ইউজার লগইন

জন্তু জানোয়ার না সৃষ্টির সেরা মানুষই মানুষের শত্রু।

গত ফেব্রোয়ারী,০৫,২০১৪ তারিখ রাতে রেকর্ড করা ভুত এফ এম শুনছিলাম। এখানে এফ এম ব্যান্ড শুনা যায় না, তাই এবার ঢাকা গেলে, ছেলে ৭টি রেকর্ড করা ভুত এফ এম দিয়ে দেয়। শুনতে শুনতে নিদ্রাদেবী এসে চোখের চারপাশে ঘুরঘুর করছিল। সারাদিনের কাজের শেষে ঘুমুতে যাবার এ সময়টা আমার সব চাইতে প্রিয়। আমার এক চাচা আমাকে শিখিয়ে ছিলেন যখন ঘুমুতে যাবি, সাড়া দিনের সকল জঞ্জাল মাথা থেকে কিক আউট করবি। দেখবি সহজে ঘুম এসে যাবে। উনি আরও একটা কথা বলতেন, তুই যেদিন এ দুনিয়াতে এসেছিলি কি নিয়ে এসেছিলি, তাই কোন কিছু নাই বা কিছু পাওয়ার জন্য নিজের অন্তরের শান্তি নষ্ট করার প্রয়োজন আছে কি? আর যখন যাবি যেমন এসেছিলে, তেমনি যেতে হবে। সারাদিন কর্মের খাতিরে কিছু চিন্তা তো আসবেই কিন্তু আল্লাহ্‌ রাতটাকে দিয়েছেন বিশ্রামের জন্য, তাই সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে মস্তিস্কটা ফাকা করে নিবি তবেই নিদ্রাদেবী উজার করে তাঁর কোলে টেনে নেবে। আমি যতদুর পারি এটা করার চেষ্টা করি।
অনেক শুনা হল ভুতের কাহিনি তাই এয়ার এয়ার ফোনটা খোলব খোলব করছিলাম, এমন সময় অপরিচিত একটা নম্বর থেকে কল আসল। আমি সেভ করা নেই বা অপরিচিত নম্বর এটেন্ট করি না। পর পর তিনবার রিং হল, ধরলাম না। ঘুম ঘুম ভাবটা কেটে গেল। টয়লেটে গেলাম, এর মাঝে আরও দু বার রিং হল। টয়লেট থেকে এসেছি, আবার রিং হল। এবার ধরলাম, ভাবলাম শফিক দুলাভাই দুদিন আগে মারা গেছেন। তাই উনার বাসা থেকেও হতে পারে। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে যে নামটি বলল তা অস্পষ্ট কিন্তু শেষে খান কথাটা বুঝা গেল। কয়েকবার রিপিট করেও বুঝতে পারলাম না। আমি যতই বলি ভাল করে বলেন বুঝতে পারছি না। প্রতিবারই একি অবস্থা, অগত্যা বিরক্ত হয়ে বললাম, যাক বলেন এত রাতে কি জন্য ফোন করেছেন?
আপনি আগামী কাল সকাল দশটায় মডেল থানায় দেখা করবেন? কি ব্যপার বলুন তো? এসব ব্যাপারে আমার এল পি এস ও(Local problem solving officer) তো সব দেখাশুনা করে আমাকে এত রাতে ফোন দিলেন কেন? কেন জানি মনে হল উনি একটা ধাক্কা খেলেন। উনি নিজকে সামলে নিয়ে বললেন, আপনার ব্যক্তিগত দুটা কেস এসেছে তাই আপনাকেই আসতে হবে,আর না এলে আমরা আপনাকে পাতাল থেকে হলেও খোঁঝে বের করব।
আমাকে পাতাল পর্যন্ত খোজার দরকার নেই। আমি নিজেই আসব। ফোন রেখে দিলেন।
আমি আবার রিং করে জিজ্ঞেস করলাম, কি ব্যাপারে একটু হিন্টস দিবেন কি? না কাল আসেন সব বুঝে যাবেন। আমি প্রশ্ন করলাম আমার নামে অভিযোগ থাকলে ওয়ারেন্ট সহ ফোর্স পাঠান, আমি যাব কেন? এত কিছু বলতে পারব না। বলেই ফোন রেখে দিলেন।
আমি প্রথমে আমার এল পি এস ও কে ফোন করব ভেবেও এত রাতে ফোন না করে SMS করে দিলাম। কাল সকাল আটটায় অফিসে আস।
আমাদের লোকাল সহযোগী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাপ্লাইয়ারকে ফোন করলাম। উনি ফোন রিসিভ করলেন না। মিনিট দুয়েক পর উনার বড় ভাই ফোন দিলেন, স্যার মাসুদকে ফোন দিয়েছিলেন। হ্যাঁ, আমি ঘটনা খুলে বললাম। উনি বললেন আপনি একা যাবেন না। আমরা সাথে যাব। আপনার গাড়ীতে আমাদের অফিস পর্যন্ত আসবেন। পরে আমাদের গাড়ীতে যাব। অবশ্য পরদিন জামাতের হরতাল থাকায় গাড়ী নেবার সুযোগও ছিল না।
সকাল ছ, টায় ঘুম ভেঙ্গে যায়। জাহাঙ্গীরকে(LPSO) ফোন দিলাম ধরেনি। আমি বাথরুমে ঢুকব, এমন সময় জাহাংগীরের ফোন এল। ওকে সব বললাম। ও বলল আমি আসছি।
আমি ফ্রেস হয়ে নাস্তা সেরে ফেবু দেখছি,এমন সময় জাহাঙ্গীর ফোন দিল স্যার আমি মেইন রোডে আছি, আপনি আসেন। আমি গাড়ী নিয়ে মেইন রোডে গিয়ে দেখি জাহাঙ্গীর একখানি অটো রিক্সা নিয়ে অপেক্ষা করছে।
এরই মধ্যে জাহাঙ্গীর ওসি সাবের সাথে কথা বললেন, ওসি সাব বললেন, আমি তো কিছু জানি না। তাছাড়া জি,এম সাবের নামে অভিযোগ আমি জানব না, যাই হউক আপনারা আমার কাছে আসবেন, হতে পারে কোন অনুষ্ঠান করবে, কিছু টাকা পয়সা লাগবে, আমার ভয়ে সরাসরি জি,এম সাব কে ডেকেছেন। তবে যেহেতু এত রাতে তাই আমার কাছে অন্য কিছু মনে হচ্ছে।
আধ কিলো দুরেই মাসুদ ভাইয়ের মোকাম। আমরা পৌঁছে দেখি মাসুদ ভাই সহ ছাত্রলীগের অনেক নেতাই উপস্থিত। সকলকে চিনি না। পরিচিত হলাম। এরই মাঝে জনাব গিয়াস(মাসুদ ভাইয়ের বড় ভাই) সাহেব ফোন করে খোঁজ নিলেন। আমি বললাম আপনাদের অফিসে।
ছাত্রলীগ নেতা নাবিদুলু ওই নম্বরটিতে ফোন করলে পরিচয় না দিয়ে আমাকে চাইল। আমি ফোন ধরলে বলল আপনি কোথায়? আমি জায়গার নাম বললাম। জিজ্ঞেস করল আমি আসব কি না, আসব তো অবশ্যই, কোথায় আসব। সদর থানায়, তাঁর আগে ওসি সাবের সাথে একটু কথা বলে নেই। আপনার মনে আছে আপনি প্রথমে মডেল থানায় বলেছিলেন এখন কেন সদর থানায় আসতে বলছেন? দূর থেকেই বুঝলাম কেমন জানি একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে উঠল। আমি বললাম, থাকেন ওখানে আসছি, আমরা।
এবার নাবিদুল ওসি সাবকে ফোন করে, ঘটনা খুলে বলল। ওসি সাব নম্বরটা নিয়ে ওই নম্বরে ফোন করলে কোন জবাব এল না। থানার কোন অফিসারের এই নম্বরটি নেই। তাই উনি বললেন এটা কোন সন্ত্রাসী গ্রুপের কান্ড।
অগত্যা মালাই মারকে চা পান করে চলে এলুম অফিসে।
তাই বলি যখন তখন কারও ফোনে কোথাও একাকী বাইর হবেন না। আর আপনি যদি অর্থ বিত্তশালী হন তবে তো প্রশ্নই আসে না।
এক সময় আমরা আল্লাহ্‌র সৃষ্টি শ্রেষ্ট জীব, বন্য জীব জন্তুকে আমাদের প্রাণ সংহারী মনে করে করতাম। আজ আমার মনে হয় তারাই আমাদের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। তারা বেশীর ভাগই আমাদের জীবিকার সহায়ক। অনেকে আবার কবি সাহিত্যিকের লেখার উপকরণ। কেউ কেউ আমাদের বিনোদনের সহায়ক। কেউ কেউ জীবন রক্ষাকারী ঔষধ তৈরীর উপাদান ইত্যাদি অনেক অনেক কিছু। আজ আমাদের জীবন হরণকারী আমাদেরই জ্ঞাতি ভাই, কালা, ধলা, হাত কাটা ঠেং কাটা, পাছা কাটা কলিম ছলিম রুহুল আবুল্ল্যারা। তাই আপনার পাশের আপনার ছেলের খালাটিও যে আপনার ছেলে বা মেয়েয় হন্তারক হবে না,তাই বা কি করে বলি। তাই সাবধান হউন। যতটুকু পারা যায়।
ফেব্রোয়ারী,০৯,২০১৪ খ্রীঃ

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাজনীন খলিল's picture


টিপ সই

আহসান হাবীব's picture


চোখ টিপি

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।