আমি এখন খুলনায়
আমি এখন খুলনায়
আমি খুলনা এসেছি মে,৫, ২০১৪ খ্রীঃ আজ ১২দিন হয়ে গেল। এ কদিন কিছুই লেখা হয়নি। আবেগ মিশ্রিত গান কবিতা লেখা বাদই দিলাম শুধু আসার পর থেকে দিনলিপিগুলো লেখলেই একটা বিশাল লেখা হয়ে যেত, আর বড় বড় লেখকদের মত চাটনি সদেশ রস সংযোজন করতে পারলে তো সবিশেষ উপাদেয় কিছু পাঠকদের দিতে পারতাম।
আমি আসার পর হোটেল ক্যাসেল সালামে দুরাত থাকতে হল। আমার থাকার মোটেও ইচ্ছা না থাকলেও হাজী রেজাউল করিম আমাদের সিনিয়র প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার আমাকে অনেকটা বাধ্য করল হোটেলে থাকতে। আমার রুমের এসি কাজ করছে না যদিও সে রুমে একি সুইচে দুটি ফেন চলে তবু তার বক্তব্য এ গরমে আমি থাকতে পারব না। আমি নিজেকে এত দামি কখন ও ভাবি না, তবু হাজী সাব আমাকে থাকতে দেবেন না, আমার প্রতি উনার শ্রদ্ধা ভালবাসার কমতি কখনো দেখিনি, তার উপর অন্য বিভাগের অফিসার আরামে থাকবে আর উনার বস কষ্ট করবে, এটা যেমন উনি মানতে পারেন নি তেমনি কোম্পানির স্ট্যাটাসের বিষয়ও হয়ত এর সাথে জড়িত।
হোটেল ক্যাসেলে তিনদিন আগে থেকে আমাদের ইনভেন্টরি বিভাগের দুজন কর্মকর্তা এই হোটেলেই আছেন, আমি জানতাম না। পরে জানলাম। হোটেল ক্যাসেল সালাম সবচেয়ে ভাল হোটেল ও দামী কি না, আমি জানি না, তবে এটাও দামী অভিজাত ও উন্নত তাতে কোন সন্দেহ নেই। রুম দেখার প্রয়োজন না থাকেও রুম দেখাটা বুকিং দেবার আগে ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে কি না জানি না, তবে ঐতিহ্য ঐতিহ্য ভাব আনে এটা অনুমেয় হয়। তাই রুম দেখতে গেলাম ।
হোটেল বয় প্রথমে দুবেডের একটি রুম কেন দেখালো বুঝলাম না, আমি এক বেডের রুম দেখাতে বললাম, যার ভাড়াও দুবেডের প্রায় অর্ধেক। আমার মনে হল দুবেডের রুমের চাহিদা একটু কম তাই হয়ত আমাকে গেলাতে চেয়েছিল। আমি সিঙ্গেল বেড পছন্দ করে, নিচে যাবার অনিচ্ছা প্রকাশ করলে হোটেল বয় বলল, স্যার আপনাকে নাম এন্ট্রি করতে হবে। তাই নিচে আসতে হল। এ বিষয়ে ইদানিং সর্বত্র খুব সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
আমার কাছে ভিজিটং কার্ড চাইল, আমি না বলাতে ডেক্সের তিনজন ও হোটেল বয় মনে হয় একটু আশ্চর্য হলেন। একটু আড় চোখে যে তাকান নি তা বলা যাবে না।
এমন একটা সময় ছিল ফুস ফাস করে কাউকে ভিজিটিং কার্ড দিতে কি যে ভাল লাগত। নতুন কারও সাথে পরিচয় হলে বিদায় লগ্নে না চাইলেও একখানি কার্ড বাড়িয়ে দিয়ে বলতাম, কার্ডটা রাখেন, প্রয়োজন হলে কল দিবেন। আর উনি যদি মহিলা হতেন তবে......।
নাম ও কোম্পানির নাম বলার সাথে সাথে প্রায় সবাই এক সাথে বলে উঠল, স্যার আপনি আমাদের কর্পোরেট বর্ডার, আপনার জন্য ২০% কমিশন আর ঠিকানা বলতে হবে না। শুধু পদবীটা।
এরই মাঝে হাজী সাবের নির্দেশে ড্রাইভার ও তার সংগে থাকা পিয়ন মনির সামানা নিয়ে এল। রিসিপসন থেকে হোটেলের বয়রাই লিফট আর লিফটে উপরে, উপর থেকে রুমে নেবার ব্যবস্থা করল। হাজী সাবকে ও গাড়ী ঢাকার ফিরে যাবার নির্দেশ দিয়ে রুমে ডুকে গেলাম। ফ্রেস হয়ে শুয়েই সাধের ঘুম। অন্তত একটা দিনের কিছু সময় খুপড়ি থেকে সকল চিন্তামণিকে বিদেয় করে নিজেকে সপে দিলুম নিদ্রাদেবীর কোলে। তিনিও কার্পণ্য করেননি। যখন মুক্ত করলেন রাত তখন রাত সাড়ে নয়টা।
মে,১৮,২০১৪খ্রীঃ





মন্তব্য করুন