মারুফ প্রতীক ভাইয়ার দুই টাকা
মারফ ভাইয়া আপনার দুই টাকা গল্পটা আমাকে এত বেশী নাড়া দিয়েছে যে আমি বাধ্য হলাম কিছু লিখতে। আপনি আপনার অসাধারন লেখার স্টাইলে যেভাবে একটি অসহায় ক্ষুধার্থ কিশোরকে দু টাকার একটি ছেড়া নোট প্রদান করার চিত্র তুলে ধরেছেন। তা আমাদের সমাজের তথাকথিত কিছু বিত্তবানের বাস্তব চরিত্রের বাস্তবতাই ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনি নিজেই লেখেছেন এটা বাস্তব গল্প।
প্রথমে টাকা দুটি পেয়ে ছেলেটি যে ভাবে আকাশ ছোয়া আনন্দে আত্ন হারা হয়েছিল। সে রকম আকাশ ছোয়া আনন্দ হঠকারী দান কারিটিও হতে পারত, মহান রাব্বুল আলামিনের দানের বদৌলতে। কোরআন হাদীসের বহু হায়গায় দানের ফজিলতের কথা বলা আছে।যা আমরা মুসলিম মাত্র সবাই জা্নি। তাই ওই দিকে আমি যাব না।
দান করা একজন মুসলিমের জন্য ফরজ বা অবশ্য করনীয় যাহা আমরা জাকাত হিসেব জানি। তবে যাকাত প্রদান কারার কিছু সর্ত আছে। অসহায় দরিদ্রকে সাহায়্য করার ব্যপারে কোন সর্ত নেই। যে কেউ তা করতে পারে।
হযরত আবুবক্কর (রাঃ) একবার এক মুষ্টি চাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) দরবারে নিয়ে এসেছেন। সবার দান গ্রহণ করার পর ( বিপুল অংকের দান) নবীজী হযরত আবুবক্কর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবুবক্কর আপনি আপনার ঘরে কি রেখে এসেছেন। উত্তর হল আমি আমার ঘরে আল্লাহ্ ও আল্লাহ্ নবীর নাম ব্যতীত আর কিছু রেখে আসিনি। যতটুকু জানি হযরত আবুবক্কর (রাঃ) এ দান টিই ছিল সর্বোত্তম দান।
তা ছাড়াও আল্লাহ্ দান করার বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই আমরা অসহায় দরিদ্রকে যে দান করি তা তাদের প্রতি করুনা নয় বরং এটা ওদের হক এবং আমরা তাদের কে দিতে বাধ্য। আমি কোন আলেম নই, ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত নই। তাও যতটুকু জানি তা থেকেই বলছি।
২:২ যালিকাল কিতাবু লা রাইবা ফিহ্; হুদাল্লিল মুত্তাক্বীন।
অর্থঃ এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই, এটা মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত স্বরূপ।
২:৩ আল্লাযীনা ইয়্যু মিনুনা বিল গাইবি ওয়া ইউকিমুন্না সালাতা, ওয়া মিম্মা রাজকনাহুম ইয়্যুনফিকুন।
অর্থঃ এটা পথ প্রদর্শক যারা অদৃশ্য বস্তু সমুহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং যারা নামাজ কায়েম করে এবং আমার দেয়া রিজিক থেকে দান করেন।
আল কোরআনের শুরুতেই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন দান করতে বলেছেন। কেও যদি না করেন তবে তাকে বাধ্য করার কিছু নেই। আল্লাহ্র নির্দেশ অমান্য করার জবাব তিনি তাঁর কাছে দিবেন। কিন্তু ছেড়া নোট দিয়ে অবুঝ ছেলেটির সাথে যে প্রতারণা করা হল তা ধর্মীয় বিধানের বাইরে মানবতার অপরাধেও কি অপরাধী নয়। তবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম দান কারীর ভাগ্নি মৌয়ের যে বিরুপ অনুভুতি হয়েছিল তা আমাদের নতুন আলোর আভাস দিচ্ছে। আমি আমার প্রায় লেখায় আগামী প্রজন্মের প্রতি আমার সকল বিশ্বাসের সাফল্যের চুড়ায় স্থান দেই এবং আশা করি একদিন তা হবেই। মারুফ ভাই আপনার এ অসাধারন পোষ্টটির জন্য আপনাকে জানাই অশেষ স্রদ্ধা ও ছালাম। মানবতার জয় হউক।
২৬/০৭/২০১৩ খ্রীঃ





এটি আসলেই একটি সত্য ঘটনা,যার সাথে ঘটেছে তার কাছেই শোনা।গোপনীয়তার খাতিরে চরিত্রগুলো পরিবর্তন করতে হয়েছে।তবে বাকি সব সিচুয়েশন সত্য। "সে রকম আকাশ ছোয়া আনন্দ হঠকারী দান কারিটিও হতে পারত, মহান রাব্বুল আলামিনের দানের বদৌলতে।" কথাটা নির্মম সত্য যা দেখার সৌভাগ্য সাধারণত আমাদের হয়না।
এমন ঘটনা বিরল নয়। আমরা দান করার ক্ষেত্রে প্রায় সবাই অবহেলা করি। আমরা যদি ভাবি আমাকেও তো আল্লাহ এমন করে বানাতে পারত। বাবা মা হারা এতিম করতে পারত। যাক ভাল থাকবেন ভাই। আগাম ঈদের শুভেচ্ছা রইল।
ব্লগে অনেক অলিখিত নিয়ম থাকতে। যদি ভুল না করি, তা একটা হল কোনেকটা লেখার আলোচনাটুকু সে লেখাতেই রাখা।
আপনার এ লেখাটা যেমন, মারুফ প্রতিকের লেখাটার একটা আলোচনা বা বর্ধিত 'কমেন্ট' বলতে পারেন, শিরোনামেই স্পষ্ট এটা- এ লেখাটা হয়ত সেখানেই থাকা উচিত ছিল।
আর নয়ত, পোস্টের আলোচনা বা কথা চালাচালিটুকু নিষ্প্রাণ থাকে, না লেখকের আগ্রহ বাড়ায় লিখতে না পাঠকের আগ্রহ বাড়ায় কিছু বলতে।
একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।
মর্মের সাথে একমত। যে লেখা পড়ে আপনার অনুধাবন কিবা কোন আলোচনা সেটা প্রাসঙ্গিক পোষ্টেই করা যুক্তিযুক্ত মনে করি। এখানে নতুন একটা পোষ্ট দেবার দরকার লাগে না, এক্ষেত্রে যা হবে, পোষ্টেই আলোচনা চলবে, পাঠক প্রাসঙ্গিক পোষ্ট পড়লেই যা জানার জানবেন। নতুন লেখা পড়ে আবার গিয়ে লিঙ্ক ধরে অন্য লেখা পড়া দরকার হবে না।
আর লেখক নিজেই যথেষ্ট ভালো লিখতে পারেন, বারংবার অন্যের পোষ্টের সূত্র ধরে নতুন লেখা আনার কি প্রয়োজন।
একমত
ভেবে দেখব
ভেবে দেখব
মন্তব্য করুন