া ২৭ মার্চ বেতারে এসেছিলেন, সেটা ২৬ মার্চ কবে হলো?
ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখাটা সংশোধিত হয়েছে।
দেখিনি গণহত্যা। শুনিনি আর্তনাদ। নিঃশ্বাস নিইনি বোঁটকা বাতাসে।
কিন্তু তবুও অনুভব করি। কারণ চোখের সামনেই আছে তার অজস্র প্রমাণ।
আর তাই তো দ্রোহের স্বপ্ন আজও বাঁচে আমার অন্তরে। আজও কণ্ঠে বাজে শেকল ভাঙ্গার গান। আজও স্বপ্ন দেখি মুক্ত বাংলার।
আসুন, একাত্তরের চেতনায় গড়ে তুলি সোনার বাংলা।
যে বাংলা হারিয়ে গেছে জল্লাদ আর চামারের ভয়ে।
চলুন, পলাতক বাংলাকে ফিরিয়ে আনি বাংলাদেশের বুকে।
হাঁ বাতাসে আমি আজো লাশের গন্ধ পাই | অনুভব করি সহস্র লাশের অস্তিত্ব । আজো শুনি স্বজনের আহাজারি ।
আগে করেছিলো হানাদারেরা , এখন রাজনৈতিক দলের আরালে দেশীয় দানবেরা ।
পোষ্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ রইলো আপনার প্রতিও।
মন্তব্য করুন