আমরা বুয়েটে পড়ি, আসেন একটা গালি, নিদেনপক্ষে একটা একটা মাইনাস দিয়ে যান।
হ! আমরা বাস ভাঙ্গছি। আমাগো ভার্সিটির জুনিয়র পোলা মারা গেছে। এমন ত কত মারা যায়। কিন্তু তা বইলা বাস ভাংমু? মানুষজনরে অসুবিধায় ফেলাইছি। আমাগো বিরাট ভুল হইয়া গেছে। দশটা বিশটা বাস ভেঙ্গে ফেলছি। এমনিই গরীব দেশ সেই দেশের বাস ভেঙ্গে বিরাট আর্থিক ক্ষতি করে ফেলছি। আমাদের মত বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের মাইনাস দিয়া আর গালি দিয়া নিজেরে ঠান্ডা করেন।
পোলাডা ঢাকা শহরে নয়া আসছে। তখনো বুঝে নাই, বিপদ ঘাড়ে নিয়া আমরা ঢাকা শহরে চলি। বাসের পিছনে দাঁড়ানো বাসের সামনে দাড়ানোর মতই ভয়ঙ্কর। পিছে দাড়াইছে, মরছে। কথা শেষ, এইটা নিয়া আমরা বাস ভাংতে ক্যান গেলাম ?
বুয়েটের পোলাপাইনরে অনেকেই দেখতে পারে না। প্রাইভেটের পোলাপাইনগুলা আমাগো গালি দেয়। যখন একটা চাকরি ছাইড়া আরেকটা ধরি- বসেরা গাইল পাড়ে। প্রগতিশীলরা আবার আমাগো দেশের বাইরে চইল্লা যাওয়া “LIKE” করে না। আমাগো দোষ অনেক। নয়া দোষ যুক্ত হইছে। আমাগো ভিতর কেউ বাস চাপায় মারা গেলে আমরা বাস ভাঙ্গচুর করি।
হেরা ক্যাম্নে বুঝবো, আমাগো ভিতরের একজন মারা যায় নাই। আমাগো সবার একটা কইরা ক্ষুদ্র অংশ মারা গেছে। “ওরা” কি জানে , আমরা কতটা ঘনিষ্ঠ একজন আরেকজনের সাথে? ওরা কি বুঝতে পারে, একজন সিনিয়র ভাই তার জুনিয়রের জন্য কি মায়া জমিয়ে রাখে তার বুকের ভিতর? যে জুনিয়রকে সে কোনদিন দেখে নাই, চিনে নাই। হয়ত কোনদিনই চিনত না। তবুও কি যে ভালোবাসা, কত মঙ্গল কামনা আমরা এক অন্যের জন্য পুষে রাখি।
বুয়েটের পোলাগুলা মনে হয় দেশের সবচে ভাদাইম্মা পোলা। মিছিল করে রাতের বেলা যেন স্যাররা চেহারা না দেখতে পায়। একটা মিছিলে শখানেক পোলাও জুটে না। নিজের চোখে দেখছি, বাম দলের নেতাকে মাইরের হাত থেকে বাচানোর জন্য বিএনপি এর সম্পাদক ঝাপিয়ে পড়ছে। ধাওয়া পালটা ধাওয়া শেষে ছাত্ররা পুলিশের মামাদের সাথে বসে চা খাচ্ছে ছাত্ররা।
এই সংস্কৃতি আমরা বহন করি। মারামারি হয় না যে এমন নয়, কিন্তু ভয়ংকর কিছু এতদিন করি নাই। সম্প্রতি করা শুরু হইছে। গাইল দিয়া যান কারন আমরা নষ্ট হইয়া গেছি। আমাগো পোলারা আর ভদ্র পোলা না। দেশের টাকায় পইড়া আমরা দেশের ক্ষতি করি।
সম্রাট,
আমি দুঃখিত। আমরা লজ্জিত। তোমার জীবনের মূল্য কিছু বাসের চেয়ে কম,এটা আমরা বুঝতে পারি নাই। তোমার মেধার মূল্য-প্রানের মূল্য কে কি দিল সেটা নিয়ে কষ্ট পেও না ভাই। হাজারটা মানুষ হাজার কথা বলবে সেটা মনে রেখো না, কিন্তু তোমার ভাইরা তো্মার জন্য কিছু চোখের জল ফেলবে। বেদনায় হৃদয় ভারাক্রান্ত হবে। এইটাই মনে রেখো।





সম্রাটের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি ...
কী বলবো ? বলার নেই কিছুই ! সম্রাটের আত্মার শান্তি হোক।
কি আর বলবো?
সম্রাটের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি ...
গাড়ি পোড়ানো আর ভাঙচুরের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির কোন সংযুক্তি নেই। এমনকী যেসব মালিকের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন, তারা আপাতদৃষ্টিতে অনেক দুঃখী দুঃখী চেহারা করে বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে ভেবে মানুষের সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা করলেও কিংবা আপনাদের গালি দিলেও জানবেন- এগুলো সত্য না।
এখন রাস্তায় যতো গাড়ি নামে, বিশেষ করে টিকিট সিস্টেমের বাস, তার বেশিরভাগই সম্ভবত ইন্সুরেন্স করা। আপনারা গাড়ি ভাঙলে তাদের ক্ষতি হয় না, উল্টো ইন্সুরেন্সের ক্ষতিপূরণ পায়।
এই ঘটনায় যদি ক্ষতি হয়, তো দেশের ক্ষতি হয়েছে। সম্রাটের পরিবারের হয়েছে। আমাদের সবার ক্ষতি হয়েছে। একজন সম্রাট দেশের নিকট অতীব মূল্যবান এক সম্পদ। ইন্সুরেন্সের ক্ষতিপূরণে আরো বাস কিনে ফেলা যাবে, কিন্তু একজন সম্রাট তৈরি করা যাবে না কখনোই।
এ এক অপূরণীয় ক্ষতি। আপনাদের রাগ আর ক্ষোভের বহিপ্রকাশকে যারা যুক্তির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে গালি দেয়, তাদেরকে ধিক্কার।
মন খারাপ হয়ে গেল ভাই।
লোকেন বোসের মন্তব্যের সঙ্গে সহমত। ভার্সিটির ভিত্রে সব ধরনের বাস নিষেধ, ভার্সিটির বাস ছাড়া। ব্যবসায়ীরা খুব খারাপ একটা জাত। এদের হাতে পয়সা থাকে, যেইটা প্রায় ঈশ্বরের মতো ক্ষমতাবান একটা জিনিস। এগো কথায় যারা ফাল পাড়ে, ছাত্রদের গালি দেয় তারা ভণ্ড। মালিকে তার বাসের টাকা ফেরত পাইবো, কিন্তু সম্রাটরে তার মায়ে কেমনে ফেরত পাইবো? এই কথাটা ভণ্ডগুলার বোঝা দরকার।
যে যে গালি দেয়, তাগোরেও পিটান।
আশ্চর্য জাতি আমরা, আজাইরা যুক্তিতে আমাদের খুব উৎসাহ। যারা বলে বাস ভাঙচুর করে লাভ কী? সম্রাটকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাদেরকে বলবেন, গাড়ি ভাঙচুর সম্রাটরে ফিরে পাবার জন্য না। আর কোনো সম্রাটকে যেন এরকম প্রাণ দিতে না হয়, সেই আন্দোলন এইটা।
লোকেন বোসের সঙ্গে সহমত
আখসানুল, আপনার পোস্টের প্রেক্ষিতে আমার প্রতিক্রিয়া টা পোস্ট আকারেই দিলাম... লিংক রেখে যাচ্ছি... আগ্রহবোধ করলে দেখতে পারেন..
http://www.amrabondhu.com/bafda/1242
লেখাটা পড়ে সেই রকম আবেগী হয়ে গেছি ।

প্রতিটা লাইনের সাথে একমত
মুছে ফেলছে লেখাটা , আমি গুগল ক্যাশ থেকে পড়লাম ।
খুব ই ভালো লিখছেন ভাইয়া
গুগল ক্যাশের লিংকটা দিয়ে যা। আমি খুঁজে পাচ্ছি না।
সম্রাটের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি
সুশীলিয় প্রতিক্রিয়া দেখে ঘেন্না ধরে যাচ্ছিল, আপনার আর ফারহান ভাইয়ের লেখাটা পড়ে মেজাজটা একটু ঠান্ডা হল।
বস! আপনি আর ফারহান ভাই কলম ধরছেন দেইখা থ্যাঙ্কস। আমরা যারা বর্তমান ছাত্র, আমরা চিন্তাও করতে পারি না-- ছয় মাস অপেক্ষার পরে ছয়দিনও ক্লাশ করতে পারলো না যে ছোট ভাই, তার জন্য কেমনে কলম ধরি!
মন খারাপ হয়ে গেল ভাই।
মন্তব্য করুন