ইউজার লগইন

আমাদের দেশপ্রেম অথবা মরে যাওয়া দেশপ্রেম।

আমার রুমমেট এর সাথে গতকাল রাতে পড়া ভাগাভাগি করে জিজ্ঞেস করছিলাম। পড়ার মধ্যেই একটা জায়গায় ছিলো আমেরিকা আলাস্কা অঙ্গরাজ্য রাশিয়া থেকে এবং ফ্রান্সের কাছ থেকে কিনেছিল লুসিয়ানা। তখন রুমমেট বলল বাংলাদেশটাকেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিলে ভাল হতো। সাথে সাথে তাকে বললাম এটা কোন যৌক্তিক বিষয় নয়। জবাবে তার যুক্তি আমার পাল্টা যুক্তি চলতে লাগলো। কেহ কাহারেও নাহি ছাড়ি এই অবস্থা। সব তর্কের মতো এই তর্কও এক সময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরে এই বিষয়টা নিয়ে তার বলা কথাগুলো দিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছি। আমাকেই হারতে হলো তাতে। খুব অসহায় লাগছিল নিজেকে।

আমি দেশপ্রেমিক কিনা এই বিষয়টা নিয়ে এই মূহুর্তে নিজেকে খুব দ্বিধাগ্রস্থ লাগছে। কিন্তু আমার দেশকে নিয়ে কেউ খারাপ কিছু বললে খুব খারাপ লাগতো এক সময়। এখন বিষয়টা সেইভাবে নাড়া দিচ্ছেনা।

আমার কলেজ জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু যার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতার সূত্রই হলো দেশপ্রেম নিয়ে কলেজ পর্যায়ে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। দেশের প্রতি তার ভালবাসা আমাকে তার প্রতি মুগ্ধ করেছিল। তার সাথে চলতে চলতে যেনো আরো বেশী পরিমানে দেশকে ভালবাসতে শুরু করেছিলাম। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পর উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে সে বিদেশে পাড়ি জমায়। সম্প্রতি তার সাথে কথার একপর্যায়ে দেশের প্রতি তার ক্ষোভ দেখে একটু যেনো ধাক্কা খেলাম। আমি ঠিক শুনেছি তো?
পরে তার ব্যাখ্যা শুনে একটু কষ্ট পেলেও অবাক হইনি।

বছরখানিক আগে ইন্টারনেট এর সুবাদে পরিচয় হল এক বাংলাদেশী আমেরিকান এর সাথে। ইন্টারনেট এ খোশগল্প করে করে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি প্রায় সময় বলতেন যে দেশে একেবারে চলে আসবেন। আমি শুনে রোমাঞ্চিত হয়। আহ! কি দেশপ্রেম? স্বর্গ ছেড়ে নরকের পথে হাটা বুঝি দেশপ্রেমের কারণেই সম্ভব। সম্প্রতি ঐ বন্ধু দেশে আসলো। কিন্তু দেশে এসে তার মনে হলো এই দেশটা ঠিক বাস করার উপযোগী নয়। খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম তার কথাটা শুনে। এতো কষ্ট আর কখনো পাইনি। কেনো কষ্ট পেয়েছি তা জানিনা। কিন্তু পেয়েছি।

সব ঘটনার সাথে বাস্তবতার মিল খুঁজলাম। আসলেই কি এই দেশ বাস করার উপযোগী নয়। বারবার নিজেকে পরাজিত হতে হয়। অথচ নিজেকে পরাজিত ভাবতে খুব খারাপ লাগে।যদিও আমি পরাজিত একজন মানুষ। অথচ আমার এই পরাজয় নাও হতে পারত। তার পরও আমি পরাজিত কারণ এটা বাংলাদেশ।

আমি ২০০১ সালে মাধ্যমিক ও ২০০৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এ উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। গ্রেডিং সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা না দিয়েই ২০০১ এ এই পদ্ধতি চালু হলো। ফলাফল যা হবার তাই সারা বাংলাদেশে ৭৩ জন A+ এবং পরে ২০০৩ এ উচ্চ মাধ্যমিক এ প্রথমদিন কারো না পাওয়ার খবর এলেও পরের দিন দেখা গেলো সারা বাংলাদেশে ২০ জন A+ পেয়েছে। আমি গ্রামের স্কুল ও কলেজে পড়ে যা ফলাফল করেছি তাতে সবাই সন্তুষ্টই ছিলো। ঢাকা এসে ভালো কোথাও পড়ার জন্য কোচিং করলাম। তবে আগের ফলাফল ভালো না থাকার কারণে ভাল কোথাও টিকলাম না। তবে আমার এই ফলাফল দিয়েই আমি মেডিকেল এ ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। না টিকাটাই স্বাভাবিক ছিল। সেটাকে অস্বাভাবিক করতে পারলাম না। তাই ভর্তি হলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকার বাইরে যাবার ইচ্ছা ছিলোনা তাই ঢাকার বাইরে অন্য কোথাও পরীক্ষা দিলাম না।

ঢাকাতেই পরিবার থেকে কিছু আর টিউশনি এর মাধ্যমে নিজের পড়ার খরচ চালিয়ে গেলাম। সম্মান ও স্নাতকোত্তর এ প্লেস নিয়েই বের হলাম। মা স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন ছেলে কিছুদিন পরেই বড় কিছু একটা করবে। মা হয়তো ভুলেই গেছেন এটা বাংলাদেশ। এখানে ্সবকিছুই আজব।

চাকরীর পরীক্ষা দিতে গিয়ে খেলাম প্রথম ধাক্কা। ন্যাশনাল ব্যাংক এর বিজ্ঞাপনে যোগ্যতা চাওয়া হল –
৩টা ১ম শ্রেণি। আর গ্রেডিং এর ক্ষেত্রে যোগ্যতা চাওয়া হল ৪. ০০ এর নীচে হলে আবেদন করা যাবেনা। তার মানে আমরা কী ৩য় শ্রেণি পেয়ে মেডিকেল এ ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এলাম।
প্রমাদ গুনলাম। কিছুদিন পর হাইকোর্ট প্রজ্ঞাপন জারি করলো ২০০১ – ২০০৪ এ যারা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে তাদের জন্য ৩.00 এ প্রথম শ্রেণি ধরতে হবে। ভাবলাম যাক ভালো হয়েছে। এখনতো সবাইকে বিষয়টা মানতে হবে। কিন্তু এবার আমিই ভুলে গিয়েছিলাম এটা বাংলাদেশ। কিছু প্রতিষ্ঠান এটা মেনে প্রজ্ঞাপন দিল, কিছু মানলোনা। ফলে আমাদের ফলাফল হয়ে গেলো দ্বিধাবিভক্ত। পৃথিবীর আর কোনো সভ্য দেশে এটা হয় কিনা আমি জানিনা। কিন্তু এই দেশে হয় কারণ এটা বাংলাদেশ। হাইকোর্ট সম্পর্কে ছোটকালে শোনা হারুন কিসিঞ্জার এর একটা উপমাকে খুব সত্যি মনে হয় এখন। এটাতো হাইকোর্ট নয় , ............ কোর্ট।

তারপরও সব মেনে নিয়ে পরবর্তী সময়ের জন্য তৈরী হতে লাগলাম । ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করতে পারছিনা। তাই মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করতে শুরু করলাম। কয়েক জায়গায় ভাইভা দিলাম এবার বিপত্তি আমার সম্মান ও স্নাতকোত্তর এর ফলাফল। আপনিতো এখানে থাকবেন না, আপনার আরো ভাল কোথাও চেষ্টা করা উচিত, ইত্যাদি ............

আর সরকারী চাকুরি এর কথা নাই বললাম। কারণ এই লেখাগুলো লিখে কোনো লাভ নেই সেটা আমি জানি। আমাদের ব্লগের বাইরের দুনিয়ায় এই বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাবেনা কেউ। হয়তো দু-চারটা কমেন্টের মাঝেই এই বিষয়টা আড়াল হয়ে যাবে। এর চেয়ে বেশী কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। শুধু নিজের কথাগুলো বলার জন্যই বলা।
অনেককেই লিখতে বা বলতে শুনি বিদেশ ভালো লাগেনা, দেশে চলে আসতে চাই...... ইত্যাদি , ইত্যাদি............ । ব্লগে বিদেশে অবস্থানরত অনেকেই আছেন। আপনারা নদীর এই পাড় আর ঐ পাড় দুটোই দেখেছেন। আপনাদের বলি যখন ভাবেন দেশেই ভালো ছিলেন, তখন এটাও ভাববেন আপনি কি সত্যি এই দেশে বাস করতে পারবেন এখন?

উত্তরটা কি পান জানাব? হয়তো উত্তরটা “না”ই হবে।

জীবন নিয়ে আমার খুব উচ্চাশা কখনোই ছিলোনা। ভাবতাম পড়ালেখা শিখে কিছু একটা করেতো চলতে পারবো। কখনো ভাবিনি এই রকম পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। তাই সবাই যখন ডিভি লটারী নিয়ে হৈ চৈ করে তখনো এই নিয়ে কিছু ভাবিনি। এই জন্য কত কথাও শুনেছি। আমি বোকা, ইত্যাদি, ইত্যাদি............
এখন সত্যি আফসোস হয় কেন যে লটারীতে অংশ নেইনি! তাহলে হয়তো হয়েও যেতো। আমার মনে হয়না এখনো আমার দেশের প্রতি ভালবাসা আছে। কিন্তু কষ্ট একটাই ভালবাসা না থাকলেও আমাকে এই জঞ্জালে ভরা দেশেই পড়ে পড়ে মরতে হবে।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রন্টি চৌধুরী's picture


লো কোয়ালিটি কেন, বেশ ভাল কোয়ালিটির ইউটিউব লিংক ই দিচ্ছি। দেখে নিন হঠাত একদিন
http://www.youtube.com/watch?v=g4554CW-L4w

নেয়ামত's picture


নাটকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দিলে নামানোর উৎসাহ পাইতাম। এতো স্লো গতিতে অযথাই ডাউনলোড করার মানে হয়না।
তবে লিঙ্ক দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

নেয়ামত's picture


নাটকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দিলে নামানোর উৎসাহ পাইতাম। এতো স্লো গতিতে অযথাই ডাউনলোড করার মানে হয়না।
তবে লিঙ্ক দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

শওকত মাসুম's picture


হুম

নেয়ামত's picture


আমিও বলি হুমমমম।

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


"দেশপ্রেম" শব্দটাই অভিধান থেকে বাদ দিয়ে দেশদায়িত্ব বা দেশকর্তব্য ঢুকানো উচিত

~

নেয়ামত's picture


তাতেও কি কোনো লাভ হবে?
দায়িত্ব কর্তব্য পালন করলেতো বলা যেতো দেশপ্রেম আছে।
আমাদের দেশ বলে যে কিছু আছে, সেটাতো কখনোই মনে হচ্ছেনা।
শুধু মনে হয় একটা অঞ্চলের দুইজন সর্দার (সর্দারনী) আছে।
তারা পালাক্রমে আসে আর যায়। তাদের আসা যাওয়ার মাঝে তাদের সম্পদ ফুলে ফেপেঁ উঠে।।
কারো স্বামীর দেশ তো কারো বাবার দেশ।

বিষাক্ত মানুষ's picture


কি আর বলবো!

নেয়ামত's picture


আসলে বলার কিছুই নাই!
বেশি বললে হয়তো দেখা যাবে শীতলক্ষ্যা অথবা তুরাগে ভেসে উঠছে এক একটা লাশ।

১০

একজন মায়াবতী's picture


Puzzled

১১

তানবীরা's picture


আসলে বলার কিছুই নাই!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.