শাদ্দাদের ভূস্বর্গ এবং আরাফাত শান্তর রোদে পুড়া (পর্ব-২)
ইরাম আদ জাতিরই একটি গোত্রের নাম।তাদের রাজত্ব ছিল। তারা বড় বড় ইমারতরাজি নির্মাণ করত। সেসব ইমারতের জান্নাতসম বৈশিষ্ঠ হচ্ছে – তারা তাতে ও অর্ধেক স্বর্ণ আর অর্ধেক রৌপ্যর গাছ বানিয়ে সবুজ যমররদের পাতা সেসব গাছে লাগাত। এসব গাছের ডালপালা সমূহ ছিল লাল ইয়াকুদ পাথরের। রকমারি ফলফলারি এসব গাছে লাগানো হয়েছিল। শাদ্দাদের কল্পিত জান্নাতের মেঝে মাটির পরিবর্তে মেশক আম্বর ও জাফরান দ্বারা ভরে দেওয়া হয়। এর প্রাঙ্গণে নুড়ি পাথরের পরিবর্তে মতি ও অন্যান্য পাথর বিছিয়ে দেয়া হয়। এতে দুধ, মদ্য ও মধুর নহর প্রবাহিত করা হয়। সে তার কল্পিত ভূস্বর্গের দরজায় চার চারটি বিস্তৃত মাঠ তৈরী করে। সে মাঠে ফল ফলারির গাছ লাগান হয়। প্রতিটি মাঠে স্বর্ণ রৌপ্যের নির্মিত লাখ লাখ কুরসী পাতা হয়। প্রতি কুরসীতে হাজার দস্তরখান ও প্রতি দস্তরখানে রকমারি নে,মত রাখা ছিল।
কথিত আছে, এই কল্পিত ভূস্বর্গের নির্মাণ ব্যয় নির্বাহার্থে প্রতিদিন স্বর্ণ-রৌপ্যের চল্লিশ হাজার ভান্ডার প্রেরিত হত। এভাবে তিনশ বছরে কল্পিত ভূস্বর্গের কাজ সমাপ্ত হয়। ভূস্বর্গ নির্মাণ সমাপ্ত হলে কার্যনির্বাহিদেরকে সর্বত্র এ নির্দেশ সহকারে পাঠানো হয় যে, এক দেরহাম পরিমাণ রৌপ্যও কোথাও পাওয়া গেলে তা হাত ছাড়া করবে না। তা এনে ভূস্বর্গে দাখিল করবে। ঘটনা এতদুর পর্যন্ত গড়ায় যে এক নিঃস্ব গরীব মেয়েলোকের মেয়ের গলায় এক দেরহাম রৌপ্যের একছড়া গলবন্ধ ছিল। শাদ্দাদের জালিম অত্যাচারী কার্যনির্বাহীরা এও হাতছাড়া হতে দেয় নাই। তারা এ গলবন্ধটিও মেয়েটির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। মেয়েটি কান্নাকাটি করে মাথা কুটে বলছিল – আমি নিঃস্ব গরীব মেয়ে। এই এক দিরহাম রৌপ্য ব্যতিত আমার আর কিছু নাই। তোমরা এই এক দিরহাম রৌপ্য আমাকে দান করে দাও।
কিন্তু শাদ্দাদ শাহীর জালেমরা কিছুতেই কর্ণপাত করে নাই। তখন গরীব নিঃস্ব মেয়েটি আল্লাহ্র নিকট ফরিয়াদ জানাল-ইয়া ইলাহী! তুমি এই জালিমের জুলুমের যথার্থ ন্যায় বিচার কর- এ জালেমকে দমন কর।
মেয়েটির আহাজারি আর ফরিয়াদ আল্লাহ্র দরবারে কবুল হয়। তা যেন এ কথারি উদাহরন-মজলূমের বদ দোয়া হতে আত্ন রক্ষা করে চল, কেননা মজলুমের বদ দোয়া কবুল হয়েই থাকে।
কথিত আছে, অভিশপ্ত শাদ্দাদ তাঁর শাসনাধীন সমগ্র এলাকা থেকে আতি পাতি করে খুঁজে সুন্দর সুন্দর বালক বালিকা তাঁর দামেশ্কের প্রাসাদে এনে একত্র করে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, এসব বালক বালিকাকে কল্পিত ভূস্বর্গের হুর ও গেলমানের মত সেবাকার্যে নিয়োজিত করবে। দশ বছরকাল পর্যন্ত অভিশপ্ত এই কাফের স্বকল্পিত ভুস্বর্গ দর্শনের কামনা বাসনা পোষণ করতে থাকে। তাঁর এ কল্পিত ভূস্বর্গে সে প্রবেশ করুক তা আল্লাহ্ তায়ালার ইচ্ছা ছিল না। একদিন সে পরিপূর্ণ আগ্রহ সহকারে দুইশ গোলাম সাথে করে তার ভুস্বর্গ দর্শনে গমন করে। ভুস্বর্গের নিকট উপনীত হয়ে গোলামদের সবাইকে মাঠের চতুর্দিকে পাঠিয়ে দিয়ে একটি মাত্র গোলামকে সঙ্গে করে ভুস্বর্গের দরজায় পৌঁছে। তথায় সে এক লোককে দাঁড়ানো দেখতে পায়। শাদ্দাদ তাকে জিজ্ঞেস করল তুমি কে? দাঁড়ানো লোকটি বলল, আমি মালাকুল মউত আজরাইল(আঃ)। শাদ্দাদ আবার তাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি এখানে কেন এসেছ? মালাকুল মউত বলল, তোমার জীবন হরণের জন্য। শাদ্দাদ বলল তুমি আমাকে কিছু সময়ের অবকাশ দাও, যেন আমি আমার নির্মিত ভুস্বর্গ দেখতে পারি। মালাকুল মউত বলল তুমি তোমার স্বকল্পিত ভূস্বর্গে যাও এটা আল্লাহ্র ইচ্ছা নয়। তুমি স্বর্গে কি যাবে তোমার যাওয়ার যায়গা তো হচ্ছে জাহান্নাম! শাদ্দাদ বলল, আমাকে ছাড় আমি ঘোড়ার পিষ্ঠ হতে অবতরন করি। আজরাইল(আঃ) বললেন, না, এটাও আল্লাহ্র ইচ্ছা নয়। এ সময় তার এক পা ঘোড়ার পাদানীতে আর এক পা তাঁর কল্পিত ভুস্বর্গে। এ অবস্থাতেই আজরাইল (আঃ) তার জীবন হরণ করেন। অভিশপ্ত শাদ্দাদ ভূস্বর্গ দেখার মনো ব্যথা নিয়েই জাহান্নামবাসী হয়।
এর পর আসমান থেকে এক ফেরেশতা এমন ভয়ংকর হুংকার ছাড়লেন যে, তার সঙ্গী সাথীদের সকলেই ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। এক গ্রাস খাদ্য মুখে উঠাবার সময়ও এ অভিশপ্ত পায় নাই। সে সময় তার না ছিল সম্পদ না ছিল রাজত্ব। তার সমগ্র রাজ রাজত্ব ধ্বংস হয়ে যায় এবং তার সঙ্গী সাথী অনুসারী অধিনস্ত ও শাসিতদের সকলেই জাহান্নাম বাসী হয়। তার কল্পিত ভুস্বর্গ জমিনে ধবসিয়ে দেয়া হয়। তার কল্পিত ভুস্বর্গের কোন নিদর্শন আর অবশিষ্ট থাকে নাই। (সমাপ্ত)।
১০/০৬/২০১৩ খ্রিস্টাব্দ





পড়া শেষ করুন,
রোজ হাশরের আগেই জানিয়ে দেয়া হলো বেহেসতে যাবে না দোযখে? এটা কেমুন কানডামী!!!!!
এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। একজন মুসলিম হিসেবে কোরআনের প্রতিটি কথাই আমি বিশ্বাস করি। আর যেহেতু কোরআন অন্যান্য আসমানী গ্রন্থ গুলোকে সমর্থন করে।তাই অন্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোর প্রতি আমার সমান শ্রদ্ধা। তবে আমার কোন মানুষের প্রতি বিন্দু মাত্র অশ্রদ্ধা নেই। তাই তো আমি লিখেছি, আমি আস্তিক আমি নাস্তিক আমি মানুষ। ধন্যবাদ আপু।
মন্তব্য করুন