আমার আকাশ দেখা(তৃতীয় পর্ব)
চোখের বা মনের হেলোসেনেশন যাই হউক না কেন মিতা নুর আজ আর এ পৃথিবীতে নেই। এটাই সত্যি। এত সুন্দর এত মায়াময় পৃথিবীকে ছেড়ে, যার পৃথিবীটা আমার বা আপনার বা সাধারনের চেয়েও অনেক অনেক বেশী আলোকোজ্জল, বর্ণিল ও মায়াময় সে কেন এভাবে চলে যাবে? তার মৃত্যু হত্যা না আত্নহত্যা তা আমরা এখনও জানি না। যদি ধরি আত্নহত্যা তবে আত্নহত্যার মিছিলে আরও একটি নাম যুক্ত হল। আত্নহত্যা সর্বস্তরের মানুষেরাই করে। তবে শোবিজ জগতের যদি কেউ তা করে তবে এটা অনেক কষ্টকর হয়। একজন মানুষ এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলে সে তো চলেই গেল,তার পক্ষে এ পৃথিবীর কোন কিছুই জানা বা শোনা সম্ভব নয়, কিন্তু তার যারা আত্নীয় স্বজন, তাদের তার শোক কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগে। যার এ জগতে যত বেশি অবদান তার শোক কাটাতে ততই বেশী সময় লাগে। তাই শোবিচের কেউ চলে গেলে তার আত্নীয় স্বজন ছাড়াও তার ভক্তরাও অনেক কষ্ট পায়। আর মৃত্যু যদি হয় অস্বাভাবিক তবে কষ্ট বেশী হবার সাথে সাথে হাজারও কষ্টকর প্রশ্নের জন্ম দেয়। এমনি ভাবে মায়া হাজারিকা যখন চলে যান তার ভক্তরা অনেক আহাজারি করেছে। কেন মানুষ এভাবে চলে যায়। মানুষ তো বাঁচার জন্য কত কষ্ট করে। দেশ হতে দেশান্তরে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, আত্নীয় স্বজন, প্রিয়তম সন্তানকে ছেড়ে পরবাসে বা সমুদ্র বক্ষে কাটিয়ে দেয়। মানুষ ছুটে চলে জীবিকার তাগিদে, শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য। মানুষের কাছে তার জীবনটাই যে সবচেয়ে মুল্যবান। তবু কেন সবাই চলে যায়, তবে কি তার (মৃত্যু) ভালবাসাই সবার চাইতে বেশি।
মনে হয় তাই, বন্ধু মৃত্যু, সে একবার যাকে ভালবাসে তাকে অনন্ত অসীম কাল ভালবেসে যায়। ঝড়ঝঞ্ঝা, সোনামী, টাইফুন, মহামারী, ক্ষুধা-দারিদ্র রোগ-শোক যত কষ্টই আসুক না কেন সে তার ভালবাসার নীড়ে, ভালবাসার বন্ধনে তাকে ধরে রাখবেই। তাই নশ্বর এই পৃথিবীর স্বার্থের ভালবাসাকে তুচ্ছজ্জান করে অফুরন্ত ভালবাসার টানেই সবাই ছুটে যায়। আজ যারা এ পৃথিবীর ভালবাসা কাটিয়ে পরম বন্ধু, মৃত্যুর ভালবাসার কাছে চলে গেছেন, তারা যেন তার অকৃত্রিম, অফুরন্ত ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকেন, এই কামনাই করি।
আমি আমার দক্ষিনা বারান্দায় এসেছিলাম আকাশ দেখবো বলে, আজ তিন রাত চলে গেল, আমার আকাশ দেখা এখনও হল না। আজ আর কারও বাঁধাই মানব না, আজ আমি আকাশ দেখবই। আলোকোজ্জ্বল ইমারতটির উপর থেকে আঁখি দুটোকে আরও এক ডিগ্রী উন্নতি কোণে উঠালাম। একি এ আবার কে সামনে এসে দাঁড়াল। এ তো মনে হয় আকাশের শেষ সীমায় উঠার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নইলে এমন করবে কেন? কোন একটি তলার কাজ শেষ না করেই পরের তলার ছাদ ঢালাই করছে। দুই কি তিন সেট সাটার ব্যবহার করে শুধু ছাদের পর ছাদ ঢালাই করে যাচ্ছে। এ নিশ্চয়ই আকাশের শেষ প্রান্ত ছুবার জন্য এমন করে যাচ্ছে। আচ্ছা এমন একটি কাহিনী কোথায় যেন শুনেছিলাম। ঠিক মনে করতে পারছি না। কি জানি ঘটনাটা, আচ্ছা আমার টুনটুনি/কাঠঠোকরা পাখিটার কাছ থেকে একটু ঢু মেরে আসি। এখন ও রান্নায় ব্যস্ত। একটু এদিক সেদিক হলেই কাঠ ঠোকরার ভুমিকা নিবে। তবু যাই যদি ঘটনাটা মনে হয়ে যায়। তাতে এক দুটা ঠোকর না হয় সহ্য করলামই।
না তেমন কিছু সহ্য করতে হয়নি। রান্নার গন্ধেই ঘটনাটা মনে পড়ে গেল। আর ভাল কিছু রান্না করছে তাই কাঠ ঠোকরা নয় গিন্নিটা টুনটুনি পাখির মেজাজেই আছে। আর থাকবেই না কেন আমার মেয়ে যে ওকে ওর কাজে সাহায্য করছে।
যাক আগে ঘটনাটা বলি, পড়ে আবার হাড়িয়ে ফেলতে পারি।
ঘটনাটা শুনেছিলাম বাহরাইনে কাজ করার সময় মিঃ টেরি কুইনের কাছ থেকে। এই বৃদ্ধ আমাকে অবসরে বাইবেলের নানান কাহিনী শোনাত। মি ও মিসেস কুইনই একমাত্র দম্পতি যাদের আমি পেয়েছি নন ডিভোর্স, আর কাউকে পেয়েছি বলে মনে করতে পারিনা। এই কুইন দম্পতির সাথে আমার এতই ঘটনা বা স্মৃতি আছে তা দিয়ে ছোট খাট একটা উপন্যাস লেখা যাবে। তবে আজ ওদিকে যাব না। উনি অবসরে গেলে আমেরিকা যাবার আগের দিন আমি যে কবিতাটা উনাকে উপহার দেই, পড়ার পর ও আমাকে এমন ভাবে বুকে চেপে ধরেছিল যে আমার ওর সে আলিঙ্গনটা ওদের সামাজিক প্রথাসিদ্ধ নয় বরং অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে নিখাত ভালবাসার আলিঙ্গনই মনে হয়েছিল। ও আমাকে বলেছিল আমি তোমার এ অমূল্য উপহারটি লেমিনেটেট করে গ্লাসে বাঁধিয়ে রাখব।
ঘটনাটা এবার বলি। পৃথিবীতে মানুষ বাড়তে বাড়তে একসময় সাড়া পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল। তাদরে ভাষা ছিল অভিন্ন। তাদের সম্পদ শক্তিমত্তাও ছিল অসীম। তারা একজন আরেকজনকে বলল, চল আমরা মাটি দিয়ে ইট বানাব এবং আগুনে পুড়িয়ে তাদের পাথরের মত শক্ত বানাব। অতঃপর তাদের একটার সাথে আর একটা জোড়া লাগিয়ে ইমারত তৈরী করব। আর জোরা লাগানোর কাজে আমরা বিটুমিন বা আলকাতরা ব্যবহার করব। এভাবে আমরা এমন একটা ভবন তৈরী করব যা স্বর্গ পর্যন্ত এমন কি তা স্বর্গের থেকেও উচু হবে। যেই কথা সেই কাজ। আরম্ভ হল স্বর্গ গামী ভবন তৈরীর কাজ। এবার লর্ড বা গড যাই বল উনার টনক নড়ল এবং তিনি স্বর্গ থেকে নিচে নেমে এসে দেখলেন, এরা যেভাবে উপরে উঠে আসছে তাতে স্বর্গ পর্যন্ত আসতে ওদের কোন সমস্যাই হবে না। আর একবার যদি ওরা এ কাজে সফল হয়ে যায়, তাহলে ওরা যা খুশি তাই করবে। শেষে আমাকেই না ওরা স্বর্গ থেকে বের করে দেয়। গর্ড দেখল, একাজ যারা করছে তাদের সকলের ভাষা এক এবং একই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন। তা হলে কি করা যায়? আচ্ছা ওদের ভাষা যদি আলাদা আলাদা করে দেয়া যায় তবে তারা কেউ কারও ভাষা বুঝতে পারবে না। আর কাজও করতে পারবে না। গর্ড তাই করলেন। ফলে কি হল, কেউ কারও ভাষা বুঝতে না পারার জন্য কাজ গেল বন্ধ হয়ে। শুধু কি তাই কেঊ যখন বলছে আমাকে ইট দাও, অপরজন তা শুনছে তাকে গালি হিসেবে। সে রেগে গিয়ে তাকে দিচ্ছে মাইর। আবার অন্য আর একজনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটল, এমনি করে এক বিশাল হট্টগোল ও মারামারিতে কাজ তো বন্ধ হলই তাদের নিজেদের বানানো সাধের ইমারত তারা নিজেরাই ধ্বংস করে ফেলল। এই স্থানটিকে বাবেল বা হট্টগোলের শহর বলা হয়। গর্ড গডের স্থানেই থাকল, আর মনুষ্য জাতি বিভিন্ন ভাষায় ছড়িয়ে পড়ল সাড়া পৃথিবীতে।
এই কাহিনীটিকেই অনেকে অন্য ভাবে উপস্থাপন করেন, নমরুদ ও হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মধ্যকার বিরূধ ও নমরুধের গর্ড হত্যার পরিকল্পনা হিসেবে। (নাউজুবিল্লাহ্)
বাইবেলে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে আব্রাহাম কিন্তু নমরুধ কে কি নামে উপস্থাপন করা হয়েছে তা আমার জানা নাই।
নমরুধ একদিন ইব্রাহিম (আঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, তোমার খোদা কোথায় থাকে? হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বললেন আকাশে বা স্বর্গে। নমরুধ বলল ঠিক আছে আমি তোমার খোদাকে আকাশে গিয়েই মারব। তারপর সে ইমারত নির্মাণ শুরু করে এবং তার পরিণতিতে যা ঘটে তা উপরে বর্ণনা করা হয়েছে।
অপরদিকে কোরআনের আলোকে কাসাসুল আম্বিয়া গ্রন্থে ইব্রাহিম (আঃ) কে চ্যালেঞ্জ ও নমরুধের আল্লাহ্ তায়ালাকে হত্যার (নাঊজুবিল্লাহ) মিথ্যা দম্ভকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। (চলবে)
০৬/০৮/২০১৩ খ্রীঃ





জ্বী পড়ছি ........
মন্তব্য করুন