সার্কেলটা আর ভাঙা গেল না...
ঘটনা এক
আমার সহকর্মী সেকান্দার আহমেদ... যারে লোকজন খোকা ভাই হিসাবেই চিনে। এক সময়ের হিট ব্যান্ড ফিডব্যাকের পারফর্মার। গিটারে অসাধারন হাত তার। সেই খোকা ভাই প্রত্যেক দিনের মত বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ একদিন মুর্ছা গেলো। আশেপাশের লোকজন তারে ধইরা পানি ছিটা দিয়া জ্ঞান ফিরাইলো। বাড়িতে ঘটনা শুইনা কইলো কিছুনা... বয়সের জন্য এমন হইতেই পারে। কয়দিন পর অফিসেও এরম হইলো। জ্ঞান ফেরার পর মাকসুদের পরামর্শে সোজা স্কয়ার হাসপাতালে। এই টেস্ট সেই টেস্টের পর পুরা শইল তার দিয়া পেচাইয়া ঢুকানো হইলো একটা ছোট্ট রুমে... ধরা পরলো ব্রেইন টিউমার। পরিবারের সিদ্ধান্তে সিঙ্গাপুর হাসপাতালে নিয়া গেল। সফল অস্রোপাচার শেষে দ্যাশে ফিরা ভেলরি টেইলরের হাসপাতাল সিআরপিতে রেগুলার থেরাপী দেওন লাগতো। কারণ যেইখানটায় টিউমার আছিলো সেইখানটা পুরা ফাকা। বুদ্বুদ উঠলো কয় দিন... ডাক্তাররা কয় চিন্তাইয়েন্না... ঠিক হইয়া যাইবো তারাতারি। চারিদিক থিকা আস্তে আস্তে টিস্যুগুলা আইসা শুন্যস্থান পুরন হইবো এক সময়। তবে পুরা সুস্থ্য হইতে একটু টাইম লাগবো... এইটাই স্বাভাবিক। প্রায় এক বছর হইতে চললো। খোকা ভাই এহন প্রায় স্বাভাবিক।
ঘটনা দুই
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ... রমজান শেষ হলো মাত্র... চারিদিকে শুধু শেয়ারের আলাপ... অমুক শেয়ারের হেন তেন হবে... তমুক শেয়ার ফাডাইয়া ফেলাইবো.. ব্লা... ব্লা... সুচক বাড়তেছে প্রতিদিন। দিন শেষে ইনডেক্স ৪০০ থেকে ৫০০ তে যায়... ৫০০ থেকে ৬০০ - ৭০০ - ৮০০ - হাজার... লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। বিজ্ঞজনেরা বলে এটা ঠিক হচ্ছে না... সরকার শেয়ার ব্যবসাকে ছড়িয়ে দিতে জেলা শহরে লেনদেন শুরুর অনুমতি দেয় সারা দেশের মানুষের অংশগ্রহনের নিমিত্তে। আবার কিছু ব্রোকারেজ হাউজ অনলাইনে বেচাকেনার ব্যবস্থা করে। বিদেশ থেকেও সরাসরি শেয়ার বেচা কেনা করা যায়।
ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ডিএসই প্রথম মুর্ছা যায়... দ্যান আবার
... এতদিনে সরকারি চিকিৎসকদের "বাজার অতি মূল্যায়িত" রোগ ধরা পরে... সরকারের অগোচরেই গোপনে হয় অপরেশন... সরিয়ে নেয়া হয় হাজার হাজার কোটি টাকা ... সেই জায়গাটা ফাকা হয়ে যায়... বাজার চালু হলেই চারিদিক থেকে টিস্যুগুলো সেই ফাকা জায়গায় পড়ে যায়। পাঠানো হয় পদ্মা থেরাপী সেন্টারে... থেরাপীর প্যাকেজ ঘোষনা আসে... আমরা নিশ্চিত বোধ করি... সেরে উঠবে এই ক্ষত একদিন... এক বছর ... দুই বছর .. এক সময় আমরা ভুলেও যাই...
ঘটনা তিন - ১৫ বছর পর... আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় 
প্রতিটা মহল্লায় বাসাবাড়িতে দেয়া ইন্টারনেট কানেকশনে এবং এর মেনটেইন্সে নাভিশ্বাস। সকলেই ঝাপিয়ে পরেছে.... বিভিন্ন সেবা দান কারী সংস্থা থেকে ইন্টারনেট লাইনের ব্যান্ডউইথ বাড়ানো হিরিক.. ওইদিকে বিআরটিএ দেখতেছে দিনের বেলায় হিউজ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে... বিআরটিএর অলস পড়ে থাকা ব্যান্ডউইথের ব্যববাহর হু হু করে বেড়ে উঠছে... সচিব মহোদয় লাল টেলিফোনে সরকার প্রধানকে জানায় মানুষ ইন্টারনেটে ঝুকছে... গতবার ডিজিটালের যেই স্বপ্ন দেখানো হয়েছিলো এবার সেটা বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। এই সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই সরকারের সফলতার ঘটনাটি চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা ঝাপিয়ে পরছে। সরকার ২০০% সফল বলে নিউজ মিডিয়ার সাইটগুলতে লাল ফন্টে লেখা ব্লিংক করতেছে। রাস্তায় ডিজিটাল বিলবোর্ডে বড় বড় হেডিং দেখা যাচ্ছে... অবশেষে বঙ্গবন্ধুর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন সফল বাস্তবায়ন হলো
ঋহান স্কুলে যায় না ... বইসা থাকে আইওয়ালের সামনে। টেকনোলজিটা বাংলাদেশে নয়া। সে এইটা কয়দিন আগেই তার বড় মামাকে দিয়ে আম্রিকা থিকা আনাইছে। তার মা তারে স্কুলে যাইতে কইলেও কোন ফয়দা হইতাছে না। হাইকোর্টের নির্দেশে পোলারে অহন আর ডলাও দেওন যায় না। ঋহানের এক কথা... মা আমারে লেখা পড়া করাইতাছো ক্যান? এইটার আল্টিমেট গোল তো পয়সা কামানি... আমিতো সেইটাই করতেছি অহন থিক্কা... বরং বাবার স্কুলের খরচ আর লাগবোনা। তোমাগোতো খুশি হওয়া উচিত। ১৫ বছর আগে বাপের ইচ্ছা আছিল একটা গাড়ি কিনবো... আর অহন? মা ১ সপ্তাহ... যাস্ট একটা সপ্তাহ অপেক্ষা করো... আমি একটা হেলিকাপ্টার কিনবো ... ঋহানের মায়ের কানে এখনো বাজে ...যাস্ট একটা সপ্তাহ মা সময় দেও... 
সারাদেশেই ৫ দিনের মাথায় ব্যান্ডউথ ব্যবহার শেষ... কেউ নেট ইউজ করে না... ঘটনা কি?
সার্কেলটা আর ভাঙা গেল না ...
শহরের দালানগুলোর ইটের পরতে পরতে স্বপ্ন গুলো চাপা পরে... কেউ জানে না ...





লে সেকলেস্ তিন সেসেবল্।
বড়ই উমদা পাইলাম।
ঋহানের আম্মু কেমন আছে টুটুল ভাই?
ভালো আছে ...
আপ্নার খপর কি?
ত্রেস বিয়েন আমি'
থ্যংকু থ্যংকু
হিন্দি যেরম আন্দাজে বুঝি... আপ্নের কথাও সেইরম আন্দাযে বুইঝা নিলাম
এইজন্য আপ্নের লগে আলাপ কৈরে মজাই আলাদা।
এই ডায়লগটা ভুলতেই পার্তেসি না।

বড়ই উমদা পাইলাম টুটুল ভাই।
শেযার বাজারের আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। আমিন।
আমিন
১৯৯৬-২০১০-২০১৪...
বেঁচে থাকলে মনে থাকবে।
হ.. যদি বাইচা থাকি
*২০২৪ হবে।
ঋহানের অংশটুকু মজা হইছে । মনে হচ্ছে এইটা নিয়া একটা গল্প হইতে পারে ( বাঙ্গালের যা চিন্তা ) । আচ্ছা , ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন কি বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন ? ওইসময় এই আইডিয়া ছিল নাকি ?
আরে সব স্বপ্নইতো বঙ্গবন্ধুর নামে চালাইয়া দেয়... তাইলে এইটা বাদ থাকপে ক্যান?
ঋহানের অংশটুকু নিয়ে একটা গফ লেইখা ফেলেন
হ, একুশে টিভিতে যত নাটক/প্রোগ্রাম হয় সবগুলানের মুল পরিকল্পনা যিরাম আবদুস সালামের (ইটিভির চেয়ারম্যান)
জোশ লেখা!!!
"ঋহানের মায়ের কানে এখনো বাজে ..."
পরের পর্ব আসবে নাকি বস?
পয়লা সিরিয়াস ভাবছিলাম... কিন্তু ওইটা আমার মধ্যে বেশীক্ষন থাকে না
জটিল সাইফাই
এম্নে পচাইলেন?
ওরে বস, জীবনে প্রথমবারের মত শেয়ার নিয়া কোনো লেখা বুঝতে পারলাম।
মর্মান্তিক কৈরা লেখছেন।
নিজে শেয়ার করিনা রিক্সাও, তাই শেয়ারের সুখ-দুখ-উত্তেজনাটা ছাপাইয়া খালি বিনোদনই পাইতাম(৯৬'র ভিকটিম আমার চৌদ্দ গুষ্ঠী যদিও।)
কিন্তু, এই সার্কেল না ভাঙ্গা কথাটাই বড় করুন বুঝলাম।
চোর বাটপারদের হাতে এই দেশ... এইখানে তুমি কি আশা করো? কোন দল ভালো? তাদের নেতা নেত্রীদের কয়জন সৎ?
নিজ গুনে বুঝে নিলাম আমার গুরুর মত!
আমার ইনভেষ্ট এখন পুরা অর্ধেক! চোখে এখন হলুদফুল দেখছি।
আপনার অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করাই সাহস নাই!
চিন্তা কৈরেন্না... আগামী কাল থেকে মার্কেট আবার ভাল হবে ... কারণ:
১. আগামী কাল মার্কেট শুরু
২. কোন সার্কিট ব্রেকার থাকবে না
৩. আইটেম ভিত্তিক সার্কিট ব্রেকার রিডিউস
৪. নতুন মার্জিন লোন রেশিও (ক্লায়েন্ট)
৫. ইন্সটিটিউশনাল প্রোফিট আবার শেয়ার মার্কেট এ ইনভেস্ট হবে
৬. সব মার্চেন্ট ব্যাক বাই করতে একমত হয়েছে
৭. বাংলাদেশ ব্যাংক মার্চেন্ট ব্যাংকের ইনভেস্ট সংক্রান্ত নীতি ফ্লেক্সিবল করছে
৮. বুক বিল্ডিং মেথড স্থগিত
৯. কোন ট্রিগার সেল করতে পারবে না মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো
১০. তদন্ত কমিটি গঠন
১১. বাংলাদেশ ব্যাংক এসইসির সাথে এক টিমে কাজ করবে
১২. বাই ব্যাকের অনুমতি
১৩. মুদ্রানীতি ফ্লেক্সিবল করা হবে
১৪. অর্থমন্ত্রী মার্কেট সুপারভিশন করবে এবং বাজার বান্ধব আইন তৈরী/বদলাবে
১৫. এসইসি'র কোম্পানী ল বদলানো হবে
১৬. সরকারের সব মহলই আপ্রান চেষ্টা করতেছে মার্কেট আবার দাড় করাতে
এই সব কারণে এবং সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের আরো তৈরী হওয়ার জন্যই আজকে কোন ট্রেড হয়নি। সকল পক্ষ প্রস্তত হয়ে কালকে মাঠে নামবে...
নিরাশ হইয়েন্না
শেয়ারবাজার ধস নামায় আমার ব্যাপক লাভ হইছে। পয়সা পাইতাছি, আপেল দেখতাছি।
আপ্নার পৌষ মাস... আর আমাগো সব্বোনাশ
এরেই কয় কারো সর্বনাশ, কারো আপেল গ্রাস
আপেল দেখা বলতে কি বুঝাইতে চাচ্ছেন মাসুম ভাই ? বুঝতে পারছি না
বুঝাইয়া বলা যাবে না। মডু মারবে। তার চেয়ে ইউটিউবে খুঁইজা মুন্নী বদনাম হুয়ি গানটা দেইখা নেন।
এদ্দিন পর বই বাধাই নিষেধ করছে ক্যান। যারা আগে বাধাই করে বাজার থেকে বিদেশে ভাগছে, তাদের কি দশা হবে? আয় ব্যাটা টেকা ফেরত দে, নইলে ডলার?
সিইসিরে মুরগা বানাইলো, মুরগা খায়া হাড্ডি রেখে ভাগ্লো সব, এখন সরকার হাড্ডি থেকে রস খুজে পুষ্টি যোগাবে শইলে। এইটার নাম ডিজিটাল ইকোনমি।
সেইরম
কাল দুইটা টক শো, সকালে একটা, রাতে আরেকটা

সকালেরটা দেখছি।রাতের টা কখন??
নাজের সাথে ক্যাঁচাল করার মূলে কি শেয়ার বাজারে ধরা?
জব্বর প্রশ্ন ! ঝাতি ঝান্তে চায় ।
শেয়ার করিনা, কেয়ারও করিনা । আমার লাভ নাই, লোকসানও নাই । কারো সাথে ক্যাঁচালেরও সম্ভাবনা নাই ।
মন্তব্য করুন