ইউজার লগইন

পক্ষ নিলে রক্ষা নাই

গত কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে সিলেট আসার পথে বাসে একটা নাটক দেখলাম, প্রথমে নাটকের প্রতি আমার মনযোগ ছিলোনা কিন্তু যখন দেখলাম নাটকটি মুক্তিযুদ্ব ভিত্তিক তখন আগ্রহ নিয়ে নাটকটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখলাম। নাটকের কাহিনী ছিলো এমন-
একজন বীর মুক্তিযোদ্বা যিনি ঢাকায় একটি ট্যাক্সিক্যাব চালান জীবিকা নির্বাহের জন্য। প্রতিদিনের মতো তিনি একজন যাত্রীকে নিয়ে তার গন্তব্যে পৌছে দেওয়ার জন্য রওয়ানা দেন, পথিমধ্যে ওই যাত্রী তাঁর সাথে গল্পে মেতে উঠে, এই কথা সেইকথার পর একসময় ট্যাক্সি চালক বীর মুক্তিযোদ্বা জানতে পারেন যাত্রী একজন কুখ্যাত রাজাকার, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সে পাকিস্থানে পালিয়ে গিয়েছিলো কিছুদিন আগে দেশে ফিরে আসে। মুক্তিযুদ্বের সময় এই রাজাকার তিনি এবং তাঁর আপন ভাইকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছিলো, সেদিনের দৃশ্য তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠে। সেদিনর দৃশ্যটা ছিলো এমন- ১৯৭১ এ কোন একসময়ে মুক্তিযোদ্বা দুই ভাই তাঁদের মা-বাবাকে দেখতে লুকিয়ে বাড়িতে আসেন, তখন এই রাজাকার গোপনে খবর পায় যে তাঁরা বাড়িতে এসেছেন তখন সে তার রাজাকার বাহিনী নিয়ে তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে, ওই মুহুর্তে দুই ভাই মাত্র খেতে বসেছিলেন মায়ের সাথে, এই অবস্থায় রাজাকাররা তাঁদেরকে ধরে নিয়ে যায় এবং দুই ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। গুলি করার পর রাজাকার গুলো তাঁদের মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে গুলি লাগার পরেও বেঁচে যান এক ভাই সেই বেঁচে থাকা এক ভাই হলেন আজকের ট্যাক্সি চালক এই বীর মুক্তিযোদ্বা।
আজ এতো বছর পর ভাইয়ের হত্যাকারী দেশদ্রোহী কুখ্যাত রাজাকারকে এতো কাছে পেয়ে মুক্তিযোদ্বা প্রথমে তাঁর পরিচয় না দিয়ে রাজাকারের সাথে গল্পে মেতে উঠেন (তাঁর উদ্দেশ্য রাজাকারের পরিচয়টা নিশ্চিত হওয়া)। মুক্তিযোদ্বা যখন ৭১এর সেই ঘটনা হুবহু বলে যাচ্ছিলেন তখন রাজাকার ভীত হয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চায় বাড়ি কোথায় জানতে চায়, মুক্তিযোদ্বা তখন নিজের আসল নাম গোপন করে একটা পরিচয় দেন। ঘৃন্য রাজাকার তখন গর্ব করে সেদিনে ঘটনা মনে করে আর বলে আহারে শেষ পর্যন্ত পেয়ারা পাকিস্থানটা রাখা গেলোনা, দুস্কৃতিকারীরা দেশ স্বাধীন করে ফেললো আর আমি পালিয়ে গেলাম পাকিস্থানে। আজ অনেক বছর পরে ফিরে এলাম। এদিকে মুক্তিযোদ্বা তখন রাগে ক্ষোভে কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না, একসময় তিনি তাঁর আসল পরিচয় দেন এবং বলেন অনেকদিন থেকে তিনি তাকে (রাজাকারকে) খোঁজছিলেন। রাজাকার তখন ভয়ে গাড়ী থেকে নেমে যেতে চায় মুক্তিযোদ্বা তখন তাকে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেন রাজকার প্রানভয়ে গাড়ী থেকে নেমেই দৌড়াতে থাকে, মুক্তিযোদ্বা ট্যাক্সিচালক গাড়ী নিয়ে ধাওয়া করেন এক পর্যায়ে রাজাকার প্রান বাঁচাতে ব্রীজের উপর থেকে নদীতে ঝাপ দেয়। তারপর তিনি ফিরে আসেন তাঁর বাসায়। আর এদিকে রাজাকার নদীতে ঝাপ দিলেও বেঁচে যায় এবং ঢাকায় ফিরে আসে। সে ঢাকায় ফিরে তার নতুন করে সংগঠিত বাহিনীকে লাগায় এই মুক্তিযোদ্বা ট্যাক্সি চালকে খোঁজে বের করতে, একসময় তারা তাঁকে খোঁজে বের করলো। রাজাকার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। সে কিছুদিন পুর্বে ছিনতাই কারীদের হাতে খুন হওয়া আরেকজন ট্যাক্সিক্যাব চালকের খুনের ঘটনায় তাঁকে ফাঁসিয়ে দেয়, বিচারে মুক্তিযোদ্বার ফাঁসির রায় হয়। তখন একজন সাংবাদিক এগিয়ে আসেন ঘটনা অনুসন্ধানে, তিনি অনুসন্ধান করে বের করেন আসল ঘটনা কিন্তু ততদিনে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সাংবাদিক তখন আক্ষেপ করে বলেন এক এক করে পরাজিত শক্তি সব মুক্তিযোদ্বাকে এভাবেই অপমান করে শেষ করে দিচ্ছে আমরা কিছুই করতে পারছিনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে, জিয়াকে হত্যা করেছে, হত্যা করেছে কর্নেল তাহের, খালেদ মোশারফকে, হত্যা করেছে অসংখ্য মু্ক্তিযোদ্বাকে আর এই হত্যাকান্ড গুলো তারা ঘটিয়েছে মুক্তিযোদ্বাদেরকে ব্যাবহার করে অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো করে। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের সাথে ৭১এর পরাজিত শক্তি প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ভাবে জড়িত। তারা খুব সুক্ষ ভাবে মুক্তিযোদ্বাদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। তারা থেকে গেছে পর্দার আড়ালে। হয়তো কোন ভাবে প্রমান করা যাবেনা এইসব হত্যাকান্ডে তারা জড়িত কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্বার মনে আরেকজন মুক্তিযোদ্বা সম্পর্কে বিষ ঢুকিয়েছে এই পরাজিত শক্তিই অখচ আশ্চর্যজনক হলেও সত্য আজ পর্যন্ত একজন রাজাকার, একজন যুদ্বাপরাধীও নিহত হয়নি, আহত হয়নি উল্টো যে স্বাধীনতা বিরোধীরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি তারা এইদেশে মন্ত্রি হয়েছে, যে পতাকা তারা চায়নি সেই পতাকা গাড়ীতে লাগিয়েছে, মুক্তিযোদ্বাদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছে অথচ অসংখ্য, অগণিত মুক্তিযোদ্বা আজও জীবিকার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। মুক্তিযোদ্বা সংবর্ধনার নামে মুক্তিযোদ্ধাকে লাথি মারার মতো স্পর্ধা দেখিয়েছে। ৭১এ পরাজয় তারা মেনে নিতে পারেনি, কোনদিনও পারবেনা, তারা এখনও মনে প্রানে পাকিস্থানি । তারা আমাদের চেতনার প্রতিক শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলেছে, তারা আমাদের জাতীয় পতাকা খামচে ধরেছে, পদদলিত করেছে। তারা ধর্মকে পুঁজি করে এদেশের ধর্মপ্রান মানুষের ধর্মীয় অনুভুতি নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারনা করে চলেছে। তারা মসজিদের ভেতরে জায়নামাজে আগুন দিয়েছে, পবিত্র মসজিদের মেঝে ভেঙ্গেছে। আজ যখন মানুষ জেগে উঠেছে, আজ যখন মানুষ এই অপঃশক্তির বিরুদ্বে রুখে দাঁড়িয়েছে, আজকে যখন এই চিহ্নিত দেশদ্রোহীদের সর্বচ্চো শাস্তির দাবিতে গণজাগরনে উত্তাল বাংলাদেশ,
আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর অনেক প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন ঘৃন্য যুদ্বাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তখন মুক্তিযুদ্বে নির্যাতিতা একজন নারী, দেশের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একজন মুক্তিযোদ্বার স্ত্রী কি করে এই ঘৃনিত অপঃশক্তির পক্ষে দাঁড়ান? কি করে তিনি যুদ্বাপরাধীদের মুক্তি দাবি করেন? কিসের লোভে, কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণজাগরণের বিরুদ্বে আপনার এই অবস্থান? খবর নিয়ে দেখুন আপনার এই সিদ্বান্তের প্রতি আপনার দলের ৮০% নেতা কর্মির কোন সমর্থন নেই। আপনি সিংহাসনে বসে হুকুম দিলেই সেই হুকুম তামিল করবেনা, আপনি দেশের জমিদার নন। এইদেশের মানুষ জেগে গেছে, প্রজন্ম জেগে গেছে, বাংলাদেশ জেগে গেছে কিন্তু আপনি এখনও ঘুমিয়ে আছেন। দেশকে যুদ্বাপরাধী মুক্ত, রাজাকার মুক্ত করে আপনারাই দেশে রাজনীতি করবেন, নেতা হবেন , মন্ত্রী হবেন। আমরা শুধু রাজাকারমুক্ত, যুদ্বাপরাধী মুক্ত, অসাম্প্রদয়িক বাংলাদেশ চাই।
সময় থাকতে জেগে উঠুন না হলে জামাত-শিবির চক্রের সাথে আপনারও ঠিকানা হবে আস্তাকুড়ে।
মনে রাখবেন দাবি একটাই যুদ্বাপরাধীদের ফাঁসি চাই, পক্ষ নিলে রক্ষা নাই।

জয় বাংলা............

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


পক্ষ নিলে রক্ষা নাই,
রাজাকারের ফাঁসি চাই।

জয় বাংলা।

বাংলাদেশ

শুভ্র সরকার's picture


রাজাকারদের সাথে সাথে পলাশীর মীর জাফরদের প্রেতাত্মদেরকেরও রুখতে হবে।

তানবীরা's picture


নাটকটা বডডই নাটুকে ছিল Sad(

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.