ইউজার লগইন

আমার মহানায়ক

11351175_953255458028798_5888257504304800205_n.jpgপ্রত্যেক মানুষের জীবনে তার কিশোর যৌবন কালে প্রিয় সিনেমার নায়ক, রাষ্ট্রপ্রধান,শিক্ষক থাকেন। আমি কিশোর ও যৌবন বললাম এ জন্যই যে এই সময়কার ভাললাগা বা ভালবাসাই প্রকৃত ভাললাগা ও ভালবাসা। তার পরে যা হয় তা অনেকটা শঙ্কর জাতীয়। এটা আমার মতামত। অনেকে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।
আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এলেন, ঠাকুরগাও এর সাসালা পেয়ালা খাল খনন করতে। আমরা সালন্দর হাইস্কুলসহ সকল স্কুলের ছেলেমেয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা দল বেঁধে গেলাম সেই খাল খনন অনুষ্ঠানে।
আমরা যখন পৌছলাম তখন উনি অনুষ্ঠানে উপবিষ্ট, খাল খনন এর উপর একজন শিল্পী গান গাচ্ছিলেন। এই প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াকে সামনা সামনি দেখি।
সেই বয়সে পর্দার প্রিয় নায়ক যারা ছিলেন,তাদের মধ্যে রাজ্জাক,সোহেল রানা ফারুক প্রমুখ। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়াকে দেখার পর উনি হয়ে গেলেন আমার স্বপ্নের নায়ক,মহানায়ক। উনার গেঞ্জি পড়া ছবিটা......ভাষায় প্রকাস করার মত নয়। যে দিকে দেখি সেদিকে উনি, যে বেশে দেখতে চাই সে বেশেই তিনি।
তার কয়েক বছর পর লিখে ফেলি এই কবিতাটি। তবে এই কবিতাটি হুবহু না। সেই কচি মনে যে কবিতাটি লিখি তা দুবাইতে আরও শ খানেক গল্প কবিতাসহ খসড়াটি হারিয়ে যায়।
অনেক খোজাখুজি করেও তা পাইনি। মনে যা ছিল তার সাথে কিছু যোগ বিয়োগের ফলাফলটি নিম্নরুপ।
এটা এজন্যই জানালাম, কারন আমি বাহরাইনে অনেককটা অনুষ্ঠানে এই কবিতাটি আবৃত্তি করি এবং স্থানীয় একটি পত্রিকায় কবিতাটি ছাপাও হয়েছিল।
১৯৭১ সাল
বাংলাদেশ নামক নৌকাটি
গভীর সমুদ্রে ঘোর পাক খাচ্ছে ঝড়ের কবলে পড়ে।
একে তো অন্ধকার রাত্রি,তদুপড়ি হায়েনা কাল বৈশাখীর হানা।
মৃত্যু ভয়ে যাত্রীরা সব ইয়ানাফসী ইয়ানাফসি জপছে।
কি হবে কি করবে কেউ বুঝতে পারছে না।
এরই মাঝে মহাকালের ধুমকেতু হয়ে
জিয়া নামক মাঝিটি নৌকার হাল ধরল।
আল্লাহ্‌র উপর করে, সত্যিকার মাঝির বাতানো পথে
শক্ত হাতে নাও চালাল, সকলকে অভয় দিল।
যাত্রীরাও সাধ্যমত সাহায্য করল।
হঠাৎ মসজিদ হতে আজানের ধ্বনি
মন্দির থেকে কাসার ঘন্টা
গির্জা ও প্যাগোডা হতে নিজ নিজ ধ্বনি
আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ল।
রাত্রি ভোর হল।
উদয় হল
লাল সবুজের ঝান্ডা নিয়ে নতুন দিনের নতুন সুর্য
নতুন দেশ, বাংলাদেশ।।
কৃষক গরুর হাল নিয়ে যায় মাঠে
গায়ের বধু কলসি কাংখে চলে নদীর ঘাটে
হাটে ঘাটে মাঠে যেথায় দেখি শুধুই খুশির ঢেউ
ক্ষেত ভরা ফসল পুকুরে এত মাছ দেখেনি আগে কেউ।
স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে শিশু কিশোর যুবা চলে দলে দলে।
আবার সে মাঝি ডাক দিয়েছে দেশ গড়বে বলে।
হাটে ঘাটে মাঠে কলকারখানার অংগনে
নতুনের জোয়ার বইছে আজি ভাবি বিজনে।
সবাই তো যাবে তুমিও গিয়েছ অজানার দেশে বটে
ক্ষনে ক্ষেনে আজিও মানষ পটে হাহাকার রব উঠে।।
আবুল হোসেন
৩১মে,২০১৫ খ্রীঃ
ঢাকা।
thumb_11393187_937727269603223_6054068472744187740_n.jpg

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মিশু's picture


জিয়া ১৯৭১ সালে হাল ধরেছিলো? কেমনে ভাই? একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

তানবীরা's picture


রঙ চটা জীন্সের প্যান্ট পরা, জ্বলন্ত সিগারেট হাতে ধরা
সাদা টিশার্ট গায়ে তার হাত খোলা, সানগ্লাস চোখে আছে তোলা
রেখেছো কেন ঢেকে ঐ দুটি চোখ
হে মহানায়ক Big smile

https://www.youtube.com/watch?v=PqFqgGRQt6M

আহসান হাবীব's picture


আপু অনেকদিন পর আপনার কল্যাণে এই গান্টা শুনতে পেলাম। ভাল লাগল। ভাল থাকুন। তবে জিয়া যে কোন বেশেই থাকতো ভাল লাগত। আজকের এই বি,এন, পি আমার গায়ে জ্বালা ধরায়।

মীর's picture


এখানে হাল ধরা বলতে মনে হয় অন্য 'কিছু' ধরা বোঝানো হয়েছে Wink

যদিও বাংলা ভাষায় লেখা তারপরও "ক্ষনে ক্ষেনে আজিও মানটে পটে হাহাকার রব উঠে" লাইনের অর্থ বুঝতে পারতেসি না...ফিলিং লস্ট

টুটুল's picture


Wink

আহসান হাবীব's picture


মানটে পটে নয়, এটা মানষ পটে হবে।

মিশু's picture


আহসান হাবীব ভাই, আপনে কই?

আহসান হাবীব's picture


মিশু ভাই,
আসবেন নাকি চলে আসুক ভেড়ামারা।আন্ডার কন্সট্রাকশন ৩৬০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্টে। দেখা হয়ে যাবে?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।