ইউজার লগইন

২১শে ফেব্রুয়ারী কি উৎসবের না শোকের?

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০১২
২১শে ফেব্রুয়ারী (ছবি: রায়েহাত শুভ)

২১শে ফেব্রুয়ারীর সেকাল
খুব বেশী দিন নয়... আজ থেকে মাত্র ১০/১৫ বছর আগের সময় ... স্কুল গুলোতে মাইক বাজতো... তবে সেটা বাংলা গান... আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি অথবা ছালাম ছালাম হাজার ছালাম সকল শহীদ স্মরণে... এই সুরেলা আয়োজনে মুখরিত ছিল পাড়া মহল্লা। রাত জেগে শহীদ মিনারকে মনের মাধুরি মিশিয়ে সাজাতাম... সাজাতাম মহল্লার গলি উপগলি। খুব ভোরে শুরু হতো প্রভাত ফেরী। নগ্ন পায়ে লাইন ধরে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্পন। সকালে স্কুল থেকে খুলে নেয়া মাইকটাও আমাদের সঙ্গ দিতো প্রভাত ফেরীতে মহল্লা প্রদক্ষিনের সময়। সেদিন আমাকে সাদা কালো জামা পরতে হতো না... সেখানে বস্র প্রদর্শনীটা জরুরী ছিল না... ছিল হৃদয় উৎসারিত ভালবাসাটা।

২১শে ফেব্রুয়ারীর একাল
যাস্ট রাত ১২:০১ মিনিটে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারকৃত জাতীয় শহীদ মিনারে নেতানেতৃদ্বয়ের পুষ্পস্তবক অর্পন দেখে বিছানায় যাওয়া। মহল্লা চষে ফেললেও একটা সাজানো মিনার চোখে পরবে না... বরং সাদা কালো কাপরে সারি সারি বর্ণমালায় তৈরী পোষাক পরিধানে বর্ণমালা উৎসবে যোগদান... চকচকে নতুন জামাকাপর পরিধান করে বেড়াতে বের হওয়া অথবা স্মার্ট তরুনরা "রক উইথ একুশে ফেব্রুয়ারী"র অনেুষ্ঠানে হাজির হবে। দিনটা শুধু সাদাকালোয় সীমাবদ্ধ নয়... বরং হরেক রকম রঙ্গীন কাপরে উৎসবের মিছিল আজ। মহল্লার মোড়ে মোড়ে বাজছে উচ্চ ভলিয়ামে উলালা... কোলাবেরী ডি... ঠিক ঈদ উৎসব ভেবে ভুল হতে পারে।

পরিবর্তীত নতুন অবস্থাটা দেখে কিছুটা কনফিউজড হই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় হিন্দী গান বাজানোটা ঠিক নিষেধের পর্যায় পরে কিনা? কারণ, হিন্দিওতো একটা ভাষা। ঠিক ঠাওর করে উঠতে পারি না। ভাবি হয়ত স্কুল গুলোতে সরকারি কারিকুলামে এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে একুশ পালনে। সেটাই শিখছে নতুন প্রজন্ম। আমরা পুরানা জেনারেশন অনেক কিছুই জানি না ... অনেক কিছুই ঠিক মত হয়তো বুঝিও না। নিজেদের আজকাল বড় অপাংতেয় মনে হয়।

ফিরে দেখা ২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২:
ইউকিপিডিয়া হতে: ভাষা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন, যা ছিল বাংলা ভাষাকে তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিলেও বস্তুত এর বীজ বপিত হয় বহু আগে, এবং এর ফলও ছিল সুদূরপ্রসারি।

২১
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় আয়োজিত মিছিল

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়, কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা হিসেবেও পরিচিত) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে পার্থক্য ছিল প্রচুর। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, যা পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী জনগণের মধ্যে তুমুল ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী মানুষ (যারা সংখ্যার বিচারে সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল) এ সিদ্ধান্তকে মোটেই মেনে নিতে চায়নি। পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর খাজা নাজিমুদ্দিন জানান যে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তই মেনে নেওয়া হবে। এই ঘোষণার ফলে আন্দোলন আরো জোরদার হয়ে ওঠে।
21 feb 1952
২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২: ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা গেট এ মিটিং।
২১শে ফেব্রুয়ারী
২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২: ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা গেট এ মিটিং।

২১শে ফেব্রুয়ারী
২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২: ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা গেট এ মিটিং।

২১শে ফেব্রুয়ারী

পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে মিটিং-মিছিল ইত্যাদি বেআইনি ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) এই আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুসংখ্যক ছাত্র ও কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে মিছিল শুরু করেন। মিছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ মিছিলের উপর গুলি চালায়। গুলিতে নিহত হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরো অনেকে। এই ঘটনায় সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার গণআন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে এবং ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করে।
২২শে ফেব্রুয়ারী
২২শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২: জানাজা শেষে শোক মিছিল।

21st February 1954
২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫৪: কলাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

21st february  1956
২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ : মাওলানা ভাসানি
Moulana Vasani at the 1st Shahid Minar 21st february (1956)

21st February (1956)
২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬: শহীদ বরকতের মা

২০০০ সালে ইউনেস্কো বাংলা ভাষা আন্দোলন ও মানুষের ভাষা ও কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রথম বাংলা ভাষার রাষ্ট্র চাই ধারণাটির জন্ম হয় এবং এ ধারণাই পরবর্তীতে বিভিন্ন বাঙালি জাতীয়তা আন্দোলন, যেমন ৬ দফা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রেরণা যোগায়। বাংলাদেশে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে উদযাপিত হয় এবং দিনটিতে জাতীয় ছুটি থাকে। এ আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।

বদরুদ্দীন উমর বলেছেন

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু এ দেশের ছাত্রসমাজই নয়, সমগ্র জনগণই নিজেদের ভাষা বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যম ও রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। এ সংগ্রামে তাদের এক ধরনের রাজনৈতিক সাফল্য এসেছিল। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার এরপর বাংলাকে বাদ দিয়ে পূর্ববাংলার জনগণের ওপর উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার আর কোনো চেষ্টা করেনি এবং সে আন্দোলনের জের হিসেবেই ১৯৫৪ সালে এ দেশের মাটি থেকে মুসলিম লীগ সাংগঠনিকভাবে উৎখাত হয়েছিল। এ কারণে ২১ ফেব্রুয়ারি এখন পর্যন্ত জনগণের চেতনায় এমন বড় স্থান অধিকার করে আছে, যা অন্য কোনো দিবসের দ্বারা উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও আজকাল ফেব্রুয়ারি মাস এলে এবং ২১ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে যেসব তৎপরতা চলতে থাকে তার দিকে তাকিয়ে খুশি অথবা উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না। কারণ, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে প্রাণের কোনো পরিচয় পাওয়া যায় না। উপরন্তু এক দিগন্ত বিস্তৃত ভণ্ডামির রাজত্বই পুরো ফেব্রুয়ারি মাস ধরে চলতে থাকা দেখে মর্মাহতই হতে হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারী গানটির সৃস্টি
২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণের ঘটনার পর, একুশ নিয়ে প্রথম গান লেখেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। গানটি হল, "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।" প্রথমে আব্দুল লতিফ সুর দেন। পরে করাচী থেকে ঢাকা ফিরে ১৯৬৯ সালে আলতাফ মাহমুদ আবার নতুন সুর দিলেন। সেই থেকে ওটা হয়ে গেল একুশের প্রভাত ফেরীর গান। ১৯৫৪ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে সংকলনে প্রকাশিত গানটি। তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। জহির রায়হান তার জীবন থেকে নেয়া ছবিতে এই গানটি ব্যবহার করার পর এর জনপ্রিয়তা আরো বাড়ে। ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর এই গানটিও আন্তর্জাতিকতা পেতে শুরু করে।

**আরেকটি তথ্য দিই: একুশে ফেব্রুয়ারী নিয়ে প্রথম কবিতা লিখেছিলেন মাহবুবুল আলম চৌধুরী, 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' ।

ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়

কইতো যাহা আমার দাদা, কইছে তাহা আমার বাবায়
কইতো যাহা আমার দাদায়…
এখন কও দেহি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায়!
ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়

সইমু না আর সইমু না, অন্য কথা কইমু না
যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান,
জানের বদ রাখুম রে ভাই, বাব-দাদার জবানের দাম

এই যে শুইনাছে আমার দেশের গাঁওগেরামের গান
নানান রঙয়ের নানার রসে, ভইরাছে তার প্রাণ
যপ-কীর্তন, ভাসান-জারি, গাজীর গীত আর কবি সারি
যপ-কীর্তন, ভাসান-জারি….
আমার এ বাংলাদেশ এর বয়াতিরা নাইচা নাইচা কেমন গায়
ওরা কাদের মুখের কথা কাইরা নিতে চায়!.....

তথ্য সহায়তা: বাংলা উইকিপিডিয়া এবং Bangladesh Old Photo Archive

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রাসেল আশরাফ's picture


দারুন পোস্ট।
প্রিয়তে নিলাম।

শওকত মাসুম's picture


ছবিগুলা দারুণ লাগে দেখতে।

উচ্ছল's picture


দারুন তথ্যবহুল েপাস্ট

রায়েহাত শুভ's picture


তথ্যবহুল পোস্ট।

শিরোনামের প্রশ্নটার জবাব চাইলে, আমার জবাব হইবো একুশে ফেব্রুয়ারীরে আমি একই সাথে শোক আর উৎসব দুইভাবেই দেখতে ভালোবাসি।

লাবণী's picture


একুশে ফেব্রুয়ারীরে আমি একই সাথে শোক আর উৎসব দুইভাবেই দেখতে ভালোবাসি।

সহমত

টুটুল's picture


উৎসবটা দোষের কিছু না... কিন্তু সেটা যদি শোককে ছাপিয়ে দৃষ্টি কটু হয় সেটা মনে হয় ঠিক না...

লাবণী's picture


অসাধারণ পোস্ট!
সিন্ধুকে রাখলাম! Smile

রাসেল's picture


একটা বিষয়ই সংশোধন করতে হবে, আলতাফ মাহমুদ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারী গানটিতে নতুন সুরারোপ ১৯৫৪ সালে করেন নি, তারও হয়তো এক দশক পরে সে গানে আলতাফ মাহমুদ সুরারোপ করেছেন।

কেউ কেউ বলেছেন সুরারোপের কাজটা হয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, সে কারণেই গানটি সম্পূর্ণ সুরারোপ করা সম্ভব হয় নি, সেটা করার আগেই আলতাফ মাহমুদের মৃত্যু হয়- কিংবা আব্দিল লতিফ সুরারোপিত গানটি গীত হওয়ার এক দশক পরে সেটা আলতাফ মাহমুদের দ্বারা সংশোধিত হয় , কিন্তু তিনি সম্পূর্ন করবার আগ্রহ পান নি। জহির রায়হানের জীবন থেকে নেওয়া ছবিতে ব্যবহৃত হলে একটা সম্ভবনা হয়তো এই ছবির প্রয়োজনে গানটি যতটুকু ব্যবহৃত হয়েছে ততটুকুতেই সুরারোপ করেছেন তিনি।

রাসেল's picture


টুটুল আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারী গানটি আলতাফ মাহমুদ নতুন করে সুরারোপ করেন ১৯৬৯ এ। তিনি সম্পূর্ণ গানটিতে সুরারোপ করেন নি,

১০

টুটুল's picture


ঠিক করে দিলাম বস...
ধইন্যা

১১

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


তথ্যবহুল পোস্ট।

ছয় নম্বর ছবির কোনায় একটু ঘষা লাগবে।

একুশে ফেব্রুয়ারী মানে মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানানোর শিক্ষা, সেটা নিজের মাতৃভাষা, দেশের সংখ্যালঘুদের মাতৃভাষা, পৃথিবীর সকল জাতির মাতৃভাষা ও ভাষা-বৈচিত্রের প্রতি সম্মান জানানোর শিক্ষা।

একুশে ফেব্রুয়ারী উৎসব ছিল সেইবার যখন এই দিনকে প্রথমবারের মত "আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসাবে পালন করা হয়। এরপরে আর উৎসবের মানে নাই।

~

১২

টুটুল's picture


উৎসবের রেজাল্ট কিন্তু আপনার নিচের ভিডিওটা...

১৩

জ্যোতি's picture


তথ্যবহুল পোস্ট। এবং ছবিগুলা মনে আঁচড় কাটার।

১৪

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


আমার মনে হয় এই ভিডিওটাও এখানে থাকা দরকার...

~

১৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


টুটুল অনেকদিন পরে এল (পোস্ট নিয়ে) এবং মাতিয়ে দিল। খুবই তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। ধন্যবাদ পাওনা হলেন বড়ভাই Wink

১৬

টুটুল's picture


ঘটনা কি? শরম দেন ক্যান?

১৭

শওগাত আলী সাগর's picture


আহা! ছোটবেলার শহীদ দিবস পালনের স্মৃতি জাগিয়ে দিলো লেখাটা। শহীদ মিনারে দেওয়ার জন্য ফুল চুরি করা, রাত জেগে অপেক্ষায় থাকা, খালি পায়ে শিশির ভেজা রাস্তায় প্রভাত ফেরি ... কতো কিছু। সেই সব দিনগুলো আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
ধন্যবাদ আপনাকে তথ্যবহুল স্মৃতি জাগানিয়া একটা লেখার জন্য।

১৮

টুটুল's picture


স্কুলে মাস ব্যাপি আয়োজন... রিহার্সেল... আলোচনা... আবৃতি... কত কি...

এখন আর সেই ঘাস নেই... নেই শিশির বিন্দু Sad ... নেই সেই গ্রাম... অথবা দেখার সেই চোখটাই হয়তো মরে গেছে...

১৯

টুটুল's picture


 ১৯৫৩
প্রভাত ফেরী: ২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫৩

২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৬৩
একুশে ফেব্রুয়ারী ১৯৬৩

২০

আইরিন সুলতানা's picture


২১শে ফেব্রুয়ারি তো হারানোর এবং অর্জন দু’টো এক সাথের। আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জন।

আমি এ দিনে আমার ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি, এটা কি চিৎকার করে আনন্দ করার বিষয় নয়?

আমার-তোমার-আমাদের ২১শে ফেব্রুয়ারিতেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে, এটা কি উৎসবের বিষয় নয়?

একটা দীর্ঘ সময় ধরে আমরা ১৬ ডিসেম্বরকে বেদনা নিয়ে, ভারাক্রান্ত চিত্তে পালন করেছি, তারপর আমরা ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয়ের আনন্দে, উৎসবে ঘটা করে পালন করতে শুরু করেছি। অর্জনের আনন্দটা জানান দেয়া দরকার।

হারিয়েছি... বিনিময়ে পেয়েছি। হারানোটা বেদনার। প্রাপ্তিটা আনন্দের। ভাবগাম্ভীর্য, শ্রদ্ধা, ঐতিহ্য ধরে রেখে আনন্দধারা ভাগ করলে তাতে ২১শে ফেব্রুয়ারির অমর্যাদা হবে না। শোক-সন্তাপও মলিন হবে না।

তবে আনন্দ পালনের পদ্ধতিতে যদি কোন অমর্যাদাকর আচরণ থাকে রাষ্ট্রের, গণমাধ্যমের, ব্যক্তিবিশেষের সেটা সমালোচনায় আনা যেতে পারে।

২১

মীর's picture


আরে এ যে দেখছি ক্যপ্টেন্স্ নক Smile
অসাম টুটুল ভাই। গ্রেট জব, সিম্পলি গ্রেট। প্রিয়তে না নিয়ে আসলে পারলাম না।

২২

তানবীরা's picture


প্রিয়তে রাখলাম কিন্তু আপনার মতো একজন দারুন লেখক এতো কম কেন লিখবেন? Sad

২৩

অতিথি জালাল's picture


ভাল পোষ্ট।

২৪

আনোয়ার সাদী's picture


তথ্যসমৃদ্ধ লেখা ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

টুটুল's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি আছি, একদিন থাকবো না, মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম।

অমরতা চাই না আমি, বেঁচে থাকতে চাই না একশো বছর; আমি প্রস্তুত, তবে আজ নয়। আরো কিছুকাল আমি নক্ষত্র দেখতে চাই, শিশির ছুতেঁ চাই, ঘাসের গন্ধ পেতে চাই, বর্ণমালা আর ধ্বনিপুঞ্জের সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই, মগজে আলোড়ন বোধ করতে চাই। আরো কিছুদিন আমি হেসে যেতে চাই।

একদিন নামবে অন্ধকার-মহাজগতের থেকে বিপুল, মহাকালের থেকে অনন্ত; কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে আমি আরো কিছু দুর যেতে চাই।

- হুমায়ুন আজাদ