ইউজার লগইন

নিশি কেটে গেলে

নিশি কেটে গেলে
একজন প্রেমিকের ধ্যান জ্ঞান সবই তার প্রেমিকাকে ঘিরে।প্রেমিকার বিরহে সে হয়
কাতর, এ পৃথিবীর সকল কিছু তার কাছে হয় বর্ণহীন, গন্ধহীন। তেমনি একজন লেখক বা কবির প্রেম তার লেখার সাথে, সে যখন লিখতে পারে, তখন তার সব কিছুই পাওয়া হয়ে যায়।কোন কিছুর অপর্যাপ্ততা তাকে পীড়ন করে না। তাকে কষ্ট দেয় না। কিন্তু সে যদি কোন কারণে লিখতে না পারে, তবে গাড়ী বাড়ি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ তাকে না পারে মানষিক প্রশান্তি দিতে, না পারে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কমাতে।
একজন লেখক দিনের পর দিন লিখতে না পারার কষ্টে, ক্ষত বিক্ষত।দিনকে দিন তার কোমল মনটা বিদ্রোহী হয়ে উঠে, নিয়মতান্ত্রিকতার সকল নিয়ম ভেংগে সে ছুটে যেতে চায়, দিগন্ত অবারিত উন্মুক্ত প্রান্তরে। নিরাপত্তার সকল গণ্ডি ভেংগে মিশে যেতে চায় প্রকৃতির সাথে। কি হবে দেখা যাবে।
কবি ছুটে চলেছে অজানার উদ্দেশ্যে। চারদিকে সবুজে সবুজ খোলা প্রান্তর। আহ, কি আনন্দ, মুক্তির আনন্দ।সেল ফোনটা ছুড়ে ফেলেছে তাই কানের যন্ত্রনা থেকেও মুক্ত। মুক্তির সাথে যন্ত্রনার পরিসমাপ্তি, এ কেমন আনন্দ, কত আনন্দ,কত সুখ তার পরিমাপ কিসে? না নেই এ আনন্দের কোন পরিমাপ নেই।
দিগন্ত বিস্তৃত জন বিচ্ছিন্ন এ প্রান্তরে কিসের আলো চোখ ধাঁদিয়ে দিচ্ছে।এ কি মনের ভুল, নাকি মায়াবি ছলনা। ভাবনার অবসান না হতেই কখন যে জনবিচ্ছিন্ন বাগান বাড়ীর কেন্দ্রে অবস্থিত রংমহলের সংস্পর্শে কবি চলে এসেছেন, নিজেই জানেন না। একি, কি মিষ্টি সুর ভেসে আসছে।
প্রেমিকদের কেউ কেউ প্রেমিকার বিরহে, প্রেমিকার বিরহ ভুলতে বাইজীর প্রেম কিনে নেয়। তাতে প্রেমিকাকে ভুলতে পারুক বা না পারুক তার নজীরের অভাব নেই। আজ কবি না চাইতেই তেমনি এক বাইজি মহলে উপস্থিত। কি করবে কবি। আহ বাইজীর ঘুংঘুরের ঝমাক ঝমাক তাল, নিশি রাতের মিষ্টি মধুর সুর, কবিকে অজানা এক প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিয়েছে। তাহলে কি শ্রীকান্তের দেবদাস, এ প্রশান্তির কাছেই নিজকে আত্ন সমর্পন করেছিল। হবে হয়ত, হয়ত না।
কবি আরও এগিয়ে গেল, এবার তার কর্ণ কোটরে ভেসে আসতে লাগল

মজিলে যৌবন রসে কি করি উপায়
নিশি কেটে গেলে সকলি ফুরায়
হায়রে,
নিশি কেটে গেলে সকলি ফুরায়।।
ষোড়শীর রসের মজা কেবা নাহি চায়
একবারে মন ভরে না বারে বারে চায়
হায়রে,
বারে বারে চায়
ক্ষনিকে ষোড়শী হায়রে নিজেকে হারায়।
নিশি কেটে গেলে সকলি ফুরায়।।
বাহিরে শীতল হাওয়া
ভিতরে আগুন
নেশায় টুলু টুলু নাগর
লাগছে দারুন।
হায়রে, লাগছে দারুন।।
এহেন, সময়কালে, কিছুটা ভুল হলে-২
কিবা আসে যায়।
নিশি কেটে গেলে সকলি ফুরায়।।
কি করবে কবি, সে কি ফিরে যাবে তার শৃঙ্খলিত জীবনে, নাকি অবারিত অফুরন্ত শৃংখলহীন সুরা সাকিতে ডুবে যাবে। না ভাবতে পারছে না। কবি আর ভাবতে পারছে না।.........।।
জুন,২৯,২০১৯ খ্রীঃ

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রুদ্র আসিফ's picture


ভালো লাগলো......

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।