একজন দীপা এবং ভুলে যাওয়া একটা প্রেম
১.
জাকের মাষ্টারের অর্ধপ্রকাশিত ইতিহাসটা অনেক রহস্য অমীমাংসিত রেখে চাপা পড়ে গিয়েছিল তাঁর মৃত্যুর পরেই। ঘটনাটা তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর আমার কানে আসার পর উত্তরপুরুষ হিসেবে কৌতুহল দমিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না। কারন জাকের মাষ্টার যে সময়ের মানুষ সেই সময়ে ওরকম একটা ঘটনা উপমহাদেশে বিরল। তবে জাকের মাষ্টারের চেয়েও যাঁর কারনে কৌতুহলটা চিড়বিড় জেগে উঠলো তিনি হলেন দীপালী চক্রবর্তী বা দীপা আহমেদ।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে সুপুরুষ তরুন বোয়ালখালীস্থ সৈয়দবাড়ীর মওলানা সৈয়দ জাকের আহমেদ মাদ্রাসায় উচ্চতর ডিগ্রী নেবার জন্য কোলকাতা গমন করেন। তখনকার দিনে মাদ্রাসার ডিগ্রীর সাথে পাগড়ী বাঁধার একটা সম্মানজনক ব্যাপার ছিল। উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে মাথায় মওলানা পাগড়ী বেধে জাকের আহমেদ যখন গ্রামে ফিরে আসেন তখন মাথায় টাইটেল পাগড়ী দেখে যতটা বিস্মিত হয় তার তিনগুন বেশী বিস্মিত হয় সঙ্গের ছিপছিপে তরুনীকে দেখে। এ কাকে নিয়ে এসেছে জাকের মওলানা?
প্রাথমিক আলাপ সম্ভাষন শেষে জানা যায় এর নাম দীপালী চক্রবর্তী, কোলকাতা শহরে তার বসবাস। বিবাহিতা এবং দুসন্তানের জননী। কিন্তু কোন ভরা পূর্নিমায় জাকের মাষ্টারের সাথে তার দেখা হয়ে যায় সে কথা জানা যায় না। তবে সেই দেখাতে এমন গভীর প্রেমের জন্ম হয় দুজনের মধ্যে যে স্বামী-সন্তান-বিত্ত-বৈভব-পরিবার-ধর্ম-সংস্কৃতি সবকিছু ছেড়ে জাকের মওলানার হাত ধরে কোলকাতা শহর ছেড়ে পালিয়ে চট্টগ্রামের এই অজপাড়া গাঁয়ে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে একজন মাদ্রাসা পাশ মওলানা হয়েও জাকের মাষ্টার কিভাবে হিন্দু ব্রাম্মন রমনীকে ধর্মান্তরিত করিয়ে নিজের ঘরনী করার জন্য কোলকাতা থেকে মেইল ট্রেনে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে সেটাও বোধগম্য হয় না কারো। এমনকি এই একুশ শতকেও ওরকম ঘটনা কতটুকু সহনীয়?
ছি ছি পড়ে যায় সমস্ত গ্রামে। এ কি অনাচার! সৈয়দবাড়ীর মান ইজ্জত সব গেল। এত দুঃসাহস কি করে হয় তার? জাকের মাষ্টারকে বংশমর্যাদার কারনে একঘরে করা সম্ভব না হলেও তার নবপরিনীতা বধুকে পাড়ায় অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হয়। জাকের মাষ্টার কোন মতে তাকে ঘরে তুলতে পারলো না। শেষে পাড়ার বাইরে একটা ঘর বেঁধে আলাদা সংসার পাতে দুজনে। প্রেমের সংসারে বাজার হয়, রান্না হয়, খুনসুটি হয়। হয় প্রতিদিনের নিত্যনতুন রোমাঞ্চ।
২.
কিন্তু শীঘ্রই রোমাঞ্চে বাগড়া দেয় দীপার প্রাক্তন স্বামী।
এক বিকেলে বৃটিশরাজের পুলিশ এসে সমস্ত পাড়া ঘিরে ফেলে। দারোগাবাবুকে নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে কোলকাতা থেকে আগত দীপালীর স্বামী। পুলিশ দেখে দীপালীকে পেছনের জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে দীপালীর বড় জা হালিমা খাতুন। গোপনে একমাত্র এই একটা মানুষেরই স্নেহ পেত দীপা। পুলিশ তন্ন তন্ন করে পাড়া তল্লাশি করে। দীপালীর স্বামী চিৎকার করে ডাকতে থাকে "দীপা দীপা" বলে। না পেলে বাড়ী জ্বালিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয় পুলিশ।
রাজকীয় পুলিশবাহিনীকে যমের চেয়ে বেশী ভয় পায় মানুষ। কিন্তু সেই ভীতির মুখে ঝামা দিয়ে একটা সাহসী নারী কন্ঠ ভেসে আসে পাশের জঙ্গল থেকে। গ্রামের সমস্ত মানুষ হতবাক হয়ে শোনে মিতবাক তরুনী দীপা উচ্চকন্ঠে ঘোষনা করছে, "আমি স্বেচ্ছায় স্বামী সন্তান পরিবার সব ত্যাগ করে এসেছি। আমি আর কখনো ফিরবো না ওই ঘরে। আমাকে কেউ জীবিত নিতে পারবে না ওই সংসারে।"
উপস্থিত গ্রামবাসী নারী পুরুষ ছেলে বুড়ো পুলিশ দারোগাবাবু সবাই ওই দুঃসাহসী ঘোষনায় স্তব্ধ হয়ে যায়। দীপালীর ওই দৃঢ়তার কাছে হার মেনে ফিরে যায় পুলিশ, পেছন পেছন দীপালীর স্বামীও।
ওই ঘটনার পর দীপাকে ঘরে তোলার অনুমতি পায় জাকের মাষ্টার। দীপা প্রথমবারের মতো মূল বাড়ীতে প্রবেশাধিকার পায়। শুরু হয় নতুন জীবন।
কিন্তু বছর পেরোতেই জাকের এবং দীপার মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে অজ্ঞাত কারনে। কেন যেন জাকের মাষ্টার দীপাকে অবহেলা শুরু করে। প্রাথমিক রোমাঞ্চ কেটে গিয়েছিল বলেই কী? দুরত্ব বাড়তে বাড়তে দৈনিক খিটিমিটি ও চুড়ান্ত বিরক্তিতে পৌঁছে যায় সেটা। তাদের প্রায় ছাড়াছাড়ি হয় হয় অবস্থা। জাকের কেন যেন সহ্য করতে পারছে না আর দীপাকে। অস্বস্তিকর পরিস্তিতি। তখনো দীপা চাইলে ফিরে যেতে পারতো কোলকাতা। বড় জা হালিমা সেরকম প্রস্তাবও করেছিল স্নেহের বশে। কিন্তু দীপা অনড়। সে ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়েছে। এই দেশেই থাকবে সে। যদি জাকের তাকে রাখতে না চায়, তাহলে বিদেয় করে এখান থেকে চট্টগ্রাম শহরে রেখে আসুক। একলাই থাকবে দীপা। কিন্তু কোলকাতা যাবে না কিছুতেই।
একদিন তাই হলো। জাকের মাষ্টার দীপাকে তালাক দিল এবং শহরে রেখে আসলো। রেখে আসা বলা ঠিক না। বলা ভালো শহরের রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে আসলো চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে। আক্ষরিক অর্থেই রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে আসা। এখানে জাকের মাষ্টারকে একটা অমানুষ বলে মনে হয়। কিন্তু সমাজে জাকের মাষ্টার খুবই ভদ্রলোক ছিলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি ওনার অনেক ভালোমানুষিকতা। কিন্তু ওই মানুষটা দীপার সাথে তখন কেন যে ওরকম করলো সেটা এই যুগে বসে বোঝা মুশকিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ননা বাদে বোঝা অসম্ভবও। সমস্যা হলো অত আগের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ বেঁচে নেই। প্রায় একশো বছর আগের কথা।
দীপার কথা ভুলে যায় সবাই।
৩.
আরো পঞ্চাশ বছর পর শহরে দীপার সন্ধান পায় তার জা হালিমার এক সন্তান তালেব। খুঁজে বের করে তার হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন চাচী দীপাকে। খুঁজে পেয়ে মাকে আর বোনকে নিয়ে দীপার ঘরে যায়। চটগ্রামের আসকার দীঘির পাড়ে ছোট এক কক্ষের ঘরে নিঃসঙ্গ জীবন পার করছে দীপা। ঘরের একপাশে জায়নামাজ বিছানো, তসবি ঝোলানো দেয়ালে। অন্যপাশে তক্তোপশে পাটির বিছানা। মাথার উপর বেড়ার ছাউনি। তার উপরে টিন। অন্ধকার চার দেয়ালের ভেতর স্বেচ্ছাবন্দী জীবন। বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুজ। সুতার কারখানায় কাজ করেছে বহুবছর। এখন ঘরে বসে নামাজ পড়ে আর সেলাইকর্ম করে দিনযাপন করে। হালিমাকে এত বছর পরে দেখতে পেয়ে চিনতে ভুল করে না একমুহুর্তও। ঝাঁপিয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে দীপা। চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় বর্ষা নামে দুজনের। হালিমার মুখ দিয়ে কথা সরে না। কোন মতে বলে-
-আমি তো ভেবেছি তুমি চলে গেছ। কেন তুমি কোলকাতা গেলে না?
-কেন যাবো দিদি, আমি তো যাবার জন্য আসিনি
-জাকের তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে, তুমি কেন রয়ে যাবে?
-জাকের ছেড়েছে আমাকে। কিন্তু আমি তো ছাড়িনি তাকে, তার দেশকে, তার ধর্মকে। আমি সবকিছু ছেড়ে এসেছি তাকে আজীবন জড়িয়ে রাখবো বলে। আমার তো আর কিছু নাই।
এটুকু শুনেই হালিমা বাকরূদ্ধ। তার চোখ ফেটে আবারো জল আসে। সে অশ্রু লুকিয়ে সাথে আনা পিঠে, মিঠাই, নারিকেল, চালভাজা ইত্যাদি দীপার হাতে দেয়। আর বিস্ময়ে চেয়ে থাকে অই মুখটার দিকে। বয়সের বলিরেখা মুখে। কিন্তু কী নিদারুন বিশ্বাস এই নারীর ভেতর। বিশ্বাসের কি শক্তি!! তুলনা করার মতো কোন বস্তু বা মানুষ এই পৃথিবীতে খুঁজে পায় না হালিমা।
৪.
মায়ের মুখে শোনা ঘটনা। হালিমা খাতুন আমার নানী। দীপাও আমার নানী ছিল। নানার ভাইয়ের স্ত্রী। সেদিন হালিমার বাসায় আমার মাও গিয়েছিল। পাকিস্তান আমলের কথা।
নিঃসঙ্গ দীপাকে দেখতে জাকের মাষ্টার কখনো গিয়েছিল কি না কেউ জানে না। তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের আসল কারনও কেউ জানে না। দীপাও কাউকে বলেনি। জীবনের অনেক অমীমাংসীত রহস্যের মতো এটিও চির অমীমাংসিত থেকে যাবে।
দীপা আহমদেরও মৃত্যু হয়েছে বেশ কবছর আগে। জাকের মাষ্টারের আগে আগে। তারা দুজনেই চলে গেছে এক মহান প্রেমের ও বিচ্ছেদের রহস্য অমীমাংসিত রেখে।
ঘটনার এটুকু জেনে মনে হয় জাকের মাষ্টার খুব স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়েছিল। কারন সে নিজে আবার বিয়ে করে সংসার নিয়ে সুখে দিন পার করেছে। সমাজে জাকের মাষ্টার ঘৃনিত মানুষ না হলেও পাঠক তাকে নিশ্চিত ঘৃনা করবে এই ঘটনা জেনে। আমিও করেছি যখন দীপার ঘটনাটা জেনেছি।
তবু ঘেন্নাকে ছাপিয়ে বিস্ময়টাই জেগে থাকে বেশী। রহস্যটা জানার অদম্য ইচ্ছেটা জেগেই থাকে। কি এমন প্রেম ছিল তাদের? একটা মানুষ প্রেমের জন্য কতটা ত্যাগ করতে পারে? দেশকালসময়ভেদে প্রেমের প্রকৃতি কি বদলায়? ভিন্নধর্মের দুটি মানুষের সাহসী প্রেম এই শতকেও পরম বিস্ময় জাগিয়ে রাখে আমার চোখে।





ফ্যাক্ট ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন-- আর কিছু বলতে পারছি না।
নানীর কবর হয়েছিলো কোথায়?
কবর কোথায় হয়েছিল জানতে পারিনি....শহরের কোন অজানা গোরস্থানে শুয়ে আছে হয়তো নামহীনা।
অদ্ভূত। মানুষের জীবন বড় জটিল। লেখাটা ও জটিল হইছে।
তবে আপনার নানা বইলা প্রেমটারে মহান দেখাইতে চাইছেন একজন অসহায় নারীকে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপদে ফালাইয়া ছুইড়া দেওনের বর্বরতারে ছাপাইয়া।
নানার প্রেমরে মহান দেখাইতে চাই নাই, দীপাই হচ্ছে লেখাটির মূল আগ্রহ
আমার বলাটা রূঢ় হয়ে গেছে মনে হয়। আসলে লেখাটা পড়লে সব কিছু ছাপিয়ে দীপার উপর অবিচারের কথাটা মাথায় ঢুকে গেছে। ঘটনা সত্য বলেই অনুভূতি অন্যরকম।
ওহ, পোস্ট কিন্তু প্রিয়তে।
আরে ব্যাপার না, জাকের মাষ্টার আসলেই অন্যায় করছে। কিন্তু কেন করলো সেই রহস্যটা বের করার উপায় নাই। কেউ বেঁচে নেই সেই কালের।
লেখা ভালো লাগছে। আর নুশেরা আসল কথাটা কইয়া দিছে...ফ্যাক্ট ইজ স্ট্রেঞ্জার দেন ফিকশন...
সত্যিই তাই, ধন্যবাদ
হাসান রায়হান ভাইয়ের মত আমারও বর্বর মনে হচ্ছে আপনার নানারে। হোক ত্বালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী, কিন্তু কিভাবে তাকে স্রেফ রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে একজন মানুষ!
নানারে আমিও মাইনাস দিছি। থুক্কু নানার ভাই জাকের নানারে.......
আমি ডিলেমায় পরে গেলাম...
এটা কি কোনো গল্প না সত্যি ঘটনা???
ডিলেমা ডিলেমা...
গল্প না, সত্যি ঘটনা
জীবন জড়িয়ে থাকা রহস্যগুলো সবচেয়ে দুর্ভেদ্য । দীপার জন্য মন খারাপ হল অনেক
রহস্যের শেষ নাই মানুষের.........
ভুতুড়ে কাহিনী.......কিছু বলার খুঁইজা পাইতাছি না ভাই....
ভুতুড়ে না, অদ্ভুতরে
আমরা বন্ধুর প্রথম প্রিয় পোষ্ট....
কিছু বলার নাই...
প্রিয়তে
.........ধন্যবাদ টুটুল ভাই।
সত্য ঘটনা বলেই হয়তো পড়ে অদ্ভুদ এক অনুভূতি হল।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ মাসুম ভাই। ঘটনাটা অদ্ভুত বলেই লেখার জন্য উসখুশ করছিলাম অনেকদিন ধরে। কালকে ভ্যালেন্টাইন দিবসে মনে পড়ে গেল ওদের কথা।
বিচিত্র জীবন মানুষের
সত্যি বিচিত্র!!
বুঝি না এইসব
আরো বড় হলে বুঝবেন
কত অদ্ভুত মানুষের জীবন, কি করে যে এতো টান আসে যাতে সবটা জীবন তার জন্য পার করে দেয়, আবার তারে ছাড়াই... বুঝে আসে না, ...তবে এইক্ষেত্রে পড়তে পড়তে লাগছিল, দীপা'র ফিরে যাবার পথ ছিলো না হয়তো, কিন্তু শেষে পড়ে আবার গুলিয়ে গেলো......
ভাল লাগলো লেখাটা...
ফিরে যাবার পথ ছিল কিনা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু ফিরে যাবার ইচ্ছে ছিল না সেটা জেনেছি।
দীপার জন্য খারাপ লাগছে কিন্তু খুব বেশি রহস্যময় মনে হচ্ছে না; জাকের মাস্টারের মোহ ভঙ্গ; স্বাভাবিক সামাজিক জীবনের স্বপ্ন ইত্যাদিই ছিলো বোধয়
এই সময়ের কথা হলে রহস্যময় হতো না। কিন্তু একশো বছর আগের কথা ভাবলে......
যাস্ট তব্ধা গেলাম।
সে সময়ে এমন প্রেম সত্যিই বিরল।
তারচেয়ে কঠিন একজন মহিলার একাকী বসবাস।
আপনার কৌটুহল কাটাতে একটা স্ট্রাকচার দাড়া করালামঃ
জাকের মাষ্টারের মোহভঙ্গ হয়েছিলো বলেই বোধ করি।
দ্বীপার স্বামী ও পুলিশ আসার আগে সবই ঠিক ঠাক চলছিলো। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটে সেদিনের ঘটনার পরই।
কারো স্ত্রীর প্রাক্তন স্বামী বাসায় এলে সেটা অবশ্যই তিক্ততার জন্ম দেয়ার কথা। অন্তত সমাজে চলতে গেলে অনেকের কঠাক্ষযে শুনতে হয়নি তেমনটা বলব না, যেহেতু সেই সময়ের সমাজটা চিলো অনেক রক্ষনশীল। আর এখানটাতেই জাকের মাষ্টার মানষিক পীড়ায় ভুগত। মানে তাদের বিয়ের আগে তার স্ত্রী ও তার প্রাক্তন স্বামীকে কল্পনা করতে পারছিলোনা হয়তো। তার উপর ঘরের বাইরে বেরুলেই একটা হীনমন্যতায় ভুগত। কেউ তার দিকে তাকালেই উনি ভাবতেন এ বেটা নিশ্চই তার স্ত্রীর প্রাক্তন স্বামীর পুলিশ নিয়ে তৈরী নাটক নিয়ে ভাবছে আর মনে মনে হাসছে। এই জিনিষটাই হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
ততকালীন সময়ে দুই সন্তানের জননীর প্রেমে পড়েছিলেন অর্থাৎ দীপা অত্যন্ত রূপবতী ছিলো। আর সাংসারীক জীবনেও হয়তো দ্বীপা চরম অসুখি ছিলো। মিলিত রসায়নই জন্ম দিয়েছে এমন বাঁধভাঙ্গা প্রেমের আর মোহভঙ্গে এমন অমানবিক বিচ্ছেদের।
যাইহোক লেখনি ভালো লেগেছে। লাইক্করলাম।
বিশ্লেষন জটিলতম হয়েছে.........এরকম হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে.......বিশ্লেষনে ডাবল প্লাস++
চমকিত হলাম কাহিনী পড়ে। আমার কাছে দীপার প্রেমটাকেই বড় মনে হচ্ছে। আর বিচ্ছেদের কারন যা-ই থাকুক, তালাকের পর দীপারে শহরে রাস্তায় একা ফেলে যাওয়াটা চরম অমানবিক লাগলো। মাওলানা সমাজ, সংস্কারকে ঠেলতে পেরেছিলেন কারন তার তখন পারিপার্শ্বিক ছিলো কোলকাতা, তার চারপাশে ছিলোনা পরিচিত পরিবেশ, নিজ সমাজ, ভ্রুকুটির তোয়াক্কা তাই তখন করেন নি। পরবর্তীতে নিজ ঘরে ফেরার পর, মোহ ভঙ্গ ঘটেছিলো, একে একে দৃশ্যমান হয়েছিলো হয়ত সমাজের প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য সব। হয়ত সেজন্য তিনি দায়ী করতেন দীপাকে। সেখান থেকে জন্ম নেয় তিক্ততা। কিংবা এমনও হতে পারে মাওলানা হয়ত ফের বিয়ে করতে চাইছিলেন, সে কারনে হয়ত তালাক। কি জানি!
দিনশেষের হিসেবে দীপার প্রেম অনেক উপরে স্থান পায়। মোহভঙ্গের ব্যাপারটা ওরকমও হতে পারে। মানুষ মাত্রেই বদলায়।
নীড়দা, দীপা এতো শক্তি কোথায় পেলো কে জানে? মনটা খারাপ হয়ে গেলো লেখাটা পড়ে।
দীপার মনোবলের উৎস আপনারাই ভালো বলতে পারবেন কিন্তু। পুরুষ অতটা ত্যাগ পারে না।
এই লেখাটা আমার আজকের দিনের প্রথম ধাক্কা।
আমি প্রথম যেদিন শুনেছিলাম আমার জন্যও ছিল ধাক্কা!
মন্তব্য করুন