ইউজার লগইন

বুয়েটের বাপ(পর্ব-২)

বুয়েটের বাপের কাহানি বলার আগে চল দেখি আমাদের ফ্যামিলি গেট টুগেদারের কি হল। এক এক করে চঞ্চল, প্রিন্স, জহির, লেবু, মিজান (ঠাকুর মিজান), জামিল, আফজল মামু বউ বাচ্চাসহ আগে যারা ছিলাম তাদের সাথে এসে হাজির হল। আমার বাচ্চাদের পরদিন পরীক্ষা থাকায় মেরিট ব্যাচেলর হিসেবে উপস্থিত হলাম। না হয়ে উপায় ছিল না, কারন আমি যে হোষ্টের খাতায় নাম লিখিয়েছি। তবে এমন হতভাগা আমি শুধু একা না, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টর ইকবাল ও মুহিত কাকুর ভাতিজা শুভ কিবরিয়াও আমার মত একাকি এসে আমার মনবল বাড়িয়ে দিলেন। মাস্টর ইকবাল আমাকে সুযোগ পেলেই বাঁশ দিতে ছাড়েন না, তারপরও কেন জানি ও না আসলে আমার কাছে যে কোন গেট টুগেদার পানসে পানসে লাগে।
যাকে নিয়ে এ অনুষ্ঠান সে বেনজীর ভাবির কথা একটু বলি। বেনজীর ভাবি একা দেশে এসেছেন। বেনজীর কেন আসেনি জিজ্ঞেস করিনি। আসলে অনেক মজা হত। তবে ভাবি অনুষ্ঠানে এসেই ফোন করে প্রথমে মাহবুব ও পরে আমি ও এক এক করে প্রায় সবার সাথে কথা বলল। বেনজীর আমি ও আসাদ তিনজন প্রথম বর্ষে রুমমেট ছিলাম। তাই বেনজীর ভাবিকে( রুমা) প্রথম দিন থেকেই জনাব বেনজীরের কল্যাণে চিনি, যদিও দেখা হয়েছিল তিন বছর পর এক দুর্ঘটনার মাধ্যমে। এখানে এটা উল্লেখ করতে চাচ্ছি না। সময় ও সুযোগ হলে পড়ে কোন লেখায় লেখব। মামাত বোন রুমার প্রতি বেনজীরের আকর্ষন এক সময় আমাদের চোখ আর এড়াতে পারল না। সরাসরি মুখে না বললেও আমরা কিছু বললে অসম্ভব মিষ্টি চেহারার যাদুর মুখ খানা কেমন জানি হয়ে যেত।
আমার তো মনে হত
দিবস ও রজনী আমি যেন (কার)রুমার
আশায় আশায় থাকি।
তাই চমকিত মন চকিত শ্রবন
তৃষিত আকুল আঁখি।
মন মন্দিরে সদাই সুর তাল বিহীন বাজতে থাকতো।
দোস্ত, আমার মনে হয় তুমি যতবার মনে মনে রুমার নাম নিয়েছ, ততবার আল্লাহর নাম নিলে হয়ত অলি হয়ে যেতে। তোমাদের ভালবাসা সফল হয়েছে এবং আজও তা তেমনি অটুট আছে এবং তা যেন চিরদিন বজায় থাকে এই কামনাই করি।

আমরা পুর্নাইয়া পণ্ডিত( মোক্তাদিরের) ইমামতিতে নামাজ পড়ার পর ভাবি সাবরাও নামাজ পড়লেন। তারপর হল রুমে প্রবেশ করলাম। প্রথমে পরিচয় পর্ব। এর আগের গেট টুগেদারে প্রায় সব ভাবির সাথে ইনফরমাল পরিচয় হলেও এবার বাচ্চাদের সাথে পরিচিত হলাম। (আমি দেশের বাইরে থাকার কারনে দীর্ঘ ২০ বছর এমন অনুষ্ঠান থেকে বিরত ছিলাম) পড়াশুনার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের অনেক অনেক নতুন প্রতিভার সন্ধান পেলাম। নাচ গান আবৃতিকার তবলা বাদক আর খেলাধুলা তো আছেই। রেনি ও মোক্তাদিরের ছেলে আমেরিকান কলেজে (Amherst College, Rank # 2 ) পুর্ণ স্কলারশিপ ও দু বছর অন্তর আপ- ডাউন টিকিটসহ পড়ার সুযোগ পেয়েছে যা বিরল সন্মান ও আমাদের দেশের গর্ব। আমার পরিচয় পর্ব এলে মাহবুব চিৎকার করে উঠল আগে কবিতা আবৃতি কর পরে ভাষণ দিবি। আমার নিজের কবিতা খুব কমই মুখস্ত থাকে। তাছাড়া পবিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে মনে হল,

কেন চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেম না...
শুকনো ধুলো যত।
কে জানিত আসবে তুমি গো...
অনাহুতের মত।

কেন চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেম না...

গানটি গাওয়াই যুক্তি যুক্ত হবে। তাই এ গানটা গাইলাম। গানটা শেষ হতে না হতেই মিজান চিল্লান দিয়া উঠল, ডিপো বইলা গানটা গাও। এটা বি, আই, টি রাজের র্যা গ ডে তে আমার লেখা, কলির (হারমোনিয়াম কলি) সুর করা একটা কোরাস গান, যা দেখলে এখন হাসি পায়। কিন্তু তখন গলায় গামছা, পড়নে পাঞ্জাবি ও জিন্সের প্যান্ট পড়ে ৮-১০ জনে মিলে গাওয়া গানটা আমদের যে আনন্দ দিয়েছিল, তার রেস মনে হয় আধা বুড়া বয়সেও ঠাকুর মিজানের ( ঠাকুর গাঁও এ বাড়ি তাই) মন থেকে মুছে যায় নি। তাই এ আবদার। সাপ্তাহিকের সাংবাদিক শুভ কিবরিয়ার সাবলীল উপস্থাপনায় পরিচিত পর্ব শেষে খানার পর্ব। তার বর্ণনা নিস্প্রোয়োজন, তবে নিরহঙ্কারী সাম্মি ভাবির কথা যদি না বলি তবে আমার নিজেকে আমি কখনও ক্ষমা করতে পারব না। ছোট একটি বাচ্চা থাকা সত্বেও এত আয়োজন, তারপর প্রতিটি টেবিলে ঘোড়ে ঘোড়ে সবার খাবার তদারকি করা মিষ্টি দই,পায়েসসহ, ভাবি আপনাকে কিছু বলে অসন্মান করব না। আমরা সকল বন্ধুর একসাথে ছালাম গ্রহণ করুন।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা প্রবাদ আছে, প্রথম বর্ষে চিফ ইঞ্জিনিয়ার, দ্বিতীয় বর্ষে সুপারেন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, তৃতীয় বর্ষে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, শেষ বর্ষে বেকার। কয়েক দিনেই তার নমুনা দেখতে আরম্ভ করলাম। চাল চলন কথা বার্তায়, কারনে অকারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে, বাস না পেলেও রিক্সায় শহরে গমন বা বিশুদার হোটেলে পায়ের উপর পা রেখে দু আংগুলের অগ্রভাগে ধুম্র শলাকায় অগ্নি সংযোগ করতঃ আয়েস করে উর্ধাকাশে ধুম্র নির্গমন করা যা একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারকেও হার মানাবে।
ঐশী জ্যোতিই আমাদের পথ প্রদর্শক খচিত সিংহদ্বার পার হবার পর সবুজে সবুজ রুয়েটের বিশাল ক্যাম্পাস,প্রচীর ঘেঁষা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক গুন বড় ক্যাম্পাস,পদ্মার পাড়, পদ্মার ওপাড়ে দিগন্ত বিস্তৃত সুবিশাল কাঁশবন, আর আচার ব্যবহারে সহজ সরল মানুষ গুলো কদিনেই মুগ্ধ করে ফেলল। সবচেয়ে মজা হল, কোন দোকান, হোটেল বা রেস্টুরেন্টে ঢুকে মামু বলে কোন কিছু চেয়েছ তো কিছু না কিছু সুবিদা তো তুমি পাবে এটা তখন যেমন নিশ্তিত ছিল আজ আছে। রাজশাহীর মামুরা ভাগ্নাদের প্রতি কেন এত দুর্বল জানি না, তবে দুর্বল তা জানি।
তখনকার দিন রাজশাহী বেতারের নামকরা শিল্পী আবুল হোসেন, একটা অনুষ্ঠানে গেয়েছিল,
ভোলা হাটের কচোরী হায়রে কচোরী
ঘি এ ভাজা, ডাইলের বড়া গো
হামি না যামু বাড়ি , মামু,
না যামু বাড়ি। (চলবে)

১৮/০৫/২০১৩ইং

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


কেন চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেম না... খুব পছন্দের একটি গান।

আহসান হাবীব's picture


আমারও। ভাইয়া পড়ার জন্যদ ধন্যবাদ

তানবীরা's picture


ভাল লাগলো শুধু বানান ভুলের বহর Puzzled

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।