ইউজার লগইন

বুয়েটের বাপ(পর্ব-৫)

বুয়েটের বাপ(পর্ব-৫)
নেতার নির্দেশ যে কতটুকু মুল্যবান ও মেনে চলার মত সেদিন আমি তা মর্মে মর্মে উপলব্দি করলাম। হেনরি ভাই কিছু নাম উল্লেখ পূর্বক করনীয় বাতলে দিলেন। নিয়মিত ছাত্র ছাড়াও আমার মত যারা পরীক্ষা দিতে এসেছেন সবাই আজ যোদ্ধা। এরই মাঝে আরও কয়েকটা টর্চ লাইট যোগার হয়ে গেল। মুহুর্তে বৃক্ষের সুরক্ষা প্রাচীর ভেঙ্গে হাতে হাতে চাহিদা মত ইট ছাদে ও নিদ্ধারিত জায়গা মত উঠে গেল। ইট গুলোকে নিক্ষেপযোগ্য করতেও বেশী সময় লাগল না। নীচে কেন্টিন ও আড়ালে থেকে যারা স্নাইপারের ভুমিকা পালন করে শত্রুদেরকে হলে ঢুকা থেকে প্রতিহত করছিলেন, তাদের সাথে সরাসরি আক্রমণে যাবার জন্য আরও কিছু সহযোগী তাদের সাথে যোগ দিলেন। কোন রুমে কারা থাকবেন তাও নির্দেশ দিয়ে নেতা সাধারন ছাত্রদের নির্দেশ পাওয়া মাত্র উপর থেকে ইটের টুকরা নিক্ষপ করার হুকুম দিয়ে সন্মুখ সমরে অংশ গ্রহণের জন্য পিছনের সিড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেলেন। হঠাৎ করে বিশাল সাইরেনের মত বাঁশির শব্দ শুনতে পেলাম এবং তা অনবরত বেজে চলল। সাথে সাথে উপর ও বিভিন্ন জানালা থেকে বৃষ্টির মত ইটের টুকরার ঢিল ছুড়া আরম্ভ হয়ে গেল। প্রতিরক্ষার ভিতর থেকে স্নাইপার স্টাইলের ইষ্ট বৃষ্টির কবল হতে রক্ষা পাবার জন্য শত্রুরা পিছু হঠতে শুরু করল। এটাই তো ছিল কাঙ্ক্ষিত, পরবর্তী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আচমকা গেট খুলেই এক যোগে আক্রমণ, আর উচ্চ চিৎকার, ধর ধর, মার মার, শালাদের একটাকেও ছাড়বি না। শালাদের এত সাহস যে লতিফ হলে আক্রমণ করে। এস এম হলের ছেলেরা আচমকা আক্রমণে বেদিশা হয়ে দৌড়ে হলে প্রবেশ করল। ওদের হলের ভিতর প্রবেশ করিয়ে সবাই ফিরে এল। এরই মাঝে খবর হল দুটি হলেই পুলিশ আসছে এবং দুটি হলেই তল্লাশি করা হবে। সব কিছু শেষ হলে পুলিশ আসে তা শুধু শুনেছি সেদিন তা দেখলাম। অতি দ্রুত হল তল্লাশির প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হল। রাত তিনটা অবধি চলল পুলিশি তল্লাশি। অতঃপর আমরা যারা পরীক্ষার্থী তাদের শুবার আয়োজন করে নেতারা অনেকে এই রাতেই ছুটল হাসপাতালে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের সে ভাইটির মাথায় হকি ষ্টিকের আঘাত এতই গুরুতর ছিল যে ঘুম থেকে উঠে তার মৃত্যু সংবাদ শুনতে হয়েছিল। আমি যাকে দেখিনি যাকে চিনতাম না তার জন্য সেদিন কেঁদেছিলাম। আজ আমি সন্তানের বাবা কত স্বপ্ন কত আশা নিয়ে আমরা সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে পাঠাই। পরিবর্তে তারা যদি লাশ হয়ে ফিরে আসে তবে যে কোন বাবার পক্ষে সে লাশ বহন করা যে কত কঠিন তা একজন ভুক্তভোগী বাবাই জানেন।
আর যে ক্ষুদ্র ঘটনার জন্য একটি মহৎ প্রাণের বলিদান হল তা লিখতেও আমার লজ্জাবোধ হচ্ছে তাই ক্ষ্যান্ত দিলাম।
আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ,বি,আই, টি বা রুয়েট এ ক্লাস আরম্ভ হত সকাল সাতটায় এবং দুপুর একটায় তা শেষ হত। সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার দুদিন ছুটি ছিল। ইতিমধ্যে পড়াশুনা খেলাধুলা, বি, আই, টির রাজনীতির বিষয়ে অনেক কিছু জানার পাশাপাশি, কেল্টু, চোথা মারা, বাং মারা ইত্যাদি যা বি,আই,টি রাজশাহীতে অধ্যয়ন কারি প্রতিটি ছাত্রের জীবন ও মনে বিয়ারিং চিঠির সিলের মত গর্ত করে খোদাই হয়ে গেছে। আর একটি বিষয় আমরা এইচ এস সি পাশ করার আগে যেমনটা আত্নকেদ্রিক ছিলাম। উচ্চ শিক্ষা নিতে এসে উপরে বর্নিত এস এম হল ও আব্দুল লতিফ হলের ঘটনার বৈপরীত্যে ঊদার ও অন্যের জন্যও কিছু করতে শিখলাম। যা আমাদের বড় ভাইদের কাছ থেকেই শিখেছিলাম। আগেই বলেছি আমার লেখাগুলো যেহেতু বিভিন্ন মাধ্যমে পোষ্ট করি তাই করাতি, কেল্টু, চোথা মারা, বাং মারা ইত্যাদি বিষয় গুলো সম্পর্কে ধারনা না দিলে সবার পক্ষে বুঝতে সমস্যা হতে পারে। করাতি সম্পর্কে গত পর্বেই বলেছি। আজ আমার এক পাঠক কেল্টু বিষয়ে বিস্তারিত লিখে পাঠিয়েছেন, আমি সরাসরি উনার লেখাটাই সংবাদ নয় সংযোগ আকারে উপস্থাপন করলাম। আপনাদের রুয়েট বিষয়ে যে কোন তথ্য আমি আমার উপহার হিসেবে গ্রহণ করব। সত্যি কথা হল আমার বন্ধু সাপ্তাহিকের সাংবাদিক শুভ কিবরিয়ার একটি মুখ নিঃসৃত বানীই আজ আমাকে বুয়েটের বাপ নামের আড়ালে রুয়েট কাহিনী লিখিয়ে নিচ্ছে। বন্ধু তোমাকে আমি সব সময় বাঁশ দেবার তালে থাকি আর তুমি আমাকে এভাবে বাঁশ দিলে। আজ ছুটির দিনে (বৌদ্ধো পূর্ণিমার বন্ধ ২৩/০৫/২০১৩ইং) সারাদিন অফিস করলাম, তবে আজ অনেক কাজ করেছি, অন্যদিন তো এ মিটিং ও মিটিং করে সময় যায়। আজ নিবিষ্ট চিত্তে অনেক কাজ করেছি। আর এখন রাত জেগে রুয়েটের স্মৃতি কথা লিখছি। যাক চলুন যাই খালেদ আহসানের কমেন্টস করা কেল্টু কাহিনীর কাছে।
“শুরু”Khaled Ahsan আমাদের সময় আরেক ধরণের নিক(Lingo) প্রচলিত ছিল (সম্ভবত এখনও আছে), তা ছিল "কেল্টু"। "কেল্টু" বলতে এমন ছাত্রকে বোঝানো হতো যে প্রচুর পড়াশোনা করে কিন্তু পরীক্ষায় তেমন ভাল করতে পারেনা, ক্ষেত্র বিশেষে রেজাল্ট ভাল করলেও তাকে বলা হতো "কেল্টু"।

এই শব্দের ব্যুৎপত্তি নিয়ে অনেক ধরণের কিংবদন্তী প্রচলিত আছে (সত্যতা জানা নেই), তার একটা এরকম --

অনেক আগে নাকি রুয়েটে (ভূতপূর্ব বি.আই.টি./ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে) একজন ছাত্র ছিলেন যিনি নাকি সারাদিন-রাত পড়াশোনা করতেন। কিন্তু ফার্স্ট ইয়ারে কোন এক কেমিস্ট্রি পরীক্ষার আগে সম্ভবত পড়াশোনাটা একটু বেশীই হয়ে গিয়েছিল, যার কারণে পরীক্ষার হলে উনি তাঁর খাতায় সমস্ত রাসায়নিক সমীকরণে ক্লোরিনের সংকেত ভুল করে Cl2 এর যায়গায় Kl2 লিখে এসেছিলেন, এবং সে কারণে নাকি উনি ঐ পরীক্ষায় ফেল করেন। তারপর থেকে নাকি এরকম নার্ড টাইপের ছাত্রদের কে "কেল্টু" বলা হতো। সম্ভবত শব্দটার বিবর্তন এরকমঃ Cl2 > Kl2 > K-L-2 > Keltu > কেল্টু।

কিন্তু "করাতি" শব্দটা আমাদের সময় প্রচলিত ছিল না -- এইটার পিছনের ইতিহাসটা কি? কেউ কি জানেন? আপনার এই সিরিজ সময় পেলেই পড়ার চেষ্টা করি, ভাল লাগতেছে।“শেষ”

কেল্টু উপাদি আমার মনে থাকলেও ইতিহাস জানা ছিল না। তবে যাই হউক কেল্টুও আমাদের রুয়েটের সম্পদ যেমন করাতি ভাইয়েরা। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
করাতি ভাইদের দেখেছি এখনও সম্ভবত আছে কিন্তু ইতিহাস আমার জানা নেই, কারও জানা থাকলে শেয়ার করবেন আশা করি।
চলুন দেখি চোথা সম্পর্কে কিছু শিখি।
ফেল্টূ বল, কেল্টূ বল
প্রথম শ্রেণিতে প্রথম বল
যত জ্ঞাণী গুণী ভাই
চোথা ছাড়া নেই যে গতি
ইঞ্জিনিয়ার যদি হতে চাই।।

ড্রইং চোথা, নোটের চোথা
ক্লাশ টিচারের লেকচাড় চোথা
নির্মান সামগ্রীর নামের চোথা
ভোলা মন মনরে আমার...
সেসনাল ক্লাসের চোথা মারতে
রাত যে হয়ে যায় সাবাড়।
তবুও চোথার বিকল্প নাই
চোথা সবার চাই-ই-চাই।
চোথা ছাড়া নেই যে গতি
ইঞ্জিনিয়ার যদি হতে চাই।।

আজও আমি চোথা মারি
চোথার নেশা ছাড়তে নারি
মিলিয়ন বিলিয়ন টেন্ডার দিতেও
চোথা দিব্যি মেরে যাই।
ভোলা মন ,মনরে আমার...
চোথাই জীবন চোথাই মরণ
চোথা তোমায় ছালাম জানাই।
চোথা ছাড়া নেই যে গতি
ইঞ্জিনিয়ার যদি হতে চাই।।
আমার মনে হয় কারও বুজতে আর বাকি নেই চোথা কি জিনিস। আমাদের যে কোন ড্রয়িং, প্রাক্টিক্যাল ক্লাস( সেসনাল), স্যারের লেকচার যাবতীয়,আমাদের অতীব পরোপকারী জ্ঞানী ( যারা পড়াশুনায় অতীব সিরিয়াস) বন্ধুরা করতেন। আমরা তা লিখে কপি বা গ্লাসের নীচে লাইট দিয়ে (ড্রইং) সহজেই করে নিতাম। এটাও আবার ভাগেযোগে করা হতো। তারপরও যখন সেসনাল শুরু হতো কারও কারও নির্ঘুম রাত কেটে যেত ড্রইং শেষ করতে। চোথা মারতে হলেও বুঝতে হতো তারপর তো চোথা মারা। নইলে তো পরীক্ষায় নির্ঘাত ধরা। আজ এত বছর পরও আমার/আমার মনে হয় সবারই সেই কষ্টকর দিন গুলোর কথা মনে হলে মনটা কেমন জানি হয়ে যায়। তাই আজ আর রুয়েটের কোন কথা নয়, আজ মেঘলা দিন, একটা গল্প বলি। অনেকেরই জানা হতে পারে তবুও বলছি।
গল্পটা এমন,
আগেকার দিনে দেখা যেত প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার কোন কৃষক বা লেখাপড়া জানা নেই এমন কারও ছেলে লেখা পড়ায় গোবরে পদ্ম ফুল ফোটার মত ফুটেছে এবং লেখা পড়া শেষ করে শহরে ভাল কোন চাকরি করছে এবং বউ বাচ্চা নিয়ে শহরেই থাকে। তেমনি এক ব্যাক্তির ছেলে শহরে চাকরি করছে। ছেলে চিঠিতে বাবাকে শহরে এসে বেড়িয়ে যেতে বলেছে। বাবা যথারিতি শহরে ছেলের বাসায় বেড়াতে এসেছে। ছেলের সাথে বা একাকি শহরের অনেক কিছু দেখল। উচা উচা দালান, বিশাল রাস্তা ঘাট, কত সুন্দর সুন্দর মানুষ আরও কত কি? সবই উনার ভাল লেখেছে, কিন্তু যে জিনিস্টা উনার সবচেয়ে ভাল লেগেছে তা হল, শহরের সুন্দর সুন্দর মানুষ গুলা নাকের আগায় কি জানি একটা পড়ে দেখতে বড়ই সুন্দর লাগে। মনে মনে মুরুব্বী ঠিক করলেন যাবার সময় একখান কিনে নিয়ে যাবেন। এবার ছেলেকে বলল বাবা অনেকদিন হল এখন বাড়ি ফেরা দরকার। পরে না হয় আবার আসা যাবে। যাবার সময় ছেলে বেশ কিছু টাকা, বাড়িতে মা ও অন্যন্যের জন্য কাপড় চোপড় কিনে দিল। ছেলে বলল আমি তোমাকে রেল ষ্টেশন পর্যন্ত দিয়ে আসি। না বাবা আমার রাস্তাঘাট সব চেনা হয়ে গেছে। আমি একাই যেতে পারব। তোমার কষ্ট করতে হবে না। আসলে মুরুব্বীর চশমা কেনার সখ থাকলেও ছেলেকে বলতে লজ্জা পাচ্ছিল। ছেলে বলল আচ্ছা একা যেতে পারলে যাও।
মুরুব্বী ছেলের বাসা থেকে বেড় হয়ে সোজা গেল এক চশমার দোকানে। গিয়ে জিজ্ঞেস করল, এইডার দাম কত? কোনটা? এই যে এইটা? জিনিসটা দেখলেও নাম তো আর কাঊকে জিজ্ঞেস করা হয় নি, তাই নাম তো আর জানা নাই। ও চশমা, এই হইল চশমা টশমা যাই বল।
কম পাওয়ারের নিবেন না বেশী পাওয়ারের নিবেন?
কোনটার দাম কত? একই দাম। মুরুব্বী মনে মনে ভাবল, দাম যেহেতু একই কম পাওয়ারের নিয়া কাম নাই, বেশী পাওয়ারের নেওয়াই ভাল।
দোকানীকে বলল, দাও, দাও বেশি পাওয়ার দেইখ্যাই একটা দাও। দোকানি বেশি পাওয়ারের একখান চশমা মুরুব্বীকে দিল। মুরুব্বী ঠিক করল এখানে না। বাড়ীর কাছাছাছি গিয়ে পড়ব।
মুরুব্বী শেষ বিকেলে বাড়ি হতে খানিক দুরে এক বাজারের কাছাকাছি এসে চশমা খান পুটলি হতে বের করে চোখে দিলেন। বাহ সব কিছু কেমন চমৎকার দেখা যায়। খুশি খুশি মনে ভাবল, অনেকদিন পর বাড়ি এলাম একটু ভাল বাজার করে নিয়ে যাই। আচ্ছা ইলিশ মাছ নিব। বুড়ির আবার ইলিশ মাছ খুব পছন্দ।
মুরুব্বী এক পুঠি মাছ বিক্রিতার কাছে গিয়ে ( বড় টিনের প্লেটে ছড়ানো পুঠি মাছ) বলল, এই ইলিশের হালি কত? বিক্রেতা মুরুব্বীর দিকে তাকিয়ে হতবাক। বলে কি পুঠি মাছকে বলে ইলিশ মাছ। ও বুঝতে পারছি।
নেন চাচা একেবারে সস্তা দিছি, একখান দুই টেকা।
দূর মিয়া দেড় টেকা কইরা অইলে দেও এক হালি।
আপনি মুরুব্বী মানুষ, কি আর করা, নেন।
বিক্রতা অতি দ্রুত মুরুব্বীর ব্যাগে চার খান পুঠি মাছ তুলে দিল, ঠকবাজ বিক্রেতা তো মহা খুশী, চাচা ঠকে যেন তার চেয়েও খুশি, এত সস্তায় চারখান ইলিশ পাওয়া গেল। মজা করে কদিন খাওয়া যাবে।
মুরুব্বী বাড়িতে ঢোকার আগেই জোরে হাঁক ডাক শুরু করে দিল, গেদার মা কই গেলা, তাড়াতাড়ি আস, কি কই গেলা?
বুড়ি ডাক শুইন্যা পড়ি মরি কইরা ঘরের বাইর হইল,ততক্ষণে বুড়াও বাড়ির উঠানে এসে গেছে। কি হহল, এমন চিল্লা চিল্লি করতাছ কেন? চিল্লা চিল্লি কি আর সাধে করি,এই নাও, ব্যাগে এক হালি ইলিশ মাছ আছে। কিছু ভাজা কর আর কিছু রান্না কর, বাকি টা ঝাল দিয়া রাখ। দেড়ি করলে কাচা জিনিস পইচা যাইতে পারে?
বুড়ি ব্যাগ নিয়া রান্না ঘরে গেল, আর বুড়া গেল কাপড় বদল করতে। এদিকে বুড়ি রান্না ঘরে গিয়া ব্যাগের মাঝে চারখান পুঠি মাছ ছাড়া আর কিছু না পাইয়া তত জোড়ে চিল্লাইতে লাগল, এই কই গেলা , এই মিন্সে তুমি গেলা কই। বুড়ার শরীরে যেন কেউ আগুন ধরাইয়া দিল।
হইছে ডা কি তর, এমন চিল্লাইতাছস কেন?
রাগে হন্ত দন্ত হইয়া রান্না ঘরে ঢুইকা বুড়িরে মারে আর কি? অইছে ডা কি তর? এমনতে চিল্লাইতাছস।
কই তোমার মাছ,কই?
তোর চৌদ্দ গোষ্টির মাথা খাইছস। ব্যাগ থাইক্যা মাছ কয়ডাও বাইর করতারস না।
বাইর ত করছি কিন্তু ইলশ মাছ কই, চাইর খান পুঠি মাছ পাইলাম খালি। বুড়ার চোখে চশমা তখনও পড়াই ছিল, তাই চার পুঠি মাছকে ইলিশ মাছই দেখছিল। বুড়া এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, রাগে বুড়ির দিকে এগিয়ে গেল, বুড়িও নিজেকে বাঁচাতে হাতের এক ঝটকায় বুড়াকে সরিয়ে ঘরের বার হতে চাইল। এতেই বুড়ার চোখের চশমা মাটিতে পড়ে গেল, আর বুড়াও পুঠি মাছকে পুঠি মাছ দেখতে পেয়ে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ার মত ব্যাথায় চিৎকার দিয়া উঠল, হায় হায় আমার কি সর্বনাস হইল। এই শালা বেশি পাওয়ারের চশমার জন্যই আইজ আমার এত বড় ক্ষতিটা হইল। (চলবে)

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


বুড়া বুড়ির গলপটা উপাদেয় ছিল, দারুন

আহসান হাবীব's picture


ধন্যবাদ আপু। অর্ধেকটা বাকি আছে। পরের পর্বে লিখব।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।