এলোমেলো ৪
আজকে নিচে নামতে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের সিনিয়র হস্তির সাথে দেখা, সালাম দিলাম, মুরুব্বি আমাকে দেখেই এমন ভাবে কথা শুরু করলেন, যেন আমি তার জামাই, হাতের কাছে অনেক দিন পরে পেলেন, জামাই এর পালিয়ে বেড়ানো স্বভাবের জন্যই হয়তো প্রথম প্রশ্ন ,“আরে বাবা, তুমি থাকো কোথায়, দেখাই যায় না”।
মনে মনে বললাম, দেখলাম আপনাকে আজকে নিয়ে দুবার, তাতেই এই অবস্থা! আমাকে কল্পনার জগত থেকে টেনে আনলেন এভাবে “ তুমি সারাদিন কি সব গান শোনো ঘরে বসে, তোমাদের বয়সে আমরা বাসাতেই থাকতাম না, সারাদিন বাইরে বাইরে থাকতাম, একটা সময় ছিল যখন লোহা চিবায় খেয়েছি”।
“লোহা চিবায় খাওয়া যায় নাকি?” প্রশ্নটা করা আর কুড়ালে পা ফেলা একই মনে হলো ঠিক তার পরেই।
“আরে তুমি বাসায় আসো একদিন, তোমাকে দেখায় দেই, আজকেই আসো।”
“আসবো চাচা, আরেকদিন”
“আরে তোমাদের ইয়াং ম্যান দের নিয়ে এই এক প্রব্লেম, যখনকার কাজ তখন করো না, অলস কেন তোমাদের জেনারেশন এত? তোমাদের বয়সে পকেটে লোহা নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটতাম”।
আমি বুঝতে পারছিলাম আর একটু কিছুক্ষন থাকলে চাচা আমার হাতে বেজ্জতি হবে, কোনোমতে কাজের অজুহাত দিয়ে কেটে পরবো ভাবছি, ঠিক তখনই আবার বলে উঠলেন “শুনলাম তুমি নাকি ক্যামেরা চালাও?”
অনেক কষ্টে মুখ বন্ধ রেখে মাথা নাড়লাম।
“আমার নাতনি বলছিল কি জানি বলো তোমরা, ও হ্যাঁ, ফটোগ্রাফি শিখবে, আরেহ একই তো কথা, ক্যামেরা চালানো”
আমি আবারও মাথা নাড়লাম, বুঝতে পারছি আমার সহ্যের সীমা শেষের পথে।
“আচ্ছা বাবা, যাও তোমার কাজে দেরী করায় দিলাম মনে হয়, আজকেই বাসায় আসো, কথা বললাম আর তুমি মুনিয়ার নতুন ক্যামেরা কেনাতেও সাহায্য করলা একটু।”
আমার মনে হলো ২ বছর হাজতবাস করে রেহাই পেলাম।
আমি সবসময় ঝামেলা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি, পারি না। ঝামেলা প্ল্যান করে আমার ওপরে এসে পড়ে যেন। পরিষ্কার বুঝতে পারছি মুরুব্বি সামনের দিনে অনেক ঝামেলা করবেন, ২ সপ্তাহ হলো আসছে, এর মধ্যে আমি কি করি না করি, সব জেনে বসে আছে, সব থেকে বড় কথা আমি কি গান শুনি সেটাও তার সমস্যা।
সারা রাত চিলেকোঠায় ভেজার ফলাফল ভাল হয়নি, চোখে মনে হয় কিছু হইছে, ঘোলা দেখছি, চশমাতেও কাজ হচ্ছেনা। কালকে ২৫শে অগাস্ট চোখের ডাক্তারের কাছে সিরিয়াল নেয়া, কিন্তু যাবো না, ওইদিন বাবার সাথে ৩১শে অগাস্ট আমার জন্মদিনের কেক আগাম কাটবো,২৮ শে অগাস্ট বাবা মা’র ম্যারেজ এনিভারসারির কেক খাওয়াবো তাঁকে।
আসার আগে বলবো, “তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা, কিন্তু তারপরেও আমি তোমাকে কোনোদিন মাফ করবো না, ১০ বছর আগে এই দিনে আমাদের একা ফেলে চলে যাওয়ার জন্য।”





পকেটে লোহা নিয়া মাইলের পর মেইল হাটনের দরকারটা কি সেইটাই বুঝলাম্না? ভুতেরা শুনছি সাথে লোহা থাকলে কাছে আসেনা, চাচায় কি ভুতের ভয়ে পকেটে লোহা নিয়া হাটতেন?
বাড়তি ওজন নিয়া হাঁটা হাঁটি করসেন এটা বুঝাইসে মনে হয়।
আপ্নে শুনায়া দিলেন্না কেন
চাচা আপ্নে পকেটে কয় কেজি লোহা নিয়া হাটতেন? আম্রা ক্যাম্রা লইয়া তারচে বেশী ওজন হাতে নিয়া হাটি 
আর বইলেন না, চাচা অনেক জালাচ্ছে, আমি ভয়ে আছি, নিতান্ত মুরুব্বী বলে সম্মান করি, আজকে মা'কে বলে গেছে "আমার ছোট নাতির জন্মদিন, একজন ক্যামেরা ম্যান লাগবে।
হায় হায় নীল পরীর কি হবে? আপডেট দিয়েন ভাই
ডাক্তার দেখানো তাই ভালো হবে, তাই না?
নীল পরী তো নীল পরীই
সব চাচা মিয়াই যুবক বয়সে লোহা খেতেন- আমি যখন চাচা হবো, তখন আমিও যুবক বয়সে লোহা খাবো- এ আর নতুন কি!
এর পরে চাচারে একটা প্রাণ হজমী কিনে দিয়েন।
ঠিকাছে
"হস্তিরা, একশ হাত দূরে থাকুন", এমন একটা সাইনবোর্ড খুব শীঘ্রই লাগবে মনে হচ্ছে
আরেকজনের কষ্টে এমন ভাবে মজা নিলেন?
মুরুব্বীর মনে হয় আপনারে বহুত পছন্দ হইসে। মেয়ে আছে কিনা খবর নেন। মেয়ে থাকলে উক্ত মুরুব্বীর সঙ্গে আপনে একটা ১০০ গজের স্থায়ী-দুরত্ব তৈরি করে ফেলেন। নাহলে সামনে সমূহ বিপদ।
এমনকি নীল দিক দিয়ে বন্যার পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পর্যন্ত প্রবাহিত হতে পারে। সাধু সাবধান।
মুরুব্বীর নাত্নীকে ক্যামেরা দেখে শুনে কিনে দিতে হবে, এটা নিয়ে আজকেও বাসায় নাকি এসেছিল, ভাগ্য যে আমি অনেক রাত করে বাসায় ফিরি।
মুরুব্বীরতো আপনার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ।।
আমিও এইটাই চিন্তা করতেছিলাম
জটিল অবস্থা
। কবে যে মুরুব্বির কাছে ধরা খাইবেন সেটাই দেখার বিষয়।

মুনিয়া
সহজ সরল কথা কিন্তু পড়তে মজা লাগছে

নীল পরী দেখতে মুন চাই
স্পিডি লেখা।
মন্তব্য করুন