ইউজার লগইন

পাঠকের পাতা এবং আমাদের আশা-হতাশা

সকালের খবর আমার কাছে একটি লেখা চাইল। পাঠকের পাতা নিয়ে। লেখা দিলাম। লেথাটিতে আমি সশ্রদ্ধায় স্মরণ করলাম প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরী ও এ টি এম হাইকে। ২৭ মে'১১, শুক্রবার পাঠকসভায় আমার লেখাটি ছাপা হলো। দেখলাম, প্রায় সবই কাটা পড়েছে! ওটা হয়েছে একটা শুভেচ্ছা বাণী মাত্র। ইতিহাস বিকৃতি এবং বিস্মরণের এই সময়ে, হৃদয়ে দায় থেকেই পুরো লেখাটি আমরা বন্ধুতে দিলাম। কেন যেন মনে হচ্ছিল, এই কথাগুলো বলবার দরকার আছে...

সংবাদ মাধ্যমের যে কোনো নতুন উদ্যোগেই আনন্দিত এবং আশাবাদি হই। সকালের খবর প্রকাশের সংবাদে ভালোলাগার পরিমাণটা আরো বেশি। কারণ হলো, আমার বেশ কজন প্রিয় মানুষ জড়িত হয়েছেন এর সঙ্গে। হৃদয় হতে তাই শুভকামনা সকালের খবর-এর জন্য। এই শুভযাত্রা সফল হোক।
দেশের প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের পাঠক সংগঠন আছে। পাঠকের পাতা আছে। বিভাগীয় ও জেলা শহরের কিছু পত্রিকায়, এমনকি সাপ্তাহিকীতেও এই চল দেখি। সকালের খবরও পাঠকের জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে। নাম ‌পাঠকসভা‌।
প্রশ্ন হলো, সকালের খবরও কেন এটা করল বা কেন করতে হলো। পাঠক পাতার আসলে কি দরকার? আদৌ কি কোনো দরকার আছে?
আসলে এই প্রশ্নগুলোর মুখে আমাকেই পড়তে হয়েছে এবং হয় সবচেয়ে বেশি। সহজবোধ্য কারণটা। আমি এদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে পাঠক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। দেশের প্রথম পাঠক সংগঠন ভোরের কাগজ পাঠক ফোরাম-এর বিভাগীয় সম্পাদক ছিলাম। প্রথম আলো বন্ধুসভা গড়েছি। আর এবার তো প্রথম টেলিভিশন দর্শক ফোরাম দেশ আমার শুরু করলাম।
তবু দুঃখজনক সত্যি হলো, ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজও মেলেনি।
শ্রদ্ধায় স্মরণ...
পাঠক সংগঠন যে কোনো প্রসঙ্গে আমি সশ্রদ্ধায় স্মরণ করি প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরীকে। তাঁকে আমি গুরুজ্ঞান করি। সাংবাদিকের পরিচয় ছাপিয়ে শেষে সঞ্জীবদা সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে বিপুল জনপ্রিয় হয়েছিলেন সত্যি, তবে আমাদের প্রজন্মের অনেক সংবাদকর্মীরই হাতেখড়ি তাঁর হাতে। অনেকেই মনে করেন এ দেশে পাঠক সংগঠন গড়ার কৃতিত্ব আমার। যেহেতু আমি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এর সঙ্গে জড়িত, সে রকম ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই আসে হয়তো। নিঃসঙ্কোচে এখানে স্বীকার করতে চাই, এই পাঠক সংগঠন এ দেশে প্রবর্তন করেন সঞ্জীব চৌধুরী, আমাদের সঞ্জীব’দা। তিনিই ‘পাঠক ফোরামের জনক’।
আরেক শ্রদ্ধাভাজনকেও আমি স্মরণ করি। তিনি এ টি এম হাই। চিত্রালীর উত্তরদা। ভীষণ জনপ্রিয় হয়েছিল তার আপনাদের চিঠি পেলাম বিভাগটি। সে সময়ে চিত্রালী নামের সিনেম্যাগাজিনটির পাঠকরাও সংগঠিত হয়েছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব উত্তরদা মানে আমাদের হাই ভাইকে ঘিরে। সেটাকে আমি অঘোষিত এক পাঠক ফোরাম বলেই জ্ঞান করি।
যে কথা হচ্ছিল, প্রথম আলোয় বন্ধুসভা গড়তে গিয়ে আমরা পড়লাম পাঠকদের আরেক প্রশ্নের মুখে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের জিজ্ঞাসা ছিল, আমরা কেন এটা করব? আমাদের লাভ অবশেষে এতে কি?
পাঠক সংগঠন, পাঠকের অধিকার
প্রথম আলো প্রকাশের আগেই বন্ধুসভা গড়ে ফেললাম। পত্রিকার আগেই তার পাঠক প্রস'ত! এ এক ইতিহাস নিঃসন্দেহে। সে সময় পাঠকরা বন্ধুসভায় এলেন এই বিশ্বাসে যে, এটা হবে পাঠকের অধিকার আদায়ের ফোরাম। বলাবাহুল্য সেটা আজও আমরা করতে পারিনি।
তবে কেন মিছে এ ভালোবাসা...
একটু কি আবেগি হয়ে গেলাম! হোক। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে জানি, পাঠক সংগঠনের সঙ্গে আবেগ হচ্ছে মানিকজোড়। কারণ পাঠকরা পত্রিকা থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না। অফিসিয়াল কোনো সুবিধাই পাবেন না। তবু তারা এর সঙ্গে জড়িয়ে যাবেন, ভালোবাসবেন, নিজের খেয়ে বোনের মোষ তাড়াবেন... হৃদয় উৎসের আবেগ ছাড়া সম্ভব!
আমার প্রত্যাশা, নিখাঁদ সেই ভালোবাসা পাক পাঠকসভা। দেশ ও মানুষের মঙ্গলে, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করার শক্তি পাক। নামকরণ সার্থক হোক, পাঠকের নিজেকে উজাড় করার, নিজেকে প্রকাশ করার উদার জমিন হোক পাঠকসভা। আর যে প্রশ্নের উত্তর আমরা আজও দিতে পারিনি, তারও উত্তরদাতা হোক পাঠকদের এই সমাবেশ।
অন-র থেকে অনেক শুভকামনা সকালের খবর-এর জন্য, পাঠকসভার জন্য। সম্মিলিত মানুষের শুভচেষ্টা নিশ্চয় বিফল হয় না... রইল সেই আস'া, সেই ভালোবাসা। সত্য প্রকাশের যে শক্তি নিয়ে সকালের খবর আসছে, তাকে সুস্বাগতম।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

konok mahmud's picture


এই অভিগগোতা কমবেশি অনেকেরই আছে। কথা হল পতরিকাটির মান কেমন? মাফ করে দেন গুরু...

লীনা দিলরুবা's picture


এবিতে প্রথম লেখা! স্বাগতম জানাই সর্বাগ্রে।
যে দু'জন মানুষ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে এই লেখার অবতারণা তারা দুজনই শ্রদ্ধার জায়গার পুরো টা জুড়ে রয়েছেন।

পাঠক ফোরাম, বন্ধুসভা-দুটি ফোরামের নেতা হিসেবে গিয়াস ভাই, আপনাকে যেভাবে পেয়েছিলাম, হয় তো একটু আধটু লিখতে যে পারি সেটি আপনার কারণেই, সেভাবে পাওয়ার কারণেই। বন্ধুসভায় আমার বন্ধু নম্বর ছিল ১৪, কোন একদিন কথাচ্ছলে বলেছিলাম, ১৪ আমার প্রিয় সংখ্যা (জন্মদিনের কারণে) এটি আমাকে দিয়েন। পরে দেখি আপনি আমার বন্ধু সংখ্যা ১৪ করে দিয়েছেন Smile

অনেক কথা-অনেক স্মৃতি........ যাহোক,

সকালের খবরের পাঠক পাতা বা পাঠকসভার জন্য শুভকামনা। (একটা টাইপো আছে, প্রথম প্যারায়

২৭ জুন'১১, শুক্রবার পাঠকসভায় আমার লেখাটি ছাপা হলো।

এটি ২৭ মে হবে না?)

বন্ধু's picture


ধন্যবাদ লীনা, ভুলটি ঠিক করে দিচ্ছি। তুমি ভালো থেকো।

টুটুল's picture


গিয়াস ভাইকে অবশেষ পাওয়া গেল Smile

স্বাগতম বস Smile
নিয়মিত দেখতে চাই

বন্ধু's picture


ধন্যবাদ টুটুল। আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।

রশীদা আফরোজ's picture


চিত্রালী নিয়ে আমার বড় ভাই-বোনদের নানারকম উচ্ছ্বাসের গল্প ঝাপসা-ভাপসা মনে পড়ে। আর পাঠক ফোরাম? লিখতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে।
ভাইয়া, অনেকানেক বছর পর অপনার একটা লেখা পড়লাম। আমার লেখালেখি যতদিন থাকবে ততদিন শ্রদ্ধাভরে আপনাকে মনে রাখবো, আপনি আমার গুরু। সালাম নিন।

বন্ধু's picture


ধন্যবাদ রশীদা।

বোহেমিয়ান's picture


স্বাগতম।

ব্লগ তো এইজন্যই! কাটাছেড়া ছুরি চাকুর ভয় কম! নিজের কথা, নিজের মত করে বলা যায়!

সঞ্জীবদার কথা মনে পড়ছিল গত কদিন ধরে!

ভালো লাগল।

বন্ধু's picture


ধন্যবাদ বোহেমিয়ান...

১০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


লেখাটা আমি পড়েছি। সকালের খবরে। পড়ে অবাক হয়েছি। আসলে আমরা অন্যকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে জানিনা, দেইনা। তাইলে নিজে কীকরে সম্মান পাব অন্যের কাছ থেকে ?
প্রসঙ্গত উল্লেখ করি- সম্প্রতি এভারেস্ট সামিট করলো মুহিত। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে। প্রথম বাংলাদেশি মূসা ইব্রাহীম। অথচ বিম্ময়ের সাথে দেখলাম এবং শুনলাম, মুহিত নেপাল থেকে সরাসরি ফোনে এক টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলছে - "আমিই প্রথম বাংলাদেশি যে ৮ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠেছি।" অনেক কথার মাঝে বার বার মুহিত বলছিল, সেই প্রথম বাংলাদেশি..... ইত্যাদি।
এর মানে কী দাঁড়াল ?
এনি ওয়ে, আমরা বন্ধুতে আপনাকে স্বাগতম।

১১

বন্ধু's picture


ঠিকই বলেছেন মেসবাহ ভাই। এক'শ ভাগ একমত।
(তবে ৮ হাজার ফুট হবে না, ৮ হাজার মিটার হবে মনে হয়।)

১২

মামুন ম. আজিজ's picture


কাটা ছেঁড়া চলে বলেই
ইচ্চে মত লিখব মোরা
ব্লগ পাতা খুলেই।

১৩

বন্ধু's picture


দারুণ বলেছেন, ধন্যবাদ।

১৪

ঈশান মাহমুদ's picture


গিয়াস ভাই, খুব উৎসাহের সঙ্গে 'আমরা বন্ধু' এবং 'চতুর্মাত্রিক'এ ব্লগিং শুরু করেছিলাম। কিন্তু উৎসাহটা বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি। আমার ক্ষেত্রে যা হয়, অন্যতম কারন হলো ধৈর্য এবং মন:সংযোগের সাঙ্ঘাতিক অভাব। যাই হোক অনেক দিন পর এখানে আপনাকে লিখতে দেখে নতুন করে আবার লেখার তাড়না পেলাম। চিত্রালী, 'আপনাদের চিঠি পেলাম' বিভাগ, প্রিয় উত্তরদা (প্রয়াত এ টি এম হাই) 'ভোরের কাগজ পাঠক ফোরাম' ; সন্জীব চৌধুরী, আপনি, অতপর 'বন্ধু সভা' আবার আপনি গিয়াস আহমেদ। কত স্মৃতি-বিস্মৃতির ইতিবৃত্ত, কতো আনন্দ বেদনার কাব্য। ধূসর হয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো আপনার লেখা পড়ে আবার স্পষ্ট হয়ে উঠলো চোখের সামনে। নিজের অজান্তেই ঝাপসা হয়ে উঠলো চোখের পাতা। যেখানেই থাকুক, যে জগতেই থাকুক, ভালো থাকুক হাই সাহেব, ভালো থাকুক সন্জীব দা। সবার জন্য শুভ কামনা।

১৫

বন্ধু's picture


আপনার জন্যও শুভকামনা ঈশান।

১৬

জ্যোতি's picture


ব্লগে স্বাগতম ভাইয়া। নিয়মিত আপনার লেখা চাই।

১৭

কামরুল হাসান রাজন's picture


ব্লগে স্বাগতম গিয়াস ভাই Smile

১৮

সাঈদ's picture


ব্লগে স্বাগতম । নিয়মিত লেখা চাই ।

১৯

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


আমি যেখানে তুলনামূলক কম লেখালেখি করে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি পেয়েছি, সেই পাঠকপাতা(গুলো) সম্পাদনা করতেন আপনি।
শুধু সংগঠনের সঙ্গে নয়, ওই পাতাটার সবকিছুর সঙ্গে পাঠকদের একটা আবেগিক সম্পর্ক থাকে। পাঠকদের এই আবেগ আপনি দারুণভাবে পাঠ করতে পারতেন। দুঃখজনক বিষয় হলো, এরপর থেকে ওইসব ''আবেগ-টাবেগ'' কোনো সম্পাদকের কাছে একদম পাত্তা পায়নি। সব হয়ে গেছে সংগঠন-নির্ভর। পাঠক সংগঠন নিয়ে পত্রিকাগুলোর সাম্প্রতিক প্রবণতা শুধু স্বার্থসিদ্ধি নাকি যুগের হাওয়া- আমার স্বল্পজ্ঞানের কারণে সেটা বুঝে উঠতে পারি না।
সুন্দর লেখাটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ গিয়াস ভাই।

২০

বন্ধু's picture


অনেক অনেক ধন্যবাদ জয়িতা, রাজন, সাঈদ এবং আমাদের সিরাজীকে। এমন করে আমাকে আপন করে নেয়ার জন্য, সত্যিই বড় ভালো লাগছে আমার।

২১

মীর's picture


গিয়াস ভাইকে দেখে খুবই ভালো লাগলো। নিয়মিত হবেন আশা করি। Smile

২২

তানবীরা's picture


স্বাগতম। Big smile

২৩

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


আমি আপনাকে চিনি। ছোট থাকতে দেখেছিলাম। আপনি মনে হয় বন্ধুদের গল্প নামে একটা সঙ্কলন বের করেছিলেন। বইটা আমার বাসায় আসে। আমি এই ব্লগে অতটা নিয়মিত না। তবু আপনাকে সুস্বাগতম

২৪

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


আমি ভাগ্যবান যে, বন্ধুর গল্প সংকলনে আমারও একটা গল্প আছে।

২৫

রন্টি চৌধুরী's picture


মাইনুল এইচ সিরাজীর কমেন্টাই লিখতে যাচ্ছিলাম।
আজকাল পাঠকসভা জাতীয় পাতা র‍্যালি সভা অনুষ্টানের খবর জাতীয় পাতা হয়ে গেছে। সংগঠনের কাজ হয়ে গেছে শুধুই পত্রিকার প্রচার। আগেও তো এইসব পাতার একটা লক্ষ্য এটাই ছিল কিন্তু তার সাথে কত আবেগ মেশানো ছিল। পাঠক পাতার বন্ধুদের মনে কত আপন মনে হত। এখনকার পাঠক সংগঠনে সেইসব কিছই নাই।

২৬

বন্ধু's picture


হুম, বড়ই বেদনার...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

বন্ধু's picture

নিজের সম্পর্কে

সাংবাদিক।
দেশ টিভিতে কাজ করছি। অনুষ্ঠান পরিকল্পনা এবং উপস্থাপনাও করি।
লেখালেখি, ঘোরাঘুরি, আড্ডা আর বইপাঠে আনন্দ পাই।
ভালোবাসি দেশকে, দেশের মানুষকে। চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ।
এই তো!