সহজ বিজ্ঞানপাঠ
গল্পে গল্পে বিজ্ঞান-১
নবম শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য
আইডিয়াঃ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল
রচনায়ঃ নেয়ামত
বহু বহু দিন আগের কথা। বাংলাদেশ তখনো স্বাধীন হয়নি। এমনকি ভারত বর্ষ ও তখন ইংরেজদের শাসনে ছিল। সেই সময়ে বগা নিউটন নামে এক লোক ছিলো। সে কোনো কাজ করতোনা। সে কেবল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবতো। আর সারাদিন গার্লস স্কুলের সামনে বসে বালিকাদের আসা যাওয়া দেখতো।
নিউটন স্কুলের সামনে একটা প্রকান্ড নারিকেল গাছের নীচে বসতো। (বসার জন্য সে কেনো নারিকেল গাছের তলা বাছাই করেছিলো তা জানা যায়নি। কারণ তখন তো বাংলাদেশের ইতিহাসবিদদের মতো জ্ঞানী মানুষ সৃষ্টি হয়নি। তবে ধারণা করা হয় ডাবের প্রতি তার দুর্ণিবার লোভ ছিলো। )
এর মধ্যে একদিন অবাক ঘটনা ঘটলো। প্রতিদিনের মতো বগা নিউটন নারিকেল গাছের নীচে বসিয়া স্কুলের বালিকাদের দিকে ড্যাব ড্যাব
করে তাকিয়ে ছিলো এবং আপন মনে সিটি বাজাইতে লাগিলো । হঠাৎ করে একটি আপেল আসিয়া তার মাথায় আঘাত করিলো। সে ব্যথা লাগলেও সে খুশিই হয়েছিলো। ভাগ্যিস! মাথায় নারিকেল পড়েনি। সে আপেলটি পেয়ে গপাগপ দুই কামড় দিয়া বসলো। হঠাৎ তাহার মনে হইলো নারিকেল গাছে আপেল আসিলো কোথা থেকে। এই নিয়া ভাবিতে ভাবিতে বগা নিউটন ছুড়ন্ত বস্তুর উপর ভিত্তি করে একটি সূত্র আবিষ্কার করলো। যা ছুড়ন্ত বস্তুর প্রথম সূত্র নামে পরিচিত।
১ম সূত্রঃ সুনিদৃষ্ট কোনো কারণ ব্যাতীত কারও মাথায় আপেল পড়তে পারেনা। অর্থাৎ কোনো কর্ম বা অপকর্ম না করিলে নারিকেল গাছের নীচে বসা কারো মাথায় নারিকেল ব্যতীত অন্য কোনো ফল পড়িতে পারেনা।
কিছুক্ষন ভেবে সে বুঝিতে পারিলো ইহা কোনো অপরিপক্ক বালিকার কাজ। সে আবার ভাবিতে লাগিলো বালিকা ইহা করিবার ক্ষমতা বা অধিকার রাখে কিনা?
এর থেকে সে আরেকটি সূত্র আবিষ্কার করে। যা ছুড়ন্ত বস্তুর ২য় সূত্র নামে পরিচিত।
২য় সূত্রঃ প্রত্যেক প্রাণির জন্মের পিছনে একজন নারী ও একজন পুরুষের ভূমিকা রয়েছে। নারী বা পুরুষ কেউই কখনো একা একা সন্তান জন্ম দিতে পারেনা। এই জন্মদাত্রীকে মানব সমাজে Ma বলা হয়। এবং জন্মদাতাকে Father (F)
বলা হয়। যেহেতু এক ছাড়া অন্য অচল তাই তারা উভয়েই সমান। অর্থাৎ F=ma.
কিন্তু খানিক পরেই তার পৌরুষদীপ্ত জাগিয়া উঠিলো । সে নিক্ষেপকারীনীকে সনাক্ত করিয়া দৌড়াইয়া গিয়া তার হাত ধরে টান মারিলো। বালিকা তাহার হাত ছাড়াইয়া লইয়া বগা নিঊটন এর গালে হাল্কা করিয়া চড় মারিলো। নিউটন এর রাগ উঠিয়া গেলো। সে তাই মেয়েটির হাত ধরিয়া হেচকা টান দিলো। এবার মেয়েটি তার গালে কষাইয়া থাপ্পড় মারিলো, মেয়েটির হাতের পাঁচ আঙ্গুলের দাগ তাহার গালে গভীর হইয়া সাটিয়া গেলো। তাহার ক্রোধ বহুগুনে বাড়িয়া গেলো। সে মেয়েটিকে জোর করিয়া জড়াইয়া ধরিলো । এরপর সে বুঝিতে পারিলো তাহার দিকে অনেক গুলো হাত ধেয়ে আসছে। তারপর সে তাকে আবিষ্কার করিলো হাস্পাতালে। এর কিছুদিন পর সে তার ৩য় সূত্র আবিষ্কার করিলো।
৩য় সূত্রঃ প্রত্যেকে ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
অধ্যায়ভিত্তিক সৃজণশীল প্রশ্নঃ
নীচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
মফিজ একটি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে দাড়াইয়া মেয়েদের আসা যাওয়া দেখে। সে মেয়েদের দিকে তাকাইয়া থাকিলেও তাদের লক্ষ্য করে সিটি বাজায়না। কারণ সে জানে ইভটিজিং এ আইন (অবশ্যই ফাঁক-ফোকর যুক্ত ) আদালত (অবশ্যই সরকারী দলের পক্ষে) এর ভয় আছে। তাছাড়া অন্যান্য সমস্যা ও হতে পারে।
ক)ইভটিজিং কি? (জ্ঞানমূলক)
খ)মোখলেস ও বগা নিউটন এর মধ্যে ২ টি পার্থক্য লিখ। (অনুধাবন মূলক)
গ)নারী অধিকারের ক্ষেত্রে বগা নিউটন এর সূত্র কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? (প্রয়োগমূলক/ হাল্কা সৃজনশীলতা)
ঘ)বগা নিউটন এর মতো করিয়া তুমি নতুন তিনটি সূত্র আবিষ্কার কর? (চূড়ান্ত সৃজনশীলতা/ যা খুশি তাই লিখ)





এত্ত ছিজনশীল উত্তর দক্ষিন মাথার ভিত্রে ঘুর্ঘুর কর্তেছে সেডি আর লিখতে পার্লাম না।
দেরী কইরেন্না । তারাতারি একখান সৃজনশীল প্রশ্ন ব্যাংক বানাইয়া ফেলেন। আমার বইয়ের শেষ অংশে সাজেশান্স হিসেবে দিয়া দিমুনে।

হাসতে হাসতে গড়াগড়ি।
এ পোষটে কমেনট নাই

মোর পুষ্টে কেউ কমেন্ট করেনাগো বু। তাই অনেক আমার ধইন্যাপাতা খরচ করতে হয়না। তয় আপ্নারে ১ মন
আপনার ভালো লাগছে জেনে আনন্দিত হইলাম। নিজেরে ধইন্যাপাতা থুক্কু ধইন্য মনে হইতাছে।

আরো অনেক রকম ইমো হবে।
জ টি ল
গল্পে গল্পে বিজ্ঞান-২ এর অপেক্ষায় রইলাম...
~
আশা করছি গল্পে গল্পে বিজ্ঞান -২ নিয়ে আবার হাজির হইবো।
তবে গল্পটা অনেক আগের লেখা। আজকে অধ্যাপক আবু সায়ীদ এর একটা উক্তি প্রথম আলোতে পড়ে এই লেখাগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো।
আর এই গল্প লেখার মূল অণুপ্রেরণা আমাদের শ্রদ্বেয় জাফর ইকবাল স্যার। গত বছরের কোনো একটা সময় তিনি বলেছিলেন " বিজ্ঞান অনেক কঠিন বিষয়। বিজ্ঞান ভীতি কাটানোর জন্য গল্পে গল্পে বিজ্ঞান শেখানো উচিত। তাই আমি এই পান্ডুলিপি লিখা শুরু করেছিলাম। বিভিন্ন সূত্রের গপ্লপে গল্পে প্রমাণ। আর বর্ত্মানে তো সৃজনশীল ভাবে শিক্ষা পদ্ধতি ধ্বংস করা হচ্ছে। "
হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম

কোথায় পড়লেন? নাকি কিসে পড়লেন?
কোনটা জিগাই বুঝতাছিনা।
তাই কিছু জিগাইলাম্না।
হাসেন হাসেন প্রাণ খুলে হাসেন। হাস্লে দিলডা ভালো থাকবো।
মুচকি হাসি দিলে হবেনা। প্রাণ খুলে হাসতে হবে। দেইখেন প্রাণ খুলে হাস্তে গিয়ে যাতে পটল না তুলেন। ( অনেক বড় হাসির ইমো হবে)
চমকপ্রদ!
জ্বি জনাব চমকপ্রদ! কমেন্ট।
ধন্যবাদ।
প্রশ্ন: মোখলেস ও বগা নিউটন এর মধ্যে ২ টি পার্থক্য লিখ। (অনুধাবন মূলক)
কিন্তু নিউটন তা করেনাই, সে ২ কামড় দিয়েই আপেল নিক্ষেপকারী অপরিপক্ক বালিকা কে নিয়ে ভাবতে বসেছে
..
উত্তর: মোখলেস ৩ কামড়ে আপেল শেষ করে পরবর্তী আপেলের জন্য অপেক্ষা করত
প্রশ্ন: মোখলেস ও বগা নিউটন এর মধ্যে ২ টি পার্থক্য লিখ। (অনুধাবন মূলক)
১।
মোখলেস উদ্দীপক থেকে শিখলো নারিকেল মাথায় পড়িলে বড় বিপদ ঘটতে পারে তাই সে নারিকেল গাছের নীচে দাড়াইয়া পেয়ারা গাছের নিচে দাড়াইলো।
২।
নিউটন আইন আদালত সম্পর্কে জানতোনা, আর মখলেস আইন আদালত সম্পর্কে জানতো বলেই সিটি বাজাইতোনা।
সবচেয়ে বড় কথা হলো মোখলেস বাঙ্গালী বলিয়া সে জ্ঞানী বিধায় আইনের মাঝে ফাক ধরিতে পারে, কিন্তু নিউটন তা পারতোনা।
তয় সবচেয়ে বড় কথা সৃজনশীল মানে তো যা খুশি তাই লিখো। সেই জন্য আপনি পাশ। আপনাকে ২ এ ২ দেয়া হইলো।

হাঃ হাঃ
সেরাম হইছে। চলুক।
ধইন্যবাদ।
সিরিয়াস ধরনের সৃজনশীলতা দরকার আপনের এইসপ প্রশ্নের উত্তর দেওনের লিগা। যা আমার এট্টুও নাই
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরে হাবিজাবি লিখলেই পাশ। ভয় নাই জোরসে উত্তর দেয়া শুরু করে দেন ।
সর্বনাশ!!! নেয়ামত ভাই তো পোস্টে কেয়ামত কইরা ফেলছেন। হাসতেই আছি.........
====================
চরম পোস্ট! পরের পর্বের অপেক্ষায়!!
কেয়ামত কোনদিক দিয়া আইল। আমিতো টের পাইতেছিনা।
তয় মনে আছে পোস্ট এর পরে হাল্কা মাত্রার একটা ভূমিকম্প হইছিলো।
এই ছাড়া আর কিছু মনে পড়তাছেনা। মইর্যা গেছি নাকি বাইচ্যা আছি বুঝবার পারতেছিনা।
পঠনের জন্য ধইন্যবাদ।
মন্তব্য করুন