একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-৯)
পর্ব উৎসর্গঃ রমা চৌধুরী
একাত্তরে সব হারানো এই মহীয়সী নারী আজও সংগ্রাম করে চলেছেন বাঁচার তাগিদে কিন্তু মাথা নত করেননি কারো কাছে। অপার শ্রদ্ধা এই একাত্তরের জননীকে।
একাত্তরে মাদার তেরেসা

মাদার তেরেসা নামটি মনে এলেই শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। এ যেন সেবা, মানবতার আরেক রূপ! মাদার তেরেসা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। এই মহীয়সী নারী নিজে এমনই এক স্থানে অবস্থান করছেন যে তাকে নিয়ে আলোচনা করা রীতিমত দুঃসাহসের ব্যাপার। তবে একাত্তরে তাঁর অবদান নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করা যেতে পারে। সেই চরম দুঃসময়ে তাঁর অবদানের কথা বাঙালী জাতি কোনদিনও ভুলবে না।
একাত্তরে কলকাতার উপকন্ঠে সল্টলেক সিটির শরনার্থী শিবিরের একটি চিত্র- সেখানে তখন বাঙালী শরণার্থীর সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে, এই শরণার্থীদের অধিকাংশই অর্ধাহারে, অনাহারে, অপুষ্টিতে, কলেরা, আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। এর বাহিরেও দিয়ারা ও হাসনাবাদ রেলওয়ে স্টেশনেও ভীড় করেছিল হাজার হাজার শরণার্থী। সবার চোখেমুখে বাঁচার আকুতি।
নিরাশ্রয়ী পূর্ববাংলার শরণার্থীদের বুকভরা আর্তনাদে কেঁদেছিলেন মাদার তেরেসা এবং তাঁর 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'র সহযোগী সেবক-সেবিকারা। মহীয়সী মাদার তেরেসা তার 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'র সদস্যদের নিয়ে হাজির হয়ে যান সেই সব শরণার্থী শিবিরে। পাশে দাঁড়িয়ে সেইসব অসহায় মানুষের সেবা করেছেন, তাদের করুণ অবস্থা দেখে পৃথিবীর বিবেকবান মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন- "আমি পাঁচ ছয় মাস ধরে শরণার্থীদের মাঝে কাজ করছি। আমি এ সব শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মরতে দেখেছি। সে কারণেই আমি পৃথিবীকে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এই পরিস্থিতি কত ভয়াবহ এবং এখানে কত জরুরী ভিত্তিতে সাহায্য দরকার।"
সেই সংকটকালীন সময়ে তিনি এইসব শরনার্থীদের আশ্রয় প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন- 'লাখ লাখ শরণার্থীকে গ্রহণ করা ও তাদের লালন করার প্রশ্নে ভারত বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করেছে, আর ভারত শরণার্থীদের দেখা শোনার বিষয়টি অব্যাহতও রাখবে।' তিনি দৃঢ়কন্ঠে আরও বলেছিলেন- "এ সমস্যা কেবল ভারতের নয়, গোটা পৃথিবীর। তাই পুরো পৃথিবীকে আমি আবার বলছি অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের জন্য উদ্বিগ্ন হতে হবে। আমার এ আবেদন সারা পৃথিবীর কাছে এবং পৃথিবীকে অবশ্যই সাড়া দিতে হবে।"
তাঁর আহবানে সাড়া দিয়েছিল বিশ্ববাসী। বিশ্বের নামী-দামী বক্তিবর্গ, সাংবাদিক, কূটনীতিক, স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ এগিয়ে এসেছিলেন তাঁর ডাকে। শুধু যুদ্ধকালীন সময়েই নয় বরং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশ যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছিল, তখনও পাশে ছিলেন এই মহীয়সী দরদী মানুষটি।
মুক্তিযুদ্ধ শেষ। জন্ম নিল একটি নতুন দেশ। নতুন আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হল স্বপ্নের পথে যাত্রা। কিন্তু এই যাত্রার শুরুতেই যে ধাক্কাটা এলো সেটা হল যুদ্ধ শিশু। একাত্তরে পাক বাহিনীর নীল নকশা অনুযায়ী লাখ লাখ নারী ধর্ষিত হয়েছে, এই ধর্ষিতা নারীদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই গর্ভবতী হয়ে পড়ে। যুদ্ধ শেষে এই গর্ভবতী নারীরা যুদ্ধ সন্তানদের দিয়ে পড়ে বিপাকে। অনেকেই সমাজ থেকে, পরিবার থেকেও হয় অবাঞ্ছিত। নিপীড়িত, নিগৃহীত নারীদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে যারা ছুটে এসেছিলেন তাদের মধ্যে প্রথম সাড়িতে ছিলেন মাদার তেরেসা।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অব্রে মেনেন ৭২ এর জুন-জুলাই এর দিকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কলকাতায় আশ্রমে গিয়ে কথা বলেছিলেন মাদার তেরেসার সাথেও। অব্রে মেনেনের ভাষায়- “...ফ্যাকাশে নীল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়ে তার সহকারীরা আসছেন যাচ্ছেন, আমার সঙ্গে কথা বলছেন কেউ কেউ। খানিকপর আমার ঠিক পেছনে একজনের নিঃশব্দ উপস্থিতি টের পেলাম। বেটেখাটো একজন মহিলা। পোশাক দেখে ভাবলাম উনিও মাদারের সহকারীদের একজন। তাকালাম তার দিকে। নির্দিষ্ট করে বললে তার চোখের দিকে। বুঝে ফেললাম তার পরিচয়।“
১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের হতভাগী এইসব নারীদের একটা গতি করতে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। বীরাঙ্গনা সমস্যা, যুদ্ধশিশুদের নিয়ে তখন দিশেহারা বাংলাদেশ সরকার। তখন অনেক যুদ্ধশিশুদেরকে ফেলে দেয়া হত ডাস্টবিনে। এমনই এক পরিস্থিতে তিনি এলেন, ঢাকায় খুললেন ‘দ্য মিশনারিজ অভ চ্যারিটি’র শাখা। পরম মমতায় সেইসব যুদ্ধশিশুদের কোলে তুলে নিতে নিলেন। সমাজ ও পরিবারে অবাঞ্ছিত হয়ে বাঁচার বদলে তাদের পাঠিয়ে দেন কলকাতা, সুইডেন ও ফ্রান্সে।

১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মানবতাবাদী এই তপসী।
শহীদ ফাদার উইলিয়াম ইভান্স, যুক্তরাষ্ট্র

একাত্তর, জীবন বাঁচাতে শত শত মানুষ প্রাণভয়ে ছুটে চলে দিগ্বিদিক। পাকবাহিনীর হাত থেকে মসজিদ, মন্দির কিংবা গির্জা- কোনটাই নিরাপদ নয়। সবখান থেকেই খুঁজে খুঁজে নিরীহ গ্রামবাসীদের হত্যা করা হত। তবুও অনেকে নিরাপদ মনে করে আশ্রয় নেয় বিভিন্ন উপাসনালয়গুলোতে। মসজিদ আর মন্দিরের মত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল গির্জা। একাত্তরের সেই ভয়াবহ সময়ে এসব গির্জাগুলোতে অবস্থানরত ফাদাররা নিজেদের জীবনের উপর আঘাত আসতে পারে জেনেও সহজ সরল নিরীহ মানুষের সেবা করে গেছেন নিবেদিতভাবে। শুধু নিরীহ গ্রামবাসীদেরকেই নয়, আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসাসেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও।
হানাদারদের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচার তাগিদে প্রাণভয়ে পালাচ্ছে মানুষ, সবাই ছুটছে সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে। পালিয়ে যাওয়া এইসব মানুষের তালিকায় তখন যোগ হয়েছিল বিভিন্ন গির্জার ফাদাররাও। অনেকেই চার্চ বন্ধ করে চলে গিয়েছেন নিরাপদ আশ্রয় ভারতে। কিন্তু সবকিছুর যেমন ব্যতিক্রম থাকে তেমনি যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেও কিছু ফাদার ছিলেন ব্যতিক্রম, তাঁরা পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, এমনি একজন মানুষ শহীদ ফাদার উইলিয়াম ইভান্স। তিনি গণমানুষের সেবায় নিয়োজিত করলেন নিজেকে, সেবা দিতে লাগলেন এইসব ভাগ্যবঞ্চিত মানুষদের।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আর সব বাংলাদেশীদের একজন হয়ে বিপদে তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন এই আমেরিকান ধর্মযাজক। নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে সাড়া দিয়েছিলেন মানবতার ডাকে। একাত্তরে পাক সেনাবাহিনী অনেক ব্যক্তিকে পত্র দিয়ে হুমকি প্রদান করেছিল (শহীদ ফাদার উইলিয়াম ইভান্স এবং হারুণ অর রশিদ এর লেখা থেকে জানা যায়), যার ভাষা ছিল- Hindus are enemies of our country. They will be driven out of the country. Those who give them shelter will also be driven out of the country.
ফাদার ইভান্স জানতেন মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোন ধরনের সাহায্যের খবর পাক বাহিনী জানতে পারলে নিশ্চিত মৃত্যু! তা সত্ত্বেও তিনি এদেশের অসহায় মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাড়িয়েছিলেন, হাসিমুখে এবং স্বেচ্ছায় আশ্রয় দিয়েছিলেন অসংখ্য রিফিউজি, গেরিলা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের। যার মূল্য দিতে হয়েছিল নিজের জীবন দিয়ে।
একাত্তরের ১৩ই নভেম্বর, নৌকাযোগে বক্সানগর গ্রামে যাবার পথে নওয়াবগঞ্জ পাকিস্তানী ক্যাম্পে অবস্থানরত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সৈন্যরা নৌকা থামাতে বলে। ফাদার ইভান্স নৌকা থেকে নামতেই রাইফেলের বাঁট দিয়ে তার মুখে প্রচণ্ড আঘাত করে পাকিস্তানী সৈন্যরা। তারপর আরও দুটি গুলি করে ফাদার ইভান্স এর বুকে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে আঘাত করা হয় বেয়োনেট দিয়ে। তারপর যখন সব শেষ হয়ে যায়, তার লাশ ছুঁড়ে ফেলা হয় নদীতে।
সাধারণ জনগন তাঁর লাশ খুঁজে পায় এবং গোল্লা চার্চে নিয়ে আসে। হাজার হাজার ক্যাথলিক, মুসলিম এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন ছুটে আসে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। সদা হাস্যময় এই ফাদারকে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন গোল্লা চার্চে।
ফাদার মারিও ভেরোনেসি, ইতালি

শহীদ ফাদার মারিও ভেরোনেসি, জন্ম ১৯১২ সালে উত্তর ইটালীর রোভেরেটো নামক শহরে। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি প্রবেশ করেন জাভেরিয়ান মিশনারী সমাজে। ১৯৫৩ সালের ৪ঠা জানুয়ারী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন আর ১৯৬৭ সালে আসেন শিমুলিয়া ধর্মপল্লীতে। তার সরলতা, সততার গুণে অতি সহজেই এদেশের সাধারণ মানুষের মন জয় করে নেন। অসহায় দরিদ্র মানুষের দুঃখ লাঘব করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। যার মধ্যে ছিল বেশ কিছু ছোট ছোট প্রকল্প, যেমন- সমবায় সমিতি, ঋণদান সমিতি, ভিনসেন্ট ডি’পল, তাঁতশিল্প ইত্যাদি। নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য স্থাপন করেন প্রাইমারি স্কুল, আবাসিক বোর্ডিং।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অসহায় বাঙালিদের সহায্য করার জন্য আরও অনেক ফাদারদের মত ফাদার মারিও দিনরাত অক্লান্ত সেবায় ব্যস্ত ছিলেন যুদ্ধাহত মানুষদের। তিনি বলতেন- ‘সবচেয়ে ভালো কাজ হলো আমাদের ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়া এবং আমাদের নিজেদের জীবন সমর্পণ করা’। নিজের জীবন দিয়ে ফাদার মারিও ভেরোনেসি প্রমাণ কর গেছেন তাঁর উক্তির সত্যতা।
১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল, যশোরের একটি ক্যাথলিক চার্চের ফাতিমা হাসপাতালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার সেবার তদারকি করতেন ফাদার মারিও। এই হাসপাতালে প্রাণ বাঁচাতে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। সেদিন বিকেল ৪টা, পাক বাহিনীর একটি দল গালি দিতে দিতে চার্চে প্রবেশ করে। রেডক্রসের পতাকা, বুকে ঝোলানো রেডক্রসের ব্যাজ সব কিছু অবজ্ঞা করে পাক বাহিনী চার্চে ঢুকে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করে। ফাদার মারিও দুই হাত উঁচু করে এক সেনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তাঁকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে গুলি করা হয়, সাথে সাথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন গরিব-দুঃখির এই দরদী বন্ধু। শিমুলিয়া ধর্মপল্লীতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
চলবে.....
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১)
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-২)
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-৩)
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-৪)
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-৫)
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-৬)
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-৭)
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-৮)





দারূন কাজ
দারূন সিরিজ
সাথে থাকো, সামনে আরও আছে।
আপনার এই সিরিজটা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারছি... অনেক ধইন্যা আপনারে...
আপনারে ধইন্না পড়ার জন্য।
লিখতে গিয়ে আমি নিজেও অনেক কিছু জানতে পারছি।
আপনার এই সিরিজটা পড়লে লজ্জ্বায় নুয়ে পরি। কত কত ভীনদেশী আমাদের দূঃখ কষ্ট নিজেদের করে নিয়ে সাহায্য করেছে। আর আমাদের দেশে জন্ম নেয়া কতগুলো কুলাঙ্গার এর বিরোধিতা করেছে। রাজনীতির কঠিন মারপ্যাচে সেই কুলাঙ্গার গুলো এখন নায়ক হতে চলেছে।
বড়ই বিচিত্র আমার স্বদেশ।
আমার নিজেরও খুব খারাপ লাগে যখন দেখি এখনও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি গাড়িতে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে ঘুরে বেড়ায়।
মাদার তেরেসা'র কথা তো জানতাম, তবে ফাদার ইভান্স আর ফাদার মারিও'র কথা জানতাম । এমনি আরো কতশত নাম না জানি মানুষ যারা কিনা বিদেশি আমাদের দেশের জন্যে/মানুষের জন্যে কার করে গেছেন, অবাক লাগে নিজের দেশের কিছু অমানুষ কুলাঙ্গার কিভাবে দেশদ্রোহীতা করেছিল, সেটার জন্যে নুন্যতম লজ্জা টুকু তাদের আজো হয় না!
ভাবতে অবাক লাগে এখনও মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে করা বলে!
বলার কিছু নাই। শুধু এঁদের কে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া ।
এদের সবার প্রতি অপার শ্রদ্ধা!
শুরুতেও বলছিলাম... এখনো বলি... এই সিরিজগুলো... লেখাগুলো খুবি প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের জন্য।
আমিও আপনার সাথে একমত। নতুন প্রজন্মের জন্য এই তথ্যগুলো জানা খুব প্রয়োজন।
অসাধারণ একটা সিরিজ । কত কি জানার বাকী! এই লেখাগুলি অনেক জরৃরী । দারুণ কাজ ।
আসলেই আমাদের কতকিছু জানার বাকি !!!
না জানলে যারা আমাদের সেই দুঃসময়ে পাশে দাড়িয়েছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব কেমন করে?
এ সরকারের আমলে যখন প্রথমবার একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা প্রদানের জন্য বিদেশী নাগরিকদের সম্মাননা দেয়া হয়, সেটা কভার করতে গিয়েছিলাম। একটা বই পেয়েছিলাম ওই সময়। সে বছর যাদের সম্মাননা দেয়া হয় তাদের কীর্তির বিবরণ ছিলো সেখানে। বইটা এখন খুঁজে পাচ্ছি না। পেলে আপনাকে দিয়ে আসতাম। মনে হয় আপনার কাজে লাগতো।
সিরিজটা দূর্দান্ত হচ্ছে নিভৃতদা'। চালিয়ে যান। স্ট্যান্ডিং অভেশন ফর য়ু।
অনেক ধন্যবাদ মীর, এ রকম একটা রেফারেন্স বই পেলে খুব ভাল হত। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কারো কারো সম্পর্কে তেমন কন্য তথ্য পাইনি আবার অনেকের ছবি খুঁজে পাইনি।
ফর দ্য গ্রেট জব!
দেখা যাক সিরিজটা কতদূর টেনে নিতে পারি!
ধন্যবাদ আপনাকে।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির এক বয়োবৃদ্ধ মিউজিক টিচারের কাসে আমার ছেলে ব্যাঞ্জো বাজানো শিখে। বুড়ো খুব রসিক আর আলাপী। কিছুক্ষনের আলাপেই আমার হাড়ির সব খবর জেনে নিল। বাংলাদেশের মানুষ শুনে উতসাহ বেড়ে গেলো ওনার গল্প শুনার। এক পর্যায়ে যেন এটা কোন ব্যাপার ই না এমন ভাব নিয়ে বলা শুরু করলো '৭১ এ আমাদের যুদ্ধের সময় উনি এবং আরো কয়েকজন যুবক মিলে ক্যাম্পাসে গিটার বাজিয়ে পয়সা উঠাতো বাংলাদেশের জন্য। আর সেই পয়সা জমা দিতো এখাঙ্কার বাংলাদেশের অস্থায়ি দুতাবাসে। জানতে চাইলাম এজন্য কি আমাদের দুতাবাস কোন রিকগ্নিশন দিয়েছে? উত্তরে হেসে বলল, সব কিছুর জন্য রিকগ্নিশন দরকার হয়না, আর আমি চাই ও নাই। শুধু জানতে চাইলো, কেমন আছে স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষেরা। বলেছি আমি ঠিক জানিনা
এইসব নিঃস্বার্থ মানুষগুলোর ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। এরাই খাঁটি মানুষ।
আজ তিন দিন ধরে সিরিজগুলি পড়লাম। আসলেই আপনার লেখাগুলি একসাথে দলিল হিসাবে উপস্থাপন হয়েছে। খুব ভাল করেছেন। আমরা পড়লাম,জানলাম। পরবর্তি প্রজন্ম জানবে।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য। নতুন প্রজন্মকে জানানোর দায়িত্ব তো আমাদেরকেই নিতে হবে।
অসাধারণ একটা সিরিজ । কত কি জানার বাকী! এই লেখাগুলি অনেক জরুরী। দারুণ কাজ ।
মন্তব্য করুন