বন্ধ হবে কি অসহায় মানুষের মৃত্যুর এ মিছিল।
বন্ধ হবে কি অসহায় মানুষের মৃত্যুর এ মিছিল।
হায় প্রভু তুমি আমাদের কত অসহায় করে সৃষ্টি করেছ। কত মায়ের আহাজারি, বাবাগো একটু বাচাও, কিশোরী বোন সাড়া পৃথিবীর ভাইদের ডেকে ডেকে বলছে আমাকে বাচাও ভাইয়া, আমি বাঁচতে চাই। পাঁচ ছয় ইঞ্চি দূরে বোনটিকে সাড়া পৃথিবীর ভাইয়েরা আপ্রাণ চেষ্টা করছে বাঁচাতে। আজ যে সে অবহেলিত বলতে গেলে ঘৃনিত ১৫০০ টাকা মাসিক বেতনের গার্মেন্টস শ্রমিক নন। আজ সে মানুষ, সাড়া পৃথিবীর সকল ভাইদের বোন। একজন ভাই হাত নেড়ে নেড়ে বলছে ভাই আর কত সময় লাগবে আমাকে বের করতে। ভাইদের মুখে জবাব নেই। কি জবাব দিবে তারা নিজেরাই যে জানেনা কখন পারবে তাকে তার পরিচিত আলো ঝলমলে নির্মল বাতাসে ফিরিয় আনতে নাকি আর ফিরে আসা হবে না তার পরিচিত ভালবাসার পৃথিবীতে অথবা তার প্রানপ্রিয় আপনজনের কাছে।
ঘুমের ঘুরে বার বার আতকে উঠেছি, আমার ভাইটি ঊপুর হয়ে পরে আছে। তার পিঠ বরাবর ৭-৮টি কংক্রিটের ছাদ ও বিম পড়ে আছে। সে অনেক আগেই সকল বাঁধা ছিন্ন করে শান্তির দেশে চলে গেছে। সেখানে কেঊ তাকে রক্ত চক্ষু দেখিয়ে বলবে না, কাল কাজে না আসলে বেতন দিব না। আজ যে তার কোন বেতনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু তার পিঠ থেকে মাথা পর্যন্ত দেহটি আমাদের ব্যঙ্গ করে বলছে। আমি তোমাদের এত কাছে কিন্তু আমাকে ছুবার সাধ্য তোমাদের নেই। তোমরা এ পর্যন্ত একটি প্রয়োজনীয় ক্ষমতা সম্পন্ন ক্রেন এনে আমার শরীরটা বের করতে পারলে না। আমার কোন কষ্ট না হলেও আমি জানি তোমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আজ সকাল পর্যন্ত আমরা তার সুন্দর সার্ট ও পেন্ট পড়া দেহটি ঊদ্ধার করতে পারিনি। সত্যি ভাই তুমি আমাদের অপারগতার জন্য ক্ষমা কর, আমরা অনেক কষ্ট পাচ্ছি।
কিন্তু এ কষ্ট দুদিনেই মুছে যাবে, ঊদ্ধার অভিযান শেষ হবে, তদন্ত কমিটি হবে,শেরাটন সোনার বাংলা, রিজন্সি বা অন্য কোন তারকা খচিত হোটেলে সেমিনার হবে,
“সাভারে রানা ভবন ধবসে পড়ার কারন নির্ণয় ও পরবর্তী করনীয় নির্ণয়”
তদন্তে সব বেরিয় আসবে। কারণ ও করনীয়ও নির্ণয় হবে। কিন্তু বন্ধ হবে কি অসহায় মানুষের মৃত্যুর এ মিছিল।
২৫/০৪/২০১৩ইং





এ মৃত্যুর মিছিল শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত লোভী মানুষগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হবে।
একমত।
হবে, ঐ দেখুন জেগে উঠেছে তরণ প্রজন্ম।
যারা ঘুম থেকে ঊঠে না সকাল দশটার পর।
যারা নির্ঘম রাত জেগে মা মাটিকে আগলে রাখে।
যারা জানতে পেরেছে তাদের বাংলাদেশ নামক দেশটি
উপহার পাবার পিছনে কত রক্ত ইজ্জত দিতে হয়েছে।
তারাই অনতি দূরে ছুড়ে ফেলে দেবে সকল অন্যায়
ঐ বুড়িগঙ্গায়।
নিষ্কলুষ মাকে হতে দেবে না কলুষিত।
আর এরিই মাঝে বন্ধ হবে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর এ মিছিল।
রাহু-কেতুর মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কোন সম্ভাবনা নাই । ওনাদের এবং ওনাদের পুষ্যদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধার যোগান দিতে মৃত্যুর মিছিল চালু থাকবে যতদিননা ধুমকেতুর আগমনে রাহু-কেতুর বিনাশ হয় ।
আপনারাই তো এ প্রজন্মের ধুমকেতু।
এ মৃত্যুর মিছিল শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত লোভী মানুষগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হবে।
মন্তব্য করুন