জানালা প্রেম
মেয়েটা প্রতিদিন জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে। এক দৃষ্টিতে ; ড্যাব ড্যাব করে। মাঝে মাঝে আমিও তাকাই; ভর্য়াত চোখে। আসলে এই রকম হয় ঢাকা শহরের প্রতিটি বহুতল বাড়ির জানালাতেই। একে কী বলা যায়? জানালা প্রেম? হু, চালানো যায়। জানালা প্রেম ; কথাহীন, রিক্সাহীন, ঘোরাঘুরিহীন নির্বাক প্রেম।
আমারো একটা জানালা প্রেম আছে। একান্তই আমার। তখন থাকতাম বাড্ডায়। একটা ৭ তলা ভবনের ৩য় তলায়। ব্যাচেলর বাসা। নিজের রুমে থাকতাম তিনজন। আমার বেড জানালার পাশে, দক্ষিনমুখী। বাতাস আসত। সুশীতল বাতাস।
জানালার সাথে বরাবরই আমার সর্ম্পক শীতল। জানতাম না জানালার প্রেমে পড়া যায়। তাই হয়ত সপ্তাহান্তে একবার জানালা খুলতাম আকাশ দেখার জন্য। কালো আকাশ, আলোময় আকাশ, মেঘলা আকাশ ! মধ্য রাতেও উটে মাঝে মাঝে হোসেন র্মাকেটের উপরে লেখা এ জি হাইয়েস্ট লেখা লাল আলোটা দেখতাম। দিনগুলো যাচ্ছিলো ভালোই।
কোন একদিনের কথা, রাত একটা বাজে। বাইরে বিকট শব্দ, একা রুমে ভয়ে কাতর হওয়া অবস্থা। ভূত এফ এমে ভয়ংকর এবং হাস্যকর সব গল্প চলছে। ভয়ে ভয়ে বাইরে তাকালাম। যা ভেবেছিলাম, ট্রান্সমিটার লস !
দৃষ্টি ফেরাব ফেরাব ভাব, তখনি তার আর্বিভাব। কানে হেডফোন আর হাতে বই। নিজের কাছে বড্ড অগোছালো লাগছে ব্যাপারগুলো। এত রাত, সামনের জানায় মেয়ে, তাকাচ্ছে বাঁকা দৃষ্টিতে, খোলা চুশ, আবছা আধারে মুখ, নিস্তব্ধ রাত ! কয়েক মিনিট অক্ষিযুগল নিবন্ধিত ছিল তার উপরেই। কিন্তু হঠাত্ তার অনুপস্থিতিতে যেন লজ্জাই পেলাম।
তারপর অনেক দিন। সব ভুলে গেছি। সেই রাত, সেই বালিকা। হঠাত্ একদিন আবার তার মুখোমুখি; জানালায়। মেঘ দেখতে আকাশে তাকানো। কিন্তু অট্রহাসিতে মুখ ফেরানো তার দিকে। সেই মেয়ে। আজ আর অন্ধকার নেই। উজ্জল সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত মুখায়ব। যেন সোনায় মুড়ানো রূপ। চোখ পড়ে না, মনও ভরে না। কিন্তু হাসির তীব্রতা যেন ছেদ দেয় আমার অসাধ্য দৃষ্টিতে। নিজের দিকে তাকিয়েই আক্কেল গুড়ুম ! খালি গা, পরনে চেলসির র্শটস আর মাথা ভর্তি আইনস্টাইন র্মাকা চুল।
তারপরের রুটিনটা বড্ড একগুয়ে। প্রতিদিন জানালায় তাকিয়ে থাকা, মৃদু ভাব, গাঢ় আর্কষণ, সুপ্ত প্রেম।
বুঝলাম, প্রেমে পড়েছি। কিন্তু কার? জানালার না জানালার ও পাড়ের মানুষের? ভাবতে ভাবতেই যেন চলে গেল অনেকগুলো দিন। তখন শরত্ কাল এসে গেছে। আমি গাঢ় প্রেমে নিমজ্জিত। বিকালে সে আকাশ দেখতে আসত আর আমি আকাশ হওয়ার বৃথা চেষ্টা করতাম। রোদ মাখতেও তার জানালায় চোখ রাখতাম। ভালবাসার চোখ !
তখন দিনগুলো কাটছিল তাকে দেখতে না পাওয়ার কষ্টে, জানালা প্রেমিকার দুষ্ট হাসি দেখার আনন্দে আর জানালা বন্ধ দেখার হতাশায়। দূরের নির্বাক ভালবাসা বলে কথা !
হেমন্ত পেরিয়ে শীত এসেছে। আমার মনে প্রেম নেই। জানালায় রোদ নেই। বড্ড একা হয়ে গেছি। এখন জানালা আর টানে না। হেরে গেছি, আমার অব্যক্ত প্রেমের কাছে। শুনেছি, মেয়েটা চলে গেছে। ইংল্যান্ড নামক দূরের এক দেশে। হারানো প্রেমে আজো কষ্ট হয়। তার কথা মনে ভাসে। নাম জানি না, জানলে কবিতা লিখতাম।
ঠিকানাহীন বালিকা আর খোলা চুলে জানালায় দাড়ায় না, বাকা দৃষ্টিতে তাকায় না, অট্রহাসির শব্দটাও ভুলে গেছি। দূর দেশে চলে যাওয়া বালিকার নাম জানি না, কথা বলি নি তবু কেন যেনো তার জন্য শূন্য জানালায় বিরহ লাগে। বুকের ভিতর চিন চিন করে।
এখন বসন্ত কাল। ঢাকায় কোকিল নেই। কাক আছে। কাকের সকাল সন্ধ্যার ডাকেও খারাপ লাগে। জানালার দিকে তাকাতেও ভাল লাগে না।
ভাবছি, বাড়িওয়ালীকে বলব প্রেমহীন জানালায় আমি আর থাকব নাহ্ !





ভাল লাগছে, চলুক গল্পের ট্রেন।
সাথে থাকবেন।
ভালো লাগল
আহারে !

হা য় শেষ আশ্রয় বাড়ীওয়ালি।
হু, বাড়ীওয়ালাদের মনে প্রেম নেই। তাই ত বাড়ির ছাদে তালা দিয়েছে।
আহারে! নতুন বাসা নেন যেখানে জানালা বরাবর সুন্দরী নারী প্রতিবেশী আছে।
জানালপ্রেম নাম টা খারাপ না।
শুভেচ্ছা।
ভাল। নামটা পছন্দ হয়েছে শুনে খুশি হলাম। তবে ধন্যবাদ দিব কী দিব না ভাবছি.... !!
মন্তব্য করুন