ইউজার লগইন

সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি ০১

অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম ট্রেনিং এর অর্ডারটা পাবার জন্য। আমাদের প্রশিক্ষন হবে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এ। দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একেবারেই গা ঘেষে আমাদের ট্রেনিং একাডেমী। সেখানে দেড় মাসের লম্বা ট্রেনিং।
আগে থেকেই শুনেছিলাম, ট্রেনিং এ গেলেই টাকা পাওয়া যায়। টাকার অঙ্কটা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছিল না। তবে কোনটাই বিশ হাজারের কম ছিল না। কেউ কেউ কাপ্তাই লেকের অসাধারন সৌন্দর্যের কথাও বলেছিল। কিন্তু সব ছাপিয়ে টাকার সৌন্দর্যেই আমি বেশি মুগ্ধ ছিলাম।
যথাসময়ে একটা খামে নির্দেশ চলে আসলো আমাকে ৪ অক্টোবর থেকে একাডেমীতে অবস্থান করতে হবে। সেখানে ফ্রি থাকতে দিলেও খেতে হবে নিজের পয়সায়। পরিস্কার করে লেখা ছিল কোন ধরনের অতিথি না নিয়ে যেন যাই। কেন অতিথি নিয়ে যেতে মানা ছিল সেটা পরে বুঝেছি।

ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম-সেখান থেকে কাপ্তাই। ফেনী পার হবার একটু পরই পাহাড়ের মত কিছু দেখা গেল। সমতল ভূমির মানুষ আমি। একটু উচু যেকোন জায়গা দেখতেই ভালো লাগে। মনটা রোমান্টিক হয়ে যায়। চট্রগ্রাম পার হয়ে বাস যখন আকাবাকা পথে পাহাড়ের কোল ঘেষে এগিয়ে যাচ্ছিল, আমি কি যে ভালো লাগছিল তা বলে বুঝানো যাবে না। পাহাড়ের গা ঘেষে চলছি। দূরে আরো পাহাড় দেখা যাচ্ছে। নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে নাম না জানা একটা নদী( পরে তার নাম জেনেছি)। পাহাড়ের গায়ে ঘন গাছ আর গুল্মের ছড়াছড়ি। পথের একেবারে পাশেই দেখলাম একটি সরু ঝর্না। আমি মুগ্ধ হয়ে বাসে বসে আছি। ৪৫ দিন এখানে থাকার সুযোগ পাব ভাবতেই ভালো লাগছিল। অই বাসে বসেই একটা প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিলাম নিজের কাছে। যাই ঘটুক না কেন, এই দিনগুলি আমি আনন্দে কাটাব। কোন ধরনের কষ্ট মনে ধরে রাখব না। আমি আমার প্রতিজ্ঞা অনেক দূর পর্যন্ত ধরে রেখেছিলাম। শেষপর্যন্ত মনে হয়েছে, এই যে জোর করে নিজেকে প্রফুল্ল রাখার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম-সেটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।

একাডেমীতে এসে জানতে পারলাম আমাকে একলা রূম দেয়া হবে না। দুইজনকে একটা রূম শেয়ার করতে হবে। এর আগের একটা ট্রেনিং এ (গাজীপুর ব্র্যাক ট্রেনিং সেন্টারে) বাফ্রু ভাইয়ের সাথে রূম শেয়ার করে থেকেছিলাম । এবারেও আমি অনুরোধ করে বাফ্রু ভাইয়ের সাথে একত্রে রূম নিলাম। বাফ্রু ভাই পুরা দেড় মাস আমার রূমমেট ছিলেন। ব্লগে বার বার তার নাম আসবে। বাফ্রু ভাই উপজাতি। মারমা সম্প্রদায়ের উজ্জ্বল ফর্সা ছেলে। দৈহিক গড়ন ভালো, ঈর্ষা করার মতই ভালো। চোখ সরু না, চশমা পড়া থাকে বলে চট করে বোঝা যায় না উনি উপজাতি।
একাডেমীর প্রথম সকাল। বারান্দায় বের হয়ে দাত মাজছি। সামনে মেঘে ঢাকা পাহাড়। দাত মাজতে মাজতে মনে হলো এত সুন্দর দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। মনটা তরল হয়ে যায়। একাডেমীতে যতদিন ছিলাম, প্রতি সকালে আমি দাত মেজেছি পাহাড় দেখতে দেখতে। সকালের এই দৃশ্যের পরে কোনকিছুই আমার মনে কালো দাগ ফেলতে পারত না।
লাল-নীল তরল
ট্রেনিং শিক্ষা সফর হিসাবে আমাদের কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আমাদের কিছু স্ট্রাকচার আছে। কাগজ কলমে লেখা থাকবে আমরা সেগুলো দেখতে যাব। কিন্তু আসলে যাব ঘুরতে। শুক্রবার সকালে ভাড়া করা বাসে সবাই যাব। আমি বাফ্রু ভাই এবং আরো কয়েকজন মিলে ঠিক করলাম শুক্রবার সবার সাথে না গিয়ে আগের দিন চলে যাব। আশা করা যায় রেস্ট হাউজ অইরাতে খালি থাকবে। যদি খালি থাকে তবে আমরা ছোটখাটো একটা আসর দিব লাল-নীল পানির, এইটাই প্ল্যান।
কোর্স কোর্ডিনেটরকে বললাম, স্যার আমরা আগের দিন দুপুরে যেতে চাই।
ক্লাসে মেয়েরা ছিল। লাফ মেরে তারাও বলল, আমরাও আগে যেতে চাই।
আমাদের মুখ গেছে শুকিয়ে।মেয়েরা গেলে রেস্টহাউজে উঠবে। আমাদের লাল-নীল তরল আর খাওয়া হবে না। আমি দিলাম হাল্কা ধমক, তোমরা আমাদের সাথে গিয়ে কি করবে! পরের দিন আসো।
ধমক দেয়ার চেষ্টাটা ছিল চরম একটা ভুল। গলার স্বরে কোমলভাব না থাকায় মেয়েরা অন্যরকম সন্দেহ করে বসল। রহস্যময় কারনে এরা এটাকে নিল চ্যালেঞ্জ হিসাবে। ওরা একলা যাবে। আমাদের সাথে যাবে না। জোরাজুরি করে আলাদা বাসে করে কিন্তু একই সময়ে আমাদের সাথে কক্সবাজার উপস্থিত হলো। ফলাফল আমি আর বাফ্রু ভাই অইরাতে স্বছ পানি খেলাম। সময়মত ঘুমাতে গেলাম। আর মনে মনে অভিশাপ দিলাম মেয়েদের ।
( পরবর্তীতে আমরা আসর বসিয়েছিলাম একেবারে একাডেমীতেই। আর্মি চেকপোষ্ট এড়িয়ে কিভাবে "মাল" নিয়ে এসেছিলাম ঢাকায় সেই গল্পও হবে।তবে আজ আর না। আজকের পর্ব এমনিতেই অনেক বড় আর বোরিং হয়ে গেছে। )

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আপন_আধার's picture


ভাল লাগবে বলেই মনে হচ্ছে । তার্তারি দিয়েন

আখসানুল's picture


ভালো লাগবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। ভ্রমনের গল্প সব সময়ই বোরিং।

আপন_আধার's picture


ভ্রমন কাহিনী বোরিং এইটা ব্লগে আর কইয়েন্না। পরে আরো ধাতানি খাইবেন Laughing out loud
পরের পর্ব দিয়া দেন

আখসানুল's picture


কালকে লিখব। সারাদিন ঘুমিয়ে বেশ ক্লান্ত লাগছে।

শাওন৩৫০৪'s picture


বারিব্বাহ, ট্যােকাও পাইছেন, লাল-নীল পানি সাথে রুমান্টিক মুডের পাহাড়ি দৃশ্য....আহা বিরাট কপাল লৈয়া গেছলেন মনে হয়...

আখসানুল's picture


ট্রেনং এর শেষে পরীক্ষা ছিল। ভেবেছিলাম পরীক্ষায় ফেল করে আবার যাব ট্রেনিং এ। কিন্তু সবাইকে জোর করে পাস করিয়ে দেয়া হয়েছে।
Sad

অদ্রোহ's picture


আপ্নারে চেনা চেনা মালুম হয় ..Wink

আখসানুল's picture


তোমারেও ত চেনা চেনা লাগে। Wink

কাঁকন's picture


হ পর্ব কিঞ্চিৎ বোরিং হইছে; আখসানুলীয় ছাপের বদলে একটা মূল ধারার সুশীল ছাপ পড়ছে এই লিখায়; তাও লাইক্কর্লাম আখসানুল বইলা কথা;

আপনার "ছিলো মর্ম যাতনা গাড় অন্ধকারে" সিরিজ টা কন্টিনিউ কইরেন পারলে।

স্বাগতম; আশাকরি লিখতে লিখতে কী-বোর্ড ভেঙে ফেল্বেন

১০

আখসানুল's picture


টোয়াইলাইট সাগা এর উপর ব্লগ লিখে বিরাট ধাতানি খাইছি। সুশীল লেখা এই কারনেই বের হচ্ছে।

সব সময়ই ত ফিরা আইসা বলি, এইবার সিরিয়াসলি নিয়মিত লিখব। এইবার আর কইলাম না। Smile

১১

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


বাথরুমের বাইরে কাউরে দাঁত মাজতে দেখলে মেজাজ খারাপ লাগে Puzzled

আখসালুল থুক্কু আখসানুল ভাইরে স্বাগতম Wink

১২

আখসানুল's picture


খ্যাক খ্যাক খ্যাক
Wink

১৩

সাঁঝবাতির রুপকথা's picture


মাল খাইতে মঞ্চায় .।:(

১৪

আখসানুল's picture


সময়মত এইটা জানলে "মাল" আপনার জন্যও আনা যেত। Smile

১৫

অপরিচিত_আবির's picture


মাল খাইতে মুঞ্চায়! আখসানুল ভাইকে স্বাগতম আর ধন্যবাদ গত টোয়াইলাইটা সাগা লেখাটার জন্য অনেক টোয়াইলাইটের ভক্তদেরকে মুখ চুন হয়ে গেছে!

১৬

আখসানুল's picture


খ্যাক খ্যাক খ্যাক

১৭

নুশেরা's picture


স্বাগতম Smile

এতো সুন্দর দৃশ্য, ছবি থাকলে শেয়ার কইরেন

১৮

আখসানুল's picture


ছবি লোড হতে সময় নেয় তাই ছবি এড করতে পছন্দ করি না। তবে পরের পর্ব থেকে কিছু না কিছুছবি দিবই। Smile

১৯

টুটুল's picture


ফটুক এডাইলে ভাল্লাগতো Smile

২০

আখসানুল's picture


পরের পর্ব থেকে হবে বস।

২১

বকলম's picture


লেখা ভালা হইছে। উপজাতি না কইয়া আদিবাসী কইলে হয়তো শুনতে আরও ভালা লাগত।

২২

আখসানুল's picture


আদিবাসী আর উপজাতি শব্দ দুইটার পার্থক্য আছে জানতাম না। পরের পর্ব থেকে আদিবাসী শব্দই ব্যবহার করব।

২৩

বোহেমিয়ান's picture


সুশীল Tongue Tongue
পরের পুষ্ট তো পড়ন যাইব না!!! Wink

তার্তারি দিয়েন!

২৪

তানবীরা's picture


মেয়েদেরকে আন্ডার এষ্টিমেট করায় তেব্র নিন্দা

২৫

বাফড়া's picture


আখসানুল, আপনি কই?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.