ইউজার লগইন

মনজুর আনাম'এর ব্লগ

এলোমেলো ৪

আজকে নিচে নামতে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের সিনিয়র হস্তির সাথে দেখা, সালাম দিলাম, মুরুব্বি আমাকে দেখেই এমন ভাবে কথা শুরু করলেন, যেন আমি তার জামাই, হাতের কাছে অনেক দিন পরে পেলেন, জামাই এর পালিয়ে বেড়ানো স্বভাবের জন্যই হয়তো প্রথম প্রশ্ন ,“আরে বাবা, তুমি থাকো কোথায়, দেখাই যায় না”।

মনে মনে বললাম, দেখলাম আপনাকে আজকে নিয়ে দুবার, তাতেই এই অবস্থা! আমাকে কল্পনার জগত থেকে টেনে আনলেন এভাবে “ তুমি সারাদিন কি সব গান শোনো ঘরে বসে, তোমাদের বয়সে আমরা বাসাতেই থাকতাম না, সারাদিন বাইরে বাইরে থাকতাম, একটা সময় ছিল যখন লোহা চিবায় খেয়েছি”।

“লোহা চিবায় খাওয়া যায় নাকি?” প্রশ্নটা করা আর কুড়ালে পা ফেলা একই মনে হলো ঠিক তার পরেই।

“আরে তুমি বাসায় আসো একদিন, তোমাকে দেখায় দেই, আজকেই আসো।”

“আসবো চাচা, আরেকদিন”

“আরে তোমাদের ইয়াং ম্যান দের নিয়ে এই এক প্রব্লেম, যখনকার কাজ তখন করো না, অলস কেন তোমাদের জেনারেশন এত? তোমাদের বয়সে পকেটে লোহা নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটতাম”।

এলোমেলো ৩

সবাই বলছে এত বৃষ্টি, ঈদ টাই এইবার মাটি, আমার মতামত ভিন্ন। যে ৫ জিনিসে আমার অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বৃষ্টি তার একটা। জ্বর নিয়ে প্রায় সময় ভিজি, আবার জ্বর বাধাই, সারাবছর এভাবেই চলে কম বেশী। ওষুধ হলো মাঝখানে নীল পরীর বাড়তি কিছু বকা।

সারাদিন বাইরেই ছিলাম, আজিমপুর গেলাম বিকেলে বাবার কবর জিয়ারত করতে, ১০ বছর বাবাকে ছাড়া ঈদ করলাম, কিভাবে এতগুলো সময় পার হলো বলতে পারি না, কেবল জানি বাবা প্রায়ই ডাকে, বলে তাঁর কাছে যেতে। গিয়েই তাঁর একটা পোর্টেট করে চমকে দিলে কেমন হয়? অনেক অবাক হবে? যে ছেলেকে আঙ্গুল ধরে ছবি তুলাতে নিয়ে যেতেন, এখন সেই তাঁরই ছবি তুলছে?

বৃষ্টির সব থেকে বড় সুবিধা,এটা যেমন সব কিছু মুছে দেয়, অনেক কিছু ঢেকেও দেয়, বৃষ্টির পানিতে চোখের পানি আলাদা করা যায় না, আজকেও যায়নি......

এলোমেলো ২

রাত ৩ টা, সকালে ছবি তুলতে যাবো। মাঝে বেশ কিছু দিন ছবি তুলিনি , ক্যামেরা দেখলেই কেমন জানি ভয় লাগে এখন।ঘুমের ঔষধ নিলাম, জানা কথা কাজ হবে না, তাও নিলাম....ভোতা একটা ব্যাথা মাথায় কয়দিন ধরেই, বুঝতে পারছি না।

মোবাইল বাজছে, বাইরের নাম্বার ,এতো রাতে কে করল বাইরে থেকে? ধরতে ইচ্ছা করছেনা... ব্যাথা টা বেড়েই যাচ্ছে। ছবির হাটে অনেক দিন পরে আড্ডাটা জমে উঠছিলো আজকে, সবাই ছিল। গান গুল ভালই লাগছিল শুনতে, গুড়ের চা সাথে ...আহ, জীবনের আরেক রূপ......

আজকে চাঁদ রাত, আসলেও কি চাঁদ দেখা যাবে? গতবার পাইছিলাম। গাড়িতে ছিলাম, চলন্ত গাড়ি থেকেই তুল্লাম। প্রত্যেকটা পূর্ণিমায় নীল পরীর জন্য ছবি তুলতাম, ওর যে কয়টা ছোটখাটো জিনিস পছন্দ, তার মধ্যে পূর্ণিমা একটা। ছবি দেখার পরে চুপ থেকে কিছুক্ষন বলতো "আমার দিকে তাকাতে সময় পাও না, চাঁদের দিকে তো ঠিকই তাকাও" ।

হাই তুলছি ঠিকই, কিন্তু ঘুম নাই......ঘুমানো দরকার

এলোমেলো

পাশের ফ্ল্যাট একদল হস্তি ভাড়া নিসে মনে হয়, সারাদিন দুপদাপ আওয়াজ লেগেই থাকে, দরজা খুল্লেও ধড়াম করে শব্দ, সিঁড়ি দিয়ে নামলে কি হয়, তা আর না বলি।

ঘুমটা ঠিক মত হলোনা, ঘরের পরেই সিঁড়ি, হস্তির নেমে যাওয়ার শব্দে কাঁথার নিচ থেকে উকি মারলাম “নাস্তা বানাও মা, আজকে সকাল সকাল খাব", মা একবার তাকিয়েই বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। কাহিনী কি বুঝলাম না কিছুই।

এত বয়স হলো, চা বানাতে শিখতে পারলাম না, যতবার ভাবি শিখবো, ততবার মনে হয় পাত্তি আগে দেয় না চিনি? দোকানে মামারা কত সহজেই না বানায়, আমি কেন পারব না তাহলে? নীল পরীকে যতবারই এটা বলছি নগদে ধমক “তোমাকে দিয়ে হইছে আজ পর্যন্ত কিছু?” ...... বলার মত কিছু নাই, কথা সত্য/মিথ্যা যাচাই করার সময় ওইটা না, নীল পরীর সামনে কথার পিঠে কথা বলা মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

জোরে বৃষ্টির শব্দ আসছে, জানালা খুলেই অন্ধকার। তারমানে ইফতারি করে কখন ঘুমাইসি টেরই পাইনি, মা’র ওইভাবে চলে যাওয়ার কারণ পরিস্কার হলো। জ্বর আসছে আবার, ইদানিং একটু বেশীই হচ্ছে। ম্যাক বলে তোর বাচ্চাদের মত জ্বর লাইগা থাকে কেন অল টাইম? ডক দেখা তাড়াতাড়ি। খেক করে একটা হাসি দেই আমি।