ইউজার লগইন

যদিও আমি নারীবাদী নই

আমার বন্ধুর মা, পাগল । পাগল মা, তিন ভাই এবং আমার বন্ধুর বাবা, আমরা এক ই মহল্লায় থাকি। খালাম্মা আমাদের সমানে ই পাগল হলেন। তখন আমরা মাত্র মাধ্যমিক স্কুলে ঢুকেছি। খালাম্মা খুব চুপচাপ মানুষ। বেশ বই টই পড়তেন। খুব সাধারন জীবন যাপন করতেন। নিজের একটা জগত ছিল তার। মহল্লার মহিলা গসিপিঙ্গ বা শাড়ি গয়না গ্রুপের একটু বাইরে ই ছিলেন। ছেলেদের পড়া শুনা নিয়ে বেশ যত্নবান ছিলেন। নিজে ই পড়াতেন। আমার বন্ধু তার বড় ছেলে যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে এবং ছোট ছেলে যখন আমার ভাইয়ের সাথে চতুর্থ শ্রেণীতে, তখন ওনি সন্তান সম্ভবা। চাচা তখনকার সময়ের সরকারী চাকুরীজীবীরা যেমন ফিট ফাট গোছানো, তেমন ই ছিলেন। শান্ত- শিষ্ট, পরোপকারী, সাধারন মানুষ। বেশ অসুস্থ ছিলেন খালাম্মা সেই সময়টায়। কিছুদিন পর আরেকটি ছেলের মা হলেন। এবং পর পর ই জানতে পারলাম যে খালাম্মা পাগল হয়ে গিয়েছেন। চাচার ওনাকে বন্দি করে রাখতে হচ্ছে। এলাকায় সবাই কানাঘুসা………ঘটনা কি? হঠাৎ করে খালাম্মা কিভাবে পাগল হলেন? চাচা চিকিৎসা করাচ্ছেন ঠিক হচ্ছে না। এই দিকে এই ছোট বাচ্চা নিয়ে কিভাবে কি করবেন। তাই চাচা আরেকটা বিয়ে করলেন। খালাম্মা আসলে পাগলামি করতেন না। সেই সময়ে পাগলের যেই ছবি ভেসে উঠে তার কিছু ই ওনি করতেন না। খাওয়া দাওয়া করতে চাইতেন না। ছেলেদের বিষয়ে বেশি কনসারন হয়ে গিয়েছিলেন। সারা দিন ছেলেদের খুজে বেড়াতেন। মাঝে মাঝে ছেলেদের স্কুলের গেইট এ গিয়ে বসে থাকতেন। ছেলেরা স্কুলে যাচ্ছে কি না, গোসল করছে কি না, খাচ্ছে কি না। সারাক্ষন এই বিড় বিড় করতেন। মাঝে মাঝে কবিতা আবৃত্তি করতেন। সারা দিন রাস্তায় হেঁটে বেড়াতেন উদ্দেশ্যহীন। মনে হত তার কোথাও যাবার যায়গা নেই তাই হেঁটে বেড়াচ্ছেন। কখনও মনে হতো না সে পাগল। চাচা চিকিৎসা ও করিয়েছেন। কিন্তু মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত লাগলে তার নিরাময়ের কোন ওসুধ নাই। বিশ্বাস হারিয়ে গেলে তাও ফিরে আসে না সহজে, আর সেই রাস্তা বন্ধ করে যদি বিশ্বাস হারায়, তা কোন দিন ফিরে আসে না। এই ঘটনা যার সাথে ঘটে সে যদি জানে তার কোথাও যাবার নেই বা তার এমন এক বন্ধন সেই হারিয়ে যাওয়া জায়গায় রয়ে গিয়েছে যার কাছ থেকে সে মুক্তি পেতে চায় না, তার অবলম্বন ও সেই হারিয়ে যাওয়া জায়গায়। সে শুধু রাস্তায় হেঁটে বেড়ায়। পাগল না হয়ে ও সে পাগলের অভিনয় করে যায়।

সাংবাদিক দম্পতি নিয়ে পড়ছি কয়েকদিন ধরেই। আমার কাছে বিষয়টা বেশ জটিল। আসলে বিষয়টা তেমন জটিল ছিল না, কিন্তু স্ত্রীর অসুস্থতা বিষয়টা কে বেশ জটিল করে তুলেছে। পরকীয়া প্রেমের যতগুলো কারন বিদ্যমান, তার মধ্যে সবচেয়ে সবচেয়ে করুন, অমানবিক এবং প্রথম দিকের কারন হলও স্ত্রীর গর্ভ কালীন সময়, তারপরের লিস্ট এ থাকবে স্ত্রীর অসুস্থতার সময়। কিন্তু কেন? ভালবাসা কি কমে যায়? মায়া কি মরে যায়? তারা কি বুঝে না যে এটা সাময়িক? তারা কি জানে না এই সন্তান তার , তার শুক্রানুর বোঝা ই স্ত্রী বয়ে বেড়াচ্ছে? না, যায় না। নিজের ভিতর যে যুদ্ধ চলতে থাকে, সে যুদ্ধে বর্তমান বিজয়ী হয়। বর্তমান চাওয়া পাওয়া, অভ্যস্থ জীবনের চাহিদারা পরাজিত করে মায়া, ভালবাসা, প্রেম বা বোধ বিবেচনা। একবার পরাজিত হয়ে গেলে, গলা টিপে হত্যা করে নিজের মানবিকতা কে। এক অর্থে সে নিজে নিজেকে হত্যা করে। তাই বিচ্ছেদ টা ও আর স্বাভাবিক ভাবে হয় না। দুই পক্ষ দুই ভাবে স্বাভাবিক সুন্দর সমাধান করতে চায়। কেউ পেরে উঠে না, কারন এক পক্ষ তৃতীয় পক্ষএর সাথে গভীর ভাবে জড়িয়ে যায় ।সেখানে তাকে আরেকটা যুদ্ধ করতে হয়। এক সময় আরও জটিল হয়ে যায় স্বামীর অপরাধ বোধ, দুই দিক থেকে ই। তখন সে হয় প্রেমিকার সাথে বা তার স্ত্রীর সাথে পশুর মতো আচরন করে। হয় সে প্রেমিকা কে মাঝ পথে স্ত্রী সন্তানের দোহাই দিয়ে ছেড়ে আসে, বা স্ত্রী কে ছেড়ে যায় প্রেমিকার কাছে। এক নারী আরেক নারীকে দায়ী করছে। যেখানে সব অন্যায় বা সকল সিদ্ধান্ত ই নিয়েছে স্বামী।

ভাইরে, তোমাদের স্ত্রী ও তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। তার অনেক অনেক কারন থাকতে পারে। কিন্তু স্ত্রীর নিজের কারনে তুমি সাময়িক ভাবে অসুস্থ, তুমি সাময়িক ভাবে তাকে তোমার সঙ্গ দিতে পারবে না, শুধু এই কারনে তোমার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়াবে না। সাময়িক অসংগতি মেনে নিবে তোমার যত্ন আত্তি ও করবে।বিয়ে করা ই হয় এই সকল দুঃসময়ে একজন সার্বক্ষণিক বন্ধুর জন্য। আর কেউ না থাকলে ও এক জন মানুষ তার পাশে থাকবে। নইলে বিয়ের মতো এই ঝামেলার জিনিস কে করবে? কেন করবে?
বন্ধুত্ব কি অনেক বেশি সম্মানীয় ও আদরের না। বন্ধু কোন কিছু আশা না করে বন্ধুর পাশে থাকে।

যে সব মেয়ে বা নারী বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়েছেন (পড়তে ই পারেন) এবং এই প্রেম কে প্রেম বা অন্য কোন সম্পর্কের নামে আভিহিত করতে চাইছেন, দয়া করে আরেক বার ভাবুন। বন্ধুত্ব ঠিক আছে কিন্তু নাম দেয়ার মতো সম্পর্কে জড়ানোর আগে আরও গভীরে বন্ধুর অবস্থান জানুন। তার স্ত্রী পরিবারের অবস্থা জানুন। তার ছেলে মেয়ের কথা ভাবুন। আপনার একটা সিদ্ধান্ত আরেকটা পরিবারের অনেক গুলো মানুষের জীবন দুঃসময় বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে তার পূর্বের ছেলে মেয়েদের জীবনে।

তারপর ও যদি নিজেদের বিরত রাখতে না পারেন, দয়া করে যেই সাহস আর আবেগ দেখিয়ে প্রেম করছেন, এই সাহস আর আবেগ দিয়ে ৩ জন বা চার জন, একটু বড় ছেলে মেয়ে থাকলে তাদের সাথে নিয়ে বিষয়টা আলোচনা করুন। একটা বাচ্চার বেড়ে উঠার জন্য বাবা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা থাকার দরকার আছে। কোন সন্তান বড় হয়ে যদি জানতে পারে, তারা বাবা বা মা চিৎকার করে তার জন্ম অস্বীকার করছে, সেই সন্তানের কেমন লাগবে।? সেই সন্তান কিভাবে তার বাবা বা মা কে ভালবাসবে। আপনি যেই ভালবাসার জন্য আপনি সব কিছু করলেন, আপনার ভবিষ্যৎ ,সেই ভালবাসা ই বুঝল না। সে শুধু বুঝল কিছু পাশবিক সঙ্গম।

***স্ত্রীকে মেরে বাংলাদেশে ই বীর পুরুষ হওয়া যায়। যেই নারী প্রেমিকের বউ পেটানোর শব্দ শুনে তার প্রেম নিয়ে আশ্বস্থ হয় সেই নারী কেমন মানুষ? এই প্রেম ই বা কেমন প্রেম।!!!
তন্বী কে শুভেচ্ছা। ভয় পেয় না। হার মেনে যাবার কিছু নেই।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


লেখাটা ভাল লেগেছে। নাজনীন আপুর সঙ্গে বেশ কয়েকদিন একসাথে ইলেকশন কমিশন বিটে রিপোর্টিং করেছিলাম। তার মতো নিপাট ভাল মানুষ কমই দেখেছি।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.