“ প্রতিনিধি – স্বল্পজ্ঞান প্রজন্ম ” – পরিচিতি ও প্রারম্ভিক সাফাই
উপরোক্ত শিরোনামধারী আমি ভবঘুরে রানা । কারো কারো কাছে লেখাটি বিরক্তিকর ও অযাচিত মনে হতে পারে, মনে হতে পারে অযথাই কালক্ষেপন, কারন আমরা বাস করছি “ ব্রেকিং নিউজ ” এর যুগে ।।মনযোগ ব্রেক করতে পারে এমন সব পিলে চমকানো, ভয়াবহ, রঙ্গীন, বিচিত্র ও রসালো খবর এর প্রতীক্ষায় থাকি সারাক্ষন, এলেবেলে কিছু কথা দু-এক লাইন স্বরচিত কবিতা এসব নিতান্তই বিরক্তিকর - তথাপি আমি আমার ব্যাপারে কিছুটা ধারনা দেবার ইচ্ছা সংবরন করতে পারলাম না l আমি মুলতঃ ডায়েরীর পাতায় আত্মকথন প্রকাশ হিসাবেই লিখে যাব ।l
শুরুতেই আমি পারি না এমন কিছু কাজের কথা বলে নেয়া জরুরী – পারিনা লেখালেখি অভ্যাস নেই বলে, পারিনা কম্পিউটার ঠিকমত চালাতে (এখনো ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর মত জ্ঞানে সীমাবদ্ব), পারিনা অনেক কিছু এড়িয়ে যেতে, পারিনা আবেগ সংযত করতে এবং সর্বোপরি মিথ্যাচার দেখে চুপ থাকতে। l
ব্লগ সম্বন্ধে আমার যাবতীয় জ্ঞান অর্জনের সুচনা ২০১৩ এর এপ্রিলে ।এখনো আমি এই জগত সম্বন্ধে চলনসই ধারনা অর্জন করে উঠতে পারিনি, যা হোক তবুও শুরু করলাম পথচলা ।
ছোটবেলা থেকেই একটা কাজ খুব গুরুত্বের সাথে করে এসেছি – সেটা হলো, প্র্র্রকাশিত হওয়া মাত্রই সেবা প্রকাশনীর যে কোনো বই নির্বিচারে পাঠ করেছি আপাদমস্তক, এমনকি শেষপাতার নীচের কোনায় লেখা ছাপাখানা সণ্ক্রান্ত তথ্যটুকুও বাদ দেইনি কখনো l অত্যন্ত উপভোগ্য ছিল পাঠকের প্রশ্ন, মতামত এবং প্রকাশকের উত্তরপর্ব ।সেই থেকেই গড়ে উঠেছিল যে কোনো বিষয়ে পারস্পরিক মতামত ও মন্তব্য শেয়ার করবার প্রবনতা ও অভ্যাস । আমার জানামতে আর কোথাও তখনো বাংলায় মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ব্যাবস্থা বা উপায় ছিল না ।কাজেই সেবা প্রকাশনীর পেপার ব্যাকের শেষ কয়েকটা পাতাই ছিল আমার জীবনের প্রথম ব্লগ l কৃতজ্ঞতা জানাই সেবা প্রকাশনীকে ।
আমার জ্ঞানের স্বল্পতা ও অপরিনত মন্তব্যসমূহ সবাই পজেটিভলি গ্রহন করবেন এমনই আশা রাখি । অনেকের মতই আমিও একমত পোষন করি যে – সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে যে কোনো আলোচনায় ধর্ম ও রাজনীতির মিশ্রন বা প্রবেশ ঘটানো যাবে না – তথাপি এই দুই বিষয়কে এড়িয়ে যাবার কোনো উপায় নেই, কারন দুটোই জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে, কাজেই এভয়েড না করে পজেটিভ আলোচনাই শ্রেয় বলে মনে করছি ।অন্যের লেখা এতবড় সাফাই পড়তে হলে যথেষ্ট ধৈর্য লাগতো –কিন্তু নিজের লেখা বলে কথা ।। দীর্ঘ সাফাই শেষ করছি – পরবর্তীতে আসব ছোটো ছোটো মন্তব্য ও আলোচনা নিয়ে ।।।।
আমাদের দেশের মূর্খ রাজনীতিবীদেরা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বলেছেন – “আপনারা বেশী করে রবীন্দ্র সংগীত লিখতে পারেন না ?”- তাদেরই ধারাবাহিক উত্তরসুরী হিসাবে একেবারে কিছু না বলে বিদায় নেয়া ঠিক হবে না । বাংলাদেশের বর্তমান সামগ্রিক অবস্থা আমাকে কিছু সিদ্বান্ত ও স্বস্থি দিয়েছে , যা নিয়ে আমি গভীরভাবে ভাবছি ( বাঙ্গালীরা জাতিগতভাবেই অত্যন্ত ভাবুক ও চিন্তাশীল ) । আমার পজেটিভ ভাবনা হলো-
রাজাকর ইস্যুতে সৃষ্ট শাহাবাগ আন্দোলন আমাদের আপাততঃ যা দিয়েছে -
১. আচমকা ধার্মিক বনে যাওয়া একটা বড় জনগোষ্ঠী-যারা কিছুপূর্বেও এতটা ধার্মিক ছিলেন না ।
২. ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষার জন্য একদল ভলান্টিয়ার শিক্ষক, যারা বিনা পারিশ্রমিকে (কপি এন্ড পেষ্ট পদ্বতিতে) বিভিন্ন দোয়াদরূদ অর্থসহ প্রচার ও প্রকাশ করছেন ।নোটঃ ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষাখাতে সরকারের বাজেট ব্যায় হ্রাস পাবে ।
৩. কিছু হেদায়েত ও উপদেশ প্রদানকারী মুরুব্বী – যারা নিজেরা পালনের ঝামেলায় যান না ।
৪. রাজনৈতিক নেতাদের ছাগলামো বক্তব্য ও কর্মকান্ডে হতাশ ও বিরক্ত ,তাই সাময়িকভাবে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়া একদল সমর্থক ।
৫. দেখিয়া শুনিয়া খেপিয়া গিয়াছি-নীতি সমর্থিত সাধারন জনতার বিরাট অংশ যারা সাহসী বীরের ভুমিকা নেবার অপেক্ষায় আছে ।
৬. আমরা পেয়েছি অত্যন্ত সচেতন সেচ্ছাসেবী গাইড ,যারা আমাদের সচেতনভাবে সাদাকে সাদা এবং কালকে কাল বলতে শেখাচ্ছেন – কিন্তু নিজেরা ক্রমাগত শুধুই সাদা অথবা শুধুই কাল বলে যাছ্ছেন ।
৭. বিপদের কারনে, ঠেলায় পড়ে, মানবিক বোধের তাগিদে অথবা নিজেকে জাহির করতে – যে কারনেই হোক , অন্যকে সাহায্য করতে প্রস্তুত এমনি ব্যাপক জনগোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ।
৮. আমার মত অনেক মূর্খই সাম্প্রতিক অবস্থা জানতে ও পর্যবেক্ষন করতে ,পড়াশোনা এবং কম্পিউটার ব্যাবহারে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে ।
৯. এবং আরো পেয়েছি শুধুমাত্র সদিচ্ছায় বয়স পরিচয় সব ভুলে শাহাবাগে একাত্ম হতে পারা আবেগপ্রবন ও বিবেচক জনতার দল ।-
আপনারাও ভাবতে থাকুন – আমি তো ভাবছিই ।
“যতক্ষন বেঁচে আছি ততক্ষন থাকবে দায়বদ্বতার ঋন ।“





এবি তে সুস্বাগত।
পড়তে থাকুন। লিখতে থাকুন।
ভালো থাকুন।
“যতক্ষন বেঁচে আছি ততক্ষন থাকবে ঋন
মন্তব্য করুন