যাপিত জীবনের গল্প-২(স্বার্থপরতা)
মাঝে মাঝে নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হয়। তখন নিজের কাছেই খুব লজ্জা লাগে। মনে হতে থাকে কেন আমি এত স্বার্থপর। অথচ এই ভাবনা নিয়েই আমি বেড়ে উঠছি। একটু ও শোধরাতে পেরেছি বলে মনে হয়না ।
মুরুব্বীদের মুখে একটা কথা অনেক শুনেছি , সেটা হল
যার হয়না নয় এ তার হয়না ৯০ তে
। আমার ৯ বছর পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। অতএব মনে হচ্ছে ৯০ পর্যন্ত আর হবেনা। তাই খুব করে চাইছি যাতে ৯১ বছর বাঁচি! তাতেও যদি পরিবর্তন হই।
নিজেকে সবচেয়ে স্বার্থপর মনে হয় যখন কারো ভালো একটা গল্প লেখা পড়ি। অথবা কারো ভালো একটা পোস্ট পড়ি।
দেখা গেলো শরৎ এর কোনো উপন্যাস পড়ে খুব ভালো লাগলো। তখন মনে হয় ইসশ! আমি যদি এমন একটা লেখা লিখতে পারতাম। আমি একটু শরৎভক্ত কিনা তাই শরৎ এর কথাই আগে বললাম। এটাও তো এক ধরনের স্বার্থপরতা! কেনো শরৎ আগে লিখতে হবে?
একই অনুভূতি তো রবীন্দ্র, সুনীল, সমরেশ, হুমায়ন আহমেদ, বঙ্কিম এর ক্ষেত্রেও হয়। তবুও শরৎ আগেই এলো!
আমি তাদের মতো করে লিখতে পারিনা। তার একটা বড় কারণই হলো স্বার্থপরতা। কল্পনা করে খুব সুন্দর গল্প আমার দ্বারা লেখা হয়ে উঠেনা। ঘুরে ফিরে নিজের কিছুকে তাতে ঝড়াতে হবে। তাতে দেখা যায় আমি লিখতে ছাইলাম খুব সুন্দর একটা গল্প সেটা হলো গিয়ে (জগা) খিছুড়ি মার্কা একটা কিছু।
আরে দূর কাদের সাথে তুলনা করছি নিজেকে???
আমার বন্ধু ব্লগে এসেই প্রথমে এই অনুভূতি হইলো “তানবীরা” আপুর “এ বিজয়ের উৎসবকে ঘৃণা করি” পড়তে গিয়ে। খুব সাধারন কথাই ,কিন্তু চমৎকার উপস্থাপনা এর জন্য লেখাটা আমার কাছে ভাল লাগলো । তখনি মনে হলো ইশশ! এই লেখাটা যদি আমার হইতো!
আগেই বলেছি কল্পনা করে কিছু লিখবো সেই সাধ্য আমার নেই। যদিও আমি কল্পনা করতে ভালবাসি। কারণ যা আমি বাস্তবে পারছিনা। তাতো কল্পনাতে করতে পারি। কল্পনা করে ভাবতে তো দোষ নেই যে “আমার কোনো লেখা World Wide Best Seller এর তালিকার ১ নম্বরে চলে এসেছে”। কষ্ট না করে যদি চোখ বুঝে এরকম একটা ফ্যান্টাসি অনুভব করা যায় !!! সে সুযোগ মিস করার কোনো মানে হয়।
এইরকম অনুভূতি আবার হইলো “রায়েহাত শুভ” এর “এলমেলো রক্তছোপ” আর “নীড় সন্ধানী” এর “নীল পাহাড়” এই গল্পগুলো পড়ে। ভাবলাম আরে ধুর ! ভালো লিখছে তো কল্পনা থেকে। আমার কল্পনা শক্তি ভালোনা, তাই লিখতে পারিনা। অবশ্য রায়েহাত শুভ ভাই এর গল্পটা ভাল লেগেছে এর রুপকতার জন্য।
সবসময় ব্লগ আমার পড়া হয়না। আর যদি হয়ও তাহলে সব লেখা পড়া হয়না।
এর কারণ আমার অদ্ভুত এক রোগ! কোনলেখার শুরুটা ভালো না লাগ্লে সেটা আমার পড়া হয়না। হয়তো লেখাটার ভিতর অনেক সুন্দর।
আরো অনেকেরই লেখার ভিতরের কিছু কিছু অংশ অসম্ভব ভালো লেগেছে। সেই সব অংশ দিয়ে একটা পোস্ট দেবার চিন্তা করছি। তাই আগেই সবার কাছে অনুমতি নিয়ে রাখলাম। পরে আবার কপি রাইট মামলায় যাতে ঝুলতে না হয়।
মামলাতে আমার ভয় নাই। ভয় পুলিশের প্রতি। জানেন ই তো
বাঘে ছুলে এক ঘাঁ, আর পুলিশে ছুলে আঠারো ঘাঁ
কিন্তু আজকে যাপিত জীবনের গল্প লিখবো বলে ব্লগে আসার পর পরলাম “মীর” ভাইয়ের এর “কোয়ান্দ এল এতে সিউল” । আবার ............
হয়তো গল্পটা তার নিজের নয়, নয়তো তার একান্ত নিজের গল্প । গল্প যারই হোক একটা গল্পকে যদি নিজের গল্পের মতো সাজিয়ে লেখা যায়, তাহলে নিজের গল্পকে কেনো নয়?
আজকের গল্পটা পরবর্তীতে লিখবো। যাপিত জীবনের গল্প-৩ নিয়ে আসছি।
আমার রুমমেট আজকে বললো এই শিরোনামটা (যাপিত জীবনের গল্প) ধার করা মনে হচ্ছে। ।
তারপর থেকে কেনো জানি মনে হচ্ছে আমার শিরোনামটা মনে হয় অন্য কোনো মানুষ থেকে কপি করছি!!!





গল্পের অপেক্ষায় আছি .।.।.।।।
অপেক্ষায় থাকতে হবে না। ।। এই পরিকল্পনা বাদ িদলাম ।। অকারণ অপেক্ষায় রাখার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। ।
। আপনাকে ধন্যবাদ ।
অন্য কারো লেখা পড়ে তাড়িত হবার মধ্যে স্বার্থপরতা খুঁজতে যাবার কোনো মানে নেই। বরং এটি আপনার নিজের লেখাগুলোকে অন্য দিগন্ত দেবে বলেই আমার মনে হয়। লেখায় নানান ডাইমেনশন আসবে। বিখ্যাত লেখকদের উপন্যাস পড়তে গেলে আমার সারাক্ষণ মনে হয়, কত কি নতুন জিনিস দেখছি। ওগুলো মাথায় ঘুরতেই থাকে। না পড়ে শেখা যায় না, না পড়ে লেখাও উচিত না।
শুভকামনা আপনার জন্য।
বিষয়টা সহজভাবে বুঝিয়ে বলার জন্য ধন্যবাদ। ।।
আয় হায়, তাইলে আমার গল্পটা না লেখা ভালো ছিলো। আপনে আবার...ঝামেলায় পড়তেন না এবং যাপিত জীবনের গল্পের সেকেন্ড পার্টটা ছাড়তেন। সেইটা না বেশি ভালো হইতো।
আপনার লেখা পড়েই না বুঝলাম যে কিভাবে লিখতে হয়। ।। আপ্নার লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। ।। আপনাদের লেখা পড়তে পড়তে হয়তো একদিন আমিও ।।..।..।..।..।..।.
গল্পের জন্য আগাম নিমন্ত্রণ দিয়ে রেখে এই আপনার গল্প পোস্ট
অপরিপক্ক লেখা দেবার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ।।।। যাপিত জীবনের গল্প আপাতত সমাপ্ত ।
মন্তব্য করুন