ইউজার লগইন

আসমা খান'এর ব্লগ

দেশ-দেশান্তর (দুর্যোগ, উৎসব)

ঝড়

৩১ শে অক্টোবর। আজ সকাল সাড়ে সাতটায় ঘর থেকে বেড় হয়ে দেখি শোঁ শোঁ বাতাশ, মুষল বৃস্টি, মধ্য রাতের অন্ধকার। স্যান্ডি তার ঝড়ের মেজাজ নিয়েই আছে, ধার কিছুটা কমেছে এই যা। হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ির লাইন, মানুষ প্রকৃতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের কাজে বেরিয়েছ। গতকাল সাড়াদিন আবহাওয়া চ্যানেলে তাকিয়ে ছিলাম, মেজ কন্যার জন্য দোয়ায় ছিলাম, তারা থাকে ম্যানহাটনে, স্যান্ডির তান্দব্ লীলার ঠিক মধ্যখানে। সকালে জানলাম না তাদের খুব বেশি কিছু হয়নি, তারা ভালোই আছে। আজ সকালে টিভিতে দেখছি নিউ ইয়র্কে ফুঁসে ওঠা সমুদ্রের ঢেউ এর মাঝে সার্ফিং করছে বেপরোওয়া কজনা!! লন্ডভন্ড পথঘাট, ভাঙ্গাচোড়া গাছপালা, ঝিমিয়ে পড়া ম্যানহাটন থেকে উন্মত্ত ফনাতোলা পাহাড়সম ঢেউএর সাথে পাঞ্জালড়া মানুষগুলো আমাদের মুগ্ধ করলো।

কোরবানী

ছোট বেলায় খুশির জোয়ার নিয়ে আসতো দুই ঈদ, এর মধ্যে এক ঈদে শহুরে জীবনে দিন কতকের জন্য মায়াকাড়া একটি গরু এসে কদিনের জন্য আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে রীতিমত হুলুস্থুল ফেলে দিত। গরুটাকে নাওয়ানো, খাওয়ানো, রাস্তায় রাস্তায় নিয়ে বেড়ানো, অন্যদের গরুর সাথে তুলনা করায় আমাদের উচ্ছাস সীমা ছাড়িয়ে যেত। আব্বা সবসময় শহরের উপকন্ঠের গ্রাম থেকে লোক মারফত গৃহস্তের পালা পোষা বকনা গরু কিনতেন। কিন্তু কাজি আর গাজি বাড়িতে তো বটেই, শেখ সৈয়দেও অলোক্ষ্য একটা প্রচ্ছন্ন কম্পিটাসান থাকতো, যেটা আমরা ছোটরাও বুঝতে পারতাম। জমে ওঠা হাটের থেকে চড়া দাম দিয়ে তাঁরা কিনতেন বিশাল বিশাল ষাঁড়। রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় সবচেয়ে দামি ষাঁড়ের পিছনে মালিকের খান্দানি আভিজাত্যও সগৌরবে হেটে যেত।

‘আব্বা এই যে আমি!!!

সংসারের বড় মেয়ে বড়াপার ছোট ভাই বোনের জন্য আদরের প্রকাশ ছিল এত বেশি যে ছোটরা তার রাগের জন্য খুব একটা ভয় পেতোনা, এম্নিতেও বড়াপা যত গর্জাতো, তত বর্ষাতো না। মেজাপার রাগ ছিল চন্ডালের রাগ, বুঝিয়ে দেবার পর লেখা পড়ায় ভুল করলে মেরে হালুয়া বানিয়ে দিত, বিশেষ করে ক্লাস সিক্সে ওঠা মেজ এবং সেজ দুরন্ত দুই ভাই এর উপরে তার শাস্তির মাত্রাটা এত বেশি ছিলো যে ভাগ্যিস তখন মানব-অধিকার উকিলদের কথা কেউ শোনেইনি, তাদের হিসেবমত ছোট ভাইদের মেরে তক্তা বানানোর অপরাধে মেজাপার কয়েক বছর সশ্রম কারাদন্ড দেয়া যেত অনায়াসেই।

দেশ-দেশান্তর (সবজি কাহিনী)

বাংগালীদের সন্মন্ধে প্রচলিত আছে তারা ভোজন রসিক, তাই প্রথমেই বলি রসনা আর রসুই ঘরের কথা। সেই ৯৬ সালের শীতে মুশকিল হচ্ছিলো আমাদের প্রযন্মের, ছেলে মেয়েদের নয়। খাবার মানে তো শুধু ক্ষুধা নিবৃতি নয়, আজন্ম লালিত রসনারও পরিতৃপ্তি। দেশি খাবারের প্রতি লোভ হোত, দেশে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, যা এখনও দেশের গ্রামের বুড়ো বুড়িরা বিলাতি বা চুঁয়া বাইগুন বলে, সীম নুতন আলু এই সব শীত কালিন তরকারি গুলিকে মোটামুটি কুলিন হিসেবেই বিবেচনা করা হোত, আসলে লাউ, কুমড়ো, উচ্ছে, ঝিঙ্গে, পটোল, কত রকমের বেগুন, কচু, লতি, বরবটি, কাকরোল, ঢেরস, সজনে, মুলো, লালশাক, আহা লালশাক!! কত রকমের শাক!!! গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে এই সব রকমারি বারোয়ারি তরকারির অভাব বিদেশে এসে যেন তীব্র ভাবে অনুভব করতে লাগলাম।

ড্রাইভিং লাইসেন্স

সুখে থাকলে ভুতে কিলোয়, তো সেই ভুতের কিল খেয়ে মধ্যপ্রাচ্যর আরাম ছেড়ে যখন কানাডাতে বসত গাড়লাম, সেই তখনকার কথা। বাড়ি ভাড়া, ব্যাংকের একাউন্ট খোলা, বাচ্চাদের স্কুলের রেজিসট্রেশনের পরে আমার স্বামি আমাদেরকে নিয়ে গেলেন ড্রাইভিং লাইসেন্স অফিসে। ফ্রন্টডেস্কের হাস্যমুখি সুন্দরী জানালেন আমেরিকা এবং জাপানের ড্রাইভিং লাইসেন্সকে তারা রেকগনাইজ করে, বাকি সব্বার পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয়। পরীক্ষা আবার ধাপে ধাপে তিন পর্বে। শুনেই তিনি লাইনে দাড়ালেন প্রথম পর্বের জন্য। ডেস্কের বয়স্ক মহিলা পরামর্শ দিলেন নিয়ম কানন জানার জন্য, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বই কিনত।