আসুন না দেখি আমরা সচেতন হতে পারি কি না? দেশটা যে আমাদের
আসুন না দেখি আমরা সচেতন হতে পারি কি না?
দেশটা যে আমাদের
আমাদের ঊপজেলায় একজন ছাত্রনেতা যার নাম চলন। আমায়িক ভদ্র ও সজ্জন একটি ছেলে। তার বাবা মা দুজনই শিক্ষকতার মত মহান পেশায় জীবিকা অর্জন করেছেন।
তার নাম চলন হবার পিছনে যতটুকু জানি তার নানা বাড়ি আক্কেলপুর। তখনকার দিনে বাস যোগাযোগ তেমন ছিল না। ট্রেন যোগাযোগই ছিল একমাত্র মাধ্যম। তার মা ট্রেনে তার নানা বাড়ি যাচ্ছিল। আর চলতি পথে ট্রেনেই তার জন্ম হয়। সেই স্মৃতিকে মা বাবা স্বরর্ণীয় করে রাখার জন্যই তার নাম রাখেন চলন। অনেকে আদর করে ডাকে চলন্ত।
গতকাল বীভৎস ঊদ্ধার অভিযানের দৃশ্য দেখতে দেখতে হঠাৎ একটি খবর এত বেশী কষ্ট দেয় তা ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই। একজন মা এ ধ্বংস স্তূপের মাঝেও একটি সন্তান প্রসব করেছেন। হয়তবা সেই মা দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় অসময়ে সন্তান প্রসব করেছেন। অথবা সে তার অনাগত সন্তানের সম্ভাব্য ডেলিভারির খবর জানার পরও সেই সন্তানের মুখের আহার সংগ্রহের উপাত্তে বাধ্য হয়ে কাজে যোগ দিতে এসেছিলেন। এখন পর্যন্ত আমি জানি না সেই মা ও নব জাতককে জীবিত বা মৃত ঊদ্ধার করা গেছে কি না।
উপরের ঘটনা দুটি সম্পূণ্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রথমটি হিসেবের হের ফেরে হলেও তাতে বাবা মা আত্নীয় স্বজন কারও জন্য কোন কষ্ট বা দুঃখের কারন হয়নি। আজ সে ছেলিটি ঊচ্চ শিক্ষিত ও ব্যবসা করে ভাল ভাবেই প্রতিষ্ঠিত।
দ্বিতীয় ঘটনাটিতে যদি মা ও নবজাতক জীবন্ত ঊদ্ধার হয়েও থাকে তবুও তার ভবিষ্যত শুধু ভবিতব্যই জানেন। আর যদি ধ্বংস স্তূপের মাঝেই তাদের জীবনের যবনিকা পাত ঘটে তবে এর দায় দায়িত্ব কার?
আমাদের দেশে যে কটি ভবন ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল , বাইপাইল এর গার্মেটস ও সাভারে ২৪সে এ এপ্রিল ঘটে যাওয়া রানা প্লাজা ধ্বসে পড়া। দুটি ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষনের আগে দেখি বিল্ডিং নির্মানের নিতীমালায় মৌলিক নিতীমালায় কি বলে।
বিল্ডিং গুলো নির্মানের জন্য প্রথমে তার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে আর্কিটেকচারাল প্লান করেতে হবে।
বিল্ডিংটি কি কাজে ব্যবহার হবে তার উপর ভিত্তি করে আর্কিটেকচারগন তাদের প্লানে( নকসায়) বা ফুট নোটে বিস্তারিত জানিয়ে দিবেন। যেমন বিল্ডিংটি যদি আবাসিক হয় তবে সিড়িগুলোর চওড়া কম পক্ষে ৭ ফুট, কিন্ত যদি ভবনটি বানিজ্যিক,ইন্ডাষ্টিয়াল,সিনেমা হল বা অডিটোরিয়াম হয় তবে সিড়িগুলো ১২ থেকে ১৫ ফুট চওড়া হতে হবে। বানিজ্যিক,ইন্ডাষ্টিয়াল,সিনেমা হল বা অডিটোরিয়াম ক্ষেত্রে প্রতিটি ভবনে ইমার্জেন্সি সিড়ি রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় ও পরিমাণমত লিফট ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, স্টেনবাই
জেনারেটর ও গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দেশনা ঊল্লেখ করতে হবে। আরও যে সমস্ত অত্যাবশ্যকীয় কাজ করতে হবে তার নির্দেশ প্রদান করে যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে জমা প্রদান করতে হবে। আর্কিটেকচারাল ড্রইং অনুমোদনের পর স্টাকচারাল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তা ডিজাইন করবেন। স্টাকচারাল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ডিজাইন করার ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে তার লাইভ লোড প্রদান করবেন। যেমন বিল্ডিংটি যদি আবাসিক হয় তবে লাইভ লোড ৪০ পি, এস, এফ। যদি আবাসিক না হয়ে বানিজ্যিক,ইন্ডাষ্টিয়াল,সিনেমা হল বা অডিটোরিয়াম হয় তবে লাইভলোড ১০০ থেকে ১৫০ পি, এস, এফ ধরতে হবে। তার উপর আবার সেফটি ফ্যাক্টর হিসেবে ডেড লোডকে ১.৪ ও লাইভ লোডকে ১.৬ বা ১.৭ দ্বারা গুন করতে হবে।
কাজেই দেখা যাচ্ছে বিল্ডিং হলেই সেটা ইচ্ছামত যে কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না। (চলবে)
২৬/০৪/২০১৩ইং
নোটঃ সোলায়মান(আঃ)





এতকিছু চিন্তা করার সময় কোথায়? কোনরকমে একটা বিল্ডিং দাঁড় করতে পারলেই মাস শেষে পকেট ভারী হবে।
ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী
ভাইয়া আপনার সাথে সহমত
তবে আসে মাসে মাসে।
তবে যায় মূহূর্তে এক সাথে।
রানার কথাই ধরুন।
লোভের কাছ সব হিসাব পরাজয় বরন করে
মন্তব্য করুন