ইউজার লগইন

বুয়েটের বাপ(পর্ব-শেষ )

সকল দিনে যেমন ঝক ঝকে সূর্য কিরন থাকে না বা সব রাত্রি যেমন পূর্নিমার আলোয় ভাসিয়ে নেয় না তেমনি সকল প্রেমের উপাখ্যানও সফলতা লাভ করে না। আবার কারও হয়তবা হতে হতেও হয় না। সকল ফুলে ফল হয়না, সকল গাছেও ফল ধরে না। যাক এ নিয়ে কত বিরহের গান কবিতা গল্প আছে আমার আর এ বিষয়ে কিছু না বললেও সবাই জানি,

পথ হারা পাখি কেঁদে ফিরে একা
আমার জীবন শুধু আধারে ঢাকা।(নজরুল)
অথবা
কাঁদালে তুমি মোরে ভালবাসারই ঘায়ে
কাঁদালে তুমি মোরে।
নিবিরও বেদনাতে পুলকও লাগে গায়ে।
কাঁদালে তুমি মোরে।(রবি)

চিঠিও নাই ঠিকানাও নাই
কোথাই খুজি তারে
জীবন যৌবন কেড়ে নিয়ে
ভিখারী করিল মোরে।
সে যে ভিখারী করিল মোরে।

আমার কল কল ছল ছল ডল ডল যৌবনে
কিসের বান মারিল সে যে বুঝতে নারি ক্ষণে
কিসের ব্যথা কিসের জ্বালা বুজিতে না পারি
ডাক্তার বৈদ্যের সাধ্য কি যে আমায় ভাল করে।
জীবন যৌবন কেড়ে নিয়ে
ভিখারী করিল মোরে।

পড়ার টেবিল কাটার বাগান ঢুকতে গেলেই হানে,
যাকে যায় না ধরা যায় না ছোয়া সেই আমাকে টানে।
কোথায় যাব কি করিব বুঝতে নাহি পারি।
অকালে বুঝি যায় যে জীবন ভালবেসে তোমারে
জীবন যৌবন কেড়ে নিয়ে
ভিখারী করিল মোরে।। (লেখক)

প্রেমের সফলতা আসুক বা না আসুক রবি মামা চলে যাবার সাথে সাথে সকল যাদুর পেটের, পিঠের বা যত রকমের ব্যথা আছে শুরু হয়ে যেত। কারও কাল পরীক্ষা, কারও সেসনাল, কারও রসকষ হীন তারিফ স্যারের ক্লাস। আমিও শালা একটা গাধা, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কোন স্যারের রসকষ ছিল কি? আমি গাধা হলেও একজন স্যারের রসবোধ ছিল এবং আজও আছে, তিনি ইকবাল মতিন স্যার যাঁকে কদিন আগে জনাব হানিফ সংকেত ইত্যাদিতে উনার বিরল কিছু সংগ্রহের জন্য উপস্থাপন করেছিলেন। এই স্যারটি আমাদের ছাত্র জীবনেও প্রচুর আনন্দ দিতেন ক্লাস বা ক্লাসের বাইরেও। উনার বেহালায় সুরের মুচ্ছনায়

মিলন হবে কত দিনে
আমার মনের মানুষেরও সনে।

আজও আমার মন প্রাণ কিসের যেন না পাওয়ার অনুরাগে ছুয়ে যায়। আমিও তাই এক সময় এই গানটি হারমোনিয়ামে তুলি,এখন মন খারাপ বেশী হলে এ গানটা গাই। ছালাম ইকবাল মতিন স্যার।

প্রথম বর্ষে সকাল ৭টায় আমাদের অংকের ক্লাস নিতেন ---- স্যার। সকাল ৭টায় ক্লাসে উপস্থিত হওয়া অনেক কষ্টের, তারপর আমার মত যারা সকালের দুধের স্বর সমান মিষ্টি ঘুমে অভ্যস্ত তাদের জন্য কি পরিমাণ কষ্টদায়ক তা শুধু আমার মত হতভাগারাই জানেন। প্রায়ই আমার সকাল সাতটার ক্লাস করা হতো না। সেদিনও আমি ক্লাসে উপস্থিত ছিলাম না। তবে যারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন তারা কি আমার সাথে একমত না হয়ে পারবেন যে ক্লাসে কোন ছোকড়া বা ছোকড়ি যে কোন বিষয়ে কিছু একটু এদিক ওদিক, সেটি পজেটিভ বা নেগেটিভ, তার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় করেছে তা চাউর হতে কয়েক সেকেন্ডের বেশী সময় লেগেছে কি? সেদিনও তাই পরের ক্লাসেই আমরা সব জেনে যাই, কেও সোনামণির এত সুন্দর ঝারি খাবার জন্য দুঃখ বোধ করি, কেউ মজা লই, যে যাতে তুষ্ট এই আর কি? টোকাই ভাই আপনিই বলেন তো আপনারা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, আব্বা, মামু, খালু জ্যাঠা, আর কাকে কাকে নিয়া আড্ডা বাজি, ডিমবাজি, বাদাম বাজি, চানাচুর বাজি করতেন আপনারাও কি পেরেছেন তা থেকে বাঁচতে। তেমনি আমাদের বন্ধু টিপুও বাঁচতে পারেনি। আজ ও কত বড় অবস্থানে চাকরি করে তা আপনাদের বললে আপনারা বলবেন হায় হায় বলে কি? কিন্তু আমার বন্ধু সাপ্তাহিকের সাংগাতিক সাংবাদিক মুহিত কাকুর ভাতিজা শুভ কিবরিয়া ওকে শুধু মেরেই খ্যান্ত হয়নি ২২ বছর পর মরে যাওয়া কাহানিকে কবর থেকে তুলে আবার পোষ্ট মর্টেম করেছে। তাই তো ২২ বছর পর আমার কাছে সব কিছু চান্দের রাইতের লাহান ফকফকা লাগতাছে।

টিটু, এই শালা, তোরে এহন এই নামে কেউ চিনেনা তুই এত ডরাস কেন? ঘটনা হইল আমাদের এই শান্তশিষ্ট বন্ধুটি ক্লাসের পিছনের দিকের বেঞ্চে বসে পাশের জনের সাথে কিছু একটা বাক্য বিনিময় করছিলেন। সম্ভবত স্যারের কর্ণ গোচর হইয়া থাকিবেন। স্যার যখন পিছন ফিরে শেষ জীবনের চশমা পরিহিত আবছা দৃষ্টি, বন্ধুটির উপর প্রক্ষেপণ করিলেন তখন তিনি তার শরীর মোবারকের কিছু ভাষাও হয়ত আবছা আবছা লক্ষ্য করিলেন। তার সহিত তিনি উনার যৌবন কালের দৃষ্টিতে দেখিলে যাহা দেখিতেন তাহাও মনে মনে অংক কশিয়া যোগ করিয়া লইলেন। উনার নিজের ছাত্র জীবনের অভিজ্ঞতা থাকাটাও অবাঞ্চিত কিছু নয়। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংকের শিক্ষক উনার হিসেবে ভুল হইতেই পারে না। আর বিধাতা উনাকে মাশাল্লা দৈর্ঘ,প্রস্থ এবং এ বয়সেও যেমন জিরো ফিগার ধরে রেখেছেন তাতে সৃষ্টি কর্তাকে কৃতজ্জতার উপর কৃতজ্জতা দিলেও শোধ হইবে না, তবে মস্তকোপরি চুলগুলো উনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটু বেশীই সফেদ রং ধারন করিয়াছে এই যা। তবে কেউ উনার মস্তকের মায়া ছাড়িতে পারেন নাই বলিয়া, বলিতে গেলে সবাই বহাল তবিয়তেই এখনও বর্তমান আছেন। এই সব পর্যবেক্ষন করিলে উনি যখন আমাদের বয়সের ছিলেন তখন কত ললনার রাতের ঘুম কাড়া বা হাটতে গিয়ে হিলের ফিতা ছেড়ার ঘটনা ঘটিয়াছে তা আন্দাজ করা মোটেই কষ্টকর মনে হয়না।
উনি অর্ধ চিৎকার করে উঠিলেন এই উঠ, টিটু প্রথমে বুঝিতে পারে নাই, তাই ইতস্তত করছিল। হ্যাঁ হ্যাঁ তুমি?
কৌন--কলেজ থেকে পাশ করেছ?
পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে।
স্যার তখন রিতিমত রাগে কাঁপছিলেন?
স্যারের মুখ থেকে বেরিয়ে গেল, হউক সে সিরাজগঞ্জ?
বলা বাহুল্য স্যারের বাড়ি ছিল সিরাজগঞ্জ!
কেউ মাঝখান থেকে টিপ্পনি বা ওকে বাঁচানোর জন্য বলল জি স্যার সিরাজগঞ্জ।
হউক সে সিরাজগঞ্জ? বের হও ক্লাস থেকে! স্যার তখনও কাঁপছিলেন, তুমি আমার সাথে বেয়াদবি কর। কোন জঙ্গল থেকে এসেছ? জান আমার ছেলেও বুয়েটে পড়ে, আর তোমরা আমার সাথে বেয়াদবি কর।
বের হয়ে যাও ক্লাস থেকে?
কি, আর করা, আমাদের শান্ত শিষ্ট, বন্ধুটি অনেকটা কোটরাশ্রু সংবরণ করতঃ কক্ষ হইতে প্রস্থান করিলেন।
এক সময় ক্লাস শেষ হইলেও কেহ আর ক্লাসে মন বসাতে পারে নাই। স্যারও পারেন নাই। ক্ষণিকের আবেগে স্যার যে ভূলটি করিলেন, ক্ষনিকেই তিনি তা বুজিতে পারিয়াছিলেন। তাই হয়ত যাবার সময় বলে গেলেন, ওকে তোমরা বলো, আমি মন থেকে ওকে বকা দেইনি?
সব কিছু ঠিক হয়ে গেলেও স্যারের নামটা সে দিন থেকে আমাদের মাঝে বুয়েটের বাপ হিসেবেই স্থায়ী ভাবে অংকিত হয়ে গেল। বুয়েটের বাপের আড়ালে উনার আসল নামটিও আমাদের মাঝ থেকে তিরোহিত হল। তাই আজ আর আমি উনার আসল নাম মনে করতে পারছি না। তাই উনার নামের জায়গায় ---- দিয়ে রেখেছি। কারও মনে থাকলে জানিও আমি লিখে নিব। এখানেই যদি কাহিনীটা শেষ করতে পারতাম তাহলে কতই না আমি/আমরা খুশি হতাম। আর তা হলে হয়ত আমার অনেক কটা পর্ব নিয়ে এ লেখার কোন প্রয়োজনই হতো না।
প্রত্যেক বাবা মায়ই তার সন্তানের কৃতিত্বে গর্বিত হয় আর এ গর্বের কথা কাছের জনদের শুনিয়ে অনেক তৃপ্তি পায়। একজন শিক্ষকের সবচেয়ে কাছের জন হল তার ছাত্ররা। তাই স্যার ছেলের পরীক্ষার আগে আমাদের জানাত, রেজাল্ট হলে জানাত, সব সময় স্যারের ছেলে ভাল রেজাল্ট করত, মাঝে মাঝে মাঝখান থেকে কেউ কেউ বলে উঠত স্যার মিষ্টি চাই। এইতো আর কটা সেমিষ্টার তারপর তোমাদের সবাইকে দাওয়াত করে খাওয়াব।
বন্ধুরা বিশ্বাস কর আজ আমি পিতা, শেষ দৃশ্য লিখতে আমার আংগুল কি বোর্ডে চলছে না। আমি কি বোর্ডের ফন্ট গুলো চশমা পড়েও ঝাপসা দেখছি। এমনটা আমার ফিরে দেখা গল্পের শেষ দৃশ্য লিখতে হয়েছিল। আমার বংশের জীবিত একমাত্র চাচা (শামছুল চাচা) আমার লেখার সে শেষ দৃশ্য পড়ে কেঁদেছিলেন। আর চাচী আমাকে ফোন করে তা জানিয়ে ছিলেন।
আমরা তখন শেষ বর্ষে, প্রথম ক্লাস বাং মেরে বিশুদার ইটালী হোটেলে হাসের আণ্ডা, ভাজি ও আধা গরম চা গিলে এডমিন বিল্ডিং এর সামনে ছায়াঘেরা বৃক্ষতলে কয়েকজন গ্যাজাচ্ছিলাম । এমন সময় স্যারকে দেখি হেটে যাচ্ছেন। যেন চেনা যায় না। চুল গুলো উস্কু খুস্কু, জিরো ফিগার মাইনাস হয়ে দেহাবয়বটা ধনুকাকৃতির হয়ে গেছে। সামনে বড় কিছু পাবার পাচ্ছি এমন আকাঙ্ক্ষায় মুখাবয়বে যেমন একটা উজ্জল অভিব্যক্তি থাকে সেটা কোথায় যেন হাড়িয়ে গেছে। হাঁটছে তবে পা দুটি যেন উঠতে চাচ্ছে না। গাধা ঘোড়ার পিঠে যখন অতিরিক্ত বোঝা চাপান হয় তখন ওরা পিঠে চাবুক না পড়া পর্যন্ত চলতে চায় না, আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল কোন অদৃশ্য কিছু যেন স্যারের পা দুটিকে চলতে বাধ্য করছে তাই চলছে।
আমি বললাম,বুয়েটের বাবা না, এমন চেহারা হল কেন? আমার সাথের যারা ছিল তারা মনে হয় সকলেই জানত তাই স্বভাবিক ভাবে বলল, এমন জোয়ান ছেলে যদি মারা যায় তা হলে এ বয়সে বাপের চেহারা আর কি হবে। বলিস কি, আমি তো জানি না। তবে এখন জানলাম। বন্যা বা ঘুর্ণি ঝড়ে ক্ষতি গ্রস্থ মানুষদের সাহাযার্থে বুয়েট ছাত্রদের একটি টিম ত্রাণ সাহায্য বিতরণে দুর্যোগ কবলিত এলাকায় যায়। ফেরা অথবা যাবার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় পুড়ো টিম আহত ও দুজন ছাত্র মারা যায়, যার একজন আমাদের বুয়েটের বাপের কলিজার টুকরা আমাদের বড় ভাই, দেশের একটি সম্পদ অসময়ে ঝড়ে যাওয়া একটি ফুল, যে ফলে পরিণত হতে পারেনি।

আমাদের সাথে সে সময় কয়েকজন সেনাবাহিনীর সদস্য পড়তেন, যারা লেফটেন্যান্ট থেকে কর্ণেল র্যাংপকধারী ছিলেন। কিন্তু উনারা আমাদের সাথে এমন ভাবে মিশতেন কখনও মনেই হত না উনারা সেনাবাহিনীর মত একটি বিশেষ সরকারি সংস্থায় এত উচ্চ পদে আসীন। আমারা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে উনাদের কাছ থেকে অনেক সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। কয়েকজনের সাথে আমার এমনই গবীর সম্পর্ক হয়ে যায় যে আমি বিয়ে করার পর রাজশাহীতে এলে তাদের বাসায় উঠতাম যেন আত্নীয়ের বাসা না উঠলেই নয়। তাদেরই একজনের কাছে জেনেছিলাম স্যারের দুঃখ ভরা সময়ের কাহিনী।
স্যারের ছেলেটি মারা যাবার পর স্যার অনেকটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ক্লাসে পড়াতে পড়াতে প্রসঙ্গ এলেই কেঁদে ফেলতেন। শহরের যান্ত্রিক জীবনের যান্ত্রিক মানুষগুলোর সময় পাওয়া খুবই দুরহ। তবুও যদি কাউকে পেতেন ছেলের কথা বলতে বলতে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠতেন। একদিন সেই আর্মি অফিসার ভাইটির( যিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হয়ে বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত) সাথে দেখা, স্যার উনাকে জরিয়ে ধরে এমন ভাবে কাঁদছিল যে মনে হচ্ছিল কান্নাও যেন কাঁদতে না পারার বেদনায় কাঁদছিল। শরীরের সমস্ত অঙ্গ গুলো না পারার অসহায়ত্বের কথা জানান দিচ্ছিল।
লাকাদ খাকনাল ইন সানা ফি আহসানির তাকবিম, ছুম্মা রাদাদ না ফি আস্ফালাস সাফেলিন।(সুরা ত্বীন)
অর্থঃ আমি মানুষকে নিশ্চয়ই সুন্দর অবয়বে তৈরী করেছি, অতঃপর তাকে ছোট হতে ছোট বানিয়ে দেই।
উপরে বর্ণিত আয়াতটি আমাদের জীবনের বাস্তবতার সাথে কতটুকু অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আমরা কৈশোর, যৌবন কালটা শুধু শারিরিক সৌন্দর্যেই সৌন্দর্য মণ্ডিত নই, বরং আমাদের গায়ের শক্তি, মনের জোর, অজেয়কে জয় করার বাসনা কত কি থাকে?
কিন্তু বয়স যখন ৪০ পার হয় তখন আস্তে আস্তে তার বিপরীত দিক দেখতে পাই, অবশ্য আমরা যারা ৪৫ পার হয়েছি তারা সেটা হারে হারে টের পাচ্ছি। বয়স যখন ছিল ২৪-২৫বছর দিনে ২-৩ বার নির্মানাধীন ২৩ তলা ইমারতের ছাদে উঠতাম। ২৫০-৩০০ কিঃমিঃ মোটর সাইকেল চালাতাম। আজ তা করা তো অনেক দুরের কথা লক্ষ টাকার বাজিতেও রাজি হওয়া যাবে না। আমি অনেক বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে দেখেছি যে তারা বসলে দুই হাটু ও মাথা এক সাথে হওয়াতে আমরা তাদের তিন মাথা ওয়ালা বলতাম।
যাক , আমাদের স্যার ( বুয়েটের বাপ) একে তো বয়সের ভার উনাকে ক্লান্ত করে তুলেছিল সাথে তার পৃথিরীর সমান বোঝা ছেলের লাশ কাঁধে চেপে বসল। এত ভার বয়ে চলা একজন বয়ঃ বৃদ্ধ মানুষের পক্ষে কতদূর সম্ভব। উনার পক্ষেও চলা সম্ভব হয়নি। আর ছেলের অহর্নিশি আহবান বাবা তোমাকে ছাড়া আমার ঘুম আসে না। তুমি আস বাবা আমাকে একটু ঘুম পাড়িয়ে দাও। এই দেখনা বাবা এখান থেকে আমার অনেক রক্ত ঝরেছিল, আমার আজও বুকের পাঁজরে ব্যথা হয়। রাবারের বায়ু ভর্তি টায়ার গুলি আমার বুকে উঠে যাবার পড় আমি আর কিছু মনে করতে পারছিলাম না। তুমি আস বাবা, তুমি এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি না আমাকে কত আদর করতে, আমি ঘুমিয়ে পড়লে তুমি আমার সাড়া শরীরে হাত বুলিয়ে দিতে, তুমি কি মজা পেতে বাবা! বুয়েট ছুটি হলে আমি যখন বাড়িতে যেতাম, কত রাত আমার ঘুমন্ত শরীরে তুমি হাত বুলিয়েছ। তুমি ভাবতে আমি ঘুমিয়েছি, না বাবা আমি ঘুমোলেও টের পেতাম আর চোখ বুজে তোমার আদর নিতাম। তাই আমি ডাকছি তুমি চলে আস বাবা। বাবাও ছেলের আহবান বেশী দিন ফেলতে পারেননি, তাই ছেলের আহবানে নতুন দেশে ছেলের নতুন বাড়িতে চলে গেছেন। আজ বাপ ছেলে হয়ত অনেক সুখে আছেন। আল্লাহ্‌ যেন তাদের সুখেই রাখেন। আমিন।
১৪/০৬/২০১৩ খ্রীঃ
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


সব পর্বগুলো একসাথে না দিয়ে শুধুমাত্র শেষ পর্বটা এখানে রাখুন আর বাকিগুলোর লিংক দিয়ে দিন।

আহসান হাবীব's picture


ধন্যবাদ । কেমন আছেন?

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ভাল আছি। আগের পর্বের লিঙ্কগুলো দিয়ে দিতে পারেন।

তানবীরা's picture


খুবই বেদনার

আহসান হাবীব's picture


হ্যাঁ আপু,

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।