ইউজার লগইন

বাথরুম না রেস্ট রুম ( গল্পটি আমি প্রথমে গেট টুগেদার নামে আরম্ভ করেছিলাম)

আমাদের সমিতি প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র মোক্তাদির (আদরণীয় পূর্নাইয় পণ্ডিত) কে মেইলে প্রেরন করার ক্ষনিক বাদেই,তিনি আমাকে মহান ব্যক্তি হিসেবে ঊল্লেখ পূর্বক পাল্টা মেইল করিলেন। আমি এবার সেল যন্ত্রটি হাতে লইয়া ডিজিটাল যুগের নির্দেশিত ডিজিট গুলোতে অঙ্গুলি নির্দেশ প্রদান করত প্রেরন বাটনে চাপ প্রদান করিলাম। পণ্ডিত অবশ্যই কর্ম ফুসরতে ছিলেন। পিক করার সাথে সাথেই আক্রমন করিলাম। কিরে ব্যটা পাম দিতে তো ভালই শিখিয়াছ। আমি আবার কবে থেকে মহান ব্যক্তি হইলাম। নারে দোস্ত তুই.........।
তবে আমি কয়েকদিন হইল বুজিতে পাড়িতেছি কোন না কোন দিক দিয়া আমার বার বাড়ন্ত হইয়াছে, তাহা আমার নজর এড়াইলেও অনেকের নজর এড়াইতেছে না। আমার খর্বাকায় দেহখানি আকাশপানে বৃদ্ধি পাইবার আপ্রান চেষ্টা করিয়া চুল পরিমাণ সাফল্য অর্জন করিতে ব্যর্থ হইলেও ব্যস বা ডায়ামিটারে তাহা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করিয়া বাড়িয়াই চলিয়াছে। আর পরিণতিতে আমার আল্লাহ প্রদত্ত এই দেহাবয়বখানি পৃথিবীর আকারকেঊ হার মানাইয়া ফুটবলাকার ধারন করিয়াছে। তদুপরি গতসপ্তাহে আমার নিত্যকার নরসুন্দর সাহেবের অন্তরে লেজার গাইডেট বোমার আঘাত পরিমাণ কষ্ট প্রদান করিয়া যখন মেশিন দিয়া মস্তকের চূল গুলোকে অঙ্কুরোদ্গমাকৃতির আকার প্রদান করিলাম তখন তাহা ফুটবলের আকৃতিকে পরাস্ত করিয়া ক্রিকেট বলের আকৃতি ধারণ করিলেও কেহ আমার সন্মুখে সাহস করিয়া বলে নাই, ইহাকেই আমি অনেক বড় পাওনা মনে করিতেছি। আরও একটি বড় পাওনা ফেসবুকের কল্যাণে দীর্ঘ বাইশ বছর পরও আমার RUET এর বান্ধবী আমার এ গোলাকার দেহায়ব্ব খানি চিনিতে পারিয়াছে। গতকাল গেট টুগেদারে তার সাথে দেখা হইল। আমাদের মাসিক গেট টুগেদার নির্ধারিত থাকিলেও এ গেট টুগেদার বিশেষ কারনে বিশেষায়িত। আর তাহা হইল আমাদের সকলের প্রিয় বন্ধু ঊজ্জলের কানাডা হইতে বাংলাদেশে আগমন। ঊজ্জলের আগমনকে ঊজ্জল করিয়া রাখিবার ঊদ্দেশ্যে আমরা ঢাকাস্থ সিংহভাগ বন্ধুরাই তাতে উপস্থিত হয়েছিলাম। সাথে আমাদের দুজন বান্ধবী রেনি ও কলিও উপস্থিত ছিল। রেনির সাথে এর আগে তিনটি গেট টুগেদারে দেখা হলেও কলির সাথে ২২ বছর পর প্রথম দেখা আর কলির কল্যানেই আর এক বান্ধবী আসমার ফোন নম্বর পেয়ে তার সাথও ২২ বছর পর কথা বললাম। এটাই মনে হয় পৃথিবীর নিয়ম। যাদের সাথে এক সময় দিনের ৮-১০ ঘণ্টা কাটাতাম তাদের সাথে বাইশ বছর পর দেখা, অনেকের সাথে দেখাও হয় নাই।
প্রথম প্রথম যখন সিনেমা দেখতে আরম্ভ করলাম এতই ভাল লাগত যে শেষ হবার পর ভাবতাম, আহ শেষ হয়ে গেল, আর একটু লম্বা হলো না কেন? নাকি পর্দার পিছনে আরও আছে। কত কি? বি, আই, টি রাজশাহীর ৮৫ সিরিজের গেট টুগেদার প্রতি মাসেই হয়, তাতে কি যে আনন্দ হয় তা কি সেই কিশোর বয়সের সিনেমা দেখার আনন্দের চেয়ে কম না বেশী সেই বিতর্কে আমি যাব না কারন সবটাই সময়ের দাবি। তবুও কিছু পার্থক্য তো আছেই। সিনেমা দেখতাম একা বা দু তিন জন মিলে। আনন্দও পেতাম একা একা বা দু তিন জনে। কিন্তু এখানে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের এবং বেসরকারি বড় বড় প্রতিষ্টানের বহু ঊচ্চ পদস্থ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা গেট টুগেদারে অংশ গ্রহণ করে ভুলে যান তাদের পদ মর্যাদা,কে কোন সরকারি বিভাগের কত বড় প্রকৌশলী বা কর্মকর্তা কে কত বড় বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষক, কে কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য, ভূলে যান কে কত দামি গাড়িতে চড়ে, ভুলে যাই আমরা ৪৫ পেরুনো বৃদ্ধ। এখানে আসা যে শুধুই বন্ধুত্বের টানে।
০৪/১৯/২০১৩ইং
দ্বিতীয় পর্ব
গত লেখায় আমি আমাদের ৮৫ সিরিজের একজনের কথা বলি নাই কারন সে একেবারেই বিশেষ কারনে বিশেষায়িত। প্রকৌশলী হবার পড়ও ঊনি আজ সাংবাদিকতায় সাংগাতিক ব্যস্ত। তিনি আর কেঊ নন, আমাদের সকলের পরিচিত সাপ্তাহিকের সাংবাদিক মুহিত কাকুর ভাতিজা শুভ কিবরিয়া। আমাদের ৮৫ সিরিজের ফুটবল টিমে তিনি অতিব দক্ষতার সহিত গোল পোষ্ট সামলাইতেন। কদাচিত ছাড়া বল তাকে ফাঁকি দিতে পারিত না। আর প্রাক্টিসের সময় উনি আমি সহ যারা ডিফেন্সে খেলিতাম তাদের ডানে, বামে, এদিক, ওদিক বল ঠেলিয়া দিয়া সর্বদাই তটস্থ রাখিতেন। সাংবাদিক্তায় ও মুহিত কাকু সহ কারও কিছু তার চক্ষু এড়াতে পারে না। আর যারা যারা ... তাদের কে উনি আমাদের মত সর্বদা। আমার ইচ্ছা ছিল গেট টুগেদার নিয়ে কিছু লিখব। কিন্তু সে কাজটি কিবরিয়া সাহেব অতি সুন্দর ও যত্নের সাথে সমাধা করিয়াছেন। তাই আর সে দিকে গমন করার আবশ্যক মনে করিতেছি না। আজ একটু ভিন্ন পথে আমার একজন বন্ধুর প্রশ্নের ঊত্তর প্রদান করার চেষ্টা করিব।
আমার একটি লেখার সুত্র ধরেই বন্ধুবর জানিতে চাহিলেন, তুমি কি বাথরুমেও কবিতা লিখ। লিখি বই কি, মাঝে মাঝে ঘুম হইতে জাগিয়াছি, দুটা লাইন মনে পড়িল। অন্ধকারেই খাতার উপর লিখিতে থাকি। বাতি জ্বালাইতে জ্বালাইতে যদি ভাবনা গুলো পালিয়ে যায়।
প্রথমে বাথরুমকে কোথায় কি ভাষায় বলা হয় আমার জ্ঞানের পরিধি অবধি একটু চর্চা করি।
বাংলায়- পায়খানা, হিন্দিতে টাট্টি, আরবীতে হাম্মামখানা।
ইংরেজীতে- টয়লেট, বাথরুম, লাভাটরি এবং রেস্ট রুম। আমার দৌড় এতটুকুই।
আমার কাছে এতগুলো সমার্থক শব্দের মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য শব্দটি হইল রেস্ট রুম। আর ইংরেজরা রেস্ট রুম নাম কেন দিয়েছেন জানিনা। তবে আমি সময়ে অসময়ে এই কাজটি এ জায়গায় করি কারন এ জায়গা হতে আমার অনেক ভাবনার ঊদয় হয়। তা ছাড়া আমদের মত যারা খাটাশ মার্কা সংগীতজ্জ তাদের জন্য এর চেয়ে ঊত্তম স্থান আর কোথাও আছে কি না, আমার জানা নাই।
এ রেষ্ট রুম সম্পর্কে একটি গল্প শুনেছিলেম তাও প্রায় ১৮-১৯ বছর আগে। আর যার কাছে এ গল্প শুনেছিলাম তাঁকে প্রথম দর্শনে কেহ পছন্দ করিবেন এমন ভাবার তেমন কোন যুক্তিপূর্ণ কারন আমার কাছে নেই। পাঁচ ফুট ঊচ্চতার আফ্রিকান নিগ্রোদেরকেও হার মানানো কৃষ্ণ বর্ণের মানুষটির রসবোধ যে কি পরিমাণ তাহার সন্ধান পাইতে হইলে, তার সাথে কিছুদিন মিশীতে হইবে। মুল গল্পে যাবার আগে তার রসবোধের একটু খানি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। তবে আমার বেয়াদবি হলে বন্ধুগন এ অধমকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখিবেন।
আমি তখন এম ই এস ( মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) এ ঠিকাদারি করি। তিনি এম ই এস এর ওয়ার্ক এসিস্টেন্ট হিসেবে আমার সাইটের কাজ দেখা শুনা করিতেন। আমার একটি প্রজেক্টের ছাদ ঢালাইয়ের পর সন্ধ্যার দিকে সবাই বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। ছাদ ঢালাই হলে সাধারণত একটু ঊন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ম্যানেজার বলল স্যার আজ খেয়ে যাবেন। রান্নার ফাঁকে আমরা কয়েকজন মোটামুটি আড্ডায় মেতে উঠেছি। কথা প্রসঙ্গে উনি বললেন স্যার ধর্ষন কাকে বলে বলতে পারবেন? আমি বললাম, বলতে পারলেও বলব না। সাথের আরও যারা ছিল, যে যার মত ব্যাখ্যা করল। কারও উত্তরই তিনি গ্রহণ করলেন না। আমি বললাম তাহলে আপনিই বলেন। তিনি বললেন, ইজ্জতের উপর ইজ্জত রাখিয়া কাঊকে বেইজ্জতি করার নামই ধর্ষন। সাথে সাথে সবার মধ্যে হাসির জোয়ার না বইলেও সবাই মজাই পেলাম।
এই তিনিই কথা প্রসঙ্গে এই গল্পটি বলেছিলেন। একজন স্টেশন কমান্ডার একদিন গ্যারিসন ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করে বললেন, ইঞ্জিনিয়ার সাব, আমার বাথ রুমে একটু সমস্যা কাঊকে পাঠান তো। জি,ই সাব তৎক্ষণাৎ ওভারসীয়ার সাবকে পাঠালেন, ওভারসীয়ার সাব এসে অনেক খোজাখুজি করেও কোন খুঁত বের করতে না পেরে চলে গেলেন। পরদিন কমান্ডার সাব আবার ফোন করলেন, জি,ই সাব কাঊকে পাঠালেন না। জি, ই সাব ভাবলেন ওভারসীয়ার হয়ত যায়নি, তাই তাঁকে ডেকে খানিক বাক্য চর্চা করে জানতে পারলেন, তিনি গিয়েছেন তবে কোন ত্রুটি বের করতে পারেনি। এবার তিনি এস,ডি,ও সাবকে পাঠালেন। এস,ডি,ও সাবও এসে কোন খুঁত বের করতে না পেরে ফিরে গেলেন।
তৃতীয় দিন স্টেশন কমান্ডার সাব রিতিমত রেগে গেলেন, কি জি ই সাব ছোট্ট একটু কাজ করতে আপনার কদিন লাগবে?
জি, ই সাবের তখন কি অবস্থা হতে পারে আপনারা অনুধাবন করুণ। তিনি এস,ডি, ও ,ওভারসীয়ার দুজনকেই ডেকে গোষ্টি ঊদ্ধার করলেন। এস,ডি, ও ,ওভারসীয়ার দুজনই বললেন, স্যার আমরা তন্ন তন্ন করে খুজেছি কিন্তু নষ্ট বা বিকল কোন কিছুই খুজে পাইনি। এবার জি, ই সাব, এস,ডি,ও ওভারসীয়ার দুজনকেই সাথে নিয়েই চললেন কমান্ডার সাবের বাংলোর দিকে।
৬/২১/২০১৩ইং
তৃতীয় পর্ব
কয়েক শ মিটার রাস্তার দূরত্ব গাড়িতে যাচ্ছেন তবু যেন রাস্তা শেষ হতে চায় না। জি, ই সাবের মাথায় হাজারও চিন্তা ভিড় করছে। আমার সবচেয়ে অভিজ্জ সুপারভাইজার ও এস,ডি,ও বিষয়টা সমাধান করতে পারল না। যারা কত বড় বড় ইমারত তৈরী করে। কত জটিল কাজ সমাধান করে। আবার মনে হচ্ছে কমান্ডার সারের অফিসে গিয়ে স্যারকে জিজ্ঞেস করবে, সমস্যাটা কি? না তাতে হয়ত হিতে বিপরীত হতে পারে। যাই আগে দেখি সমস্যাটা কি?
এসব ভাবতে ভাবতে তাঁরা কমান্ডারের বাংলোতে এসে গেলেন। এবার তিনজন একসাথে ঢুকলেন রেষ্ট রুমে। জি, ই সাব নিজে কমোড, কমোডের ফ্লাস, পুস টেপ, মিকচার, এংগেল কক, বিপ কক, বাথ টাব,বেসিন তাদের সংযোগ লাইন ও ভেন্টিলেটর থেকে সব কিছু ভাল ভাবে চেক করলেন, কিন্তু কোন জায়গায় কোন খুঁত পেলেন না। এবার জি, ই সাবের কপালে চিন্তার ভাজ পড়ল। তাহলে সমস্যাটা কি?
অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ভগ্ন মনোরথ হয়ে সবাই বের হলেন বাংলো থেকে। সকলেই ভাবছেন কি করা যায়। অফিসে ফিরে জি,ই সাব, এ,জি,ই ও অন্যান্য এস,ডি,ও ,ওভারসীয়ার হেড ক্লার্ক সহ সকলকে নিয়ে বসলেন কনফারেন্স রুমে। অনেক আলোচনার পর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হল, কমান্ডার স্যারকে গিয়ে সব খুলে বলবেন, তাতে হয়ত সমস্যাটা জানা যাবে। কিন্তু এ যে মহা ইজ্জতের ব্যাপার। এরই মাঝে একজন বয়স্ক এস,ডি,ও আলোচ্য ওয়ার্ক এসিসটেন্টের কথা স্বরন করলেন। সে যে এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত বহু সমস্যার সমাধান করেছেন তা জি,ই সাব সহ অনেকেই জানতেন, তাই সর্বশেষ তাকে দিয়ে শেষ চিকিৎসা করানোর ব্যাপারে সকলে একমত হলেন। কার কাছে প্রথম এ ঊক্তি শুনেছিমাম মনে নেই তবে অনেকের কাছেই শুনেছি এবং আমিও আমার জুনিয়র কলিগদের এ ঊপদেশটি দিয়ে থাকি, কারিগরি বিষয় সকলের সামনে উপস্থাপন কর, হয়তবা তুমি তোমার অধঃস্তন কোন কর্ম কর্তা বা কর্মচারীর কাছ থেকে ভাল কোন ঊপদেশ বা সমাধান পেতে পার। কিন্তু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিষয়গুলো শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট জনদেরকেই অবহিত কর। এখানেও যেন তার প্রতিফলন ঘটল। তাকে তড়িৎ গাড়ী পাঠিয়ে অফিসে ডেকে এনে বিষয়টি জানান হল।
এবার তিনি তার এসাইনমেন্ট নিয়ে বের হলেন। জি,ই সাব তার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দ্রুত যাবার জন্য পিকআপ ড্রাইভারকে হুকুম দিলেন।
৪/২২/২০১৩ইং
(শেষ পর্ব)
কমান্ডার বাংলোতে এসে তিনি সোজা বাথরুমে চলে গেলেন। কমোড বেসিন বাথটাব, সাওয়ার, এংগেল কক, বিপ ক্‌ পুশ টেপ এবং তাদের সংযুক্ত পানির লাইন যথাযথ ভাবে কাজ করছে কি না সব চেক করলেন। কিন্তু না সবই তো ঠিক আছে। এবার তার সাথের সহকর্মী ও পিকআপ ড্রাইভারকে বাইরে যেতে বললেন। ওরা বাইরে চলে গেলে তিনি নিজের নিম্নস্থ বস্ত্র হরণ করতঃ ক্ষণিকের জন্য কমান্ডারের ভূমিকায় নিজেকে স্থাপন করে প্রাকৃতিক কর্ম সাড়ার ভঙ্গিতে কমোডে বসলেন। সাধরনত এ অবস্থায় মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার চিন্তার মনোনিবেশ ঘটিয়ে থাকেন। তিনিও তেমনি কিছু ভাবতে লাগলেন আর অক্ষি কোটরদ্বয়কে সর্ব দিকে দৃঢ ও শান্ত ভাবে পরিচালিত করতে লাগলেন। সহসা লোভার ভেন্টিলেটরের ফাঁক গলিয়ে নজরে এল একটি ছোট্ট চড়ুই পাখি বার বার আনাগোনা করছেন,আর তার আনাগোনা ও ডানা ঝাপটানোতে চিন্তার রেখায় কিছুটা ছেদ পড়ছে। উনি নিজকে পুনরায় বস্ত্রার্বৃত করে বাইরে বের হলেন, চড়ুই পাখির উৎস দেখার জন্য। বাংলোর পিছন দিকে গিয়ে দেখেন ভেন্টিলেটরের এক পাশে চড়ুই পাখির এক খানা ছোট্ট বাসা আর বাসায় দুটি ছোট্ট ছানা। মা চড়ুই তাদের দেখভাল ও পরিচর্যা করে। কেন জানি তার মনে হল এটাই হয়ত কমান্ডার সাবের শান্তি ভংগের কারন। কিন্তু ছোট্ট দুটি বাচ্চাসহ যে নান্দনিক পরিবারটির বসবাস, তাদের বাস্তচ্যুত করতে তাঁর মন কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। কিন্তু তাঁকে তো এটা সরাতেই হবে। সাথি দুজনকে ডেকে পরামর্শ করল কি করা যায়।
সিদ্ধান্ত হল কলা গাছের পুরনো বাকল দিয়ে একটি বাক্সের মত করে তার মাঝে কিছু খড় দিয়ে বাসার মত করা হবে আর বাচ্চা দুটিকে ওই বাসায় স্থানান্তর করা হবে।সহকর্মীদের সহযোগিতায় সত্তর বাসা বানানো হল। পাশের একটি গাছের ডালে বাসাটি স্থাপন করে মই দিয়ে চড়ুই পাখির বাসার কাছে পৌছাল, আসন্ন বিপদ টের পেয়ে বাসা থেকে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে চড়ুই পাখিটি কিচিরমিচির শব্দ তুলে প্রতিবাদ জানাতে লাগল। মাঝে মাঝে উড়ে এসে আক্রমণ করবে এমন ভঙ্গি দেখালেও আক্রমণ করার সাহস পেল না। ছানা দুটিকে পরম মমতায় তুলে নিয়ে খড়কুটাসহ নতুন বাসায় রেখে দিল। বাচ্চা দুটিকে নতুন বাসায় রেখে নীচে নেমে না আসা পর্যন্ত মা চড়ুই পাখিটি তাদের চারদিকে যে ভাবে চক্কর দিচ্ছিল আর কিচির মিচির শব্দ করছিল তার ভাষা যদি তারা বুঝতে পারত তবে কোমল প্রাণ মনুষ্য হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণের পাশা পাশি নেত্রযুগল ও জল মগ্ন না হয়ে থাকতে পারত না। তিনজন মানুষ তাদের অপরাধ বোধ থেকে রেহাই পাবার জন্য ক্ষানিকক্ষন দুরে অবস্থান করে দৃশ্যপট অবলোকন করতে লাগল। মা চড়ুই পাখিটি নতুন বাসায় গিয়ে তার প্রাণপ্রিয় সন্তানদের ছহি সালামতে পেয়ে নিজকে সান্তনা দেবার সাথে সাথে তার প্রভূর কাছেও হয়ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। বাসার ভিতর নিশ্চুপ পক্ষীত্রয়ের অবস্থান তিনজনকে অপরাধ বোধ হতে কিছুটা মুক্ত করেছে ভেবে, তারা স্থান ত্যাগ করল। ততক্ষনে অফিসের সময় শেষ হওয়াতে সবাই আপন আপন গন্তব্যে চলে গেল।
পরদিন জি, ই সাব অফিসে প্রবেশ করে চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছেন,ক্রিং ক্রিং ল্যান্ড ফোন বেজে উঠল। অপর প্রান্তে কমান্ডার সাহেবের কন্ঠ। জি, ই সাব তাড়াতারি আমার অফিসে আসেন। জি,ই সাহেবের কাপড় ঠিক ছিল কি না উপর ওয়ালাই জানেন। গতকাল শালাকে পাঠালাম কাজটা করেছে কি করে নাই একটা খবরও দিল না। কি আর করা। জরুরী তলব, কাউকে কিছু বলারও সময় নাই। আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে কমান্ডারের অফিসে পৌছলেন। জি,ই সাব গাড়ি থেকে নামতেই পি এস বলল স্যার আপনার জন্যই অপেক্ষা করছেন। ধবল ধলাই তাহলে আচ্ছা মতই হবে, কি আর করা। বুকে সাহস করে দরজার পর্দা সড়িয়ে কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই কমান্ডার সাব,
আসুন আসুন জি,ই সাব।ইউ হেভ ডান এ ওয়ান্ডারফুল জব।
কি করেছে জি,ই সাব নিজে কিছুই জানেন না। তাই শুধু ইয়েস স্যার বললেন।
চা বিস্কিট পর্ব সেরে অন্যান্য কাজ কামের খবর নিয়ে এবং কোন সমস্যা হলে জি,ই সাব যেন কমান্ডার সাবকে অবহিত করেন এই বলে একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিলেন। (সমাপ্ত)
০২/০৬/২০১৩ইং

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


মজার গলপ Big smile

আহসান হাবীব's picture


আপু গল্পটা আমি যখন শুনি আমারও খুব ভাল লেগেছিল। আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমার খুব ভাল লেগেছে। সন্ধ্যায় অনেক গরম ছিল, এখন টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। খোলা দরজা ও জাণালা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া উপরে ফেনের বাতাস। বন্ধ করুন চোখ, অনুভুতিতে নিন পরিবেশের এই শীতলতা। তার এক মুঠো পাঠালাম আপনাকে ও আমরা বন্ধুর সকল বন্ধুকে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।